Wednesday, 25 October 2017

ঝুলন ! হঠাৎই একদিন হয়তো

ঝুলন ! হঠাৎই একদিন হয়তো

শ্যামল সোম 

হঠাৎই কোন একদিন দেখা হয়ে যাবে, গোধূলির রঙে রাঙানো আকাশের তলে,

আসন্ন শীতকালীন শীতার্ত শীতল সন্ধ্যায়।

ঢাকার কোন এক রাজপথে বা ধানমন্ডির লেকের ধারে নিরবিচ্ছিন্ন নিরালায় নগ্ন 

দুপুরে, আচমকাই পরস্পরের দিকে মগ্ন নিষ্পলক দৃষ্টি, মুগ্ধ চোখে তোমাকে দেখে

মুখে মৃদু হাসি নিয়ে তাকিয়ে থাকবো আমি।

এমনই এক দুলুদ দুপুরে জগন্নাথ হল থেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দশ বছর আগে

নির্জন উদ্যানে, ফাল্গুনে  কৃষ্ণচূড়ার গাছে নিচে, পরস্পরের  হাত ধরে পরস্পরের

উষ্ণ  সান্নিধ্যে আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি কত কথা হয়েছিল বলা দুচোখে ভাষায়

গোপন কথাটি হয়ে ছিল  বলা, কথা আর গানে মরমে সে সুর, আজও বাজে।

সেই সময়  হঠাৎই বৃষ্টি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম দুজনে এক সাথে।

আজ দশ বছর পরে সেই তুমি বিব্রত বোধে নামিয়ে নিয়েছো কৃষ্ণ ও নয়ন অপ্রস্তুত অবাঞ্ছিত সেই মূহুর্ত দুজনার মনে, অশান্ত সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রচন্ড  আর্তনাদ !

অন্তরীক্ষে শব্দহীন সে ক্রন্দন শুনেও শুনতে চায় না তোমার মন, প্রতীক্ষিত প্রেমিক আমি

অপেক্ষায় অনন্তকাল হয়তো বা  আগামী জন্মে নিশ্চিত কি পাবো কিংবা যদি আমাদের মিলন

নাইবা হলো কোনদিন কি বা এসে যায় ঝুলন?

নতমুখে আপন পথে ফিরে ফিরে যেতে যেতে,বারে বারে তোমার পিছু ফিরে চাওয়া দুচোখে 

বন্যা কি থমকে রয়েছে মুচড়ে  উঠল হৃদয়ের তন্ত্রীতে বেজে উঠল ব্যথিত প্রাণিত  প্রাণের প্রেম।

Tuesday, 24 October 2017

শূন্যে ঝুলছে নূপুর পড়া দুটি পা

শূন্যে ঝুলছে নূপুর পরা দুটি পা

শ্যামল সোম

সকাল থেকেই ভীড় জমে মানুষের ঐ আঠারো নম্বর পুরোনো বাড়ির সামনে
হরিপদ বন্ধ  একটি ঘরে খোলা জানালার সামনে হুমড়ি খেতে পড়ছে পুরুষ
প্রৌঢ় পিতৃ সম,  বৃদ্ধ দাদু বয়স্ক  দাদা কাকু ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল মিতার
সাথে মেয়েটি আঠারো বছরের হাসিখুশি, গান গাইতো পাড়ার জলসাতে,
পড়া শোনা বেশ ভালো কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী, ভলিবল খেলতে ভালো।
এহেন আলো করা রূপবতী গুণবতী এই বন্ধ দরজা ভেতরে শিলিং ফ্যানে
শক্ত দড়ির বাঁধনে নগ্ন দেহে শূন্যে ঝুলছে শুধু দুটি পারে রূপোর বাহারী নূপুর।

" এখন পুলিশ আসেনি দরজা ভাঙা হবে না না ঠিক হবে অমূল্য "

যদি বাঁচানো যেত?

লম্বা জিব দেখলে না?

না না এ দৃশ্য দেখা যায় না !

শত শত মানুষ ছুটে আসছে আশপাশের এলাকার!

এরা মানুষ ? জানোয়ার!

একটি উলঙ্গ  আঠারো বছরের কন্যা সম মেয়ে ! ছিঃ ছিঃ

সামাজিক অবক্ষয়ের নগ্ন চিত্রকল্প

মিতার বাপ হরিপদ  আর কি বলবে শোকাচ্ছন্ন মুহ্যমান স্থবির নির্বাক।

শোকার্ত মানুষের পাশে চা জল খাওয়াতে চেষ্টা করছেন দুচার জন,
হরিপদ এইমাত্র  এই আদরের কন্যার এই করুন পরিনতি তে স্তব্ধ
নির্বাক পাষাণ  মূর্তি ও দুচোখে মরুভূমির হাহাকার।

হঠাৎই সত্তর বছরের মিতার দাদাভাইয়ের চিৎকার করে হুংকার, লাঠি হাতে
জানলার কাছে ভিড় সরাতে তেড়ে যাওয়া -- দাঁত বের করে ফিচেল হাসি ছোকরা পলায়ন।

মিতার মা রমা গর্ভবতী জননী জ্ঞান এখন ফেরেনি মহিলারা ব্যস্ত ছিলেন এর মধ্যে জনৈকা,
" না না এভাবে ফেলে রাখা যায় না এমমবোলেনস গাড়ির ড্রাইভার কে ডাকো"
সেই মুহূর্তেই পুলিশের জীপ পেছনেই হররনhorn বাজাতে ছুটে আসছে।
লোক গুলো ইঁদুরের মতন পালাচ্ছে!
পুলিশের তৎপরতায় দরজা ভেঙে লাশ নামিয়ে বাপ হরিপদ মা রমা কে স্টেচার
মা মেয়ে বাপ মায়ের সাথে শেষ যাত্রা হাসপাতালের মর্গে!

তখন কানাকানি রসাল আলাপ ফিসফাস জ্ঞানের ফোওয়ারা কুৎসিত ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন

মিতার বান্ধবীদের ছলছল চোখে বিলাই জানিয়ে তারা মিয়ার দাদুভাই কাছে বসে দুধ খাওয়াতে !
পাগলে মতন দাদু বুক চাবড়ে কাঁদছেন, গলা ছেড়ে গহিছেন, " আহা এমন দিনকি হবে
তারা, যবে তারা তারা বলে নয়নে  ঝরবে ধারা !"

Saturday, 21 October 2017

বৃষ্টিস্নাত প্রেম

বৃষ্টিস্নাত প্রেম

শ্যামল সোম

ঝিরঝির করে ঝরছে বৃষ্টি, ছাতা মাথায় ওড়না আঁচলে ঢেকে মুখ,
ব্যাকুল উদগ্রীব নয়নে বড় বড়  চোখের পল্লব মেলে নীতা
পরনে  নীল আকাশি রঙের বাহারী কারুকার্য করা সালোয়ার কামিজ
মাথাতে গাঢ় নীল রঙের ওড়না  জড়ানো, যূঁইফুলের মতন সারল্য মুখ,
স্নিগ্ধ সৌন্দর্য লাবণ্য  মসৃণ ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের নিটোল গড়ণ দেহে
ঋজু দীপ্ত  প্রাণের মাধুর্য অপরূপা  ঐ আমার আদরের নীতা দাঁড়িয়ে
রয়েছে, আমি নিষ্পলক চোখে দূর থেকে তাকিয়ে দেখছিলাম,
গাড়ির চালকের আসনে বসে অফিস থেকে লাঞ্চ  আওয়ারে।

এই কোলকাতার ইডেন গার্ডেনের গেটে সামনে অধৈর্য হয়ে
মাঝে মাঝেই সে তার  পেলব বাহু তুলে কব্জিতে বাঁধা ঘড়ি দেখছে নীতা
ভয়ে ভয়ে কাঁপছে বুক, সতর্ক চোখ এদিকে ওদিকে দেখে।
নীতাকে প্রতীক্ষিতা অরণ্যের  হরিণী মতন ইতস্তত  হতে দেখে মজা করার জন্যই রিং দিলাম।

তখনই  নীতার হাতে মোবাইল ফোন, রিং টোনে গান,
" যদি মনে পড়ে যায়
ফিরে এসো প্রিয়
শ্রাবণের মেঘলা বিকেলে !"

নীতা মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে, " সোম কৈ তুমি, এই এত ক্ষণ পরে ফোন দিলা,
এমন বৃষ্টির মধ্যেই আমি একা একটি মেয়ে এভাবে অপেক্ষা, "
হতাশায় ভেঙে পড়ে, " কি বলছো  আসতে পারবে না ? "
নীতার দেহের  কাঁপন চোখের  পাতায় জল জমে চোখের কোলে।

নীতা কান্না ভেজা গলায়, " কেন কেন সোম এভাবে বারেবারে ফেরাও? 
" কেন আমাকে কেবলই কাঁদাও, আমাকে কাঁদিয়ে কি  সুখ পাও গো ?
তোমাকে এত ভালো বাসি এই মোর অপরাধ ?"

আমি গোলাপের গুচ্ছ মনোরম মোড়কে মোড়া হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই  হাসতে
হাসতে রক্তিম করবী নীতার পেছন দিকে  এগিয়ে যাই।

নীতা ক্ষোভে রেগে যায়, চোখে মুখে গোধূলির রঙ, রেখে টং, "পাগলামি, হচ্ছে তুমি হাসছো? 

" সত্যি অদ্ভূত  একটা পাগল কে ভালোবেসেছি,
কি বললে কাঁদলে আমাকে সুন্দর দেখায় কাব্য হচ্ছে!" 

" সোম, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জানো
কলেজের ক্লাস  ফাঁকি দিয়ে  তোমার জন্য
আমি ছুটে এসে অপেক্ষা--"
নীতার লোনা জলে বন্যা  বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

এগিয়ে পেছন থেকে আমি চুপি চুপি দাঁড়িয়ে নীতার কাঁধে টোকা দিলেই
নীতা পেছন ফিরে নীরবে দুচোখে জ্বল জ্বল
দৃষ্টি ঝরঝর করে জোরে কেঁদে উঠলো,
নীতার চোখে জল প্রপাত,
আমি মুগ্ধ চোখে দেখছি, সত্যি সত্যিই
পাহাড়ি ঝর্ণা বর্ষন।

ঐ মূহুর্তে ঝমঝমিয়ে নামলো বৃষ্টি,
পরস্পরে কে জড়িয়ে বৃষ্টির জলে ছোট নীল লেডিস
ছাতার তলায় ভিজছি, পরস্পরের হৃদয়ের স্পন্দন
সমুদ্রের ঢেউয়ের আলোড়ন দুজনার মন,
দুজনেই ভালোবাসার শিহরণে শিহরিত  বহমান রক্তের গভীরে।

অনিন্দিতা

অনিন্দিতা

শ্যামল  সোম

ভোর বেলায় হিমেল হাওয়ায় বহুবছর পর নিউজার্সি থেকে চারদিন আগে কোলকাতার ফিরেছি,
কোলকাতার এই চলমান যান উবের ট্যাক্সি ফোন করলেই হাজির সত্যি সত্যিই অনেক বদলে গেছে কোলকাতা।
রমেন আমার শৈশবের বন্ধু  দেখা করতে ভোর বেলায় আসা।

গাড়ি থেকে ভাড়া মিটিয়ে ওদের বিশাল বাগানের মধ্যে দিয়ে মোরামের পাথর কুটির উপর হেঁটে যাচ্ছি বারান্দায়
দাঁড়িয়ে ইতস্তত করছি যে বাড়িতে এক সময় হুটহাট ঢুকে যেতাম সাত বছর পরে শুনশান লাগছে।

হঠাৎই পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো মেয়ে, " কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলে দীপ? "

জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে ঘুরে দাড়িয়ে দেখি খুব চেনা মুখ অচেনা চোখের ভাষা
আমি বিস্মিত বিস্ময়  হতবাক এ কে ?
খিল খিল করে হাসছে, " দীপ কি দেখছো আমাকে, আমাকে দেখার এখন বাকি ?

বুজতে পারলাম অনু অনিন্দিতা আমাকে চিনতে পারছে না, শুধু তাই নয় মস্তিষ্কে গোলমাল ঘটেছে।

দৌড়ে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো, " দীপ এতদিন পরে এলে একটু আদর করো, তোমার আদরে আদরে অস্থির হতাম
জ্বলে উঠতাম রঙমশালের মতন দেখ দেখ তাকিয়ে দেখো এখন কেমন নিঃস্ব রিক্ত পোড়া কাঠ।"

আমি অসহায়ত্ব শঙ্কিত উদ্বিগ্ন প্রাণ কম্পিত মনে শুনছি অর্গল পাগলিনী প্রলাপ

একা একাই বকে যাচ্ছে অনু,  " আমি কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তোমার ফ্লাটে চলে যেতাম, আমার চোখে দিকে তাকিয়ে বলতে অনু তোমার মধ্যেই  আমার পৃথিবী ! "
আমি আহ্লাদে টলমল টালমাটাল প্রেম ভালোবাসায় দীপ তোমাকে  ভালোবেসেই ধন্য হতাম, তোমার আদরে নিষ্পেষণে প্রেমে ধর্ষনের সুখ নানা আমার ভীষন আমার ভীষণ অসুখ হয়েছিল  এই দেখো আমার একঢাল চুলে দীপ
তুমি আমার লম্বা খোলা চুল দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে বলতে, " পাগলি তোকে ভালোবেসে খুন করছি।"

ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। রমেন নিঃশব্দে অনুসরণ সব কথা রেকর্ড করছিল
ইশারা করে চুপ থাকতে বলে অনুর পেছন থেকে, রমেন এগিয়ে এসে  অনু পাঁজাকোলা করে ভেতরের ঘরে নিয়ে যায়।

রমেনের বৌদি এক গ্লাস জল  এগিয়ে দেয়। আমি তৃষ্ণার্ত চাকত পাখীর মতন এক নিঃশ্বাসে পান করি, গ্লাসটা  এগিয়ে বলি, প্লীজ বৌদি
আবার জল খেয়ে ধাতস্থ করি নিজেকে।

বৌদি ম্লান হেসে বললেন, " সোমেন দুপুরে খেতে যাবে, বসো কফি পাঠাচ্ছি! "

একা একা রুমালে ঘাম মুছে, বসে ভাবছি আমার কোন বোন ছিলো না, অনু তিন বছর বয়স থেকেই ভাইফোঁটা
দিয়ে আসছিল, " আমি চাকরী সূত্রে বিদেশে চলে আগে পর্যন্ত পরাই বার বছর ধরে ভাই ফোঁটার দিয়ে আসছিল,
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস মনুষ্যত্ব হীন মানুষকে ভালোবেসে আজ অনু ধ্বংসের স্তুপ,

সুদীপ্ত চিনতে পারলাম সাক্ষাৎ শয়তান  স্কুলে থাকতেই স্বভাব চরিত্র কলংক ইতিহাস।
রমেনের বন্ধুত্বের সুযোগে শয়তানটা অনু এত ব্যস্ত সর্বনাশ করলো ঘৃণ্য ক্রোধ রাগে ফূসছি।

রমেন এসে আমার হাত ধরেই বাথরুমে তোয়ালে দেখায়, " সোমেন রিফ্রেশ হবে নে !
" না আমি সমান করবো " ঘড়ি  পার্স সব রমেনের হাতে দিলাম।
বাথরুমের দরজা বন্ধ করে শার্ট পেন্ট সব খুলে শাওয়ার  খুলে দিলাম  ঠান্ডা শীতল জলে স্নান করছি
ভাবছি নারী এইমাত্র পারে ভালোবেসে নিজেকে এ ভাবে নিঃস্ব সর্বস্ব শ্রান্ত নিঃশেষ করে বিলিয়ে দিতে।
কে যেন গাহিছে রবীন্দ্রনাথের গান, " আমি আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়!"

Tuesday, 17 October 2017

সমুদ্র কন্যা

সমুদ্র কন্যা

শ্যামল  সোম

সমুদ্র সৈকতে নাতনি জয়ীতার সাথে অন্ধকার থাকতেই হোটেল থেকে পৌঁছেছি,
বালুকা বেলায় নাতনি পাশে বসে দেখছি রূপালি ঢেউ হামাগুড়ি দিয়ে দুরন্ত শিশু।
পূর্বের  আঁধারাচ্ছন্ন  আকাশে সূর্য প্রসবের প্রাক মূহুর্তে রূপ সোনা রঙে ছড়িয়ে
জননী প্রসব  করছেন টিমের লাল কুসুমিত  সূর্যোদ্বয়ের নূতন প্রভাত,
ভোরের  আলোয় উজ্জ্বল  উদ্ভাসিত নাতনির চোখে মুখে আনন্দের বিচ্ছুরণে
আবেগে, হঠাৎই আমাকে আঁকড়ে ধরে, হুহু করে ডুগড়ে কেঁদে উঠে, " দাদাভাই
আমি বাঁচতে চাই ! " পিঠে হাত বুলিয়ে দুচোখে জল, ছলছল চোখে আমরা পরস্পরের
অপলক চোখে তাকিয়েই আছি।
" কি হলো দাদুভাই কথা বলছো না কেন ?"

" আমি মন মন ঈশ্বরের কাছে এই মূহুর্তে তোর জন্য  প্রার্থনা করছিলাম মা।"

" এক মাত্র তুমি তুমি  আমাকে আজ বাঁচিয়ে রেখেছে দাদাভাই "

" ঈশ্বর এই পৃথিবীর সৃষ্টি কর্তা তিনিই  তোমাকে আশীর্বাদ করছেন, আমি শুধুমাত্র
আমার নাতনির কল্যানের জন্য প্রার্থনা করছি ! "

"তোমার ঈশ্বর ভীষণ নিষ্ঠুর দাদুভাই  আমার আদরের ভালোবাসার মানুষ রনজয়কে
কেঁদে নিয়েছেন !"

আমি নিশ্চুপ নাতনির মাথায় হাত রেখে স্মরণ করি মহান পিতা পরম ব্রক্ষ্ম কে ।

রণজয় আর জয়ীতার  বাল্যপ্রেম ভাই বোনের মতন খুনসুটি ঝগড়া যৌবনে মান অভিমান।
হঠাৎই রণজয় দিল্লীর আই আই টি পড়তে যাওয়া দীর্ঘদিনের বিরহের গান শুনতাম জয়ীতার গলায়।
নিজেকে কঠিন শাসনে বেঁধে দুর্দান্ত রেজাল্ট করলো ইকনমিক্স  মার্কেটিং  উপর ডক্টর জয়তী ঘোষ
বিকাশ কোম্পানির এক বিশিষ্ট পদে আসিন।

দু’বছর জাপানে কাজ করে কোলকাতাতে ফিরলো রণজয়, বিবাহের আয়োজন 
চলছে হচ্ছে খুব শীঘ্রই  বিবাহের দিন।
নাতনি আমার রঙিন প্রজাপতি, স্বপ্নে বিভোর মোহাচ্ছন্ন বিমোহিত, মাঝে মাঝেই আমার আদরের
নাতনি জড়িয়ে ধরে, " সত্যিই দাদুভাই জীবনটা খুব সুন্দর ! "

হতভাগীর এই এত আনন্দের ফোয়ারা ফুরিয়ে গেল-  এক দমকা হাওয়ায় নীচে
গেল, সব দীপাবলির আলো।

রণজয় হেলমেট না পড়ে বাইক এক্সিডেন্ট মাথাতে চোট পেয়ে, হসপিটালে মরণ বাঁচন লড়াইয়ের
জন্য জয়তী দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে অসহ্য মানসিক যন্ত্রনা।
শেষে রণজয় মৃত্যু জেনে জ্ঞান হারালো জয়ীতা
টানা পনের দিন নার্সিংহোম চিকিৎসার পরে আমার ছেলে বৌমা নাতনিকে বাঁচাতে  পারলো।

কিন্তু যখন শুনলো জয়ীতা তাঁদের একমাত্র কন্যা সন্তানের গর্ভে ধারণ করেছে ভ্রূণ পরীক্ষার পর গর্ভস্থ
ভ্রুণ নষ্ট করতে ছেলে বৌমা নিকট  আত্মীয় স্বজন।

জয়ীতা রুখে দাঁড়ানোর পেছনে আমার প্রোথিত প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অসংখ্য বার
তীব্র ভৎসনা করলো সবাই।

না না আমি কখন জয়ীতার উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম, শুধু বলে ছিলাম, " মা এ বড় কঠিন লড়াই!
সরকারী আইন অবিহিতা কুমারী মায়ের জন্য স্বীকৃতি  স্বরূপ সমাজ সংস্কার
ভবিষ্যতের ভাবনার ভেবে সিদ্ধান্ত নাও মা "
ইদানিং খুব মন খারাপ ছিল জয়ীতার তাই আমাদের বেড়াতে আসা।
এই নির্জন সমুদ্রে  প্রচন্ড  ঢেউয়ের আলোড়ন মাঝে জয়ীতা কাব্যে নায়িকার
মতন ঢেউ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে তার দুচোখে সুখ স্বপন ?

আমি মুগ্ধ হয়ে সমুদ্র কন্যাকে দেখছি।

Monday, 16 October 2017

যৌন নির্যাতনে আত্মহনন

প্রেমের এ হেন নির্যাতনে  আত্মহনন

শ্যামল  সোম

মানুষ মানসিক কতটা যাতনায়, নিদারুণ  অবসাদে আত্মহননের
পথ বেছে নেয়, বিশেষত মিনুর মতন সদ্য কৈশোর উন্নতি তন্বী
লাবণ্যময়ী ঝর্নার মত উচ্ছল, দীঘল মায়াবী চোখে ভাসে  নীলপদ্ম ।
মিনু আমার বন্ধুর রমেনের নাতনি রমেনের  ছেলে মেরিন  ইঞ্জিনিয়ার
সারা বছরে সাত মাস জলে ভাসে।
রমেন বৌমা অতসী নাতনি মিনু ভালো নাম মীনাক্ষী নাতি বাবলু
ক্লাস ফাইবে পড়ে।
বৌমা একটি কোম্পানী জোনাল হেড খুবই ব্যস্ত জীবন সংসারের
হাল ধরে রেখেছে রমেন ব্যাঙ্ক  এ অফিসার ছিলো এখন আমার মতই
অবসর প্রাপ্ত।
আমার এই নিঃসঙ্গ বিষন্ন জীবনে রমেন  ও নাতনি মিনু যেন ঠিক এক
পশলা বৃষ্টি, মিষ্টি স্বভাবের প্রাণবন্ত সারল্য স্নিগ্ধ মাধুর্য অপরূপ কাব্যিক
ছন্দময় প্রেমময় সৌন্দর্যে ব্যবহারে, অসম্ভব সুন্দর নৃত্য পরিবেশনে
সাবলীল ব্যক্তির সম্পূর্ণা তরুনীর একঢাল মেঘ বরণ চুল, পাড়াতে
সবাই ভীষন প্রিয় পাত্রী।

প্রখর  দগ্ধ আমার  জীবনের ভালোবাসার প্রলেপ  আমার আদরের নাতনি,
আমার লেখার প্রথম পাঠিকা, নানা ভাবে অনলাইনে  লেখা ল্যাপটপের
খুঁটিনাটি সব ব্যাপারে সাহায্য করতো।

কলেজে আমার পরামর্শে ইংলিশ অনার্স সাথে মাস কমিউনিকেশন পড়ছিল।
দুর্দান্ত সব রেজাল্ট স্কুল থেকেই মেধাবী ছাত্রী।

হঠাৎই মিনুর হাবভাব পালটে গেল, শুনলাম রমেনের কাছে এক ব্যবসায়ী
বাপের বকাটের ছেলের মোহে পড়ছে।

ইদানিং  আমাকেও এড়িয়ে যায়  বুজি এই হলো আমাদের দেশের পরবর্তি নূতন প্রজন্ম
প্রাচীন প্রথার প্রচলন দৈনন্দিন জীবন যাপন  এ রুদ্ধশ্বাস থাকতে চায়  না।

মুক্ত বিহঙ্গ শঙ্খচিল মতন প্রেমিকের হৃদয়ে আকাশে উড়ছে, চাঁদ জ্যোৎস্না
আলোকিত জীবনে হঠাৎই  ফানুসের মতন খোলা রাতের আকাশে  উড়তে
করতে ঝপ করে নিভে গেল।
যাব যাবো ই বানিজ্য তে যাবো রবীন্দ্রনাথের গান কেন এলো, শোকে দুঃখে রবীন্দ্রনাথের গানে
নীল সুর বেদনা মধুর নয়?
রমেনের বাড়ির সামনে লোকে লোকারণ্য, পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল ।
জানা গেল  কানাঘুষো শোনা গেল  গত পরশু  প্রেমিকের বন্ধুদের গণধর্ষণের শিকার হয়ছিলো।
আত্মগ্লানি ভারাকান্ত নদীর মতন খাল হয়ে বাঁচতে  চাইলো কেন প্রতিকার মোমবাতির
মিছিলে নীল রঙের কষ্টের জীবন থেকে কেন পলায়ন ? ভুলের প্রায়শ্চিত  কি আত্মহনন
যখন গর্ভে লালিত পালিত  ভ্রূণ?

Monday, 9 October 2017

মুখপুড়ির মৌখিক প্রতিশ্রুত পরে

মুখপুড়ির মৌখিক প্রতিশ্রুত প্রেম

শ্যামল  সোম

যার জন্য  এত কষ্ট  এত অশ্রুপাত হতভাগী
তার জন্যই এ বিনিদ্র রাত, কত খানি সুখ
সায়রে গহীন অবগাহন,রবি সেনের লোমশ
চওড়া বুকে আত্মসমর্পণ  মানবধর্ম বিসর্জন।
প্রভুরচরণে প্রেম না করলি নিবেদন পাপিষ্ঠা
লাম্পট্য আড়ালে ছিল মসৃণ সুনিপুণ বলিষ্ঠ
সুঠাম দেহ সৌষ্ঠব বীরত্ব পৌরুষ প্রদর্শন ।
আর্থিক চোরা কারবারি রবি সেনের উপার্জন
ঐশ্বর্য বৈভব পরিপূর্ণ সৌখিন পৌরুষের স্বয়ং
অহংকারে প্রোথিত তুই যৌনদাসি বাঁদির জীবন
রূপকথার দামাল পুরুষের শ্রুশ্রসা শয্যাসঙ্গিনী
রাজপুত্র রবিসোনা নৈসর্গিক স্বপ্নীল কাব্য প্রেমে
মসগুল ঢেউয়ের আলোড়ন শিহরণ শীৎকার
ধ্বনি উল্লাস আপ্লুত রক্তের শিরায় ধমনী রবির
আগ্রাসী আকন্ঠ চুম্বনের স্বাদ আহ্লাদিত রমনী
প্রতারিতা প্রতিশ্রুতপ্রেম অমাবস্যা জ্যোৎস্নায়
প্লাবিত সে নানা রঙের দিনগুলি তোর রইল না
ওরে হতভাগী প্রেম ভালোবাসা কাব্যের স্বপ্নের
বিভোর মোহাচ্ছন্ন ন্যায় বর্জন  আকাশকুসুম
কল্পনায় কবিতায় কাব্যময় জীবনের আকাঙ্ক্ষা
রবি ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে তুই আজ ধর্ষিতা
প্রতারনায় অবাঞ্ছিত গর্ভস্থ ভ্রুণ শতসহস্র বেজন্মা
ভরে গেল দেশ দেশান্তর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে
অবস্থিত শতসহস্র শরণার্থীদের আত্মবিলাপ
হাহাকার ক্রন্দন নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতার
শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়তই শিশু নারী পাচার তোর
রবি মুখোশ ধারি ঐ মাদক ও নারী পাচারকারী
মেহেরবান এর অশেষ কৃপা তাই এখন হারানো প্রেম
ভালবাসার গল্পে হাপিত্যেশ চোখে জলে নীল আঁচল
ঐ গাছের ফাঁকে তাকিয়ে দেখ ময়ূরাক্ষী নদীর জলে
তোর রবির জলকেলী কোলে ঝোলে কৃষ্ণকলি তৃষ্ণা।

ঠিক না বেঠিক বিবাহের প্রতিশ্রুতি

বিবাহের প্রতিশ্রুতি

শ্যামল  সোম

পয়লা বৈশাখের মেলায় দেখা হোল দুজনার
একজনের পরণে নীল বালুচরী নক্সাকাটার
ঘণনীল রঙে রতনের বাহারী রেশম পাঞ্জাবী,
প্রথম সাক্ষাত মঞ্চে নীলা, গাহিছে " এসো হে বৈশাখ"
রতন গান শোনার থেকে গায়িকার রূপ লাবণ্য মসৃণ
ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের নিটোল গড়নে লিপ্সা চোখে মুখে।
গলা কাঁপিয়ে মেঘমধুর উদাত্ত কন্ঠে রতনের আবৃত্তি,
"আমি গোলাপের দিকে চেয়ে বললাম সুন্দর সুন্দর হলো সে"
নীলা কন্ঠস্বরে যাদু বলিষ্ঠ সুঠাম দেহের আকর্ষণে
মন্ত্রমুগ্ধ কাব্যের লালিত্য যত না মোহাচ্ছন্না বিগলিত
রতনের পেশীবহুল চওড়া ছাতি দেখে নীলা আরক্তিম
গালে টোল পড়লো বান্ধবীদের হাসাহাসি শেষে যখন
প্রথম পারস্পরিক পরিচয় পরস্পরের কাছ থেকে ঐ
মুঠোফোনের নম্বর দেওয়া নেওয়া পরে রতনের মধুর
আহ্বানে রেস্তোরাঁতে খানা পিনা বেশ দ্রুতই চললো
পরস্পরের কাছাকাছি আসতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে
উঠছে, অমাবস্যা চাঁদের জ্যোৎস্নায় ময়ূরাক্ষী নদীর
পাড়ে মাঘ মাসের শীতে  ভারা করা কটেজে ঘরে
শুভ্র কোমল বিছানায় পরস্পরের কাছে প্রতিশ্রুত
বিবাহের প্রস্তাব সর্ত  সাপেক্ষে সে এক অতি আশ্চর্য
উষ্ণতা জন্য পরস্পরের  আকন্ঠ চুম্বনে রক্তাক্ত ঠোঁট
ঘণ আলিঙ্গনে লোমশ বুকে না নগ্ন স্তনে গোপন সুখ
সুখের সন্ধানে আত্মসম্মান জ্ঞান বুদ্ধি সম্ভ্রম মান মর্যাদা
সব জলাঞ্জলি দিয়ে পাশবিক মৈথুন সুখ সমুদ্রে সাঁতার
ঢেউয়ের আলোড়নে ঝড়ের তান্ডব ভয়ঙ্কর মেঘের গর্জন
অবশেষে ঝিরঝির করে ঝরছে বৃষ্টি ব্যাকুল উদগ্রীব দুটি
দেহ গহিন অরণ্যে রোদন নীলা কাঁদছে প্রথম প্রেম সলজ্জ
চোখে চোখ পড়তেই ভূমিকম্প স্পন্দন আলোড়িত দুজনার
মন পরস্পরের পরিপূরক পরিপূর্ণ স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্ক নরনারী
কে করবে বারণ পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন চক্ষুশূল
হেলে দুলে নীলা নদীর বহমান স্রোতে ভাসে চলছে সাগরের
মোহনায়, হঠাৎই মোহ ভঙ্গ তিন মাসের ভ্রূণ পরীক্ষার পর
গর্ভস্থ সন্তানের দায়িত্ব পালনে রতনের অস্বীকার যা খুব
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন সবাই মুখের ঐ সামান্য
বিবাহের প্রতিশ্রুতি এ বিশ্বাস সহবাস না ঐ ব্যভিচারিনী
নীলার আত্মতৃপ্তি নীরব সন্মতি ছিল ?
পুলিশ অনুসন্ধান জানা গেলো রতনে রতন চেনে বহুগামী
ভোগ বিলাস অপর্যাপ্ত  অর্থ বরাদ্দ কাস্টোমার সার্ভিসে আছে।
নীলা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ডাক্তারের স্মরণাপর্ণ প্রেমের
ফসল নির্মূল করার আশু প্রয়োজন কি আত্মহনন  আত্মগ্লানি
ভারাকান্ত যৌনবতীদের সাথে লাল পাড়াতে ঘর বাঁধবে না
কলঙ্কিনী সকলের মনোরঞ্জন করে জীবন যাপন করবে কিভাবে ?

Sunday, 8 October 2017

এ কেমন অভিশপ্ত জীবন শ্যামল সোম

আজ এই অন্ধকারাচ্ছন্ন ভয়ঙ্কর ভয়াল পরিবেশ, মানসিক ডাইবেটিক   ও অসুস্থ স্ত্রী  আবার নিজেও
মানসিক শারিরীক অসুস্থতার জন্য ভীষণ অসহায়ত্ব শঙ্কিত উদ্বিগ্ন প্রাণ হারানো, এবং কেউ আজ পাশে না থাকার জন্যই আমার ভীষণ মানসিক দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
অথচ আশ্চর্য  আশৈশব এই  ঈশ্বরের  প্রতি ভক্তি  পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র সন্তান হওয়ার জন্য কৈশরের থেকেই মাতাল বাপের জনৈকা রক্তাক্ত কন্যার রূপে শরীর ভোগ করার জন্য বিবাহের পূর্বেই আমি সেই কিশোরী গর্ভে
আসি পরবর্তী কালে ঐ নমঃ নমঃ বিবাহের পর উনিশো পঁয়তাল্লিশ সরস্বতী পুজোর আবেদিন সতেরো জানুয়ারী জন্ম হই দারিদ্র্যতার মাঝেই, একে একে দশ ভাই বোন তিন ভাই ও ছয় বোন  সেই রক্ষিতা  দিদিমা যার রূপ লাবণ্য মসৃণ ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের জন্য বহু মূল্যবান সম্পদ ছিল, মাতাল চরিত্রহীন লম্পট রেসে
ও বে পাড়াতে রাত কাটানোর জন্যই  আমরা রক্ত সূত্রে চর্ম রোগে ভুগছি সব ভাই বোনেরা।
যে ভাই বোনের জন্য চল্লিশ বছর বয়সে বাপ পণ হিসেবে বহু টাকার বদলে একজন মানসিক ও দুশ্চরিত্র বছর চৌত্রিশ বছরের কদাকার নারী সাথে বিবাহ দেওয়া হয়।
বিন্দু মাত্র ভালোবাসা যৌন সুখ ও শান্তি পেলাম না আশ্চর্য ব্যাপার যে এত সব জানতে পারলাম ঐ নারীর বিবাহের আগেই  একবার এবরশান হয়েছিল মানসিক রোগের জন্য ইলেকট্রিক  শক বহুবার দেওয়ার পর আর রোগীর পরিস্থিতি ভীষণ খারাপ হয়।
আমাদের প্রথম পুত্র সন্তান হওয়ার ঐ ভয়ংকর রকম মানসিক রোগগ্রস্ত আমার স্ত্রী অর্ধ নগ্ন ঐ ঠিকঠাক মতন
পুত্র ছেলেটি কোলে ঝুলছে শ্বশুর বাড়িতে কটকে না তখন পুরিতে ওর ছোট দাদারবাড়িতে কোলকাতার ব্যস্ত
ছুটে গিয়ে ঐ পাগলিনী কে দেখে আমার চোখে অন্ধকার নেমে এলো এতই মানসিক আঘাত পেলাম দুদিন পুরের সমুদ্র সৈকতে পাগলের মতন শুনে বসে কেটে গেল। শ্রী শ্রী  জগন্নাথ  কাছে হত্যে দিয়ে পড়ে রইলাম বিধির বিধান গত জন্মের কর্ম ফল প্রারব্ধ পূর্ব জন্মের পাপের বোঝা টানছি যে পুত্র সন্তান জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ
যা ওদের পরিবারের দাদাদের মিছিল শুধুমাত্র সন্তান টি চাইলো, আমি বাইশ দিন বাপের দেওয়া চাকরীর পরোটা না করে ঐ বাইশ দিন  তীব্র ক্ষোভ মানসিক দ্বৈত দ্বন্দ্বের মানসিক বিপর্যস্ত বিধস্ত ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্ব  অবিশ্বাস করার প্রবণতা লক্ষ্য করলাম মনে মনে তখন শিশুটির
জন্ম থেকেই কেমন মায়া ত্যাগ  করতে পারলাম না। আমি বিবাহ বিচ্ছেদ পর আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবো কিন্তু  এই শিশু যে আমার প্রথম সন্তান যাকে দেখতেই কোলকাতা থেকে একদিন জনযুদ্ধ কটকে বারবার ছুটে গেছি বাইশ  দিন বসে ভাবছি  হে ঈশ্বর  আমার কি করা উচিত?
মনের মধ্যেই নানা ধরণের প্রশ্ন তুলেছে মন অদূর ভবিষ্যতের নানা জটিল পরিস্থিতির  সম্মুখীন হতে হবে
ভয়াবহ ছবি কখন ধাড়ি থেকে পালিয়ে যাবে ঔষধ খেতে চাইবে না আত্মীয়দের মা বাবা ভাই বোন সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে যাবে একা পাগল স্ত্রী  ও শিশু সন্তান নিয়ে কি ভাবে মানুষ করবো।

চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত  নিতে বাইদানির রাতদিন চিন্তা করার জন্য মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ওদের বাড়ির
বইয়ের  আলমারি খুলে রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাবলী পাঠ করছি রাত্রে আমার ঘুম আসছে না।
আমার আত্মজ পুত্র সন্তান ঠাকুর মায়ের কত আদরের হবে সে হেলা ফেলায় মামার বাড়িতে অবাঞ্ছিত
অবহেলায় এ মানুষ হবে কে জানে এই শিশুর মধ্যেই  আবার পাগলামী লক্ষণ প্রকাশ পাবে কিনা? মনের
সতর্কীকরণ চলছিল।
আজ চৌত্রিশ বছর পর আবার সেই একই রকম পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছি না দুই পুত্রের নাম পর্যন্ত স্মরণ করতে ঘৃণা হয়।
হায় ঈশ্বর  ভাই বোন এমন কি নিজের সবচেয়ে প্রিয়  সন্তান পুত্র দুটি এই অবহেলা যদিও বিশেষ হাজার টাকা পেনশন পাই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দূরের কথা একটি ফোন করে না ?
বেঁচে আছি না এই ভয়ংকর অসুখ এ মারা গেছি খবর নেই না সন্তান এত অকৃতজ্ঞ হতে পারে ?
তবে হে ঈশ্বর তোমার অপার করুনা এবার মৃত্যুর হোক আমার  যথাসাধ্য সাহায্য করেছিলাম আজ এই বিশাল চাকরী করে ছেলে বলেছিলো তোমার টাকাতে মুতে দি ----!
ছোট ছেলে অপমান করে ওর পা জীবন দিয়ে চাটালো।
স্কুলে পড়ার সময় দুই ভাই মিলে মদ খেয়ে এসে মেরেছিল পুলিশ এসে সাবধান করে দিয়েছিল
আজ ভাবছি এই মানসিক চাপ যন্ত্রনা কষ্ট বহন করতে পরিশান্ত আর ক্লান্তিকর আত্মবিলাপ হাহাকার ক্রন্দন
শৈশবে থেকেই আমার ভীষণ কষ্টের জীবন যাপন  এর শেষ নেই আত্মহননের প্রবনতা আমার পথের গন্তব্য?