Wednesday, 3 May 2017

এরই নাম কি ভালোবাসা

এরই নাম কি ভালোবাসা

শ্যামল সোম  বাঁশিওয়ালা

1) কল্পনা আশ্রিত

মেহরুনেসা তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে
মৃত্যু দন্ড ঘোষিত হল ফজরের নিয়ামক শেষে
ফাঁসি হবে আমার বিধর্মী প্রেমের অধিকার নেই
যে কোন ধর্মের অনুশাসনে আত্মীয় স্বজন বহু
প্রতিবেশীর বারণ শাসন হত্যা হুমকি সত্বেও কি
সেই আকর্ষণে পরস্পরের পরিপূরক পরিপূর্ণ
স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্ক তুমি সনামধন্যা বন্যা আমার করবী!

" করবী তোমার মত ভালো
মেয়েকে ভালোবেসে
প্রেমের জ্বলে পুড়ে ছাই
চিতার  ঐ আগুনে ভস্মীভূত
দেহের ছাই আকাশে বাতাসে
ভালোবাসায়  উড়িয়ে  যাই।
সবেবরাতের রাতে মোমবাতি
কি জ্বালাবে আমার  আত্মার শান্তি
কামনায়  তোমার বাড়ির ছাদে মোম
বাতি যূঁই ফুল টবের পাশে যূঁই ফুলের
মালা ঝুলিয়ে দিও আমার ছবিতে।"

2) বাস্তব  জীবনের সত্য

করবী, আমি
মুক্তি যুদ্ধের পূর্বে বাংলাদেশের
ভাষা আন্দোলনের
পঠভূমিকায় বিভিন্ন জেলায়
মানুষের প্রতিক্রিয়া
সমস্যা সামাজিক পরিস্থিতি
উপরে কোলকাতার
যুগান্তর পত্রিকায় ছবি সহ
অত্যাচারের প্রতিবেদন
প্রকাশিত হতো প্রতিদিন
টেলি প্রিন্ট  টেলেস্ক সাহায্যে।
বাংলাদেশের তখন উত্তাল
জনগণের প্রতিবাদি ঢেউ
আছড়ে পড়ছে যশোর, খুলনা
কুমিল্লা, পাবনা রংপুর
দিনাজপুর সিলেট চিটাগাং
ময়মনসিংহ  এসে শৈশবের
স্মৃতি বিজড়িত বিমোহিত
আমার সাধের ময়মনসিংহ
ভাবো প্রবণ সত্যি সত্যিই হয়ে
প্রেমে পড়েছিলাম শেকড়ের টান।
হঠাৎই খবর এলো ঢাকার
টিকাতলি অঞ্চলে বহু বছরের
দৈনিক পত্রিকা  ইত্তেফাক
খবরের কাগজ  অফিস দাউ দাউ
জ্বলছে আগুন, সাংবাদিক বন্ধু
বান্ধব  ভীষণ ব্যাস্ত হল নিরাপত্তা নিয়ে
সর্বস্তরের মানুষের  আমার প্রতি
ভালোবাসাই উদগ্রীব।
কোলকাতা থেকে আগত
সাংবাদিক শ্যামল সোম  এর নাম
রাজাকার বাহিনী জনৈক পত্রবাহি
পাকিস্তান পন্থী সাংবাদিক
কাশেম আহমেদ খান সেনাদের 
কাছে অর্থের বিনিময়।
বললাম এই আর আশ্চর্য কী
পলাশীর যুদ্ধে প্রমাণ  আছে।
ফারুক হাসান ভাই জোর করে
নিয়ে গেল ওদের দেশের
ময়মনসিংহ  এর কাছেই
ত্রিশাল সবুজের সমারোহ গ্রাম।

বাংলাদেশের বহু উচ্চ শ্রেনীর 
নেতা নেত্রী লেখক কবি
বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক 
অধ্যাপিকা বহু মানুষ কোটি
মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়ের 
ব্যাবস্থা কিছু দায়িত্ব শেষে
ফারুকের সাথেই আবার ফিরে
এলাম ময়মনসিংহ এ
ওর খালুর বিশাল  বাগান
বাড়িতে আশ্রয় পেলাম।
ফারুকের এই খালু মেশোমশাই
বিখ্যাত সাংবাদিক চল্লিশ সালে
পাকিস্তানে ডন ইংরেজি পত্রিকা
সম্পাদক মন্ডলের সদস্য
ছিলেন, 1952 সালের আগেই
পাকিস্তান থেকে পরিবার নিয়ে
ঢাকার বাড়িতে ফিরে আসেন
এই মোতিহুর রহমান সাহেব
বাহান্ন সালের ভাষা আন্দোলন
প্রথম সারির নেতা ছিলেন।
পরে ইত্তেফাক খবরের কাগজের
সম্পাদক ছিলেন, সেই
ইত্তেফাক খবরের কাগজের
অফিস আগুনে ভস্মীভূত
স্বাভাবিক ভাবেই শোকাচ্ছন্ন
মুহ্যমান শোকার্ত প্রথম দর্শন
সৌম্যকান্তি দীর্ঘকায় আজত
লম্বু বাহু, প্রণাম করতেই
আলিঙ্গন করলেন, কোলকাতার
যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক
বিবেকানন্দ  মুখার্জির, সমর সেন
কথা জিজ্ঞেস করলেন।
আমিও সাংবাদিক মুক্তি যুদ্ধের
প্রাক্কালে  সংবাদ সংগ্রহ করছি
উৎসাহিত হলেন,
প্রবীন বৃদ্ধের কাছে শুনতাম ভারতবর্ষের
দেশ ভাগের পটভূমির ইতিহাসের
ঘটনার পরম্পরা রক্তাক্ত
দাঙ্গার সময়ে উনি ছেচল্লিশ সালে
কোলকাতার Predency
Collage passout করে
কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন
কি ভাবে দাঙ্গা পীড়িত মানুষের
পাশে ছিলেন বঙ্কিম মুখার্জির
পাশে থেকে কত আন্দোলন
সামিল হয়েছিলেন ধর্ম সম্পর্কে
বিশ্বাস করতেন মানবতার ধর্ম,
কাকাবাবুর মুজাপফার আহমেদ
জীবন দর্শন ছিল তাঁর মননে
চিন্তনে অসম্ভব অসামপরদায়িক
ভালমানুষ কাছ থেকে নিয়মিত
ক্লাস নিতাম তাঁর জ্ঞানের ভান্ডার
জার্মান করে দিতেন আমাকেও 
লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন
" রক্তের  অক্ষরে বাংলার ইতিহাস"
বৃহৎ গ্রন্থ প্রকাশ করে ছিলাম
পরবর্তী কালে ওঁনাকে
উৎসর্গিত করেছিলাম।
আমার দেখাশোনার ভার দিয়েছিলেন
কনিষ্ঠ  কন্যা করবী নামে
ফুলের মত সৌন্দর্যে আন্তরিকতা 
সহজ সরল স্বাভাবিক ভাবেই
বিমুগ্ধ ছিলাম, আমাদের পরস্পরকে
পরস্পরের কাছে এনে ছিলেন
রবীন্দ্র সঙ্গীত,  অসামান্য কন্ঠে
রবীন্দ্র সঙ্গীত ছিল পড়াশোনা মাঝে
পরিশ্রান্ত  মনের চাপ কমাতে দুঃখ
ভোলাতে মৃত্যুর  আতঙ্ক  এ ভীত
পরাণের করবীর গানে বারেবারে
ফিরে পেতাম জীবনী শক্তি!

DARLING DRAMA ACT

Darling Daughter

One act play

Shyamal  Som

Charecter  ----

Mr. Prodip Basu  -- Father who left his wife and daughter when she was a mare kid three-year old after divorced, went to  New York as photo  Journalist. Wife Aruna is Excutive C  E O of a firm.

Moli --: young pretty good looking girl of twenty three. Completed B. Tec waiting M  B A  admission.

Music instrumental sound track Curtain  raised.
Large size  Drawing Room, On music track Moli is dancing with great pleasure.

Mr. Prodip Basu is enjoying with smiling face of his darling daughter whom he saw  after twenty years.
After dance  Moli has drink water from bottle tried.

Mr. Basu -- may I allow to come in Madam Mam?

Moli went to Mr. Basu-- they are looking each other,  Mr. Basu is recalling the lost memories tingling when Moli was a mare kid.
Moli is  surprised try to recognise her lost father's smell from a strange personal.

Moli-- you I mean you are the best of my mother. Mr. Prodip Basu Please come in be sitted
            I had  have listing of your own personal life from, you mother.
Basu------  Aruna your great soul mother is my best friend since when we were students of Presidency collage, then I went to J N U to complete my Mass communication

Moli-- then you had joined N D T V  channel after wards you fled  to New York for Photo Journalist  may right Mr. Basu?

Basu---  Moli you have done well home work so appraising thanks,

Moli --- most welcome Mr.Basu

Basu--- Moli being friend of your  Mother may I offer some  Giefts to you?

Moli --- sorry Mr. Prodip Basu i deny to accept, you are strange person to me.

Basu--- am I not your mother's friend ?

Moli --  mare a friend of mine mother but to me you are unknown stranger to me.

Basu--- but already I have had hand over to yours maid pacing box of Giefts one Tablate
Dell's computer, Furfumes dresses and cute Barbeie girl doll to you dear ! Darling please accept it's my last
Presentation to you.

Moli--- wait  I confused,  last presentation ?

Basu--- due to unfortunately I wouldn't be able to visit to you further again!

Moli-- Time the Time is most precious than anything and also you have own
Iife to enjoy and you had have been enjoining your own choice able life, are you satisfied Mr. Prodip Basu?
Mr. Basu is scaring scared astonishing looking out out of strom may would broke out.

Mr. Basu --  I'm  grown enough, I lost my childhood  when I had need to play with a cute Barbeie doll,
                      Now I am not Bapy  sorry  it's a slightly sleep of tounge !

Lesbian story.

LEPRECHAUN----- LET OFF A LESBIAN

SHYAMAL SOM

LOVE love has no berieor. When love has flows through mind it's a pleasant  experience.
Lila  and Nila both are in passionately love each other since their  childhood, they are both living in same complex in their own  flats, both from are rich family single child.
Lila's  father is a business man well to do family. Nila's  father is a Excutive C E O  of reputed company
Mother is allso a software engineering jobs in the company.
Both parents are friendly fondly love their own loving daughter   aswellas other's.
Lila  and Nila both are studying  same school  and same tutorial home. They are going school and other works on their own  car., Always they are enjoying their friendship with deep bonding of love.
Love once turns to them be passionate about  sex they have been enjoining  their  laptops the pornghaphy  website, they have  become couple of  lesbians.

কবিতা কবিতার সঙ্গে সঙ্গম শ্যামল সোম


বিভাগ- -গদ্য  কবিতা
তারিখ- - 3---5--- 17

সূর্যোদ্বয়ের ভোরে
কবিতার সাথে সঙ্গম

শ্যামল সোম বাঁশিওয়ালা

অলকানন্দা মন্দাকিনীর
সঙ্গম স্থলে কর্ণপ্রয়াগে
প্রাতে তোমাকে মানস নেত্রে
স্বপ্নে স্বর্ণ স্তনে শব্দের
চুম্বনে চুম্বনে রক্তাক্ত ঠোঁট,
রক্ত ঝরছে কাব্য পাঠে
শিশির ভেজা উষ্ণ শয্যায়।
কবিতার সাথে আশৈশব প্রেম,
" জল পড়ে, পাতা নড়ে " !
ছন্দে অছন্দের বাহুল্য হীন
আমি বেকুবের মতন কবিতা
তোমাকে গভীর আলিঙ্গনে
জড়িয়ে ধরে আদরে
আদরে, কাব্যিক এ মন
তোলে তুফান কবিতার
উত্তপ্ত দেহে করে লেহণ।
পৌরুষ  উড্ডীন অহংকারে
প্রোথিত বৃক্ষের চারা শুকায়।
অতৃপ্ত কবিতার চাপা কান্না
প্রতিধ্বনি শুনি নপুংসক হৃদয়ে।
শব্দের লহরী স্রোতে বহমান
যৌনবতীদের আমন্ত্রণে বিনম্র
প্রত্যাখান এ ক্রুদ্ধ নারীদের
উন্মুক্ত বসনে নগ্ন যৌন
আক্রমনে সমবেত প্রয়োগে
কবিতার ধর্ষনে বিহ্বল 
নিষ্ফল লিখন প্রয়াস।
অরণ্যে  পদ্ম যোনিতে
বিশৃঙ্খল বাক্যের
বিন্যাসে অক্ষরের বীর্য
পাতে অলকানন্দা স্রোতে  
ভাসে স্ফূর্তির অস্ফুট কাব্যের ভ্রূণ।

পারাপার চলচ্চিত্র চিত্র নাট্য


পারাপার

" ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় "

"ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
আমাদেরই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক

সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে যে
স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে

পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানি সে যে

আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি"
Hide quoted text
দ্বিতীয় মহাবিশ্ব যুদ্ধে যখন সারা পৃথিবী বিদ্ধস্ত, অখন্ড বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কবলে লক্ষ লক্ষ শিশু নারী পুরুষ অনাহারে মৃত্যুর মুখে, ঐ ১৯৪১ সালে ডিসেম্বরের এক শীতার্থ রাতে হত দরিদ্র ব্রাহ্মণ সোমনাথ ভট্টাচার্য -এর কুঁড়ে ঘরে এই অমল -এর জন্ম। আশ্চর্য, এত অভাবেও  বেঁচে রইলো সে। পুজো বিবাহ শ্রাদ্ধ যজমানের কৃপায়, গাঁয়ে রাধা গোবিন্দের মন্দিরে ও 'দু চার যজমানের বাড়িতে দুবেলা পুজো আরতি করে আর মজুর দিয়ে চার বিঘে জমিতে চাষ আবাদ করে কোন ক্রমে সংসারের জোয়াল সোমনাথ বাবু টেনে হিঁচড়ে  অসহ্য দারিদ্র্য, অভাবের মধ্যে  বহে  নিয়ে চলছিলেন।

1939 সালে জার্মান প্রথম মহা বিশ্ব যুদ্ধের চরম অপমানের প্রতিশোধ নিতে ও  ক্ষমতার দম্ভে হিটলার প্রতিবেশী দেশ আক্রমণ করলো।
              প্রতিবাদে  মিত্র শক্তি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, আমেরিকা অন্য দিকে ইতালি,  জার্মানি, জাপান -মধ্যে  শুরু হয়ে গেলো  ভয়াবহ, বিধ্বংসী, রক্তক্ষয়, ঐতিহাসিক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বিশ্ব যুদ্ধের পরোক্ষ ফলা ফল সুদূর এই অখণ্ড ভারতবর্ষে
আকাশে ঘনিয়ে এলো কালো মেঘ, দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এর তূর্য নাদ, দামামা বাজতেই অশনী সংকেত দেখা দিলো, ইংরেজ সরকার, যুদ্ধের রসদ, সৈন্য বাহিনীর খোরাক সঞ্জয় করতে ইংল্যান্ড তার উপনিবেশ, শাসিত রাষ্ট্র থেকে অর্থ, খাদ্য, সম্পদ আহরণ করতে শোষণেশোষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিলো।
                  এই সুযোগে দেশের ব্যবসায়ী মহল, প্রচুর পরিমাণে মুনাফা অর্জন করতে,  কাঁচা মাল,  ধান চাল, শস্য মজুত করতে লাগলো। ইংরেজ সরকারের খাদ্য সংগ্রহ, অন্য দিকে  মজুতদারের সর্বনাশা ষড়যন্ত্রে ত্রাস, দুর্ভিক্ষের দুর্বিষহ আঘাতে আঘাতে দেশের গরীবের প্রাণ ওষ্ঠাগত। 
                   এর প্রভাব পূর্ব বাংলার অজ পাড়া গাঁয়ে জীবন যাপন পাল্টে গেলো, শুরু হলো কঠিন ঠিকে থাকার লড়াই।
জনগন প্রাণ ধারণেই ব্যতিব্যস্ত, পুজো পাঠ ও তাঁর সাধের পাঠশালা প্রায় উঠে গেলো।
                 
                 দিন আসে, রাত নামে, মানুষ মৃত্যু ও প্রলোভনের শিকার - ক্ষুধার জ্বালায় যৌবনা নারী আজ পতিতা - দরিদ্রতা কী ভয়ংকর - বন্যার জলে বানভাসী ভেসে যায় - সততা, সম্ভ্রম, সম্মান, শালীনতা, মানবতা সব সব খুইয়ে - মরার 'পরে খাঁড়ার ঘায়ে দেশ ভাগের ভয়াবহ পরিনামে একটা জাত, এই বাঙালী জাত, কাঙালের পর্যায়  পর্যবসিত হলো;  আর আমাদের ঘরের মা ও বোনেরা বেশ্যায় পরিনত হয়ে গেলো।

সোমনাথ বাবু জন্মভূমির অমোঘ শিকড়ের টানে, ময়মনসিংহ এর মুকতা গাছা  গ্রামের মায়া ছেড়ে সর্বস্ব হারিয়ে ভিখিরীর মতো কোলকাতার রাস্তায় ভিক্ষে করে দিন যাপনে রাজী ছিলেন না।

গাঁয়ের অনেক হিন্দু পরিবার অনেক কিছু হারিয়ে শেষে পালিয়েছেন। চাষা মরে আশায়। স্ত্রী জয়া আধ পেটা খেয়েও দাঁতে দাঁত চেপে, সংসার বুক দিয়ে আগলে, অনেক কঠিন কালের আঘাতেও ভেঙ্গে না পড়েও ধুক ধুক করে টিঁকে আছেন। দুটো কিশোরী মেয়ে, বড় উমা ষোল বছর, ছোট বীনা চোদ্দ, আর আমল তখন ছয় বছর।
         গাঁয়ের মোড়ল প্রধান ও অন্যান্য পড়শী, তাঁরা অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে, শেষ পর্যন্ত সোমনাথ বাবুকে রাজি করালেন  দেশত্যাগ, জন্মভূমির মাটি থেকে  শেকড় উপড়ে চিরকালের মতো চলে যেতে, বুকের যেন পাঁজর ভেঙে গেলো।
১৯৪৭ শে ১৪ই আগষ্ট রাত থাকতেই কাক ভোরে ধুতি খুলে, বাল্য বন্ধু বসীর মিঞার দেওয়া ভালেবাসার দান - লুঙ্গি ফতুয়া ফেজ টুপি 'পরে, দীর্ঘ দিন না কামানো দাড়ি গোঁপের জঙ্গলে হারিয়ে গেলেন  সোমনাথ ভট্টাচার্য হলেন সোলেমান মিঞা।

                 বসীর মিঞার বিবি আয়েশা জয়াকে রঙিন একটা নুতন শাড়ি পড়িয়ে- কানের পাশ দিয়ে ঘোমটা টেনে সাজিয়ে দিলো, শেষে একটা কালো  বোরখা পড়িয়ে দেয়।                 
আফজল মিঞার দাদার তদবীরে ডিস্ট্রিক্ট র্বোডের প্রেসিডেন্টের রেকমেন্টেড পরিচয় পত্রে লেখা আছে ফুলেশ্বরী গ্রামের সোলেমান শেখ, তার বিবি আমিনা ও বাচ্ছাদের নিয়ে কোলকাতায় যাচ্ছে হাসপাতালে দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য।
                         শেষ বারের মত গৃহ মন্দিরে ও গাঁয়ের মাটিতে মাথা নুইয়ে প্রণাম করে গৃহ দেবতা রঘুবীর আর শালগ্রাম শিলা জপের মালার ঝুলিতে বুকের আড়ালে ঝুলিয়ে, হাউ মাউ করে ডুকরে কেঁদে উঠে আছড়ে পড়লেন।
                        গোফুর, বসীর, আফজল, মোক্তার, হোসেন মিঞা হাত ধরে তুলে বুকে জড়িয়ে চোখের পানী মুছিয়ে সান্তনা দিয়ে মেহেরবানের কাছে দোয়া জানালেন। বৃদ্ধ হোসেন মিঞা বিড় বিড় করে সূরা আওড়াচ্ছেন। লন্ঠন হাতে গাঁয়ের সবাই দল বেঁধে ভীষণ ভালো মানুষ, ইমানদার, সবার খুব প্রিয়, যেন আত্মার আত্মীয় -সোমনাথ বাবুর হাত ধরে পার ঘাটায় আনলেন - চোখের অশ্রু আজ অঝরে ঝরছে।
                      বসীর মিঞা নৌকোর মাঝি আবদুলকে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন।সবাই সোমনাথবাবুকে বুকে নিয়ে গভীর আলিঙ্গনে কাঁদছেন। ছোটরা কেউ কেউ পদম বুসি প্রণাম করছেন। অনেকেরই অক্ষর জ্ঞান হয়েছিল সোমনাথ বাবুর পাঠশালায়।

                       অন্য দিকে আয়েশাবিবি, মর্জিনা, ফতেমা, জয়ার চোখের পানী মোছাচ্ছে, উমা তার সই নূরজাহাকে জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে সই-এর বুকেই জ্ঞান হারালো। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আর এক সই সাহিদা - ওদের সাথে পানী দেবার জন্য কলস ভরে এনে ছিলো, সে তাড়াতাড়ি উমার চোখে মুখে পানী দিয়ে অল্প পানী খাওয়াল, আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিল পরম মমতায়, তাই দেখে অনেকেরই চোখ ছল ছল করে উঠলো।
                      বসীরের আম্মী, বৃদ্ধা সুলতানা বিবি বিশাল এক ঝোলায় পথে খাওয়ার জন্য পুলি-পিঠা, নানা রকম খাবার, নিজের হাতে কোটা চিড়া নাড়ু জয়ার হাতে তুলে দিলেন। জয়া তাঁকে প্রণাম করলে তিনি জয়াকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন।

অন্যেরা বয়ে আনছিল সোমনাথ বাবুর কিছু প্রয়োজনীয় একটা ট্রাঙ্ক, ছেঁড়া  বাক্সে শাড়ি,  কাপড় জামা, একটি
শাল। উমার সাধের খাঁচায় ময়না পাখী, বাড়ির তুলসী মঞ্চের মাটি সমেত তুলসী গাছের ছোট চারা। সামান্য সোনার গয়না জয়া পেট কাপড়ে আগেই ভালোভাবে বেঁধে নিয়েছিলো।
                   বসীর আর হোসেন মিঞা সোমনাথ বাবুকে গাছের আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে হাজার খানেক টাকা ছোটো থলিতে হাতে তুলে দেন। সোমনাথ বাবু ফ্যাল ফ্যাল চেয়ে থাকেন, দুচোখ বেয়ে গড়ায় অশ্রুধারা।

                    কয়েক জন  গাছের তলায় নামাজ পাটি বিছিয়ে নদীর পানীতে হাত মুখ ধুয়ে ফজরের নামাজ পড়ছেন।

                  আবদুল মাঝি 'বদর বদর' বলে নৌকো ভাসিয়ে দিলো আড়িয়াল খাঁর পানীতে। সোমনাথ বাবু ঈশ্বর ও দেশের মাটিকে প্রণাম করছেন।
                 সূর্যের প্রথম সোনালী আলোয় রাঙা হয়ে উঠছে আকাশ। পারে দাঁড়িয়ে  আলোয় উদ্ভাসিত অশ্রু সজল চোখে অনেক তাকিয়ে আছে পশ্চিম দিকে ভাসমান নৌকার দিকে।
দীর্ঘ হাজার জন্মের সম্পর্ক ছিন্ন করে, দেশের আপামর,  ভালো মানুষ,   ভালোবাসার মানুষ তারা কেউই চাইনি দেশভাগ।
নিশ্চিত তারা জানতো দেশভাগের এই ক্ষত থেকে চিরকাল রক্ত ঝরবে।

সোমনাথ আবৃতি করছে --জবা কুসুম---!

পূর্ব আকাশে সূর্য উঠছে। সুনীল আকাশে এক ঝাঁক পাখী উড়ে গেল এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায়।
এই জন্যই কবি লিখেছিলেন - "আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়-- হয়তো মানুষ নয় শঙ্খচিল শালিখের বেশে।"

Tuesday, 2 May 2017

DARLING DAUGHTER

Darling Daughter

One act play

Shyamal  Som

Charecter  ----

Mr. Prodip Basu  -- Father who left his wife and daughter when she was a mare kid three-year old after divorced, went to  New York as photo  Journalist. Wife Aruna is Excutive C  E O of a firm.

Moli --: young pretty good looking girl of twenty three. Completed B. Tec waiting M  B A  admission.

Music instrumental sound track Curtain  raised.
Large size  Drawing Room, On music track Moli is dancing with great pleasure.

Mr. Prodip Basu is enjoying with smiling face of his darling daughter whom he saw  after twenty years.
After dance  Moli has drink water from bottle tried.

Mr. Basu -- may I allow to come in Madam Mam?

Moli went to Mr. Basu-- they are looking each other,  Mr. Basu is recalling the lost memories tingling when Moli was a mare kid.
Moli is  surprised try to recognise her lost father's smell from a strange personal.

Moli-- you I mean you are the best of my mother. Mr. Prodip Basu Please come in be sitted
            I had  have listing of your own personal life from, you mother.
Basu------  Aruna your great soul mother is my best friend since when we were students of Presidency collage, then I went to J N U to complete my Mass communication

Moli-- then you had joined N D T V  channel after wards you fled  to New York for Photo Journalist  may right Mr. Basu?

Basu---  Moli you have done well home work so appraising thanks,

Moli --- most welcome Mr.Basu

Basu--- Moli being friend of your  Mother may I offer some  Giefts to you?

Moli --- sorry Mr. Prodip Basu i deny to accept, you are strange person to me.

Basu--- am I not your mother's friend ?

Moli --  mare a friend of mine mother but to me you are unknown stranger to me.

Basu--- but already I have had hand over to yours maid pacing box of Giefts one Tablate
Dell's computer, Furfumes dresses and cute Barbeie girl doll to you dear ! Darling please accept it's my last
Presentation to you.

Moli--- wait  I confused,  last presentation ?

Basu--- due to unfortunately I wouldn't be able to visit to you further again!

Moli-- Time the Time is most precious than anything and also you have own
Iife to enjoy and you had have been enjoining your own choice able life, are you satisfied Mr. Prodip Basu?
Mr. Basu is scaring scared astonishing looking out out of strom may would broke out.

Mr. Basu --  I'm  grown enough, I lost my childhood  when I had need to play with a cute Barbeie doll,
                      Now I am not Bapy  sorry  it's a slightly sleep of tounge !

পলাতক শরণার্থীদের কথা

পলাতক শরণার্থী

শ্যামল  সোম

আহ্  আহ্ বেজায়  মার মরেছে গায়ে গতরে ব্যথা প্রচন্ড ব্যথা, দেশ স্বাধীন হইলো
ধর্ম ধর্মের দোহাই পারস্পরিক  বিদ্বেষ ঘৃণা  আক্রোশ  ঐ চল্লিশ সালে সাইন কমিশনের
প্রস্তাব দেয় মুসলমান প্রধান কিছু প্রদেশ কিছু হিন্দু  অধ্যুষিত অঞ্চল জুরে কিছু প্রদেশ
আর কিছু মিশ্র হিন্দু মুসলিম খৃষ্টান বৌদ্ধ লোক ভিত্তিক প্রদেশের সংমিশ্রণে ইংরেজ সরকার
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা  স্বপ্ন সফল হবে শাসন ভার তুলে দেবে কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এ
ইংরেজ সরকার সপক্ষে ছিল, উনশো তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ সেনা বাহিনীর খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য  লক্ষ লক্ষ মানুষের  অনাহারে মৃত্যু, লুণ্ঠিত হয় নারী ভিখিরি আর বেশ্যা  ভরে যায়।
একটু ফ্যানের জন্য কোলকাতার রাস্তায় দলে দলে বুভুক্ষু  জনতার মিছিল।
তৎকালীন  কিছু  নেতা সাইমন কমিশন প্রস্তাব প্রত্যাখানে, অন্য  সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়  মানুষের  নেতা  ডাক দেন, DIRECTED  ACTION  SISTEEN  AUGUST 1946.
শুরু  হলো দাঙ্গা হিন্দু মুসলিম এক ই বৃন্তে  দুটি কুসুম বৃন্ত থেকে খসে পড়লো মুখোশ উন্মোচিত হলো ইবলিশ
মুখ।
হাউই মতন উড়ছে ফানুস THE GREAT CALCUTTA KILLING  শত শত  দুই সম্প্রদায়  বারবার  দাঙ্গা বিরোধ হয়েছে।
এবার নিজস্ব  পরিচিত  ও নিজের স্বদেশ চাই।
স্লোগান ছিল- - নাড়ায়ে তকদির  আল্লাহ  হোক আকবর, লড়কে লেঙগগে পাকিস্তান।
ঐ ছেচল্লিশ  এর দাঙ্গায় কলঙ্কিত ইতিহাসের বাস্তবায়ন দলিল  আমার এই একক  অভিনয়।