Tuesday, 30 May 2017

ঘূর্ণাবর্তে ঘূর্ণিঝড় ও কন্যাহারা

ঘূর্ণাবর্তে  ঘূর্ণিঝড়

বড় অসহায়ত্ব শঙ্কিত
উদ্বিগ্ন প্রাণ কম্পিত।
কোথা কত দূরে ফের
পলায়ণ বৃথা রক্তক্ষরণ?
লাখ লাখ শহীদের রক্তের
ঋন, মাতৃ জননী বিভৎস
নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য
হিংস্রতা বর্বরতা আত্মহনন
সব সব কি ভেসে গেল হায়
কর্ণফুলী নদীর বহমান স্রোতে?
নিশ্চয়ই না নিশ্চিত ভাবেই
জানি স্রষ্টা আছেন রক্ষা করবেন।
শতসহস্র  আপনার মত মানুষ  আছেন
মানুষের জন্য শান্তি ইসলাম শান্তি
স্বরূপ উন্মোচিত আলোকিত মানুষের
জন্য মানুষ  আজও ভাবে  পাশে আছে।

কন্যাহারা

শ্যামল সোম

ইতি  কন্যা হারা পিতার বিলাপ
হাহাকার ক্রন্দন নেই সংলাপ।
এ চোখের জলে ভেসে যায়
কন্যার মৃত্যুর বড়  অসহায়।
বৃদ্ধ পিতার মনস্তাপ কান্না
বিদীর্ণ হৃদয়ের তীব্র যন্ত্রনা,
কেন এত হাহাকার ক্রন্দন
ছিলো না তো রক্তের বন্ধন।
ঢাকার ঐ ধানমন্ডিতে বসবাস
কোলকাতায় জরাগ্রস্তের বাস।
ধর্মের রক্তের সম্পর্ক ছিল না
তবু কেন বাবা বলে সম্বোধন?
কেন কেন মা মাগো এভাবে চলে
গেলি তুই না ফেরার সুদূর দেশে।
হে স্রষ্টা পরম পিতা কন্যার বেশে
যে এসেছিল আমার জীবনের শেষে
হে মেহেরবান শান্তি পায় যেন বেহেস্তে।

Saturday, 27 May 2017

ভালোবাসা ভিখারী করছে


ভালোবাসা ভিখারী করেছে
লেখক - শ্যামল সোম

কেন, কেন তুমি, এতটা ভালোবেসে ছিলে ?
নিঃসঙ্গ রেখে,  অবহেলে তুমি চলে গেলে ?
চেনা লাগে আমাকে, যে এখন অপেক্ষায়
আছে মরণের ।
হায় ! আমার পঞ্চাশ বছর
মনামী আমার প্রাণ আমার মন, তোমাকে
ভালোবাসে আজ কাঙালের বেশে ফিরছি,
দূরে দূরে  দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে ফিরি এক
মুঠো ভালো ভালোবাসা যা হারিয়ে ছিলাম
ঝিলামের ধারে ।
পঞ্চাশ বছর আগে ঐ ঝিলামের জলে তুমি
হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ছিলে স্নানে, জলপরী
তুমি আমাকে বুকে নিয়ে ভেসে ভেসে এ কি ?
এ কোথায় আনলে, আশ্চর্য নীলাভ আলোয়
লতা, গুল্ম, জলজ উদ্ভিদ, প্রবাল, শঙ্খ, শামুক
ঝিনুক, মনি মুক্ত  খচিত প্রাসাদের এ আমি
কোথায় এলাম ?
বিশাল প্রাসাদে কেউ কোথাও নেই,  একা এই
নির্জন পুরীতে ।
" মনামী ! মনামী ! " চিৎকার করে ডাকছি
সে ডাক প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরছে, দিন গেলো ।
রাত এলো একা ভয়ংকর ভাবে একা একা বছরের
পর বছর অপেক্ষায় থেকে ভীষণ ক্লান্ত, অবসন্ন,
বিষাদে, বিষন্ন হয়ে চলে গেলো এতগুলো বছর ।
আজ একা পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসে অপেক্ষায় আছি l

আমার স্বপ্নে নামে রাত পরী আমার মৌমিতা

শ্যামল সোম

জ্যোৎস্নার আলোয় ঐ চিক মিক করছে -মধুমতী নদীর জল, রাতে নদীর পারে
হাতটি ধরে আনলো মেয়ে, সে রাত পরী।
তখন ঘুম রয়েছে চোখে, এই শিশির ভেজা, ঘাসের পরে পাশে বসিয়ে মেয়ে চেয়ে থাকে
আমার মুখের পানে, রূপসীর কালো চোখের তারা, কি যেন করে ইশারা, আমি অবাক চোখে
চেয়েআছি, এক ভালো লাগায় ভরে উঠলো মন।
ঝাঁপিয়ে এলো ঝর, এখন ঐ শন শনিয়ে বহিছে, বাতাস; ঝরের মাতন সে এক পাগলা নাচন, দুলছে গাছ, উড়ছেপাতা, ভাঙছেডাল, রাত পরী ঝরের মাঝে উঠলো নেচে, " হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ুরের মতো নাচেরে।"
ভেসে আসছে গান, মেয়ের আপন হাতের দোলায় দুলে উঠলো প্রাণ, কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামলো অঝরে ঝরে বৃষ্টির জলে ভিজে আমাকে দু- হাতে ধরে, কোমর জড়িয়ে নাচছে, নাচে সে নেচেই চলে।
হাতটা ধরে দৌড়ে গিয়ে এক বিশাল অশ্বত্থ গাছের, তলায় আসি আমরা দুজনে, দুজনে দুজনের দিকে অপলক চোখে চেয়ে আছি, আকুল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।
বৃষ্টির শব্দ ভাসিয়ে নিয়ে চলছে কোথায়, আনন্দ স্বর্গের উদ্যানে।
রাত পরীর কাঁধে রেখে হাত, মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে,
এই শরীরের নিবিড় আকর্ষণে দৃঢ় আলিঙ্গনে, তৃষিত চুম্বনে নরম ভিজে ঘাসের শয্যায়, ভেসে যাই অকুল দোরিয়ায়, হালভাঙা, ছেঁড়া পাল, নৌকো টালমাতাল, ভেসে চলি অনন্ত এক অজানা যাত্রায়।

সখী সংবাদ

শ্যামল সোম

আয় সখী আয় আমরা দুজনে এই নিরালায় বসে
আয় সখী আজ এই নির্জনে ঘাটে জল আনতে এসে
এই খানে দুজনে একটু বসি, ও সই তোর মনের দুখের
কথা বল?

কি আর বলবো সই, সোয়ামীর মন পেতে কাল রাতে,
সেজে রঙিন শাড়ী পরে, চোখে সুর্মা, দুহাতে রঙিন
বাহারী চুড়ি, কত অধীর আগ্রহে স্বামীর জন্য বিনিদ্রায়
রাত যাচ্ছে, জোছনভরা আকাশে সাথে জাগছিল তারারা।

ও বুঝেছি ! বৃথা রাত গেল, ফিরলো না সে, ফজরের আযান
ভেসে এলো, আকাশ ভোর হয়ে আসছে, বসলি প্রার্থনায়!

সখী এবার তোর কথা বল?

বলতে সরম লাগে,

ঢঙ, আমার কাছে লজ্জা লাগে?

মনের ব্যথা সখী তোরে ছাড়া করে কই?
সোয়ামী রাতে কাজের শেষে ফিরলো ঘরে
পানি আনলাম, গামছা দিলাম, গোসল করে
এলো সে, কত সময় নিয়ে সেজে গুজে এত
আশা নিয়ে ওর পানে চাইলাম, যদি একটু
জড়িয়ে আদর করে, হায় পোড়া এ কপাল
ফিরেও একবার ক্ষণিকের জন্য চোখ মেলে
দেখলো না, খেতে চাইলো রাতের খাবার
খেয়ে সাতটি তাড়াতাড়ি বিছানায় শুয়ে
নাক ডাকছে, মন পুড়ছে, দাউ দাউ করে
জ্বলছে আগুন, ফাগুন মাসে, শীতল হলাম
কই? বুকের মাঝে শুধু কষ্ট মুখ বুজে সহি।




আমার প্রাণের আবদুল

শ্যামল  সোম

আবদুল মাঝি কথা দিয়ে ছিলে তুমি আজ ভোর রাতে
নৌকা ভাসিয়ে আড়িয়াল খাঁ গাঙের জলে বৈঠা বেয়ে
ভেসে ভেসে এসে উঠবো পদ্মার চরে,  কুমীরের ডিম
ফেটে বেড়িয়ে আসে কুমারের ছানা একে একে তারা।
আবদুল চাচা তুমি কথা রাখ নাই, বৈঠা বেয়ে সজনে
খালির হয়ে ভেসে যাওয়া, সেই  হবি গঞ্জে  চুনার ঘাট।
কথা ছিলো তোমার বাড়ির দাওয়াত এ যাওয়ার, ইলিশ
মাছের ডিম ভাজি দিয়া চাট্টি চিকন ধানের ঘরে ভাজা
মুড়ির লগে, ধান লঙ্কা। তোমার নাতনী ঐ মুক্তা মুখে
আঁচল চাপা, চোখে তার ঝিলিক খেলে, কেবলি হাসে।
বেড়ার আড়ালে, ও কেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
সে ডাক আজও দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পরেও রাতে শুনি চাচা।
আবদুল চাচা বড় সাধ হয় আর এক বছর ফিরে যাই, দেখে
আসি আমার বড় সাধের প্রিয় জন্মভূমি, পূর্ণ পিতৃভূমি
আমার আর এক অভিমানী জননী সোনার দেশ বাংলাদেশ।
এপারে এত বিষন্নতার মাঝে, খবর আসে জানি গুজব কিনা?
কেউ লিখছে " জ্বলছে আগুন পুড়ছে দেশ, তোমার আমার
বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হৃদয় হতে উঠছে আর্তনাদ, ক্রন্দনরতা ক্রন্দসী
জননী আমার, হে আমার মণি মুক্তা দেশ, কেঁদো না মা তোমার
আমার সহ্য হয় না,  ঈশ্বর সহায় আছেন, এক দিনসব শান্ত হবে,
শান্তি বর্ষনে, ঈশ্বরের দান বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে, এ দাহ শীতল হবে।

যৌথ লিখন

বিভাগ-  কবিতা

জনৈকা কবির কাব্য প্রেমিক (যৌথ লিখন )

শ্যামল  সোম  বাঁশিওয়ালা

হে কাব্যের স্বপ্নের দেবী
বঞ্চিত করলে মোরে
কোন অপরাধে
বৃদ্ধ তোমার মত আশ্চর্য
লেখার নিপুণতা অর্জনে
আপারক,  বরিশালে ঐ
মাটিতে, কীর্তন খোলা
নদীর জলে বাতাসে
যৌবনের বহিঃপ্রকাশে
আমার অক্ষমতা স্বীকার্য
ব্যর্থ হয়েছি এই জীবনে।
তবু স্বাদ আহ্লাদ জাগে,
মনের বাগান - বাড়িতেই
কীর্তন খোলা নদীর ধারে,
আমার মনের মানুষের
বাস, ফুলে ফুলে ছাওয়া
সৌরভে ভেসে আসে
তোমার কাব্যের ঘ্রাণে
শ্বেত গোলাপ তুমিই
নয়নে নয়নে বিমোহিত মন   
প্রথম প্রেম সলজ্জ দৃষ্টি
অপলক আমার মুগ্ধ নয়ন।
----------------------------------------------------------------
আমার দোয়েল পাখীর গান

যদি বলি....
ফুল কেন ফোটে????
তোমাকে সুবাস দেবে বলে।
যদি বলি...
পাখি কেন গায়????
তোমাকে ঘুম ভাঙাবে বলে।
যদি বলি.....
চাঁদ কেন উঠে????
তোমাকে আলোকিত করবে বলে।
যদি বলি...
রাত কেন আসে????
তোমাকে আদর করবে বলে।
যদি বলি...
মানুষ কেন ভালবাসে???
তখন উত্তর হবে,
তোমার দেয়া দুঃখ কে......
সাথী করবে বলে!!!!!!
--------------------------------------------------------------------------
বৃক্ষের কথা

প্রাচীন বৃক্ষের ডালে
বহু দূর হতে উড়ে এলো
দোয়েল, হঠাৎই আগমনে
উদ্বেলিত আপ্লুত
বৃদ্ধ বৃক্ষের ডালে
নবিন সবুজ পাতা পাতায়
আবির্ভূত হলো আমার
হৃদয়ের কবি পঠে আঁকা
ছবি কাব্যর দেবী অহেতুকী
কৃপা প্রেম ভাবতে
ভয়ার্ত, নয়নে  নয়ন 
বৃক্ষের দেহে কম্পন, 
উঠল ঝড় এলো ডাল পালা,
বিপর্যস্ত বৃক্ষের বুকের
কোঠরে  দোয়েল  জড়ায়ে
আছে বাধা ছাড়ায়ে যেতে
চায় তবু কেন ছন্দে ছন্দে
দোলে দোয়েল গেয়ে গান।
ফুটে উঠল প্রেমের ফুল সে
সে করে কোন মারাত্মক ভুল?
বৃক্ষের হৃদয় কেন তোমার
আপন হাতের দোলায়
দোলাও দোলাও বৃক্ষের 
অশান্ত  শোকাচ্ছন্ন  মন?
যৌবনে কোন এক জ্যোৎস্না
রাতে দুলেছিনু বনে
এই কি সেই  বৃক্ষের ডালে,
বাজ পরা দগ্ধ এ বৃক্ষ।
জরাজীর্ণ বৃক্ষ  ডালপালা
মেলে জড়িয়ে ধরতে
চায় আকাশের চাঁদ, বদ্ধ
উন্মাদ উদ্যম হীন জরাগ্রস্ত
বৃদ্ধ বৃক্ষের ঝুরি  নেমে গেছে
মাটির গভীরে  কেন  যায়
আরো গভীরে যায়, মাটি
বুকের ভিতর বন্দি  যে জল
মাটি পায়না তারে,
বৃক্ষের প্রেমে পড়ার ব্যর্থ প্রয়াস।
পরিহাসে আজ হাস্যাস্পদ
সবাইর কাছে  বিষন্ন
বৃক্ষ শোনে  গান, নিমগ্ন
আত্মহনন পূর্ব মূহুর্তে,  শেষে
ছেড়ে দীর্ঘশ্বাস  অব্যক্ত উক্তি
" কল্যাণ হোক  দোয়েলের
পাখী মৃত্যুর পথে পথ যাত্রীকে 
শুনিয়েছিলে গান,"কৃতজ্ঞ।

হেমন্তের গহীন অরণ্যে


শিরোনাম : চল পাগলী পালাই

কবিঃ        শ্যামল  সোম বাঁশিওয়ালা

হেমন্তে গহীন অরণ্যে
পিঁউ কাঁহা পাখি ডাকে
সুন্দরবনে চলরে পাগলী
আজ শীতার্ত রাতেই
আজ রাতেই চল পাগলী পালাই
আর কত কাল এ নিঃসঙ্গ কাটাই।
জাত বয়স ধর্ম বিস্ফারিত স্বদেশ
পরবাসে দুজনে দুজনার  প্রবাসে
পরস্পরের  থেকে বিছিন্ন প্রয়াসে।
সামাজিক কঠোর শাস্তির খড়্গ এ
সালিশী সভায় কোন বক্তব্য না শুনেই
গণ প্রহার গাছে বেঁধে প্রেমিকের ক্রোধ
প্রেমিকাকে গণধর্ষণ, কিসের প্রতিশোধ
প্রতিদিনই প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত গ্লানিময়
মানবিকতার বিরুদ্ধেই অমানুষদের নিত্য  
প্রতিরোধ  অহংকারের হুংকার  আস্ফালন
আধুনিক এই শহরের যান্ত্রিক যাপিত জীবন।
প্রতিবেশীর নিঃসহায় নিপীড়িত নিঃসঙ্গ
স্পৃহা হীন উদাসীন স্বার্থপর  আত্মীয় স্বজন
এ তো জীবনের প্রহসন, মুক্তির আস্বাদন।
নিজস্ব  আমাদের পরমাণু শক্তির কোপনলে
ধ্বংসের  আগেই চলরে পাগলী সেই গহিন অরণ্যে
হিমালয়ের গুহায় প্রস্তর যুগে ফিরে যাই।
আরণ্যক জীবন যাপন করতেই,
চলরে এবার পাগলী পালাই,
এতো আমাদের স্বাধিকার লড়াই।
চল যাই সকল মানুষের মিছিলের পাশে
শান্তির অগ্রদূত বাংলা কবিতা আশ্বাসে।
বাংলা কবিতা আমাদের সঠিক পথের
দিশারী, নিশ্ছিদ্র সতর্কতা সৈনিক কবিতা
সৌহার্দ সম্প্রীতি মানবতার প্রতীক স্বরূপ
আমাদের বাংলাভাষী গর্বের বাংলা কবিতা
হোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ দেশান্তরের  এই
বাংলা কবিতার  আজ জয় জয় ও জয়কার ।

পথের সাথি কাব্য প্রেমিকা শ্যামল সোমের ব্লগ

https://www.facebook.com/পথের-সাথি-কাব্য-প্রেমিকা-1605650766402277/

কবিতা গুচ্ছ শ্যামল সোম


ভালোবাসা ভিখারী করেছে
লেখক - শ্যামল সোম

কেন, কেন তুমি, এতটা ভালোবেসে ছিলে ?
নিঃসঙ্গ রেখে,  অবহেলে তুমি চলে গেলে ?
চেনা লাগে আমাকে, যে এখন অপেক্ষায়
আছে মরণের ।
হায় ! আমার পঞ্চাশ বছর
মনামী আমার প্রাণ আমার মন, তোমাকে
ভালোবাসে আজ কাঙালের বেশে ফিরছি,
দূরে দূরে  দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে ফিরি এক
মুঠো ভালো ভালোবাসা যা হারিয়ে ছিলাম
ঝিলামের ধারে ।
পঞ্চাশ বছর আগে ঐ ঝিলামের জলে তুমি
হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ছিলে স্নানে, জলপরী
তুমি আমাকে বুকে নিয়ে ভেসে ভেসে এ কি ?
এ কোথায় আনলে, আশ্চর্য নীলাভ আলোয়
লতা, গুল্ম, জলজ উদ্ভিদ, প্রবাল, শঙ্খ, শামুক
ঝিনুক, মনি মুক্ত  খচিত প্রাসাদের এ আমি
কোথায় এলাম ?
বিশাল প্রাসাদে কেউ কোথাও নেই,  একা এই
নির্জন পুরীতে ।
" মনামী ! মনামী ! " চিৎকার করে ডাকছি
সে ডাক প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরছে, দিন গেলো ।
রাত এলো একা ভয়ংকর ভাবে একা একা বছরের
পর বছর অপেক্ষায় থেকে ভীষণ ক্লান্ত, অবসন্ন,
বিষাদে, বিষন্ন হয়ে চলে গেলো এতগুলো বছর ।
আজ একা পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসে অপেক্ষায় আছি l

আমার স্বপ্নে নামে রাত পরী আমার মৌমিতা

শ্যামল সোম

জ্যোৎস্নার আলোয় ঐ চিক মিক করছে -মধুমতী নদীর জল, রাতে নদীর পারে
হাতটি ধরে আনলো মেয়ে, সে রাত পরী।
তখন ঘুম রয়েছে চোখে, এই শিশির ভেজা, ঘাসের পরে পাশে বসিয়ে মেয়ে চেয়ে থাকে
আমার মুখের পানে, রূপসীর কালো চোখের তারা, কি যেন করে ইশারা, আমি অবাক চোখে
চেয়েআছি, এক ভালো লাগায় ভরে উঠলো মন।
ঝাঁপিয়ে এলো ঝর, এখন ঐ শন শনিয়ে বহিছে, বাতাস; ঝরের মাতন সে এক পাগলা নাচন, দুলছে গাছ, উড়ছেপাতা, ভাঙছেডাল, রাত পরী ঝরের মাঝে উঠলো নেচে, " হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ুরের মতো নাচেরে।"
ভেসে আসছে গান, মেয়ের আপন হাতের দোলায় দুলে উঠলো প্রাণ, কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামলো অঝরে ঝরে বৃষ্টির জলে ভিজে আমাকে দু- হাতে ধরে, কোমর জড়িয়ে নাচছে, নাচে সে নেচেই চলে।
হাতটা ধরে দৌড়ে গিয়ে এক বিশাল অশ্বত্থ গাছের, তলায় আসি আমরা দুজনে, দুজনে দুজনের দিকে অপলক চোখে চেয়ে আছি, আকুল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।
বৃষ্টির শব্দ ভাসিয়ে নিয়ে চলছে কোথায়, আনন্দ স্বর্গের উদ্যানে।
রাত পরীর কাঁধে রেখে হাত, মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে,
এই শরীরের নিবিড় আকর্ষণে দৃঢ় আলিঙ্গনে, তৃষিত চুম্বনে নরম ভিজে ঘাসের শয্যায়, ভেসে যাই অকুল দোরিয়ায়, হালভাঙা, ছেঁড়া পাল, নৌকো টালমাতাল, ভেসে চলি অনন্ত এক অজানা যাত্রায়।

সখী সংবাদ

শ্যামল সোম

আয় সখী আয় আমরা দুজনে এই নিরালায় বসে
আয় সখী আজ এই নির্জনে ঘাটে জল আনতে এসে
এই খানে দুজনে একটু বসি, ও সই তোর মনের দুখের
কথা বল?

কি আর বলবো সই, সোয়ামীর মন পেতে কাল রাতে,
সেজে রঙিন শাড়ী পরে, চোখে সুর্মা, দুহাতে রঙিন
বাহারী চুড়ি, কত অধীর আগ্রহে স্বামীর জন্য বিনিদ্রায়
রাত যাচ্ছে, জোছনভরা আকাশে সাথে জাগছিল তারারা।

ও বুঝেছি ! বৃথা রাত গেল, ফিরলো না সে, ফজরের আযান
ভেসে এলো, আকাশ ভোর হয়ে আসছে, বসলি প্রার্থনায়!

সখী এবার তোর কথা বল?

বলতে সরম লাগে,

ঢঙ, আমার কাছে লজ্জা লাগে?

মনের ব্যথা সখী তোরে ছাড়া করে কই?
সোয়ামী রাতে কাজের শেষে ফিরলো ঘরে
পানি আনলাম, গামছা দিলাম, গোসল করে
এলো সে, কত সময় নিয়ে সেজে গুজে এত
আশা নিয়ে ওর পানে চাইলাম, যদি একটু
জড়িয়ে আদর করে, হায় পোড়া এ কপাল
ফিরেও একবার ক্ষণিকের জন্য চোখ মেলে
দেখলো না, খেতে চাইলো রাতের খাবার
খেয়ে সাতটি তাড়াতাড়ি বিছানায় শুয়ে
নাক ডাকছে, মন পুড়ছে, দাউ দাউ করে
জ্বলছে আগুন, ফাগুন মাসে, শীতল হলাম
কই? বুকের মাঝে শুধু কষ্ট মুখ বুজে সহি।




আমার প্রাণের আবদুল

শ্যামল  সোম

আবদুল মাঝি কথা দিয়ে ছিলে তুমি আজ ভোর রাতে
নৌকা ভাসিয়ে আড়িয়াল খাঁ গাঙের জলে বৈঠা বেয়ে
ভেসে ভেসে এসে উঠবো পদ্মার চরে,  কুমীরের ডিম
ফেটে বেড়িয়ে আসে কুমারের ছানা একে একে তারা।
আবদুল চাচা তুমি কথা রাখ নাই, বৈঠা বেয়ে সজনে
খালির হয়ে ভেসে যাওয়া, সেই  হবি গঞ্জে  চুনার ঘাট।
কথা ছিলো তোমার বাড়ির দাওয়াত এ যাওয়ার, ইলিশ
মাছের ডিম ভাজি দিয়া চাট্টি চিকন ধানের ঘরে ভাজা
মুড়ির লগে, ধান লঙ্কা। তোমার নাতনী ঐ মুক্তা মুখে
আঁচল চাপা, চোখে তার ঝিলিক খেলে, কেবলি হাসে।
বেড়ার আড়ালে, ও কেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
সে ডাক আজও দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পরেও রাতে শুনি চাচা।
আবদুল চাচা বড় সাধ হয় আর এক বছর ফিরে যাই, দেখে
আসি আমার বড় সাধের প্রিয় জন্মভূমি, পূর্ণ পিতৃভূমি
আমার আর এক অভিমানী জননী সোনার দেশ বাংলাদেশ।
এপারে এত বিষন্নতার মাঝে, খবর আসে জানি গুজব কিনা?
কেউ লিখছে " জ্বলছে আগুন পুড়ছে দেশ, তোমার আমার
বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হৃদয় হতে উঠছে আর্তনাদ, ক্রন্দনরতা ক্রন্দসী
জননী আমার, হে আমার মণি মুক্তা দেশ, কেঁদো না মা তোমার
আমার সহ্য হয় না,  ঈশ্বর সহায় আছেন, এক দিনসব শান্ত হবে,
শান্তি বর্ষনে, ঈশ্বরের দান বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে, এ দাহ শীতল হবে।

Friday, 26 May 2017

বোকা আমার মেয়ে


বোকা আমার মেয়ে

শ্যামল সোম

ও মেয়ে ভালোবাসার ছলনায়
মুখোশ পরা সুদর্শন প্রেমিকের
হাত ধরে হেঁটো না, ওরে বোকা
মেয়ে তুই এও জানিস না শুধুমাত্র
ভালোবাসার মানুষ তোর বাপ মা।
আর কেউ না সবার সাথেই তোর
আর তার ঐ পারস্পরিক সম্পর্ক
ঐ লেনদেন,দেনা পাওনা হিসেব
নিকেশ, প্রেম ভালোবাসা হাস্যকর,
বিশ্বাস কর  ঐ গুলো কাব্যিক শব্দ।
মেয়ে তোর পায়ের তলার ভিত ধ্বসে
পড়ার আগেই মাটি শক্ত কর আগে,
পাছে ঠেলা দিলেই তোর অতলে তলিয়ে
যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তো? না স্বপ্ন
দেখার এখন বাসনা চরিতার্থ করতে
পালাবি শেষে, হতভাগী ফিরতে পারবি?
যখন, তোর দেওয়ালে ঠেকবে পিঠ,
অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন, বিষাদ বিপন্ন
দৈনন্দিন জীবনে এ হেন কষ্টকর দিন
যাপনের আত্মগ্লানি অসম্মান অকথ্য
গালাগাল প্রতিনিয়ত ধর্ষণ সহ্য হবে তোর?
গুমড়ে গুমড়ে কেঁদে কেঁদে, ক্লান্ত অবসন্ন
ক্ষত বিক্ষত মন,
তারপরেই কি আত্মহনন?