Tuesday, 17 October 2017

সমুদ্র কন্যা

সমুদ্র কন্যা

শ্যামল  সোম

সমুদ্র সৈকতে নাতনি জয়ীতার সাথে অন্ধকার থাকতেই হোটেল থেকে পৌঁছেছি,
বালুকা বেলায় নাতনি পাশে বসে দেখছি রূপালি ঢেউ হামাগুড়ি দিয়ে দুরন্ত শিশু।
পূর্বের  আঁধারাচ্ছন্ন  আকাশে সূর্য প্রসবের প্রাক মূহুর্তে রূপ সোনা রঙে ছড়িয়ে
জননী প্রসব  করছেন টিমের লাল কুসুমিত  সূর্যোদ্বয়ের নূতন প্রভাত,
ভোরের  আলোয় উজ্জ্বল  উদ্ভাসিত নাতনির চোখে মুখে আনন্দের বিচ্ছুরণে
আবেগে, হঠাৎই আমাকে আঁকড়ে ধরে, হুহু করে ডুগড়ে কেঁদে উঠে, " দাদাভাই
আমি বাঁচতে চাই ! " পিঠে হাত বুলিয়ে দুচোখে জল, ছলছল চোখে আমরা পরস্পরের
অপলক চোখে তাকিয়েই আছি।
" কি হলো দাদুভাই কথা বলছো না কেন ?"

" আমি মন মন ঈশ্বরের কাছে এই মূহুর্তে তোর জন্য  প্রার্থনা করছিলাম মা।"

" এক মাত্র তুমি তুমি  আমাকে আজ বাঁচিয়ে রেখেছে দাদাভাই "

" ঈশ্বর এই পৃথিবীর সৃষ্টি কর্তা তিনিই  তোমাকে আশীর্বাদ করছেন, আমি শুধুমাত্র
আমার নাতনির কল্যানের জন্য প্রার্থনা করছি ! "

"তোমার ঈশ্বর ভীষণ নিষ্ঠুর দাদুভাই  আমার আদরের ভালোবাসার মানুষ রনজয়কে
কেঁদে নিয়েছেন !"

আমি নিশ্চুপ নাতনির মাথায় হাত রেখে স্মরণ করি মহান পিতা পরম ব্রক্ষ্ম কে ।

রণজয় আর জয়ীতার  বাল্যপ্রেম ভাই বোনের মতন খুনসুটি ঝগড়া যৌবনে মান অভিমান।
হঠাৎই রণজয় দিল্লীর আই আই টি পড়তে যাওয়া দীর্ঘদিনের বিরহের গান শুনতাম জয়ীতার গলায়।
নিজেকে কঠিন শাসনে বেঁধে দুর্দান্ত রেজাল্ট করলো ইকনমিক্স  মার্কেটিং  উপর ডক্টর জয়তী ঘোষ
বিকাশ কোম্পানির এক বিশিষ্ট পদে আসিন।

দু’বছর জাপানে কাজ করে কোলকাতাতে ফিরলো রণজয়, বিবাহের আয়োজন 
চলছে হচ্ছে খুব শীঘ্রই  বিবাহের দিন।
নাতনি আমার রঙিন প্রজাপতি, স্বপ্নে বিভোর মোহাচ্ছন্ন বিমোহিত, মাঝে মাঝেই আমার আদরের
নাতনি জড়িয়ে ধরে, " সত্যিই দাদুভাই জীবনটা খুব সুন্দর ! "

হতভাগীর এই এত আনন্দের ফোয়ারা ফুরিয়ে গেল-  এক দমকা হাওয়ায় নীচে
গেল, সব দীপাবলির আলো।

রণজয় হেলমেট না পড়ে বাইক এক্সিডেন্ট মাথাতে চোট পেয়ে, হসপিটালে মরণ বাঁচন লড়াইয়ের
জন্য জয়তী দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে অসহ্য মানসিক যন্ত্রনা।
শেষে রণজয় মৃত্যু জেনে জ্ঞান হারালো জয়ীতা
টানা পনের দিন নার্সিংহোম চিকিৎসার পরে আমার ছেলে বৌমা নাতনিকে বাঁচাতে  পারলো।

কিন্তু যখন শুনলো জয়ীতা তাঁদের একমাত্র কন্যা সন্তানের গর্ভে ধারণ করেছে ভ্রূণ পরীক্ষার পর গর্ভস্থ
ভ্রুণ নষ্ট করতে ছেলে বৌমা নিকট  আত্মীয় স্বজন।

জয়ীতা রুখে দাঁড়ানোর পেছনে আমার প্রোথিত প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অসংখ্য বার
তীব্র ভৎসনা করলো সবাই।

না না আমি কখন জয়ীতার উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম, শুধু বলে ছিলাম, " মা এ বড় কঠিন লড়াই!
সরকারী আইন অবিহিতা কুমারী মায়ের জন্য স্বীকৃতি  স্বরূপ সমাজ সংস্কার
ভবিষ্যতের ভাবনার ভেবে সিদ্ধান্ত নাও মা "
ইদানিং খুব মন খারাপ ছিল জয়ীতার তাই আমাদের বেড়াতে আসা।
এই নির্জন সমুদ্রে  প্রচন্ড  ঢেউয়ের আলোড়ন মাঝে জয়ীতা কাব্যে নায়িকার
মতন ঢেউ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে তার দুচোখে সুখ স্বপন ?

আমি মুগ্ধ হয়ে সমুদ্র কন্যাকে দেখছি।

Monday, 16 October 2017

যৌন নির্যাতনে আত্মহনন

প্রেমের এ হেন নির্যাতনে  আত্মহনন

শ্যামল  সোম

মানুষ মানসিক কতটা যাতনায়, নিদারুণ  অবসাদে আত্মহননের
পথ বেছে নেয়, বিশেষত মিনুর মতন সদ্য কৈশোর উন্নতি তন্বী
লাবণ্যময়ী ঝর্নার মত উচ্ছল, দীঘল মায়াবী চোখে ভাসে  নীলপদ্ম ।
মিনু আমার বন্ধুর রমেনের নাতনি রমেনের  ছেলে মেরিন  ইঞ্জিনিয়ার
সারা বছরে সাত মাস জলে ভাসে।
রমেন বৌমা অতসী নাতনি মিনু ভালো নাম মীনাক্ষী নাতি বাবলু
ক্লাস ফাইবে পড়ে।
বৌমা একটি কোম্পানী জোনাল হেড খুবই ব্যস্ত জীবন সংসারের
হাল ধরে রেখেছে রমেন ব্যাঙ্ক  এ অফিসার ছিলো এখন আমার মতই
অবসর প্রাপ্ত।
আমার এই নিঃসঙ্গ বিষন্ন জীবনে রমেন  ও নাতনি মিনু যেন ঠিক এক
পশলা বৃষ্টি, মিষ্টি স্বভাবের প্রাণবন্ত সারল্য স্নিগ্ধ মাধুর্য অপরূপ কাব্যিক
ছন্দময় প্রেমময় সৌন্দর্যে ব্যবহারে, অসম্ভব সুন্দর নৃত্য পরিবেশনে
সাবলীল ব্যক্তির সম্পূর্ণা তরুনীর একঢাল মেঘ বরণ চুল, পাড়াতে
সবাই ভীষন প্রিয় পাত্রী।

প্রখর  দগ্ধ আমার  জীবনের ভালোবাসার প্রলেপ  আমার আদরের নাতনি,
আমার লেখার প্রথম পাঠিকা, নানা ভাবে অনলাইনে  লেখা ল্যাপটপের
খুঁটিনাটি সব ব্যাপারে সাহায্য করতো।

কলেজে আমার পরামর্শে ইংলিশ অনার্স সাথে মাস কমিউনিকেশন পড়ছিল।
দুর্দান্ত সব রেজাল্ট স্কুল থেকেই মেধাবী ছাত্রী।

হঠাৎই মিনুর হাবভাব পালটে গেল, শুনলাম রমেনের কাছে এক ব্যবসায়ী
বাপের বকাটের ছেলের মোহে পড়ছে।

ইদানিং  আমাকেও এড়িয়ে যায়  বুজি এই হলো আমাদের দেশের পরবর্তি নূতন প্রজন্ম
প্রাচীন প্রথার প্রচলন দৈনন্দিন জীবন যাপন  এ রুদ্ধশ্বাস থাকতে চায়  না।

মুক্ত বিহঙ্গ শঙ্খচিল মতন প্রেমিকের হৃদয়ে আকাশে উড়ছে, চাঁদ জ্যোৎস্না
আলোকিত জীবনে হঠাৎই  ফানুসের মতন খোলা রাতের আকাশে  উড়তে
করতে ঝপ করে নিভে গেল।
যাব যাবো ই বানিজ্য তে যাবো রবীন্দ্রনাথের গান কেন এলো, শোকে দুঃখে রবীন্দ্রনাথের গানে
নীল সুর বেদনা মধুর নয়?
রমেনের বাড়ির সামনে লোকে লোকারণ্য, পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল ।
জানা গেল  কানাঘুষো শোনা গেল  গত পরশু  প্রেমিকের বন্ধুদের গণধর্ষণের শিকার হয়ছিলো।
আত্মগ্লানি ভারাকান্ত নদীর মতন খাল হয়ে বাঁচতে  চাইলো কেন প্রতিকার মোমবাতির
মিছিলে নীল রঙের কষ্টের জীবন থেকে কেন পলায়ন ? ভুলের প্রায়শ্চিত  কি আত্মহনন
যখন গর্ভে লালিত পালিত  ভ্রূণ?

Monday, 9 October 2017

মুখপুড়ির মৌখিক প্রতিশ্রুত পরে

মুখপুড়ির মৌখিক প্রতিশ্রুত প্রেম

শ্যামল  সোম

যার জন্য  এত কষ্ট  এত অশ্রুপাত হতভাগী
তার জন্যই এ বিনিদ্র রাত, কত খানি সুখ
সায়রে গহীন অবগাহন,রবি সেনের লোমশ
চওড়া বুকে আত্মসমর্পণ  মানবধর্ম বিসর্জন।
প্রভুরচরণে প্রেম না করলি নিবেদন পাপিষ্ঠা
লাম্পট্য আড়ালে ছিল মসৃণ সুনিপুণ বলিষ্ঠ
সুঠাম দেহ সৌষ্ঠব বীরত্ব পৌরুষ প্রদর্শন ।
আর্থিক চোরা কারবারি রবি সেনের উপার্জন
ঐশ্বর্য বৈভব পরিপূর্ণ সৌখিন পৌরুষের স্বয়ং
অহংকারে প্রোথিত তুই যৌনদাসি বাঁদির জীবন
রূপকথার দামাল পুরুষের শ্রুশ্রসা শয্যাসঙ্গিনী
রাজপুত্র রবিসোনা নৈসর্গিক স্বপ্নীল কাব্য প্রেমে
মসগুল ঢেউয়ের আলোড়ন শিহরণ শীৎকার
ধ্বনি উল্লাস আপ্লুত রক্তের শিরায় ধমনী রবির
আগ্রাসী আকন্ঠ চুম্বনের স্বাদ আহ্লাদিত রমনী
প্রতারিতা প্রতিশ্রুতপ্রেম অমাবস্যা জ্যোৎস্নায়
প্লাবিত সে নানা রঙের দিনগুলি তোর রইল না
ওরে হতভাগী প্রেম ভালোবাসা কাব্যের স্বপ্নের
বিভোর মোহাচ্ছন্ন ন্যায় বর্জন  আকাশকুসুম
কল্পনায় কবিতায় কাব্যময় জীবনের আকাঙ্ক্ষা
রবি ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে তুই আজ ধর্ষিতা
প্রতারনায় অবাঞ্ছিত গর্ভস্থ ভ্রুণ শতসহস্র বেজন্মা
ভরে গেল দেশ দেশান্তর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে
অবস্থিত শতসহস্র শরণার্থীদের আত্মবিলাপ
হাহাকার ক্রন্দন নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতার
শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়তই শিশু নারী পাচার তোর
রবি মুখোশ ধারি ঐ মাদক ও নারী পাচারকারী
মেহেরবান এর অশেষ কৃপা তাই এখন হারানো প্রেম
ভালবাসার গল্পে হাপিত্যেশ চোখে জলে নীল আঁচল
ঐ গাছের ফাঁকে তাকিয়ে দেখ ময়ূরাক্ষী নদীর জলে
তোর রবির জলকেলী কোলে ঝোলে কৃষ্ণকলি তৃষ্ণা।

ঠিক না বেঠিক বিবাহের প্রতিশ্রুতি

বিবাহের প্রতিশ্রুতি

শ্যামল  সোম

পয়লা বৈশাখের মেলায় দেখা হোল দুজনার
একজনের পরণে নীল বালুচরী নক্সাকাটার
ঘণনীল রঙে রতনের বাহারী রেশম পাঞ্জাবী,
প্রথম সাক্ষাত মঞ্চে নীলা, গাহিছে " এসো হে বৈশাখ"
রতন গান শোনার থেকে গায়িকার রূপ লাবণ্য মসৃণ
ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের নিটোল গড়নে লিপ্সা চোখে মুখে।
গলা কাঁপিয়ে মেঘমধুর উদাত্ত কন্ঠে রতনের আবৃত্তি,
"আমি গোলাপের দিকে চেয়ে বললাম সুন্দর সুন্দর হলো সে"
নীলা কন্ঠস্বরে যাদু বলিষ্ঠ সুঠাম দেহের আকর্ষণে
মন্ত্রমুগ্ধ কাব্যের লালিত্য যত না মোহাচ্ছন্না বিগলিত
রতনের পেশীবহুল চওড়া ছাতি দেখে নীলা আরক্তিম
গালে টোল পড়লো বান্ধবীদের হাসাহাসি শেষে যখন
প্রথম পারস্পরিক পরিচয় পরস্পরের কাছ থেকে ঐ
মুঠোফোনের নম্বর দেওয়া নেওয়া পরে রতনের মধুর
আহ্বানে রেস্তোরাঁতে খানা পিনা বেশ দ্রুতই চললো
পরস্পরের কাছাকাছি আসতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে
উঠছে, অমাবস্যা চাঁদের জ্যোৎস্নায় ময়ূরাক্ষী নদীর
পাড়ে মাঘ মাসের শীতে  ভারা করা কটেজে ঘরে
শুভ্র কোমল বিছানায় পরস্পরের কাছে প্রতিশ্রুত
বিবাহের প্রস্তাব সর্ত  সাপেক্ষে সে এক অতি আশ্চর্য
উষ্ণতা জন্য পরস্পরের  আকন্ঠ চুম্বনে রক্তাক্ত ঠোঁট
ঘণ আলিঙ্গনে লোমশ বুকে না নগ্ন স্তনে গোপন সুখ
সুখের সন্ধানে আত্মসম্মান জ্ঞান বুদ্ধি সম্ভ্রম মান মর্যাদা
সব জলাঞ্জলি দিয়ে পাশবিক মৈথুন সুখ সমুদ্রে সাঁতার
ঢেউয়ের আলোড়নে ঝড়ের তান্ডব ভয়ঙ্কর মেঘের গর্জন
অবশেষে ঝিরঝির করে ঝরছে বৃষ্টি ব্যাকুল উদগ্রীব দুটি
দেহ গহিন অরণ্যে রোদন নীলা কাঁদছে প্রথম প্রেম সলজ্জ
চোখে চোখ পড়তেই ভূমিকম্প স্পন্দন আলোড়িত দুজনার
মন পরস্পরের পরিপূরক পরিপূর্ণ স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্ক নরনারী
কে করবে বারণ পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন চক্ষুশূল
হেলে দুলে নীলা নদীর বহমান স্রোতে ভাসে চলছে সাগরের
মোহনায়, হঠাৎই মোহ ভঙ্গ তিন মাসের ভ্রূণ পরীক্ষার পর
গর্ভস্থ সন্তানের দায়িত্ব পালনে রতনের অস্বীকার যা খুব
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন সবাই মুখের ঐ সামান্য
বিবাহের প্রতিশ্রুতি এ বিশ্বাস সহবাস না ঐ ব্যভিচারিনী
নীলার আত্মতৃপ্তি নীরব সন্মতি ছিল ?
পুলিশ অনুসন্ধান জানা গেলো রতনে রতন চেনে বহুগামী
ভোগ বিলাস অপর্যাপ্ত  অর্থ বরাদ্দ কাস্টোমার সার্ভিসে আছে।
নীলা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ডাক্তারের স্মরণাপর্ণ প্রেমের
ফসল নির্মূল করার আশু প্রয়োজন কি আত্মহনন  আত্মগ্লানি
ভারাকান্ত যৌনবতীদের সাথে লাল পাড়াতে ঘর বাঁধবে না
কলঙ্কিনী সকলের মনোরঞ্জন করে জীবন যাপন করবে কিভাবে ?

Sunday, 8 October 2017

এ কেমন অভিশপ্ত জীবন শ্যামল সোম

আজ এই অন্ধকারাচ্ছন্ন ভয়ঙ্কর ভয়াল পরিবেশ, মানসিক ডাইবেটিক   ও অসুস্থ স্ত্রী  আবার নিজেও
মানসিক শারিরীক অসুস্থতার জন্য ভীষণ অসহায়ত্ব শঙ্কিত উদ্বিগ্ন প্রাণ হারানো, এবং কেউ আজ পাশে না থাকার জন্যই আমার ভীষণ মানসিক দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
অথচ আশ্চর্য  আশৈশব এই  ঈশ্বরের  প্রতি ভক্তি  পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র সন্তান হওয়ার জন্য কৈশরের থেকেই মাতাল বাপের জনৈকা রক্তাক্ত কন্যার রূপে শরীর ভোগ করার জন্য বিবাহের পূর্বেই আমি সেই কিশোরী গর্ভে
আসি পরবর্তী কালে ঐ নমঃ নমঃ বিবাহের পর উনিশো পঁয়তাল্লিশ সরস্বতী পুজোর আবেদিন সতেরো জানুয়ারী জন্ম হই দারিদ্র্যতার মাঝেই, একে একে দশ ভাই বোন তিন ভাই ও ছয় বোন  সেই রক্ষিতা  দিদিমা যার রূপ লাবণ্য মসৃণ ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের জন্য বহু মূল্যবান সম্পদ ছিল, মাতাল চরিত্রহীন লম্পট রেসে
ও বে পাড়াতে রাত কাটানোর জন্যই  আমরা রক্ত সূত্রে চর্ম রোগে ভুগছি সব ভাই বোনেরা।
যে ভাই বোনের জন্য চল্লিশ বছর বয়সে বাপ পণ হিসেবে বহু টাকার বদলে একজন মানসিক ও দুশ্চরিত্র বছর চৌত্রিশ বছরের কদাকার নারী সাথে বিবাহ দেওয়া হয়।
বিন্দু মাত্র ভালোবাসা যৌন সুখ ও শান্তি পেলাম না আশ্চর্য ব্যাপার যে এত সব জানতে পারলাম ঐ নারীর বিবাহের আগেই  একবার এবরশান হয়েছিল মানসিক রোগের জন্য ইলেকট্রিক  শক বহুবার দেওয়ার পর আর রোগীর পরিস্থিতি ভীষণ খারাপ হয়।
আমাদের প্রথম পুত্র সন্তান হওয়ার ঐ ভয়ংকর রকম মানসিক রোগগ্রস্ত আমার স্ত্রী অর্ধ নগ্ন ঐ ঠিকঠাক মতন
পুত্র ছেলেটি কোলে ঝুলছে শ্বশুর বাড়িতে কটকে না তখন পুরিতে ওর ছোট দাদারবাড়িতে কোলকাতার ব্যস্ত
ছুটে গিয়ে ঐ পাগলিনী কে দেখে আমার চোখে অন্ধকার নেমে এলো এতই মানসিক আঘাত পেলাম দুদিন পুরের সমুদ্র সৈকতে পাগলের মতন শুনে বসে কেটে গেল। শ্রী শ্রী  জগন্নাথ  কাছে হত্যে দিয়ে পড়ে রইলাম বিধির বিধান গত জন্মের কর্ম ফল প্রারব্ধ পূর্ব জন্মের পাপের বোঝা টানছি যে পুত্র সন্তান জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ
যা ওদের পরিবারের দাদাদের মিছিল শুধুমাত্র সন্তান টি চাইলো, আমি বাইশ দিন বাপের দেওয়া চাকরীর পরোটা না করে ঐ বাইশ দিন  তীব্র ক্ষোভ মানসিক দ্বৈত দ্বন্দ্বের মানসিক বিপর্যস্ত বিধস্ত ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্ব  অবিশ্বাস করার প্রবণতা লক্ষ্য করলাম মনে মনে তখন শিশুটির
জন্ম থেকেই কেমন মায়া ত্যাগ  করতে পারলাম না। আমি বিবাহ বিচ্ছেদ পর আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবো কিন্তু  এই শিশু যে আমার প্রথম সন্তান যাকে দেখতেই কোলকাতা থেকে একদিন জনযুদ্ধ কটকে বারবার ছুটে গেছি বাইশ  দিন বসে ভাবছি  হে ঈশ্বর  আমার কি করা উচিত?
মনের মধ্যেই নানা ধরণের প্রশ্ন তুলেছে মন অদূর ভবিষ্যতের নানা জটিল পরিস্থিতির  সম্মুখীন হতে হবে
ভয়াবহ ছবি কখন ধাড়ি থেকে পালিয়ে যাবে ঔষধ খেতে চাইবে না আত্মীয়দের মা বাবা ভাই বোন সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে যাবে একা পাগল স্ত্রী  ও শিশু সন্তান নিয়ে কি ভাবে মানুষ করবো।

চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত  নিতে বাইদানির রাতদিন চিন্তা করার জন্য মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ওদের বাড়ির
বইয়ের  আলমারি খুলে রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাবলী পাঠ করছি রাত্রে আমার ঘুম আসছে না।
আমার আত্মজ পুত্র সন্তান ঠাকুর মায়ের কত আদরের হবে সে হেলা ফেলায় মামার বাড়িতে অবাঞ্ছিত
অবহেলায় এ মানুষ হবে কে জানে এই শিশুর মধ্যেই  আবার পাগলামী লক্ষণ প্রকাশ পাবে কিনা? মনের
সতর্কীকরণ চলছিল।
আজ চৌত্রিশ বছর পর আবার সেই একই রকম পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছি না দুই পুত্রের নাম পর্যন্ত স্মরণ করতে ঘৃণা হয়।
হায় ঈশ্বর  ভাই বোন এমন কি নিজের সবচেয়ে প্রিয়  সন্তান পুত্র দুটি এই অবহেলা যদিও বিশেষ হাজার টাকা পেনশন পাই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দূরের কথা একটি ফোন করে না ?
বেঁচে আছি না এই ভয়ংকর অসুখ এ মারা গেছি খবর নেই না সন্তান এত অকৃতজ্ঞ হতে পারে ?
তবে হে ঈশ্বর তোমার অপার করুনা এবার মৃত্যুর হোক আমার  যথাসাধ্য সাহায্য করেছিলাম আজ এই বিশাল চাকরী করে ছেলে বলেছিলো তোমার টাকাতে মুতে দি ----!
ছোট ছেলে অপমান করে ওর পা জীবন দিয়ে চাটালো।
স্কুলে পড়ার সময় দুই ভাই মিলে মদ খেয়ে এসে মেরেছিল পুলিশ এসে সাবধান করে দিয়েছিল
আজ ভাবছি এই মানসিক চাপ যন্ত্রনা কষ্ট বহন করতে পরিশান্ত আর ক্লান্তিকর আত্মবিলাপ হাহাকার ক্রন্দন
শৈশবে থেকেই আমার ভীষণ কষ্টের জীবন যাপন  এর শেষ নেই আত্মহননের প্রবনতা আমার পথের গন্তব্য?

Friday, 6 October 2017

সূর্যোদ্বয়ের ভোরে কবিতার সাথে সঙ্গম


সূর্যোদ্বয়ের ভোরে
কবিতার সাথে সঙ্গম

শ্যামল সোম বাঁশিওয়ালা

অলকানন্দা মন্দাকিনীর
সঙ্গম স্থলে কর্ণপ্রয়াগে
প্রাতে তোমাকে মানস নেত্রে
স্বপ্নে স্বর্ণ স্তনে শব্দের
চুম্বনে চুম্বনে রক্তাক্ত ঠোঁট,
রক্ত ঝরছে কাব্য পাঠে
শিশির ভেজা উষ্ণ শয্যায়।
কবিতার সাথে আশৈশব প্রেম,
" জল পড়ে, পাতা নড়ে " !
ছন্দে অছন্দের বাহুল্য হীন
আমি বেকুবের মতন কবিতা
তোমাকে গভীর আলিঙ্গনে
জড়িয়ে ধরে আদরে
আদরে, কাব্যিক এ মন
তোলে তুফান কবিতার
উত্তপ্ত দেহে করে লেহণ।
পৌরুষ  উড্ডীন অহংকারে
প্রোথিত বৃক্ষের চারা শুকায়।
অতৃপ্ত কবিতার চাপা কান্না
প্রতিধ্বনি শুনি নপুংসক হৃদয়ে।
শব্দের লহরী স্রোতে বহমান
যৌনবতীদের আমন্ত্রণে বিনম্র
প্রত্যাখান এ ক্রুদ্ধ নারীদের
উন্মুক্ত বসনে নগ্ন যৌন
আক্রমনে সমবেত প্রয়োগে
কবিতার ধর্ষনে বিহ্বল 
নিষ্ফল লিখন প্রয়াস।
অরণ্যে  পদ্ম যোনিতে
বিশৃঙ্খল বাক্যের
বিন্যাসে অক্ষরের বীর্য
পাতে অলকানন্দা স্রোতে  
ভাসে স্ফূর্তির অস্ফুট কাব্যের ভ্রূণ।

প্রেমিক প্রেমিকার কথোপকথন

প্রেমিক ও প্রেমিকার কথোপকথন।

শ্যামল সোম

পরী আছো কেমন?

পরী নই আমি, আমি নয়নিকা, তুমি কে?

হায় নারী এখন ছলনা?

এই সত্যই বলো না?

আমি তোমার প্রেম !

প্রেম! হি হি হি, বিশ্বাস করি না, প্রেম বহুল ব্যবহৃত শব্দ।

শব্দ শুনশুনতে পারছো না, সমুদ্রের ঢেউয়ের আছড়ে পড়াপড়ার শব্দ?

কৈ আমিতো কিছু শুনতে পারপারছি না।

কানে সব সময় হেড ফোন লাগিয়ে গান শোন, শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলছো।

জ্ঞান দিচ্ছ?

আমার পরী, কাল রাতে তোমাকে নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখলাম।

কি স্বপ্ন দেখলে ? যে উতল হলো মন?

তুমি রাগ করবে?

কেন রাগ করবো কেন, কোন অশ্লীল, নগ্ন ?

প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য, পরিনত মনের নিঃসংকোচ উপস্থাপন।

ধানাইপানাই ছেড়ে শুরু করো।

জ্যোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে নির্জন সমুদ্র সৈকত--

বাহঃ ! রাতে সমুদ্রের জলে ফসফরাস জ্বলে--

আমি একা শুধু তোমার কথা ভাবছি, তোমার রূপ অপরূপ, লাবণ্যের বন্যা
শরীরে ভরা নদীর যৌবন টল টল করছে, বহমান নদী হয়ে বহে যাচ্ছ সাগরের মোহনায়--

তারপর, জানো আবেগে আমার শরীরে শিহরণ--

সাগরের ঢেউয়ের তালে তালে নৃত্যের ছন্দে সাগর জল থেকে তুমি উঠে এলে, সিক্ত শুভ্র বসন,

এই আমার ভীষণ লজ্জা করছে, ভারি অসভ্য তুমি

তবে থাক এখানেই আজ।

না না তুমি বলো, তোমার শব্দে মায়াজালে আমি ভীত হরিণী,

ধীরে ধীরে তোমার চোখে চোখ রেখে আমি এগিয়ে এলাম, আমার স্পর্শে
থর থর করে কাঁপছে তোমার শরীর, জানু ভেঙে পড়ছে, তোমার ভেজা শরীর থেকে ঘ্রাণ ভেসে আসছে।
তোমার হাত ধরে নিয়ে এলাম সমুদ্রের সৈকতের ঝাউবনে, মুখ তুলে দেখি তুমি চোখ বুজে আছো, বড়ো বড়ো চোখের পাতায় আমার উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শে তুমি থর থর কাঁপছো। ধীরে ধীরে খুলে নিলাম তোমার সিক্ত বসন, মূর্তি ময়ী ভেনাসের মতো নগ্ন অপরূপ সৌন্দর্যে আমি মন্ত্র মুগ্ধ।
গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেছি তোমাকে, আমার সারা শরীরে রক্ত দ্রুত সঞ্চালিত হচ্ছে, সুতীব্র কামনার আকর্ষণে আঁকড়ে ধরেছে ধরেছো তুমি আমার শরীর। শারীরিক এক আশ্চর্য টানে আমরা পরস্পরকে জড়িয়ে অনন্ত এক যাত্রা শুরু করলাম। মাঝে মাঝে শিৎকার ধ্বনি, র্স্বর্ণ স্তন বৃত্নে চুম্বনে শিহরিত তুমি, আমার ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনে দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস, উষ্ণতা, ঘর্মাক্ত শরীরী ভালোবাসা, ভীষন ভীষণ ভালোবাসি মেঘ বালিকা তোমাকে।
আমি তোমাকে একান্তে চাই, হে বিশ্ব সুন্দরী আমার জীবনের একা মাত্র আকাঙ্ক্ষিত প্রেম।

দেখা করার আগে প্রতিশ্রুতি চাই--

যে কোন সর্তে রাজী- কঠিন প্রতিশ্রুতি পালনের শপথ নিলাম।

সংযোজন - পরিশেষে পরিণাম --মেঘ বালিকা আদালতে দ্বারস্থ, প্রতিশ্রুত বিবাহের অঙ্গীকারে সহবাসে আজ সে ধর্ষিতা নির্যাতিতা। বিচারের অভিলাষে বছর বছর নারী অপেক্ষায় আছে।