Monday, 8 January 2018

একটু হৃদয়ের উষ্ণতা জন্য

একটু হৃদয়ের উষ্ণতার জন্য

শ্যামল সোম

হিমেল হাওয়ায় ঐ পাতা ঝরে যায় গাছে গাছে
ঝরা পাতার এ স্মৃতির পালক উড়ে আসে কাছে।
তুষার পাতে শীতার্ত রাতে উষ্ণতা খোঁজে ভাঁজে
ভাঁজে শরীরের পরস্পরের বহমান রক্ত প্রবাহে
সরীসৃপ জোড়া শরীর শরীরে অভ্যাসে শরীর
জাগে আঁধারাচ্ছন্ সর্পিল সুড়ঙ্গ পথে ঝর্নায়
ঝিরঝির ঝরে,পিচ্ছিল সিক্ত গুলমোহর সুরম্য
লতা পাতা ঢাকা গুল্মের আড়ালে রক্ত পদ্ম রম্য।
যুগ্ম সাপের মিথুনে অতৃপ্তির প্রাণহীন নিস্ফল এ
প্রয়াস কাব্য প্রেমে নেই, শুধুই শারীরিক অভ্যাস।
কেন কাঁদে প্রাণ প্রাণময় প্রেমিকার ভালবাসায় ভরে
আছে আজও হৃদয়ের গহীন গোপন আস্তানায় ঝরে
হীম প্রহেলিকা করে উন্মোচন রাতের কুয়াশায় ঢাকা
কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে তার হাহুতাশ,ও আমার
চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তোমাকেই হারানোর
হাহাকারে দুই প্রান্তে দুটি হৃদয়ের আলিঙ্গনে কাব্যে
অক্ষরে অক্ষরে লেখা রবে প্রিয় প্রেমের যৌথ সৌধে
পরস্পরের প্রতি অটুট বিশ্বাসে আত্মমগ্ন প্রেম নির্যাস
পাণে পরিপূর্ণ দুজনের হৃদয় এই দূরান্তে ভালবাসায়,
পরস্পরের হৃদয়ে কাছাকাছি এসে আনন্দে কাঁদছি
তোমার মন ছুঁয়ে যাওয়া এ ফল্গু ধারায় ভালবাসায়।

বর্ষার অরণ্যে আমি ডাক পিয়ন

বর্ষার অরণ্যে আমি ডাক পিয়ন         ( আমার প্রিয় কবি শক্তি চ্যাটার্জি স্মরণে চয়নিকা অর্ঘ্য  )

শ্যামল সোম

পঞ্চাশ বছরের আগে কবির সাথে যৌবনে
অরণ্য প্রেমিক কবির সাথে সাথে শ্রাবণে
ঘণ্টা বরষণে বিহারের নেতার হাট, চাইবাসা,
ডালটান গঞ্জ, বেলার অরণ্যে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছন্দে,
ঝিরঝিরে বৃষ্টি স্নাত হয়ে মনের নন্দনে আনন্দে।
কখন বন বীথিকায় শাল পিয়াল সুন্দরী শিমূল,
মহুয়া কুড়িয়ে এনে নেশায়া মাতাল হয়ে অমূল্য
কবির কন্ঠে শুনেছিলাম রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত
" কাল রাতের বেলায় গান এলো মোর প্রাণ "
" সে কি এলো " " আজি ঝরের রাতে তোমার
অভিসার পরাণ সখা বন্ধু হে আমার " গুন গুন
আমিও গেয়েছিলাম, " শাওনরাতে যদি ---"!
অরণ্য মনময় কখন ভয়ঙ্কর আশ্চর্য সে লাবণ্য
কবির কাছে শেখা অরণ্যেকে ভালোবেসে ধন্য।
অদ্ভুত ভালবাসায় ভরে গিয়েছিল প্রাণ বন্য মন
সে স্মৃতি রোমন্থনে আজও উতলে উঠে বৃদ্ধের
অফুরন্ত উচ্ছাসে উল্লাসে মেতে উঠেছিলাম ফেলে
যৌবনে সুনদর বনে কখন পশ্চিম বঙ্গে কখন বা
বাংলাদেশের সুন্দর বনে অবাধে বন্য প্রাণী ও
জীবজন্তু অনাবিল আনন্দে সীমান্ত পার হয়ে যায়।
শঙ্খ চিলের মতন মন উড়ে যায় নীল আকাশের
ভেসে ভেসে সিলেট থেকে দূরান্তে শ্রীমঙল হয়ে
রাজকান্দি অরণ্যে ঘণ জঙ্গলে হামহাম ঝর্না !
ঝরে পড়ছে শব্দ শুনতে পাই অন্তরে অন্তরে এ
স্মৃতি হৃদয়ে গহীন অরণ্যে সবুজের সে সমাহারে;
বিদায়ের বেলায় বারেবারে মনে হয় কেন যাবো
তবে একান্তই যদি যেতে হয় আগামী প্রজন্ম সেই সে
শিশুটির মুখে চুমু খেয়ে যাবো হেমন্তর অরণ্যে ছুঁয়ে।

Friday, 5 January 2018

ফুটপাথে জননী

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে প্রতিবেদন)

ফুটপাতে জননী

শ্যামল  সোম

কলেজ স্ট্রিটে ফুটপাথে এক গাছের তলায় বৃদ্ধা জননী,শত ছিন্ন শাড়ী পরণে, ছেঁড়া কাঁথা গায়ে,  শীর্ণকায় এক দুখী মা, মাগো তোমার আভিজাত্য পূর্ণ চেহারায়,  বোঝা যায় সম্ভ্রান্ত পরিবারের শিক্ষিতা রমনী তুমি, চোখে মুখে থমকে আছে আষাঢ়ের মেঘের মতো ঘন কালো মেঘাচ্ছন্ন বিষাদ, দৃষ্টিতে লাঞ্ছিতার হাহাকার।
টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক প্রশ্ন বাণে ব্যথিত হৃদয় ক্ষত বিক্ষত তবু নাছোড়বান্দা সংবাদ শিকারী সাংবাদিকে স্মৃতির কবর খুঁড়ে, জিজ্ঞেস করলেন, " আপনাকে পেশায় নিযুক্ত ভিখারী মতো দেখে তো মনে হয় না।"
দু চোখে জল, মুখে ম্লান সকরুণ স্মৃত হাসি, অনিমেষ শুধু চেয়ে থাকেন, মাঝে মাঝে শোনা যায় গভীর দীর্ঘশ্বাস, নিরুত্তর জননী।
" লোক মুখে শোনাগেছে  আপনি সতেরোর বাই পাঁচ ঐ নন্দলাল রায় লেনের গোল বারান্দা
ঐ থামওয়ালা বড়  নীল রঙের বাড়ির ডাঃ এম এন রায়ের বিবাহিত সহধর্মিণী ছিলেন এ কি সত্য ? আপনার শ্বশুরের পিতামহের নামে রাস্তা কি ঐ নন্দলাল  রায় লেন?
কোন উত্তর না দিয়ে, মাথা নিচু করে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন।

টিভির  ক্যামেরাম্যান শৈলেন সরকার বিভিন্ন পজিশন থেকে ভিডিও ক্যামেরায় ছবি তুলতে হবে। চাঞ্চল্য কর তথ্যবহুল প্রতিবেদন চ্যানেলে প্রচারিত হলে টি  আর  পি বাড়বে।
সাংবাদিকের চাঞ্চল্যকর সংযোজন,  " ভদ্র মহিলা কাছ থেকে জানা যায় তার স্বামী অকালে মারা যাওয়ার পর আত্মীয় স্বজন পারিবারিক ব্যবসা সমস্ত টাকাকড়ি আত্মসাৎ করে নেন।
পাড়ায় পাড়ায় সেলাইদিদিমণি হয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করে,  দৈনন্দিন সাংসারিক ও  আর্থিক সমস্যার মোকাবিলা করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একা একা তাঁদের একমাত্র সন্তান সোমেন কে কে নামী কষ্ট করে ও স্কুলে ভর্তি করে ছিলেন, ভালো গৃহ শিক্ষক নিয়োগ করে তার সমস্ত আবদার পুরন করতে নিজের শরীর,  সাজগোজ তো দূরের কথা,  এমন কি কখন একটা ভালো শাড়ি সখ আল্লাহদ বিসর্জন দিতে পিছপা হন নি।
পরবর্তি সময়ে সোমেন তিনি ঋণ নিয়ে প্রচুর পরিমাণে অর্থ খরচ করে ইঞ্জিনিয়ার করেছেন।
সোমেন নিজের পছন্দ করে বিয়ে করে।
কিন্তু বছর দুয়েক পরেই অভিশাপ দিচ্ছি নেমে আসে দৈনন্দিন সাংসারিক কাজ কর্ম, করেও সেলাই এর কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন, কিন্তু হঠাৎই সারা জীবন নিজেকে বঞ্চিত করে, অপুষ্টির জন্যে ও  পরতিদিনের কঠোর কায়িক পরিশ্রমে শরীর একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছিল, রক্তহীনতা, অনিয়মিত  রোজ  খাওয়া দাওয়া এর ব্যপারে আর্থিক সঙ্কটে বাধ্যহয়ে কার্পণ্য করার জন্যে পেটে ভয়ানক আলসারের পেসেন্ট হয়ে যান। অনামী সাধারণ হাসপাতালের বেদের প্রায় বিনা চিকিৎসায় অপেক্ষায় থাকতেন পুত্রের একমাত্র চোখের মণি নাড়িছেঁড়া সন্তান কখন আসবে,  কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস অপেক্ষা অপেক্ষায় থাকা বিনিদ্র রাতে, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন সন্তানের মঙ্গলের জন্য।
অবশেষে একদিন হাসপাতাল থেকে ও বিতাড়িত হয়ে বহু কষ্টে অবসন্ন ক্লান্ত অসুস্থ শরীরটাকে টেনে হিজড়ে নিয়ে উপস্থিত হলেন নিজের স্বামীর  বাড়িতে,  শুনলেন সে বাড়ি বিক্রি করে কলকাতার কোন পশ এলাকায় বিশাল ফ্ল্যাট কিনে চলে কোথায় চলে গেছে কেউ জানে না কারণ কাউকে ঠিকানা দিয়ে যাই নি।
ভদ্রমহিলা তখন মনে পড়ে যায় বিয়ের পরই এ বাড়ির দলিল সংক্রান্ত তথ্য বহুল কতক গুলো কাগজে মাকে বঞ্চিত করার জন্যেই স্বাক্ষর পরিকল্পিত ভাবেই করিয়ে নিয়েছিল, আপন একমাত্র সন্তান কে বিশ্বাস করেই নিঃদ্বিধায় চোখ তুলে স্নেহময়ী জননী মুখ তুলে সন্তানের দিকে, এক মুহূর্ত তাকিয়ে মৃদু হেসে সই করে দিয়েছেন নিজে সর্বনাশে পরোয়ানা।
কিন্তু এ তো গেল কাব্যিক ভাবনা।
কঠিন বাস্তব নির্মম,  দিন দিন প্রতিদিন উদয়াস্ত নির্যাতন,  মানসিক ও শেষের দিকে শারিরীক অত্যাচার --গায়ে তোলা বা যায় নিজের একক সত্য গোপন করতে চেয়েছিলেন,
কিন্তু জানুয়ারি সাংবাদিকের পেটের গোপন কথা ফাঁস করে দিলেন টিভির পর্দায় ভেসে উঠলো ভদ্রমহিলার চোখে বাঁধভাঙ্গা জল বারবার জীর্ণ শাড়ির আঁচলে মুছছেন।
কিছু দোকানদারের বদান্যতা,  আশপাশের এলাকায় কিছু মানুষের দাক্ষিণ্যে দু বেলা দুমুঠো খাদ্য জুটে যেত, শীতে বর্ষা গ্রীষ্ম দেখা যেত আকাশের মুখ তুলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাটিয়ে
চোখের জলে ভেসে বহে যায় জীবন।
টিভির পর্দায় আবার কিছুদিন পর ভেসে ওঠে ছবি অশ্রুসজল চোখে,  মুখে হাসি,  পরণে দামী শাড়ি, ভদ্রমহিলার কোলে  দেব শিশু তাঁকে আদরে আঁকড়ে রয়েছে,  আর সুখী ধনী দম্পতি তাঁকে জড়িয়ে ধরে আছেন।
টি ভি সাংবাদিকের ভাষ্য ধারাবাহিকতায় জানা যায়,  যে টি ভি এই সচিত্র প্রতিবেদন
প্রচারিত হওয়ার পরই দুজনেই ডাক্তার স্বামী ও স্ত্রী  ডাক্তার সুমন চ্যাটার্জি,  ও মৌসুমী চ্যাটার্জি সম্পূর্ণ আদালতে আইন মাফিক জর্জের কাছে আবেদন করে হাজির হয়ে ভদ্রমহিলাকে মাতৃহারা সুমন দত্তক জননী হিসেবে পেতে চেয়ে ছিলেন।
জর্জ আবেদনকারীর ওকালতনামায় সানন্দে স্বাক্ষর করে মন্তব্য করছেন, " আজকের দিনে আপন সন্তানের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন,  মায়ের প্রতি এই সন্তানের অমানবিক আচরণের।
সাধুবাদ দিয়ে ডাক্তার দম্পতি অত্যন্ত প্রশংসা করে বলেন সমাজের মানুষের কাছে এ একটি বিরল মানবিকতার নিদর্শন হয়ে রইলো যা শিক্ষানিয়।
" সবাই মিলে আমারা ঐ জননীর ও ঐ পরিবারের মঙ্গলের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।"

পাগলি যদি এই ছিল তোর মনে

- পাগলী ,যদি এই ছিল তোর মনে

শ্যামল সোম

পাগলী ,যদি এই ছিল তোর মনে চোখে
ভাষায় পাগলী হাতছানি দিয়ে ডেকে
ইশারায় আমায় আনলি কেন?
এই ভর উষ্ণ দুপুরে নির্জনে-
নিরালায় আম বাগানে বনে?
প্রেমের মন ক্ষণে ক্ষণে উন্মুক্ত
ভোরে ঘুম ঘুম চোখে চোখ পড়তেই
ভূমিকম্প স্পন্দনে উষ্ণ আলিঙ্গনে
আমাদের আলোড়িত দুজনার মন।
সেদিন সেই শরতে শিউলীফুল
ঝরার দিনে সাঁজ-সকালে-।
ঘন বরষায়, বাহিরে অঝরে
ঝরে যায়-তুই শরীরের বাঁধনে
এত জোরে বাঁধলি, বাহু বন্ধনে
এখন মরণ দোলায় দুলছে জীবন--।
সাগরের জলে, প্রাপ্ত ঝিনুক শঙ্খ
ভেজা-ঐ ঊঁকি দিচ্ছে তোর পেলব শরীর।
ঐ শরীরের পরম পরশের আশে,
এই গভীর-গহীণ খাদানে সুড়ঙ্গে
আধো-আধাঁরে, ঘ্রাণ শরীরের সর্পিল
এই পথে-তুই হাত ধরে জড়িয়ে কোমর
আমায় তুই কোথায় আনলি?
এখানে কেউ কোথাও নেই- একা
আমায় ফেলে, তুই কোথায় হারিয়ে গেলি?
পাগলী, এই পাগলী আপ্রাণ ডাকছি তোকে?
চেয়ে দেখ এখন শব হয়ে শুয়ে আছি-
অসীম হীমেল হাওয়ায়-- চোরাবালির স্রোতে
অনু আমার আদরের পাগলী দোহাই তোর,
মধুমিতা তুই মাপ করে দে, এই শেষ বেলায়
কবিতা তুই বিশ্বাস কর, কখনো আর খেলব না,
তোদের সঙ্গে এই ভালোবাসার পাশা খেলা।
ফিরিয়ে দে  আমায় আজ হারানো হৃদয় ত্রাণ
তোদের  কাছে-সেই ফেলে আসা আমার জীবন।

স্মৃতি সতত সুখের

স্মৃতি সতত সুখের

শ্যামল সোম

আমার ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মাতৃদুগ্ধ পান
আমার মাতৃ স্নেহে দৈনন্দিন প্রতিপালন
আমি পরম মমতায় আবদারের আহ্লাদে
ভীষণরকম আদরের যত্নে শৈশব থেকে
কৈশোরে, মায়ের কাছে বসে পড়াশোনা।
কৈশোরে বোনের সাথে খুনসুটি করা দিন
দিন কখন চকলেট লজেন্স ভাগাভাগি ঐ
আদরের বোনকে ভালোবেসে,কখন রেগে
ঝগড়া করে আবার হাত ধরে ছুটে যাওয়া
সমুদ্র সৈকতে, দুজনে ঢেউয়ে মাঝে হুটোপুটি।
যৌবনের প্রারম্ভে প্রিয়াকে  ভালোলাগা, কাছে
এসে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকতে শেখা
প্রেম পার্কে কখন নদী ধারে লুকিয়ে দেখা করা,
বকুল গাছের তলায় পাশাপাশি বসে পরস্পরের
আঙুল আঙুল জড়িয়ে ধরে থাকা, অদ্ভুত স্পর্শে
হৃদয়ের উষ্ণতায় ভরিয়ে দেয় এ এক অনুরোরন
শিহরণ শিহড়িত দুটি হৃদয়ের ঘণ শ্বাস আলিঙ্গন।
প্রথম প্রেমিক প্রেমিকা কবিতায় ভেসে ভালোবেসে
শরীর শরীরের ঘ্রাণে অক্টোপাশের মতন জড়িয়ে
সেই প্রথম চুম্বনে চুম্বনে রক্তিম হয় দুটি জোড়া ঠোঁট।
পরে প্রেমের সৌধ গঠন সুখী দাম্পত্য জীবনের সুখী
প্রাণ, কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ আহ্লাদিত আমরা দুজনের,
মন শিশু কন্যাকে বুকে জড়িয়ে এক স্বর্গীয় অনুভূতি
কন্যার হাত ধরে চলো যাই হাঁটি পায়ে পায়ে হেঁটে বাসে
কখন চিড়িয়াখানায় কখন সার্কাস নিকো পার্ক যাওয়া
গরমের ছুটির মরসুমে কুলু মানালি সিমলায় বা কখন
পাহাড়ে দার্জিলিং এ কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন স্ত্রী কন্যার সাথে।

Thursday, 4 January 2018

অনু গতকাল রাতে

অনু, কাল সারারাতে স্বপ্নে দেখেছি তোকে

তোর বাঁশিওয়ালা  শ্যামল সোম

গত কাল রাতে চন্দন বনে
আগুন লেগেছে আগুনে
পাগলি এ ভাবে কেউ কি
রক্তাক্ত করে চুম্বনে ?
চন্দন বনে আগুনে পুড়ছি
রাতে আমরা দুজনে,
দুটি নগ্ন দেহের দেহজ
প্রেমের তুমুল সে সহবাসে
পাগলি তোর পীনাভ স্বর্ণস্তনে
দংশনে  নাভিশ্বাস  অনুরোরণ।
নাভিমূলে ঘণ শিহরণে ফুটে
উঠছে শ্বেত গন্ধরাজ
গভীরতর রাতে তোর
শারীরিক ষোল কলায় শৈলী।
পাগলি তুই রাতে স্বপ্নে এলি,
মৎস্য কন্যা তুই দুহাতে জড়িয়ে
নীল নদে আমাকে বুকে নিয়ে
চিৎ সাঁতারে ভাসিয়ে ভেসে
সাগর থেকে টেনে তুললি
অচেনা এক কোন দারু দ্বীপে,
সৈকতে সূর্যোদ্বয়ের ভোরে
অচৈতন্য  আচ্ছন্ন ভাবে
পড়ে আছি, পাগলী তোর চাপে
পেটে সমুদ্রের নোনা পানি
গল গলিয় বেড়োয়, শেষে রাঙা
ঠোঁটে ঠোঁট  শ্বাস টানাটানি।
তোর সজরে ধাক্কায় দিলি
বসিয়ে আমায় ঘর্মাক্ত দেহে
তোর রূপ ঝরে চুঁইয়ে যৌনবতী
শিশিরের মতন কামে।
চারিদিক তাকিয়ে দেখি
চারিদিকে সুনীল সাগরের মাঝে
নির্জন দ্বীপ সারিসারি নারকেলের
গাছে আলো উঁকি মারে।
" পাগলি এই নিরালা নির্জন দ্বীপে
আনলি কেন প্রেমের টানে ?"
" প্রেমের টান নেইকো আর,
এনেছি বুড়ো তোমাকে খাবো বলে !"
উন্মত্ত হিংস্র বাঘিনী অট্টহাস্য সাথে
ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রচন্ড ঢেউয়ে  বুকে।

পাগলি যদি এই ছিল তোর মনে

- পাগলী ,যদি এই ছিল তোর মনে

শ্যামল সোম

পাগলী ,যদি এই ছিল তোর মনে চোখে
ভাষায় পাগলী হাতছানি দিয়ে ডেকে
ইশারায় আমায় আনলি কেন?
এই ভর উষ্ণ দুপুরে নির্জনে-
নিরালায় আম বাগানে বনে?
প্রেমের মন ক্ষণে ক্ষণে উন্মুক্ত
ভোরে ঘুম ঘুম চোখে চোখ পড়তেই
ভূমিকম্প স্পন্দনে উষ্ণ আলিঙ্গনে
আমাদের আলোড়িত দুজনার মন।
সেদিন সেই শরতে শিউলীফুল
ঝরার দিনে সাঁজ-সকালে-।
ঘন বরষায়, বাহিরে অঝরে
ঝরে যায়-তুই শরীরের বাঁধনে
এত জোরে বাঁধলি, বাহু বন্ধনে
এখন মরণ দোলায় দুলছে জীবন--।
সাগরের জলে, প্রাপ্ত ঝিনুক শঙ্খ
ভেজা-ঐ ঊঁকি দিচ্ছে তোর পেলব শরীর।
ঐ শরীরের পরম পরশের আশে,
এই গভীর-গহীণ খাদানে সুড়ঙ্গে
আধো-আধাঁরে, ঘ্রাণ শরীরের সর্পিল
এই পথে-তুই হাত ধরে জড়িয়ে কোমর
আমায় তুই কোথায় আনলি?
এখানে কেউ কোথাও নেই- একা
আমায় ফেলে, তুই কোথায় হারিয়ে গেলি?
পাগলী, এই পাগলী আপ্রাণ ডাকছি তোকে?
চেয়ে দেখ এখন শব হয়ে শুয়ে আছি-
অসীম হীমেল হাওয়ায়-- চোরাবালির স্রোতে
অনু আমার আদরের পাগলী দোহাই তোর,
মধুমিতা তুই মাপ করে দে, এই শেষ বেলায়
কবিতা তুই বিশ্বাস কর, কখনো আর খেলব না,
তোদের সঙ্গে এই ভালোবাসার পাশা খেলা।
ফিরিয়ে দে  আমায় আজ হারানো হৃদয় ত্রাণ
তোদের  কাছে-সেই ফেলে আসা আমার জীবন।