Thursday, 26 September 2019

ভয়ে ভয়ে আছি

ভয়ে ভয়ে আছি

শ্যামল সোম

জানেন সেই শৈশব থেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধ হচ্ছে অনেক দূরে
চাল গম ডাল দৈনন্দিন জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যেরাদি মজুত করে
গুদমে রেখে আমাগোঁ ক্ষুধার্ত রাখছে ক্যান, দ্যাশের্ গাঁয়ের  বাড়িতে ঠাম্মা
সাথে আমরা মা কাকিমারা আর এক দঙ্গল আমরা ভাই বোনের সাথে আছি।
কোলকাতা থেকে বাবা এলেন আমাদের ময়মনসিংহে ফুলপুর মুক্তাগাছা গ্রামে
দরজার আড়াল থেকে দাদুভাই সাথে,বাবা ঢাকার থেকে স্কুলে শিক্ষক ছুটে
এসেছেন আসন্ন কোন এক ভারতবর্ষের অখণ্ডতা রক্ষা করা যাবে না যাবে না,
ছোট কাকা আমাদের বুদ্ধিতে অবজ্ঞার করে বললেন সাইমন কমিশনের প্রস্তাব
তিন স্তরে হিন্দুদের প্রদেশ  মুসলমানদের কিছু প্রদেশ,  আর বাদভাগি মিশ্র  কিছু
প্রদেশে ভাগ করে ভারতবর্ষে হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়  সহাবস্থান মানতে রাজি
হলেন না পণ্ডিত নেহেরু, স্বাভাবিক ভাবেই মহম্মদ আলি জিন্না বিদ্রোহ করলেন।
মুসলমানদের জন্য নিজস্ব দেশে চাই মুসলিম লীগের জিন্না সাহেব ঘোষনা করেন
ষোল অগাস্ট 1946 DIRECT ACTION শুরু হলো  GREAT CALCATA KI LLING
বহু হিন্দু বাঙালী নিহত হলেন, কিছু মুসলমান মারা গেছে।
আমার ভীষন করছিলো রাতের অন্ধকারে গরামের কিছু মুসলমান বাবার বন্ধু আমাদের
নিরাপদে পারঘাটায় বিশ্বাসী আবদুল মাঝি লোক জন কিছু মূল্যায়ন জিনিষপত্র ঠাকুরমার
গলায় হরিনামে ঝুলিতে জপের মালা আর সোনার গোপাল। মা কাকিমাদের শাড়ির আঁচল
আড়ালে বাঁধা অনেক সোনার গহনা।
দাদুভাই হতে মোষের সিং এর বাহারী ছড়ি।
দূরে দেখি আমার শৈশবের খেলার সাথী তার আব্বা হাত ধরে সজল নয়নে তাকিয়ে রয়েছে
আয়েষা আমার দিকে, ছুটে গেলাম আয়েষার কাছে হাত ধরে চোখের জলে মুছিয়ে বললাম,
দূর পাগলি কাঁদছিস কেন ? দুমাস পরেরই কোলকাতা থেকে ফিরে আসবো তোর জন্য  কত
পুতুল নিয়ে,হঠাৎ আকস্মিক আমাকে জড়িয়ে শৈশবের  সঙ্গিনী প্রেমিকা অপরূপা নারী নাম
তার স্বপ্ন ভাসে পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎ স্নায় আজও সত্তর বছর পরেও।
আয়েষার মাথা হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে  আমার বাঁশি টা ওকে দিয়ে সবার সাথে সদল বলে
বিশাল নৌকায় উঠলাম, আয়েষা ছুটে এলো পাড়, বাঁশি হাতে দু চোখে পানি শৈশবের স্মৃতি।
আকাশ রাঙা আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে নূতনদিনের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দাদুভাই
সূর্য মন্ত্র আবৃত্তি করছেন, ঠামমী জপের মালা হতে সকল পরিত্রাতা শ্রী কৃষ্ণ দীনবন্ধুকে
ডাকছেন মা ও কাকিমারা, শরতের ভোরের হাওয়ায় নৌকার পাল তুলে যাচ্ছে দেশের
আমার প্রিয় জন্মভূমির শিকড়ের টান ছিঁড়ে তাড়িত হয়ে শরণার্থী আমরা কোথায় ঠাঁই  পাবো।
ভয় করছে ভীষণ ভয় করছে ফিরতে পারবো কি, খুব কষ্ট হচ্ছে বুক ফেটে যাচ্ছে চোখ জ্বালা
করছে না না চোখের জল রুদ্ধ হয়ে কষ্ট হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে গো মা মুখে কিছো না বলে মায়ের
কোলে মুখ গুছে আমি কেঁদে ছিলাম আজ মনে নেই, কিন্তু ভয়টা তাড়া করে ফিরছে আজও।

Vertical limit

https://youtu.be/IFDbgjlSd_8

Wednesday, 25 September 2019

আমি এক হিমাচলের কন্যা

আমি এক হিমাচলের কন্যা

শ্যামল সোম

কেমন দেখছেন আমাকে দেখে জিব দিয়ে লাল গড়াচ্ছে
আমার এই তীক্ষ্ম উদ্যত স্তন, নিটোল আমাদের বাগানের
বড় সাইজের আপেল হাত ছূঁয়ে দেখুন দেখুন কি টাইট তাই না?
আমি এই পাহাড়ি কুল জেলার মোতি গাঁয়ের মোড়লের নাতনি
আচছা বলুন তো আমি সুন্দরী নই ? আমার চিকন কোমর ভারি
নিতম্ব ভরাট জঙ্খা নায়ির নিচে লালরঙের ঘাগড়া, নীল রঙের
কাঁচুলি গলায় ওড়ানার ফাঁস, সাত রকমের রূপো গয়না কান
ঝুমকো পায়ে ঘুঘুর ঝমঝম আওয়াজ হচ্ছে শুনতে পারছেন ?
স্কুলে গেলে মাসটাররা তাড়িয়ে দেকতো, ছেলে ছোকরা হামলে
পড়তো,দশ ক্লাসে ষোর বছরে হয়েই স্কুল থেকে সখীদের সঙ্গে
সাইকেল চালিয়ে ফিরছি, দুটো বাইক মানালি থেকে ছোকরা
ধনী বাপের লাডলা বেটা দুই ভাই  আমাকে দেখেই আশিকী
দু ভাইই ফিদা টেনে হিঁচড়ে আমাকে মটোর বাইকে তুলতে গিয়ে
আমার চিৎকার ও বানধবীদের হাঁক ডাকে সাড়া দিয়ে লোকজন
ছুটে আসে সে যাত্রায়  বেঁচে  গেলাম।
দশেরা উৎসবে আগেই বিশাল লাল রঙের ইনাভা গাড়ি গাঁয়ের
আমাদের বিশাল বাড়ির সামনে এসে থামলো, ড্রাইভার দরজা
খুলে দিতে বিশাল লম্বা চওড়া বৃদ্ধ সিল্ক কাপড় পাঞ্জাবি ধুতি
মাথায় রেশমের টুপি পড়ে ধীরে সুস্থে নামলেন দোতলা কাটের
বাড়ির জানালার পর্দা সড়িয়ে লুকিয়ে দেখছি পেছনে দুটি লোক
আপেলের ঝুড়ি, মিটাই বাহারি পোষাক হাতে চলেছে বৃদ্ধের পেছনে,
গাঁয়ের লোক ভীড় করে জড় হচ্ছে, দাদাজীর নাম মোহম সিং ডাকছেন।
দাদাজী ছুটে গিয়ে হাত ধরে হেঁটে সাথে করে নিয়ে এসে বসার ঘরে সোফায়
বসালেন, হঠাৎ আকস্মিক এই ঘটনায় বাড়িতে হুলুস তুলুস পড়ে গেল।
কুশল বিনিময় পরে জানাগেল উনি বিরাট বস্ত্র ব্যবসায়ী তিন তিনটে দোকান
মানালির বিখ্যাত স্নামধন্য ধনী ব্যক্তি পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি।
দিলীপ সিং ঐ সেদিন মটোর বাইক আরোহী ওনার নাতি তাঁর সাথে বিবাহ
হয়ে গেলো, না না, একবারের জন্য আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো না মেয়েছেলে
তার আবার মতামত কি থাকবে ? হিমাচল প্রদেশে  নারীর সংখ্যা কম তাই মোটা
টাকা পন পেলেন দাদাজী বাপ কাকা চুপ, মা আমার মায়ের খুব আমি পড়াশোনায়
এত ভালো প্রতি বছর ফাস্ট হয়ে থাকি পড়াশোনা করে ডাকতার হবো গাঁয়ে ডাক্তার
খুব কম, মায়ের ও আমার স্বপ্ন অদূরা থেকে গেলো।
হাঁ, আমার নাম পাঞ্চালি,  একজনের সাথেই বাসর ধীরে ধীরে একে একে পঞ্চ পতির
স্ত্রী সুখ ঐশ্বর্য দামি মণিমুক্তো হিরের অলংকার রঙ বেরঙের পোষাক কাশ্মীর পরমোদ ভ্রমণ,
দিল্লির কুধতব মিনার মসৃণ জঙ ধরে নি এ যেন আমার লোভনীয় শরীরে কত ভাঁজ দিন দিন
ননি মাখন আপেল আঙুর, আখরোট,  ইরেনের খেজুর কিসমিস বাদামের সরবত দুধ আমি
তিন তিনবার পোয়াতি হলাম সে সব, সন্তান তো দু তিন মাস পরে মারা গেলো।
কে কবে রাতের অন্ধকারে ধুর্ত নেকড়ের মতন আমার শয্যায়
নগ্ন করে আমার উলংঙ্গ শরীরটা চুম্বনে দংশনে লেহনে বিভৎস ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি প্রথম প্রথম
প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রচন্ড জোরে মারধোর শুরু করে দেয় ব্যথা বেদনা রক্তাক্ত
অবস্থায় অশ্বারোহী ভাসুর দুঘণ্টা সোয়ার করে মলম লাগিয়ে দেন বড় জা হট ব্যাগে গরম
জল দিয়ে সেঁক দেন, সবাই সেবা শ্রুশষা পরম যত্ন করে চামচে খাইয়ে দেন ভাগনে গাড়ি
চালাতে শেখাতো আদরে আদরে গলে গলে পড়ছে সুখ না বিষ প্রয়োগ করে বিষিয়ে দিল মন,
ওকে বলে ছিলাম নন্দ লাল  চল পালাই।
নন্দ বললে, ছিঃছিঃ এমন কথ বলো না।
দিলীপ সিংকে বললাম
সে বললো গৃহ শান্তি ব্যবসা বানিজ্য বাজার দখল রখতে সবকিছু মেনে নাও।
আপোস করতে শেখো  মেয়েদের বিয়ের পর এ একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায়
ঝড় আসছে ঝড় আসছে শুনতে পারছেন না প্রলয় নামছে হুড়মুড়িয়ে ,ভেঙে পড়েছে
ঘর বাড়ি প্রসাদ দেখুন হিমলয় পিতা আমাদের একমাত্র ত্রাতা কি বার্তা বয়ে আনছেন
নারী ধরিত্রী যাজ্ঞিসেনী দ্রোহী আজ দ্রৌপতী কৃষ্ণ সহায় আড়ম্বরহীন অলঙ্কারে নেই
প্রয়োজন আছে বর্শা তরোয়াল বন্দুক একদিকে হিমালয় থেকে ধ্বসে পড়ছে পাহাড়
প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত বন্যা দুরন্ত গতিতে এগিয়ে আসছে গ্রাস করবে একবিংশতি
শতাব্দীর সভ্যতা চন্দ্রযান অভিযান এ দেশে হা হা হা হা হা যে দেশে প্রতি নিয়ত ঘন্টায়
কটা শিশু কিশোরী সতীচছেদ করে গণধর্ষণ এর নাম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শাসন ব্যবস্থা
ধিক্কার জানাই এ ধিক্কারের  জবাব দেবার কেউ নেই যুধিষ্ঠিরের পাশা বাজি রেখেছেন
আমাকে কোন অধিকারে পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে প্রচলিত প্রথা ভেঙ্গে প্রকাশ্যে মুখ খুলেতে
যাওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত আমি ফাঁসি হবে পুড়িয়ে মারবে, কোটি কোটি নারী এগিয়ে আসছে
মুক্তি গান শুনতে পারছেন না বধির কালা অন্ধ বোবা জড় পদার্থ আপনরা আপনাদের সরবনাশ হোক ।

Monday, 16 September 2019

আম্মু আমার সিঁথির সিঁদুর দিও না মুছে

আয়েশা আর রঞ্জন পালাচ্ছে বোম  চার্চ হচ্ছে পেছন শতসহস্র হিংস্র আক্রমণের
রাতের অন্ধকারে দূর থেকে মশালে লাল আলোয় অরণ্যের মাঝে দুটি প্রাণ প্রেমে
আকুল ব্যাকুল হৃদয়ের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা আয়েশা কাঁদছে,
রঞ্জন আদর করে চুলগুলো সড়িয়ে দিয়ে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলছে, এই ট্যাঙ্গইল
গাঢ় পাহাড় এ অরণ পেড়িয়ে শহরে গিয়ে থানায় গেলেই আমরা মুক্ত!
হায় হায় রবীন্দ্রনাথের  রক্ত করবী রঞ্জন  একশো বছর পেরিয়ে গেছে সময়, থানায়
খাঁচা পেতে বসে আছে, আমাদের ধরলেই লক্ষ টাকার জাকাত দানের লোভে ওরা
তোমার প্রাণ কেড়ে নিতে ইতঃস্থত্ত করবে না, পুলিশ না তো ওরা জল্লাদ ডাকাত।
শত কনঠের হূংকার ভেসে আসছে , আতঙ্কিত  আয়েশা আর্ত সবরে বলে রঞ্জন
রঞ্জন পালাও পালাও আমি ধরা দিলে আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে আমি সব বূজিয়ে
অভিনয় করে শেষ চেষ্টা করতেই হবে, আমাদের ভাগ্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি
নিশ্চয়ই দেখা হবে রঞ্জন যাও যাও।
আব্বু সাথে বিশটি লোক হাতে তরোয়াল বন্দুক সোর্ড নিয়ে সামনে আসে,
আয়েশা ছুটে গিয়ে আব্বাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার প্রচন্ড আর্তনাদ করে  ভেঙে পড়ে
আব্বু বেইমান শয়তান হিন্দু কাফের আমাকে ফেলে পরাণের ভয় পালিয়েছে শালা নিমকহারাম থুথু ফেলে।

Sunday, 15 September 2019

নিন্দিতা অনিন্দিতা

নিন্দিতা অনিন্দিতা

শ্যামল সোম

সেদিন গভীর রাতে প্রচন্ড ঝড়ের তান্ডব
লন্ড ভন্ড ছয় বছরের অনি ঘুম ভেঙ্গে গেল
পাশে মামণি নেই, হঠাৎ চমকে উঠলো বাজ
আওয়াজে বিদূৎ ঝলসে উঠতে ভয় কেঁদে
মণিমা মণিমা ডাকতে ড্রয়িং রুমে কাছে শুনলো
মণিমায়ের চাপা শেষ আর্তনাদ, শুনেই পর্দা সড়িয়ে
ঘরে ঢুকে চিৎকার করে কেঁদে উঠে, আহ আহ আহ
লম্বা সোফায় সোমাকে ফেলে দীপক গলা টিপে ধরে
" ইউ বিচ, হোর, আই উইল টিচ ইউ প্রপার লেশন।
আকস্মিক অনুকে ঘরে ঢুকতে দেখে ত্রস্ত বিব্রত হয়ে
দীপক অর্ধ নগ্ন দেহে ছুটে গিয়ে অনুকে কোলে তুলে
নিয়ে আদর করে গালে কপালে চুমু খেয়ে ভোলাতে থাকে,
প্রায়  নগ্ন অবস্থায় হাউসকোর্ট গায়ে চাপিয়ে ছুটে এসে,
ছোঁ মেরে মেয়ে টেনে নিয়ে বলে, I warn you don't touch
My daughter, she is my daughter.you burstured !
Am I burstured, you hore বেশ্যা কার সঙ্গে এটা পয়দা
করেছিস মাগি তোকে সড়িয়ে দেবো আত্মীয় স্বজন পাড়া
পড়শি সবার কাছে তোর ঐ ঢলানি দুপুরের পশাড়িনী বেশ্যা।
বেশ করবো একশো বার করবো যা চাই তোর কাছে কি পাই?

Saturday, 14 September 2019

জাগো অনশন বন্দি ক্রীতদাস

https://www.kazinazrulislam.org/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8B-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80-%E0%A6%93%E0%A6%A0-%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%A4/

ইন্ডিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি

http://www.weeklyekota.net/printPaper.php?serial=3529