Thursday, 5 January 2017

মনের মাঝে রয়েছো তুমি

অশেষ ধন্যবাদ জানাই অভিনন্দন ও
শুভেচ্ছা স্বরূপ এই কবিতাই আমার অর্ঘ্য।

মনের মাঝে রয়েছো তুমি

শ্যামল  সোম

সুখের  খোঁজে নেই 
তোমার খোঁজেই
আছি, খুঁজতে গিয়ে
এখন মনের মাঝে
তুমি, সোনালি আমার স্বপ্ন 
তুমি অনন্যা
কোনদিনই তুমি ফিরবে না,
জানা ছিলনা?
আজ এখন আমার সকল
সুখ গিয়েছে সড়ে
শুধুই  দুঃখ ভালোবেসে
দুহাতে জড়িয়ে  ধরে,
" কোলকাতা কিনু গয়লার ( রবীন্দ্রনাথের  বাঁশি কবিতার থেকেই
গলির" মোড়ে - দূরে
আমার নির্জন এ ছাদ ভাঙা
দুখের ঘরে বাস।
বিশাল প্রাসাদে রানীর
মতোন তোমার বসবাস।
বৃষ্টি  ঝরা শ্রাবণের রাতে
অন্ধকারে নিমজ্জিত মন
অভাবের সঙ্গে থেকেও
স্মৃতি জড়িত সোহাগী ক্ষণ,
" এ কিনু গয়লার গলি,
পথের ধারেই
একতলা দেয়ালে ঘর" একা
একাকীত্ব মাঝেই বাজাতাম
বেহাগের সুরে বাঁশি।
শ্যামলাবরণ ফুলপুরের
কৃষ্ণকলি সে এখন পর।
বহুদূরে কর্ণফুলী নদীর
ধারে কাছেই  থাকি
প্রেমের স্মৃতি নিয়ে ছাত্র পড়িয়ে,
" ধলেশ্বরী নদীর তীরে যে আছে
অপেক্ষা করে পরণে ঢাকাই শাড়ি
কপালে সিঁদুর- --"
আজ সব ফাঁকি,
তবু তুমি মাঝে মাঝে কেন
আমার মনে দাও উঁকি।

আত্মজার জন্য পিতার বিলাপ নাটক একক

আত্মজার জন্য বিলাপ

লিখনে, সৃজনে,   শ্যামল  সোম

ও বাবু মশাই ! ও বাবু মশাই ! দেইখছেন নাহি
আমার কইন্যা,  আমার জান, মহেরবানের
দান রেশমীরে, পাতলা গড়ণ, চোকা নাক মুখ
হৈ দিন শুক্রবার জুম্মা  বার, ফজরের নামায
পইড়া, হ কালে দুমুঠো পান্তা খাইয়া, সূর্যোদ্বয়ে
আগেই রসুলের নাম লইয়া বাপ বেটি দুজনে
গেছিলাম হৈ -- মাদারীপুরী হাটে,  গোটা বিশেক
হাঁস  মুরগী পঞ্চাশ খান ডিম রেশমীর  দুই হাতে
ষোল বছরের কইন্যা যেন আসমানের চাঁদের জ্যোৎস্না।

হাটে বিক্রি বাটা খতম হইলে পরে
" বাপজান "  বেটি  চপ মুড়ি  খাইতে কয়-----
এডা কথা জিগাইনি বাপ,
হৈ ঐ যে তাঁবুর ভিতর খেল হচ্ছি
মাদারি খেল দেখতে ভারি মজা, আব্বুজান চলেন গা।"

বেটি মুখ পানে চাইনা দেহি চাঁদের পানা স্বপ্ন ভাসে
চোখের তারায়,
মা মরা বেটি, বড়ই অভিমানী কইলাম ----

" মাদারি কা খেল আর দেখে কাজ নাহি রাত হই  যাবে
এত ঢা পথ আঁধার হলি শেয়াল হাইয়না শকুনের দল 
ওৎ  পাইতা থাহে,  লুকায়ে থাহে,"

মাইয়াটার  মলিন মুখ
খান দেখাইয়া পরোটা আনচান করে,
তিন বছরের
রেশমী অখন ওর আম্মু রে,
গরীবের দুখের কথা কে শুনে  হুনে, বাদ দেন বাবু মশাই !

রেশমীর অবুঝ মন ষোল বছরের মাইয়ার ছলছল
করে চোখ, আপনে কন, ওরে আমি ক্যামনে বুঝাই?
দেহি রাজকন্যা মত রূপ, মলিন হইছে  বেহেস্তের  হুরী ক্যান  জন্ম নিল ?
ক্যান হইলো কন দেহি, আমার বেগমরে দেখতি শুনতি
ভালোই ছিল।

রূপ যৌবন, ঐ হইলো সর্বনাশ মেয়ে মাইনষের রূপ
দোজগের তো শয়তানরা অভাব নাই,

সে শবেবরাত রাইত, পুঙগিরপুত আইসা  বেগমরে মুখে গামছা
বাঁইধা লুঠ কইরে লয়ে যায়,
হতবাক  আমি  বেবাক
বেকুবের মতন  ধানের গোলার আড়ালে লুইকা দেহি

রেশমীর আমমুরে জবাই করনের লাগি টাইনা হিঁচইড়ে
গরুর ছাগলের মতন।

দু-চার জন  হাত ধইরা টানতে টানতে নিয়ে  যায়।

পথ চলছি রেশমীর হাত জড়ায়ে আছে  আমার কোমড়।

অখন ঘনাইতেছে রাত, শেইয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছে  নিশুতি রাইতে
ঘরে ফেরার পথে ঘণ ঘণ জোনাক পোকা জ্বলে ঝিঁঝিঁ ডাকে
বন বাদারে রাত যত বাড়ে  আমার বুকের ভিতর ঢিব ডিপ ঢিপ
ঢিব করে।
হঠাৎই  উঠল আশ্বিনে ঝড়  ঝড়ে উড়ছে ঘরের চাল বেতালে
পড়ছে পা গাছ পালা ভাঙছে হুড়মুড়  কইড়া - বাজ
পড়লো কাছেই ঝলসে উঠল আগুন দাউ দাউ কইরে
জ্বলছে গাছ,  মাইয়া আমার লতার মতন জড়িয়ে---
আমার  মাইয়া বুকের আমার তিতির পাখির মতন উসুম বুকে
ভিতর থর থর করে কাঁপিতিছে

ঝাঁপিয়ে পড়ল বৃষ্টির পানি
বাপ বেটিতে ভিজছি অল্প দূরে ভাঙা চোরা দালান বাড়ি

বাপ বেটি দৌড়ে গিয়ে ঠাঁই পাই,
পুটলি থেইকে পলিথিনের
মোড়া গামছা খান বার কিরে মাইয়া আমার মাথা মুছায়া দেয়
দর দর কইরা দরদে চক্ষু দিয়া পানি ঝরে, 

" আব্বু ক্ষুধা
লাগছে? "
মাতৃ স্নেহে মুড়ি আর তাদের পাটালি গুড় দেয়।

হোথায় হঠাৎই বাজ পড়ার আওয়াজে রেশমী ভয়ে জড়ায়ে  এ ধরে।

মশাল হাতে ওরা কারা, কেন এলো
মুখে কোলো কাপড় বাঁধা, হারে রে রে রে রে রে ঐ তিনটা যমদুত
সজোরে আমার মাথায় শক্ত লাঠি মাইরা মাথা ফাটাই  দেলে।

দৌড়ে  ছুটি আসে  রেশমীরের চোলের মুঠি ধইরা হেঁচকা টান দেয়।

রশি দিয়া বাঁইধা রেশমীরে  টানতে থাকে -- রেশমী আওয়াজ দিয়েন - অ অ অ -- আ আ আ আ

হায় হায় আল্লাহ  চোখের সামনেই আমার আদরের মাইয়া নির্যাতনে, গণ ধর্ষণ চলছে।

আর্তনাদ জবাই পশুর মতন মৃত্যুর যন্ত্রনা চিৎকার শুইনা
হায় মেহেরবান, আহ  আহ আহ এমন দৃশ্য দেখার  আমার আগে মরণ হইলো না ক্যান?

রেশমী  পৈশাচিক অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতা জ্ঞান হাইরে মুখ থেকেই
গাঁচলা বেড় হইতেছে, গো গো শব্দ -- বধির হতবাক হই,

রেহাই নাই রেহাই নাই রেহাই করলো না শয়তান গুলান
  ওরা রেশমীরে চ্যানদোলা
কইরা কোথা নিয়ে  গেলো  কন দেহি---!
বাবুমশাই  ও বাবুমশাই  আমার রেশমী রে দেখছেন না হি
কৈ গেল কন দেহি ?
রেশমী রে -- রেশমী ---- মা আমার কৈ গেলি মা
ওরে মা তুই ফিরে আয়---- ওরে ফিরে আয়--!

শহীদ জননীকে রণাঙ্গন থেকে পুত্রের চিঠি

শহীদ জননীকে রণাঙ্গন থেকে চিঠি

কারাগারে শৃঙ্খলিত আজও শ্যামল  সোম

শোভা মাগো তুমি কি আজও
আমার জন্য অপেক্ষা করে আছো
একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধের ভাষা সৈনিক
লড়াই রণাঙ্গনে বুড়ি গঙ্গার তীরে
চলছে লড়াই, গোলাগুলি চলছে।
শত সহস্র তিরিশ লক্ষ মানুষ ও শহীদের
রক্তে লালে লাল " প্রয়োজন হলে দেব এক নদী রক্ত "
কবি বানী সত্য হলো মাগো "
শত শত কিশোরী তরুনী আজ শ্রান্ত ক্লান্ত মৃত
অত্যাচারিত নির্যাতনের শিকার অকালে গর্ভবতী
এক লক্ষ জননীর গল্প  নয় সত্য, এই মধ্যেও
দেশের শত্রু বিশ্বাস ঘাতক শয়তান শেয়ালেরা,
মা গো মা, আমাদের  এই মুক্তি যুদ্ধে সারা বিশ্বের
মানবিকতার প্রতীক  ঐ রবিশঙ্কর বিশ্বের বিটল
গায়ক জর্জ হ্যারিসন বিশাল কর্ণসাট গাইছেন
" বাংলাদেশ --" জানো মা রেডক্রোশ চিকিৎসার
সেবা শুশ্রূষা করছেন এক প্যারিস থেকে বোন
পলি কি বলবো, আহত হয়ে অস্থায়ী তাবুতে
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম ঠিক তোমার মতোই
স্নেহময়ী জননী মতন ভালোবাসায় সেবা সাক্ষাত
যেন বাতি হাতে নাইট্রেঞগেল NITRAGREL
MOTHER OR SISTER ---- NARCE.
নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে PHOTOGRAPHY JOURNALIST
TAMAS--LONDON  DAILY পত্রিকার শত সাংবাদিকের
প্রতিবেদনে সাড়া পড়ে গেছে আমাদের এই মুক্তি যুদ্ধের
ইতিহাসের অংশ নিতে এগিয়ে এসেছেন বহু প্রতিবেশী
দেশের ও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শত সহস্র মানুষ।
মা মাগো জননীদের কাছেই আমার হৃদয়ের উপলব্ধির
বার্তা পৌছে  দিও, না না আমরা দেহের শেষ রক্ত বিন্দু
দিয়ে লড়াই করার জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ শপথ গ্রহণ  ঐ দিন
রেস কোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক জনসভাতে শপথবাক্য
শতসহস্র কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল বাংলাদেশের জনক
বীর সন্তান মহান ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর ভাষণ  ও শপথবাক্য
উজ্জীবিত লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন বিপন্ন  আজও লড়াই
ময়দানে- --- আমাদের  লড়াই চলছে মা -- আশীর্বাদ করো মা
এ মানুষের স্বাধিকারের লড়াই চালিয়ে যেতে, " আমার মায়ের
সোনার নোলক  না নিয়ে ঘরে ফিরবো না --"
দূরে কামানের  গোলাপ বর্ষণ বিস্ফোরণ গোলাগুলি আওয়াজ
এরি এক ফাঁকে ট্রেঞচে TRENCH বসে তোমাকে হয়তো
শেষ চিঠি, না না না শহীদের মায়ের চোখে পানি শোভা পাই না।

মা আমার  স্নেহময়ী জননী শোভা
ভালো থেকো, ভালো থেকো বাংলাদেশ!

ইতি

তোমার পুত্র  খোকন
তারিখ---: 17-10--1970

মমনে মিতালি তুই আজও আছিস মনে

তারিখ -: 5---1---2017 গদ্য কবিতা পোষ্ট নম্বর  4

মমনে মিতালি তুই আজও আছিস মনে

শ্যামল সোম বাঁশিওয়ালা

গ্রুপের সকল সদস্য সদস্যাদের 
নমস্কার সুপ্রভাতে প্রসন্ন মনে জানাই,
তবু উচাটন মাঝে মাঝেই
প্রতীক্ষিত এক প্রেমিকের
হৃদয়ে রক্তাক্ত ক্ষরণে শিশিরের
ব্যথা অনুভব করে  কতজন?
বিচার্য আমার সর্বনাশের প্রেমে।
এ আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত
অন্যের নয়, স্পন্দনে স্পর্শে
জাগে  স্মৃতির শিহরণ বহমান এই
ঝর্ণা,  তোর কাব্য স্রোতে ভাসি।
সে প্রিয় আমার এক প্রেমিকার
নাম  মিতালি তুই মন পাখি,
তুই আয় উড়ে আয় আমার কাছে,
শেষ কটা দিন প্রেমে রই।
আগামী শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা
অফুরন্ত ভালোবাসা রইল
তোমার জন্য, কে  জানে বাপু
ছবি হয়ে শোলার মালা পড়ে
ঝুলবো, শুভ্র দেওয়ালে পিঠে,
খুব মনে পড়বে তোকে মিতালি?
আশ্চর্য  ! মরার পর কি 
সত্যই  মানুষের প্রেম ভালোবাসা মনে থাকে?

একাকীত্ব মাঝেই একা

আমার ভীষণ পছন্দের ♡♡♡ বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ ♡♡♡ ( একটি সাহিত্য গ্রুপ)
সকল সদস্য সদস্যাদের জানাই উষ্ণ অভিনন্দন ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

একাকীত্ব মাঝেই  একা  (গল্প হলেও সত্যি এই মাত্র লেখা জনৈক বন্ধুর সহধর্মিণী মৃত্যু হলো একদিনে দুটি পোষ্ট করার জন্য ক্ষমা করবেন, এই গ্রুপে প্রথম  পোষ্ট করে থাকি মাফ চাইছি)

শ্যামল সোম

আমার সুদীর্ঘ বছরের বান্ধুবী সে ঐ শ্রাবণী
আমার বিবাহিত স্ত্রী অর্ধাঙ্গিন আত্মসঙ্গিনী।
পাশে বসে প্রচন্ড ঝড় জলের রাতে অবিশ্রান্ত ঐ
বর্ষণ মুখরিত রিমঝিম বর্ষায় সদ্য সে প্রিয়জন
তিরিশ বছরের বিবাহিত জীবনে প্রারম্ভে সঘন বর্ষায়,
শত গান শুনিয়ে ছিল শ্রাবণী, বর্ষা ওর প্রিয় ঋতু--!
" আজি ঝর ঝর মুখর বাদর  দিনে "
" আমার যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে"
" বাদলধারা  হল সারা বাজে বিলাই সুর"
" আমার দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদল সাঁঝে"
পালঙ্কে শুভ্র শয্যায় শুয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছে শ্রাবণী
দীর্ঘ শ্বাস প্রশ্বাস ঘণ ঘণ মৃত্যুর করাঘাতে দূরে কোথাও
সশব্দে প্রচন্ড আওয়াজে ভয়ার্ত ভীত সন্ত্রস্ত কেঁপে উঠল
দেহ উদ্বিগ্ন হওয়ায় শ্রাবণী আঁকড়ে ধরে শীর্ণ হাতে,
পরম যত্নে গত তিন দিনই ভোর থেকেই রাতের পরে রাতে।
পরম মমতায় মোহাচ্ছন্ন বিমোহিত মন প্রথম প্রেম আমাদের
সলজ্জ চোখে চোখ শুভ দৃষ্টি আকর্ষণের রূপে মুগ্ধ হই,
ঐ দীঘল কালো চোখের আলো পড়তেই ভূমিকম্প হৃদয়ে
স্পন্দন আলোড়িত মন আজও  এই জরাজীর্ণ শ্রাবণীর
দেহটি আলিঙ্গনে থর থর করে কাঁপে প্রাণ, তির তির করে
কাঁপছে চোখের পাতা, শুষ্ক ঠোঁটে অপুষ্ট শব্দ " এত ভালোবাসা
সহ্য  হলো না সোম, ধন্য  আমি গত তিরিশটা তোমার প্রেমে- ---"
থেমে থেমে কথাও শেষে যায় থেমে আমাদের দুজনার চোখে
প্লাবন, ভরা মেঘনার জলে ভেসে যায় মন, শ্রাবণী মৃতদেহ
জানি না জড়িয়ে ছিলাম, মায়ের পায়ের কাছে উপুড়  ফুরিয়ে
কাঁদছে কিশোরী  উর্মি কনিষ্ঠ কন্যা, আমার ব্যক্তিগত শোক
সড়িয়ে রেখে, মেয়ের কাছে যাই, " ঊর্মি তুই মা কাছে আয় মা !"
বুকের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রচন্ড  ঢেউয়ের মতন- ---
বৃক্ষের মত  দুহাতে জড়িয়ে শক্ত করে ধরি, ঝড় তান্ডব বাহিরে।
ভয়ঙ্কর  ভয়ঙ্কর এক রাতেই তাঁর  ( শ্রাবণী আত্মা) যাত্রা হলো শুরু,
শুভ মুহূর্তে  ( শ্রাবণী পরম ভক্তিমতী) - আধ্যাত্মিক উন্নতির
জন্য যথাসাধ্য সাধন ভজন পুজো পাঠ, রাতে দিনে গৃহিণী
দায়িত্ব পালনে এর পরও  ছিল পথশিশুদের কল্যাণ সমিতির
সম্পাদিকা, দশ হাতে কাজের ক্ষমতা ঈশ্বরের বিশ্বাসী শ্রাবণী
ছিলেন তাই বুঝি মানুষের সেবা আর ঘরের ভিতর ও বাহিরে
অন্তরে অন্তরে মানুষের প্রতি প্রেম তাঁর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক
জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো মানবতা, কত ক্ষুদ্র  আমি
স্ত্রীর মৃত্যু  আর আমার একান্ত আপন দুই পুত্র ও এক ঐ ঊর্মি মেয়ে
শোকাচ্ছন্ন আমার  চেয়ে শতসহস্র গুন বেশী আজ ওরা মাতৃহারা।
মনে দূর হতে ভেসে রবীন্দ্রনাথের গান "আমার প্রাণের মাঝে সুধা
আছে চাও কি " " আছে দুঃখ  আছে মৃত্যু বিরহ দহন লাগে
তবুও  শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে  ---!"

Wednesday, 4 January 2017

ভালোবাসার

https://m.facebook.com/sharer/sharer.php?u=http%3A%2F%2Fwww.somewhereinblog.net%2Fblog%2Fshyamalsom%2F30043368&display=popup&ref=plugin&src=like&app_id=1545167315695654

আত্মজার জন্যে পিতার আত্মবিলাপ

বাবু মশাই ও বাবু মশাই দেখছেন নাহি
আমার কইন্যা আমার জান রেশমীকে
হৈ দিন বাপ বেটি দুজনে গেছলাম হৈ
মাদারীপুরী হাটে, ষোল বছরের কইন্যা 
মা মরা বেটি, বড়ই অভিমানী কইলাম
মাদারি কা খেল আর দেখে কাজ নাহি
রাত হই  যাবে এত ঢা পথ আঁধার হলি
শেয়াল  শকুনের দল  ওৎ  পাইতা থাহে
অবুঝ মন ষোল বছরের মাইয়ার ছলছল
করে চোখ, ওরে আমি ক্যামনে বুঝাই কন
দেহি রাজকন্যা মত রূপ বেহেস্তের  হুরী জন্ম
ক্যান হইলো কন দেহি, আমার বেগমরে দেখতি
ভালো ঐ হইলো সর্বনাশ মেয়ে মাইনষের রূপ
শয়তান  আইসা লুঠ কইরে লয়ে যায় বেবাক
বেকুবের মতন  ধানের গোলার আড়ালে লুইকা দেহি
জবাই করনের লাগি টাইনা হিঁচইড়ে গরুর মতন।