Sunday, 31 December 2017

ভালোবাসার দহণ

ভালোবাসার দহণ

শ্যামল সোম

রাধে শ্যামের এ বাঁশি থেমে গেছে রেয়াজ
নিরব বাজে না, বেহাগ বসন্ত বাহার খাম্বাজ,
একাকী নির্জন বিরোহিনী রাধা কুন্জবনে কাঁদে
তখন মহা রণে শ্যাম সুন্দর কুরুক্ষেত্রর পরিসরে,
ন্যায় সত্যর পক্ষে সামাজিক রাজকূট অবক্ষয়ের
বিরুদ্ধে চক্র সত্যের ধ্বজা উড়িয়ে চলেন তিনি
যুদ্ধে বিজয় রথ থামে, সত্য প্রতিষ্ঠা শেষে ক্লান্ত,
হঠাৎ শ্যামের কি মনে পড়ে যায় রাধাকে বিরহে?
না, অনেক দেরী হয়ে গেছে বিরহের বেলা গ্রহে
অস্তাচলে গোধূলি লগ্নে যমুনার তীরে সুখস্মৃতি
সে এক ঐসরিক স্বর্গীয় এ প্রেম জাগে সে অমৃত
লোকে রয়েছে যুগলবন্দির ভালবাসায় মধুরাতে
সহস্র যুগ যুগান্তর ও যমুনা নদীর বহমান স্রোতে।
তবু আজ কেন পোড়ে মন সামান্য মানুষ আমরা
বারে বারে দুজনেরই পরস্পরের কাছে ছলনায়
কাছাকাছি আসতে চায় মন সুখের নির্যাস আহোরণ?
শত সহস্র যোজন দূরে পরস্পরে শুধুই এ বিভাজন
দুজনেই ভালোবেসে দুঃখে জ্বলন দুজনের পোড়ে মন
প্রেম ভালোবেসে ভালোবাসার ছোঁয়ায় মমনে এ মরণ,
সুখের মন্থনেে অনুভূত এ এক ভালোবাসার অসহ্য দহণ।

রাধা তোমাকে ভালোবেসে এ আমার অহংকার

রাধা তোমারকে ভালবাসে এ আমার অহংকার

শ্যামল সোম

রাধা তুমি আমার সকাল বেলার ভৈরবী,
তুমি রাতের বেলার মালকোষ রাগের তাণ
তালে সঙ্গীতের মূর্ছনা ভালবাসার অনুরোরন
আমার হৃদয়ের গহীন অরণ্যে ছুঁয়ে আছে ঝর্ণা
আমি শঙ্খচিল মতন উড়ছি তোমার হৃদয়ের
প্রচন্ড  সমুদ্রে ঢেউ আমি প্রতিক্ষণ আলোড়ন।
তুমি আমার পদ্মাবতী আমার দূর নীপবাসিনী
প্রেমিকা ভালবাসার স্বর্গের পারিজাত অমূল্য
রতন তোমাকে ভালোবাসে ধন্য এ জীবন।
হে রাধা তোমার ভালোবাসায় আজ প্রেমে পূর্ণ
হৃদয় ভালোবাসা দুহাতে বিলাই মানুষের মাঝে,
নিজের রয়েছে এক বিশাল আকাশের মত হৃদয়
সে হৃদয়ে গহীন সীমাহীন নীল সমুদ্রের ঢেউয়ে
মতন আছড়ে পড়ে প্রেম সেই প্রেমের ব্যাকুল ঢেউয়ে
জলোচ্ছ্বাসে শতসহস্র মানুষের সকলের হৃদয় জুড়িয়ে
দিয়ে শুভ নববর্ষের  ভালোবাসা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

Wednesday, 20 December 2017

আদরিনী

20---12---2017

আদরিনী

শ্যামল সোম

মেয়ে ঠিক যেন মোমের পুতুল
ঘন কালো কোঁকড়ানো চুল
ফোলা ফোলা তুলতুলে গাল
আদরে আদরে গাল হতো লাল।
মা মরা মেয়ে, বাপ মোদোমাতাল
দিদা মামার সংসারে অনাদরে
আধ পেটা খাওয়া তবু প্রকৃতির
আপন খেয়ালে বাড় বেড়েছে।
গায়ে গতের কখন আলুর চপ
কখন চকলেট লজেন্স লোভে
চুপিচুপি আদরের ছলে বলে।
কোলে তুলে নেয় আদরে কোলে
বসেই কত আদর মাঝেমধ্যে সে
শৈশবে এ আঁচড় লাগতে ব্যথা
কঁকিয়ে উঠে আদরে আদরে।
কৈশোরে পা রেখেছে সবে শুরু
হলো আদরের ঠেলা ঠেলি, গুরু
গম্ভীর আওয়াজ ডাক ছিল মেঘ,
তুমুল ঝর বাদলে  অঝোরে ঝরছে
বৃষ্টি স্নাত সে রাতে ঝোপে আড়ালে
রক্তে অক্ষরে অক্ষরে লেখা হচ্ছে
আবহমান কাল থেকে নারীর প্রতি
অবমাননার অত্যাচারের বাকি আছে
আরো শতসহস্র বছরের ইতিহাস।
যৌন নির্যাতনের সহিংসতা গ্লানিময়
পশুর অধম চিরকালের বিকৃত মনস্ক
শয়তানের আনন্দ উল্লাস গণধর্ষণের
জনৈকা কিশোরের মৃত্যু খবরের কাগজে
পাতায় শিরোনামে, ধিক্কার জানায় সবাই
টিভির চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচারিত হয়।
মোমের পুতুলের জন্য পথে পথে হাঁটে
হাতে নিয়ে জ্বলন্ত মোমবাতির মিছিল।

শীতার্ত রাতে হাহাকার

শীতার্ত রাতে হাহাকার

শ্যামল সোম

একা একাই কাঁদি
বিনিদ্র রাত জাগে
মন ঐ তারাদের
সাথে, তারা মণ্ডলে
রাতের আকাশে,
তুমি নক্ষত্র জ্বলে
তুমি অরুন্ধতী।
তুমি চলে গেছো
অজানা সীমানায়--
ফেরা কি কখন যায়?
নন্দিনী এসো ফিরে
এসো এই নির্জন রাতে।
আকাশে বাতাসে
পৌষে শস্য শ্যামলা
মাটির ঘ্রাণ ভেসে
আসে নবান্ন উৎসবে।
তোমার ভালোবাসার
স্রোতে আজও ভাসে
মমনের ব্যথিত ব্যথা
ব্যাকুল ফিরে পেতে চায়।
অকৃপণ প্রকৃতির সাথে
সহবাসের শীতার্ত রাত
শিহরিত হয়েছিলাম
তোমার আলিঙ্গনে
তাপিত চুম্বনে চুম্বন।
সুখ স্মৃতি মনে পড়ে
যায় আমার হৃদয়ে
শূন্য অপূর্ণ সাধ জাগে
শীতার্ত রাতে উষ্ণতা
খোঁজে তপ্ত শরীর
আজ কাছে তুমি নেই,
বালিস ভিজে যায়
বহে দুচোখে অশ্রু নীর।

তুমি আমার স্বপ্নে র কবিতা স্বপ্না

তুমি আমার স্বপ্নের কবিতা স্বপ্না

শ্যামল সোম

স্বপ্না তোমার তুলনা তুমিই
আমার কাব্যের দেবী,
স্বপ্নের জ্যোৎস্নায় পরী
শব্দ চয়নে ছন্দে ধ্বনি
শুনি ঐ পায়ের নূপুরের
গুঞ্জন অভিসারএ এলে
নৃত্যের তালে তালে তন্বী
তোমার হাত ধরেই চলি
পলাশ বিছানো এ পথে।
কাব্যের কৃষ্ণচূড়ার ডালে
লালে লাল রক্তিম ঐ মুখে
তোমার ঐ আড় চোখের হাসি
তুমিই আমার আদরের সর্বনাশী।

Friday, 1 December 2017

বাংলাদেশের নিমন্ত্রণ -- মোঃ দেলোয়ার হোসেন

কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি শতসহস্র মুক্তি যুদ্ধের ভাষা
সৈনিকদের  ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর
সেনানীদের পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের  আত্মা
শান্তি কামনা করি প্রতি বছর শহীদ মিনারে।

শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করছি আপনাদের আমন্ত্রণে
প্রতি বছরে একুশে কবিতা উৎসবে বিভিন্ন জেলায় ও ঢাকার
কবিতা পাঠ  ও সাহিত্যের আলোচনা সভাতে নিমন্ত্রণ যাই বারে বারেে।

বাংলাদেশের বন্ধু আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।

#নিমন্ত্রণ
মোঃ দেলোয়ার হোসেন।
(পশ্চিম বঙ্গের কবি শ্যামল সোম শ্রদ্ধা ভাজনেষু)
___________________________________________

এই বাংলায় তুমি এসো ফিরে ফিরে।
ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে নেবো,
খুঁজে নিবো অসংখ্য মানুষের ভিরে।

যদি বাড়াও হাত, যদি আগাও কদমে।
আমি তোমারে ভালোবেশে বুকে টেনে নিবো,
তোমার'ই গাণ গাইবো দমে দমে।

এসো বন্ধু এই শ্যামল বাংলায় এসো।
এসো পদ্মা মেঘনা যমুনার বাংলায়,
এসো তুমি মুজিবের বাংলায় এসো।

অনুভুতির উত্তরিয় দিবো রেশমী কাপড় খাঁটি।
বসতে দিবো শ্রীহট্টের নকশি শীতল পাটি,
গরুর খাঁটি দুধ দেবো ভরে বাটি বাটি।

রাজশাহীর আম খাওয়াবো গৌরনদীর দধি।
সিরাজদিখানের পাতখিরার পাটিসাপটা খেও,
আমার গায়ে ঘুরে বেড়িও নিরবধি।

তোমায় আমি কবিতা দেবো স্বর্ণ থালা ভরি।
কবিজনে আসর বসাবো গল্প করবো,
হাসবো হাসাবো, ফুটাবো ছড়ার ফুলঝুরি।

তুমি বন্ধু আসবে ফিরে তোমার বাংলা শিকরে।
আমার সাধের সুন্দর বনে বাঘ দেখাবো,
বানর হরিন দেখাবো,নদীগুলো ভরা কুমিরে।

বান্দরবানের সাজেক ভ্যালী কাপ্তাইর হ্রদ।
আলুটিলার অন্ধকারচ্ছন্ন গুহা দেখাবো,
দেখাবো কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত।

ঢাকার শহর ঘুরাবা তোমায় টম টমে চড়ে।
পোড়াবাড়ির রসালো চমচম খাওয়াবো,
মুক্তাগাছার মন্ডা যতটা পেটে ধরে।

তোমার হাতে হাতটি রেখে মনে দেবো মন।
বুকের অয়োময়ে জড়িয়ে রাখবো তোমায়,
লহো লহো সুজন, লহো মোর নিমন্ত্রণ।

Tuesday, 28 November 2017

শ্যামল সোম এর ও বোন ঝরনার লেখা

কীর্তন খোলার নদীর বহমান উজান
স্রোতে ভাসিয়ে এসেছি প্রেম
উনিশ বাহাত্তর সালে।
তুমিই আমার বাংলাদেশের বোন
ঝর্না তুমি দেখালে ভালোবাসা স্বপন।

শ্যামল সোম

পদ্য কবিতা

20 --- 4 --17

♥♥স্বপ্নের নদী কীর্তন খোলা♥♥
       ♦ডাঃ ফারহানা আক্তার ফ্লোরা ♥

[প্রিয় কবি শ্যামল সোম যিনি বাঁশিওয়ালার নামেও পরিচিত সেই  কোলকাতার ভাইয়া  তার স্মরণে লিখা ]

যে নদী এক দিন তোমায় টেনে এনে ছিলো
বহু দূর থেকে এপার বাংলায়
আজ কেনো ভুলে যাও তুমি সেই,
ফেলে আসা ছোট্ট বেলার শৈশব কাটানো
তোমার প্রিয় ভালোবাসা ভরা এপার বাংলার ছবি।

আমি যে সেই কবে থেকে চেয়ে আছি পথ চেয়ে
আমার সেই ভালবাসার বাঁশিওয়ালা কে,
একটি বার প্রাণ ভরে দেখবো বলে
আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো কবে পাবো?

আমার স্বপ্নের সেই চিরো সবুজ স্বপ্ন বিভোর
ভালবাসার পাগল আদরের কাঙাল
সেতো ঐ পাড়ে থাকে অজানা কোন গাঁয়ে,
শুনেছিলাম বহু দিন আগে,
সে বার যখন শেষ বার কথা হয়েছিলো তার সাথে।

আজও ভুলিনি আমি তাকে ভুলবনা কোন দিন
এই দেহে যতো দিন প্রাণ থাকে,
অপেক্ষমান এই বাংলায় আছি অপেক্ষাতে
দেখি কবে দাওদেখা তোমার সেই
প্রিয় নদী কীর্তন খোলার ধারেই থাকবো দাঁড়িয়ে।

স্বপ্নের বাঁশিওয়ালা তুমি আসবে ফাল্গুনের
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম লাল নিয়ে ভরিয়ে দিবে চারদিক
প্রেমের নানান রঙে রাঙ্গাবে উৎফুল্ল চিত্তে,
তৃষ্ণার্থ চোখে তাকিয়ে দেখবে তোমার সেই কবে
ফেলে যাওয়া এপার বাংলার আদরের ঝর্ণা বোনটিকে।
স্বাগতম সুস্বাগতম সুপ্রভাতে এই বন্ধু  আপনাকে জানাই অফুরন্ত উষ্ণ অভিনন্দন।

উত্তরে আমি অনুপ্রাণিত হয়ে লিখছি আমার হারিয়ে যাওয়া ঝর্না বোনের উদ্দেশ্যে

ভালোবেসে  বাংলাদেশে

শ্যামল সোম

জননী, বোন, ভাইদের বাংলাদেশের ভালো মানুষের সাথে
আমার বাংলাদেশে বারে বারে ফিরে ফিরে আসা শিকড়ের
সন্ধানে বাংলাদেশের ভালোবাসার মানুষের খোঁজে বিভিন্ন
জেলায় জেলায় কতশত নদীর বহমান অনুপ্রেরণার স্রোতে।

এ কথা বলা অশোভন,  অন্যায়, শাস্তি যোগ্য, কিন্তু মাটির মায়া
কীর্তনখোলা, সোমেশ্বরী, শীতলক্ষা, রূপশা, মেঘনা নদীতে স্নান
নদীর বুকে অবগাহনে, রাঙামাটি, কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে
তোমাদের সাথে দল বেঁধে উনিশো বাহাত্তর সালে বনানীর সাথে
যাওয়া, না বিশ্বাস করেন মূহুর্ত জন্য মনে হয় নাই আমি বিদেশী।

আজকাল যখন যখন এপার ওপার বাংলার কবিদের ভাগ করে
দেন ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল  ঐ তেইশে ফেবরুয়ারী অনুষ্ঠানে, আমি
একটু দূরে একা বসলাম, কবিকে ভাগ করা যায় সীমান্তের শক্ত
কাঁটাতারের বেড়ার প্রাচীর তুলে ?
ভাষা,  বাংলা ভাষা সাংস্কৃতিক সঙ্গীত, জয়নাল আবেদিন, জীবনানন্দ দাশ
এপারের না ওপারের মধু পল্লী সবাই হেসে উঠলেন, মধুসূদন আমাদের।
বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে, প্রতিবাদ গর্জে বললেন, " কেন আপনি  বিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলামের  " কাণ্ডারী হুশিয়ার " কবিতা ভালো করে পড়েন নি?"
বোন,ভাই  যদি কিছু মনে না করো একটা কথা বলি দেশটি কিন্তু
ছিলো সে সময়, আজও  বাংলাদেশেকে ভালোবাসি ভীষণ।
আমার সোনা দেশ বলে ভাবি, শিকড়ের টান ছেঁড়া পাতা  নয় যে ঝরে
এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক করবে অনেকেই।
ভালোবাসায় কারুর খবরদারি আমি বরদাস্ত করব না,ভাই ও বোন।
ইদানিং চুপ করে থাকি যখন জিজ্ঞেস করেন কেউ জন্মভূমি ?
শরণার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ পাবে বোন চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগে শব্দ তুমি
বা নাতনি শুনতে পাবে অনুভবে হৃদয়ে গহীন অন্তরে অন্তরে ভিতরে বাহিরে।