Sunday, 3 March 2019

মেয়ে মানুষের লাশ ছোট গল্প

মেয়ে  মানুষের  লাশ

                                                শ্যামল সোম

বহুকাল আগে শ্রদ্ধেয়া  কবি  লিখেছিলেন,
" মেয়ে মানুষের লাশ,"
আজও মেয়ে মানুষের লাশ  ভাসে
ঐ দূরে  ইচ্ছামতী নদীর জলে,
মেয়ে  মানুষের  নগ্ন লাশ ভাসে  জলে, '

বড় হিংস্র  মাছেরা খুবলে, খেয়েছে  শরীর।
 ভীড়  করে  এসেছে নানা  বয়সের পুরুষ, নারীরা মাথায় ঘোমটার আড়ালে আড়  চোখে চেয়ে  ফেলে দীর্ঘশ্বাস,  চাপা  শ্বাস, ফেলে চলে যায় নিঃশব্দে, তাদের  বুকের ভেতর এক অসহ্য  চাপা  যন্ত্রনার  ঢেউ  আছড়ে  পড়ে।
ভীড় করে আসা  পুরুষেরের  মাঝে ওঠে  গুঞ্জন নানা লোকে নানা  কথা বলে;
" বিভত্স্য  ধর্ষনের  শিকার, 
ব্যর্থ প্রেমের  আঘাতে  আত্মহত্যা,
" দাঁত বে ড়  করে নিজের  তামাশায় নিজেই হেসে উঠে"।
"  নির্ঘাত  বিবাহের  প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত সহযোগিতায় আনন্দে মাতাল সহবাসের ফলাফল।

" যথারীতি  প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে  অন্তস্বত্তায় হওয়ার পর   আত্মহত্যা ছাড়া  গতি কী ?
অনেকেই  অট্ট হাস্যে ফেটে পড়ল,  সব পুরুষের নজর কিন্তু ঐ উলঙ্গ মেয়ে মানুষের শরীরে দিকে, পুরুষের দৃষ্টি   লেহন করছে মেয়ে মানুষের নগ্ন লাশ; জল থেকে   ডা ঙ্গায় তোলা হয়েছে লাশ,  ভীড়  এগিয়ে গিয়ে ছেঁকে  ধরে  লাশ; " চেনা চেনা  লাগে এ তো  কুুসুম,
খাল পারের খানকী পাড়ায় বাস।
"  না না না, দূর এই মেয়েটা  বাবু পাড়ার ঝিনুক,
পরশু রাতেও দেখলাম  বাইকের পেছনে বসে জাপটে  জড়িয়ে  ধরে আছে-"
" ছোঁড়াটা  কে  ছিল ঘুড়ো ?

 ভয়ে ভয়ে এদিক ওদিক  তাকিয়ে  ঢোক গিলে আমতা আমতা স্বরে বলে, রাতের  অন্ধকারে  ঠিক  ঠাওর  হলো না, চার কুড়ি এ বয়সে !"

 অন্য  এক জন লাশের  খুব  কাছে গিয়ে, হ্যা ! আমি  ঠিক  ধরেছি, এই তো শর্বানী,
অমল বাবুর বাপ  মা  মরা ভাগ্নী !

" ভীড় ঠেলে এগিয়ে এলেন এক সৌম্য বদ্ধৃ নিজের পাট করা  সাদা  উত্তরিও  যত্নে  বিছিয়ে দিলেন লাশের উপর, ঢাকা পড়ল; মেয়ে  মানুষের নগ্ন লাশ।

বৃদ্ধের প্রতি  সম্ভ্রমে  শ্রদ্ধায় নত মস্তকে  নীরবে  কুর্ণিশ  জানালো  অনেকে।

পুলিশ  ভ্যানের  সশব্দে, সদর্পে  আগমন  বার্তার আওয়াজ  শুনে সবাই শুয়েরের  শাবকের মতন  দৌড়ে  পালালো।
এক কিশোর গাছের আড়াল  থেকে চোখের জল  ফেলে ঝাপসা দৃষ্টি  মেলে
গভীর  মর্মবেদনায় তাঁর হারিয়ে যাওয়া চিরদিনের মতো দিদিকে লুকিয়ে দেখছে।
গত মাসে টিউশানী করে ফেরার পথে দিদিভাইয়ের সাথে  ছিল সেদিনের ঘটনা কী চরম লাঞ্ছনা, ভাইকে লাথি মারতে মারতে দূরে ঠেলে দিলো।

তারপর মেতে উঠলো এক পৈশাচিক আনন্দে, ময়নার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নির্যাতনের ক্ষত বিক্ষত,  হঠাৎই পুলিশের  টহলদারি ভ্যানের
সিরাতের মতো রেহাই পেয়ে ছিল ময়না, ছোট ভাইয়ের চোখে সে  রাতের ক্রোধে জ্বলছিল দৃষ্টি---
কিন্তু  আজ বাপিনের প্রতিশোধের  আগুনে জ্বলছে,  দ্বিগুন !
আবার বাপ  মায়ের বারন করা সত্ত্বেও বাপিনের  প্রতিশোধের অগ্নি শিখা লক লক হৃদয়ে জ্বলছে।
আবার হাতে অস্ত্র বাসনা মনে  প্রবল হয়ে ওঠে,  শুধু সুযোগের অপেক্ষায়।

যৌবনে কলেজে পিকনিকে

যৌবনে কলেজে পিকনিকে

শ্যামল সোম

দামী লাকসারী বাসে ফলতায় গঙ্গার পারে যাওয়ার জন্য কে কার পাশে বসবে হুড়াহুড়ি।
আমি ইংলিশ মিডিয়াম এই কলেজে ছাত্র একটু গোবেচারা ইংলিশে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ ।
টেনশন নেই, সবাই ব্যস্ত বসার জন্য হৈ হুল্লোড় ভাবছি পালাই পিকনিকে যাবো না, হঠাৎই সুস্মিতা
ফিজিক্স  অনার্স সেকেন্ড  ইয়ার প্রেসিডেনসি এই কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ছাত্র ছাত্রীদের প্রিয় পাত্রী।  
অপরূপা অথচ নিজের দেহ সৌন্দর্য অচেতন মেধাবিনীর ডাক, " এই সোম এখানে এসো --
" চোখে কৌতুক হাস্য উচ্ছল জ্বল জ্বল দৃষ্টিপাত আমি কুপোকাত।
বাসার দ্রুত গতিতে ছুটছে।
আমি গুটি  গুটি পায়ে সকলের ঈর্ষান্বিত চোখে সামনে একটু সাহস সঞ্চার বলি, hi সুমি thanks !

সুস্মিতা কৃষ্ণ কালো বড় বড় চোখের পাতা নাচিয়ে ইশারায় পাশে বসতে বলে।

জেকেটের পকেট থেকে বিশাল চকলেট বার এগিয়ে দিলাম, হাতে পিঞ্জ প্রেমের চিমটি।
জলের বোতল  চিপসের প্যাকেট নিয়ে পাশে বসে  সুস্মিতার দেহে  loveme perfume স্নিগ্ধ গন্ধে আকুল।
কলা পাউরুটি ডিম সেদ্ধ মোওয়া নিয়েও কারাকারি।

সুমি ওদিকে তাকিয়েই হেসে ওঠে  জ্যোৎস্না  আলোর জ্বলে উঠল, বাজ পড়ার শব্দে সবাই হেসে উঠল,
আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা সবাই  জানে।

সুমি চিকেন স্যান্ডি বের করে নিজের হাতে খাওয়াচ্ছে নিজেও খাচ্ছে আবার ,হাসির  রোল উঠল আশিকীর
গান গাইছে গীটার বাজিয়ে।

পরস্পরের কাছাকাছি বসে সুমি হেলান দিয়ে আমার কাঁধে মাথা রেখে ফিস ফিস করে বলে, "সোম তুই অক্সফোর্ড পড়তে যাবি---
আমি একা একা থাকবো কী করে সোম ?"

মেয়েদের ছল ছল চোখে কান্না টল টল করছে কষ্ট হয় মনে, সুমি মাথা হাত বুলিয়ে বলি,  " পাগলী চল আমার সঙ্গে 
Acsro  physic  লন্ডনে  না হলে  USA চল দুজনে যাই আমি MASS COMMUNICATION নিয়ে  পড়বো।

ফলতাতে গঙ্গার পারে বাগান বাড়িতে পৌঁছে গেলাম।

এবার যে  যার রসে বসে সে  তারের মতন জমে জমে একেবারে কাঁঠালের আটা।
অন্তরীক্ষ  এ অন্তরক্ষরী খেলা, চাদর বিছিয়ে কোথাও  তিন পাততি, লাল জল টলটল দেহ।
দূরে বসে যৌবনের দূত দূতিরা বসে গানের কথা খেই ধরেই গান, মেমরি গেম, ক্রিকেট খেলছে কেউ কেউ ।

আমাদের গানের ফাঁকে চোখে চোখ রেখে মৃদু হাসি,
ফলতার গঙ্গার ধারে সুমির  হাত ধরে এক সাথে হাঁটা 
গাছের আড়ালে
পরস্পরের ঠোঁট, প্রথম প্রেমে পড়ার কলেজের পিকনিকে,
দুর থেকেই  সুমিষ্ট স্বরে সুমির কন্ঠে--
" আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনে",

সেলফি তোলা পরস্পর জড়িয়ে।

গঙ্গার জলে আমরা দুজনে নৌকায়বিহার।

প্রতীক্ষিত প্রেমের গল্প সল্প  এ বাড়ে আমাদের প্রেম।
অন্যরা  পরস্পরের মোবাইল ফোনের নম্বরের আদান প্রদান করছে।

" আমার পরান যাহা চায় তুমি  তাই গো"।
শেষে ঐ সুস্মিতার গানের রেশ নিয়ে ঘরে ফেরা।

Posted by Journey of Shyamal at 04:18 

শীতার্ত রাতে উষ্ণতা খোঁজে

শীতার্ত রাতে উষ্ণতা খোঁজে

শ্যামল সোম

একা একাই কাঁদি
বিনিদ্র রাত জাগে 
মন ঐ তারাদের 
সাথে, তারা মণ্ডলে 
রাতের আকাশে,
তুমি নক্ষত্র জ্বলে 
তুমি অরুন্ধতী।
তুমি চলে গেছো
অজানা সীমানায়--
ফেরা কি কখন যায়?
নন্দিনী এসো ফিরে
এসো এই নির্জন রাতে।
আকাশে বাতাসে 
পৌষে শস্য শ্যামলা 
মাটির ঘ্রাণ ভেসে
আসে নবান্ন উৎসবে।
তোমার ভালোবাসার
স্রোতে আজও ভাসে
মমনের ব্যথিত ব্যথা 
ব্যাকুল ফিরে পেতে চায়।
অকৃপণ প্রকৃতির সাথে 
সহবাসের শীতার্ত রাত
শিহরিত হয়েছিলাম 
তোমার আলিঙ্গনে
তাপিত চুম্বনে চুম্বন।
সুখ স্মৃতি মনে পড়ে 
যায় আমার হৃদয়ে
শূন্য অপূর্ণ সাধ জাগে
শীতার্ত রাতে উষ্ণতা 
খোঁজে তপ্ত শরীর 
আজ কাছে তুমি নেই, 
বালিস ভিজে যায় 
বহে দুচোখে অশ্রু নির।

কবিতার সাথে সহবাস

কবিতার সাথে সহবাস

শ্যামল সোম

পদ্ম পাতায় টুপটাপ শিশির ঝরে,
কবিতা তোমাকে আজও মন পড়ে,
আশৈবের সেই সত্তর বছরের সঙ্গিনী 
জননী,রঙিনী  বিষাক্ত শঙ্খচূড়সর্পিনী,
কবিতা আমার শৈশবে খেলার সাথি,
কবিতা আমার কৈশোরের মাতামাতি।
যৌবনে পুষ্প জুঁইফুলের ঘ্রাণ কবিতায়,
সে কস্তুরী গন্ধে,মাতাল মউলের নেশায়।
পঞ্চাশ বছর আগে অলকানন্দার পাড়ে
টাল মাটাল দুলছে সাঁকো শতসহস্র ঝড়ে।
কবিতা নদীর সাথে বেঁধে ছিলেম স্বপ্ন নীড়
সত্তর বছর পরে শত শতসহস্র কবির ভীড়,
আশৈশবের প্রেমিকা কবিতা বিনোদন পণ্য 
পাপ পুণ্যহীন কবিতা আজ ধর্ষিতা জঘন্য,
কেউ কেউ হন কবি আত্মমগ্ন জীবনানন্দ।
আজ ও লেখা হয় নগণ্য প্রয়াস ভেসে যায়
অকবিতার ছিন্ন পাতা কাল স্রোতে নর্দমায়।
হাই ড্রনে আবর্জনায় কবিতা পচে গলে যায়।
আজীবন কবিতার সাথে সহবাসের গল্প ভ্রূণ 
শব্দ চুম্বনে চুম্বন ওর রক্তাক্ত ঠোঁট, প্রেমে খুন
লাশকাঁটা ঘরে নগ্ন দেহে কবিতা শুয়ে ফাল্গুন।

আমার প্রেমিকা কবিতা

আমার প্রেমিকা কবিতা

শ্যামল সোম

আমি কবিতার নগ্ন রূপ দেখে আনন্দ পাই
শব্দের ছন্দে ছন্দে কবিতার পায়ের নূপুরের
ধ্বনি হৃদয়ের কাছাকাছি এসে রসে ভরপুর।
আমার ভীষণ প্রিয় আপন স্বজন এসে সুর
সুরে সুরে দূরে কোথায় দূরে দূরে স্বপ্নপুর
এ এক চিরন্তন ভালোবাসা তুমি কৈশোরের
সঙ্গিনী প্রেমিকা ছাদের চিলেকোঠার ঘরে,
অষ্টাদশী রুমি ওষ্ঠ তপ্ত ঠোঁট ঠোঁট ফাঁক করে
পরস্পরের জিব দিয়ে লেহন করি পরস্পর।
নগ্ন উত্তাল দেহ উতপ্ত তন্ত্রী দেহের শিরায়
শিরায় রক্তের গভীরে আনন্দ কাব্য স্রোত
হিয়ায় মাঝে ভালোবাসার নদী বহে যায়।
কামনায় বল্গাহীন মন ব্যাকুল হয়ে ছুটে এসে
সমুদের ঢেউয়ের মতো আছড়ে আঁকরে ধরে,
নিবিড় আলিঙ্গনে চুম্বন চুম্বন রক্তাক্ত ঠোঁটে
কামড়ে ধরে বুকে লুকিয়ে মুখ থরথর কাঁপে।
তোমার দেহ হতে জুঁই ফুলের ঘ্রাণ অঙ্গে অঙ্গে
মিলনের বসন্ত বাহার সুরে ফিরে যাই যৌবনে,
পুষ্প জুঁই কিশোরী কবিতা আমার উন্মুক্ত করে
বসন একে একে অপরকে নগ্ন দেহ পরস্পরের
সাথে জড়িয়ে কাব্যিক তিতিক্ষা প্রতীক্ষা সর্বক্ষণ
প্রেমের কাননের মালিনী শুভকাঙ্খী তুমি কবিতা
তোমার কাব্য নদীতে অবগাহন স্নান করছি উষ্ণতা,
বেড়ে যায়  স্পন্দনে অনুরাগের ছোঁয়ায় রাঙা ওঠে
তোমার মুখ মিলনের উন্মুখ নগ্ন স্তনবৃন্ত জুঁই কুড়িতে
চুম্বন কবিতা তোমার সারা দেহ চুম্বনে লেহন করছি ।
নাভিমূল শিমূল পলাশ ভেজা হিমেল বাতাস বইছে
হু হু করে কীতৃনখোলা নদীর পাড়ে তৃন শয্যায় উন্মুখ
আমাদের পরস্পরের সাথে উত্তীর্ণ শরীরের বিভিন্ন
চৌষটি কামকলায় খাজুরাহোর মৈথুন মিলনে আনন্দে
শিহরণ শিহরিত হই দুজনে স্বপ্নে দেহে সন্তরণে শরীরের
সিঁড়ি বেয়ে টপ টপ করে ঝরছিল সুখের শিশির বিন্দু বিন্দু
যোনিপথে যাওয়া আসার সুখের উল্লাসে শিৎকার ধ্বনি।
চরম মূহুর্তে সংঘর্ষে গ্রহে হতে গ্রহান্তরে উল্কা বেগে ছুটে
চলা কবিতা তোমার মায়াবিনী প্রনয় কালে তোমার চোখে
আবেশে পলক মুদে অনুভবে শিরশির কম্পন ভূমিকম্প,
অনুভূত সুখের নির্যাস একসাথেই কামলাফা উদগীড়ণ 
ক্লান্ত শরীরে আগন্তুক আমি তোমার নগ্ন স্তন জানু যোনির
তোমার বুকে আমার নগ্ন শরীর সুস্থ সবল ও সক্রিয় দেহ
শুয়ে বিশ্রাম নেয়, মিলনে আনন্দে আপ্লুত মগ্নতায় ভরে মন
আমার তোমার দেহ শৈল্পিক নান্দনিক চিত্রকল্প ভাস্কর্য গড়ে
খাজুরাহোর মৈথুন রতা উলঙ্গ শরীরে আগন্তুক আমি পড়ে
আছি শরণার্থী মতন ভালোবেসে তোমাকে আলিঙ্গনে চুম্বন।

কবিতা আমার আদরের পাগলী

কবিতা আমার  আদরের  পাগলী

বাঁশিওয়ালা

তুই বিশ্বাস কর পাগলী
তোকে দেখে  ভালোবেসে
কক্সবাজারে  সমুদ্র সৈকতে 
পেতেছি শয্যায় শয়নে স্বপনে 
জ্যোৎস্নায় আলোকিত 
ঢেউয়ে ভেসে যেতে তোকে
বুকে আঁকড়ে ধরতে  
চাইছি আমার পুরোনো
প্রেমিকা কবিতাকে,
কাব্যের  আঙিনায় সে রাতে
রঙিন সামিয়ানার নীচে , 
আমার কবিতা নূতন কনে 
সেজে কনকচাঁপায় সজ্জিত
সোনালী রঙের বেনারসী শাড়ির 
আঁচলে  জামদানীর খোমটায়
আড়ালে লাজুক মুখে চন্দনের 
কারুকার্য, কপালে,গাঢ় লালে 
লাল কাঁচুলি, মেঘের বরণ চুল
ঢাকা নীল ওড়নার  আড়ালে 
একজোড়া মীনাক্ষীর পলক 
কাঁপে তির তির হৃদয়ে কম্পন,
কাঁপছে শরীর, কবিতা তোর 
অন্যের ইচ্ছা অনিচ্ছায় বিবাহে
উৎসবে কাঁপিয়ে দেয় এ হৃদয়।
আমার হৃদয়ের গহ্বরে অশ্রু ঝরে
বুকে ভেতর বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি  পড়ে।
কনে সাজে কবিতা তুই যখন পরদা 
আড়ালের কাজীর নিকানামা পড়ান,
জিগায়, " কবিতা বিবি  
ওমর ফারুক কে স্বামী 
রূপে তুমি কি কবুল করো ?
হঠাৎই  আমার  দিকে তোর সজল
চোখে তাকিয়ে আছিস---" !
ভালোবাসার প্রতিমূর্তি গাঁথা রইলো।
তারপর বহু জল বহে খর স্রোতে 
বহে গেছে পদ্মা ও মেঘনা দিয়ে।
পঞ্চাশ বছর ভালবাসায় কবিতা
তোর রূপের আগুনে বিদগ্ধ মনে
আজও ভালোবাসায় ভেসে যাই 
প্রেমিকা কবিতা তোর খোঁজে 
জানিস পাগলী আপ্রাণ চেষ্টা করছি  
অনেক চেষ্টা  শুদ্ধ কাব্য লেখার
কিন্তু  বারবার ছন্দ পতন ঘটছে, সঠিক 
শব্দ চয়নে ভুল হচ্ছে, বাক্যের বিন্যাসের
যুক্তি খুঁজতে গিয়ে কাব্যের 
নিষ্ফল চেষ্টা করে যাচ্ছি শত বিনিদ্র রাতে, 
একটি বিশুদ্ধ কবিতা লিখতে না পারার
ব্যর্থতা কি ভয়ংকর ভাবে সারা রাত বিনিদ্র রাখে,
বুকের ভেতরে সমুদ্রের ঢেউ  প্রচন্ড  আঘাতে 
আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাই প্রতিদিন ।
আক্ষেপ রহে গেল , সত্যিই  একটি কবিতা 
যা এই বিষন্ন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে 
দেখি কেউই নেই, হাহাকার বাতাসে 
ভেসে বেড়ায় হারোন প্রেম কবিতা 
তন্ময় হয়ে পড়ি আমার পরিচিতার এক 
নারীর সুখে বাসর আশ্চর্য  অসাধারণ 
কাব্যময়  তাঁর লেখা ভাবের প্রকাশ অনবদ্য সৃষ্টি 
কাব্যিক এক নদী কুল কুল করে 
বহে যাচ্ছে হৃদয় জুড়ে যেন আমার মনের গোপন কথা,?

Saturday, 2 March 2019

অনিন্দিতা ছোট গল্প

অনিন্দিতা

শ্যামল  সোম

ভোর বেলায় হিমেল হাওয়ায় বহুবছর পর নিউজার্সি থেকে চারদিন আগে কোলকাতার ফিরেছি,
কোলকাতার এই চলমান যান উবের ট্যাক্সি ফোন করলেই হাজির সত্যি সত্যিই অনেক বদলে গেছে কোলকাতা।
রমেন আমার শৈশবের বন্ধু  দেখা করতে ভোর বেলায় আসা।

গাড়ি থেকে ভাড়া মিটিয়ে ওদের বিশাল বাগানের মধ্যে দিয়ে মোরামের পাথর কুটির উপর হেঁটে যাচ্ছি বারান্দায়
দাঁড়িয়ে ইতস্তত করছি যে বাড়িতে এক সময় হুটহাট ঢুকে যেতাম সাত বছর পরে শুনশান লাগছে।

হঠাৎই পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো মেয়ে, " কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলে দীপ? "

জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে ঘুরে দাড়িয়ে দেখি খুব চেনা মুখ অচেনা চোখের ভাষা
আমি বিস্মিত বিস্ময়  হতবাক এ কে ?
খিল খিল করে হাসছে, " দীপ কি দেখছো আমাকে, আমাকে দেখার এখন বাকি ?

বুজতে পারলাম অনু অনিন্দিতা আমাকে চিনতে পারছে না, শুধু তাই নয় মস্তিষ্কে গোলমাল ঘটেছে।

দৌড়ে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো, " দীপ এতদিন পরে এলে একটু আদর করো, তোমার আদরে আদরে অস্থির হতাম
জ্বলে উঠতাম রঙমশালের মতন দেখ দেখ তাকিয়ে দেখো এখন কেমন নিঃস্ব রিক্ত পোড়া কাঠ।"

আমি অসহায়ত্ব শঙ্কিত উদ্বিগ্ন প্রাণ কম্পিত মনে শুনছি অর্গল পাগলিনী প্রলাপ

একা একাই বকে যাচ্ছে অনু,  " আমি কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তোমার ফ্লাটে চলে যেতাম, আমার চোখে দিকে তাকিয়ে বলতে অনু তোমার মধ্যেই  আমার পৃথিবী ! "
আমি আহ্লাদে টলমল টালমাটাল প্রেম ভালোবাসায় দীপ তোমাকে  ভালোবেসেই ধন্য হতাম, তোমার আদরে নিষ্পেষণে প্রেমে ধর্ষনের সুখ নানা আমার ভীষন আমার ভীষণ অসুখ হয়েছিল  এই দেখো আমার একঢাল চুলে দীপ
তুমি আমার লম্বা খোলা চুল দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে বলতে, " পাগলি তোকে ভালোবেসে খুন করছি।"

ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। রমেন নিঃশব্দে অনুসরণ সব কথা রেকর্ড করছিল
ইশারা করে চুপ থাকতে বলে অনুর পেছন থেকে, রমেন এগিয়ে এসে  অনু পাঁজাকোলা করে ভেতরের ঘরে নিয়ে যায়।

রমেনের বৌদি এক গ্লাস জল  এগিয়ে দেয়। আমি তৃষ্ণার্ত চাকত পাখীর মতন এক নিঃশ্বাসে পান করি, গ্লাসটা  এগিয়ে বলি, প্লীজ বৌদি
আবার জল খেয়ে ধাতস্থ করি নিজেকে।

বৌদি ম্লান হেসে বললেন, " সোমেন দুপুরে খেতে যাবে, বসো কফি পাঠাচ্ছি! "

একা একা রুমালে ঘাম মুছে, বসে ভাবছি আমার কোন বোন ছিলো না, অনু তিন বছর বয়স থেকেই ভাইফোঁটা
দিয়ে আসছিল, " আমি চাকরী সূত্রে বিদেশে চলে আগে পর্যন্ত পরাই বার বছর ধরে ভাই ফোঁটার দিয়ে আসছিল,
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস মনুষ্যত্ব হীন মানুষকে ভালোবেসে আজ অনু ধ্বংসের স্তুপ,

সুদীপ্ত চিনতে পারলাম সাক্ষাৎ শয়তান  স্কুলে থাকতেই স্বভাব চরিত্র কলংক ইতিহাস।
রমেনের বন্ধুত্বের সুযোগে শয়তানটা অনু এত ব্যস্ত সর্বনাশ করলো ঘৃণ্য ক্রোধ রাগে ফূসছি।

রমেন এসে আমার হাত ধরেই বাথরুমে তোয়ালে দেখায়, " সোমেন রিফ্রেশ হবে নে !
" না আমি সমান করবো " ঘড়ি  পার্স সব রমেনের হাতে দিলাম।
বাথরুমের দরজা বন্ধ করে শার্ট পেন্ট সব খুলে শাওয়ার  খুলে দিলাম  ঠান্ডা শীতল জলে স্নান করছি
ভাবছি নারী এইমাত্র পারে ভালোবেসে নিজেকে এ ভাবে নিঃস্ব সর্বস্ব শ্রান্ত নিঃশেষ করে বিলিয়ে দিতে।
কে যেন গাহিছে রবীন্দ্রনাথের গান, " আমি আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়!"