Thursday, 6 July 2017

এসো পাপের অতলে মাতি

- এসো  পাপের অতলে আনন্দে মাতি

কবি - শ্যামল সোম

আজ বর্ষ শেষে এই পানশালায়
তোমরা যুগলে এসো আজ রাতে,
বাহিরে ঝরে যাক অবিরত তুষার পাত,
আর অবিরাম বৃষ্টির সাথে সাথে
নৃত্যরতা যুবতীর ঘাড়ে ঘনিয়ে আসে
তপ্ত ঘন শ্বাস, সারা শরীরে আনাচে-,
ছড়ায় উষ্ণ সুখের পরশ,
রঙ্গিন মায়াময় আলোয় এই সুভাষিত এ
পানশালায় স্বপ্ন এ ভেসে যাওয়ার ছলে,
ছন্দায়িত শরীরের তালে, তালে,
চ্ন্দ্রা লোকে  মন কাড়া জ্যোৎস্নায় এসো -
নাচো -ঘন আলিঙ্গণে পরীদের সাথে-
তাদের দীঘল চোখের মদীর আহ্ববানে,
শিহরিত শরীর আহা কি নিটোল গড়্ন্।
শ্বেতক পোতের ন্যায় দুটি উন্মুখ স্তন,
আকন্ঠ  চুন্বন -সম্ভোগের তীব্র লিপ্সায়--
মন মোহিনীর আন্দলিত জঙ্ঘা,
কাঁপে নাভিমূল,
সাড়া রাত আনন্দে সুধাপান,
এখন -ভুত-ভবিষ্যৎ-অতীত বিলীন,
এই মুহূর্ত গুলো স্বাধীন, কি সুতীব্র  দহন।
লেহন করছে  লোলুভ দৃস্টি, রক্তের
শিরায় শিরায় খেলা করে অমোঘ টান,
উদ্দাম নৃত্যে-আনন্দের স্রোতে-ঊল্লাসে
ভেসে যায় নগ্ন যৌবন, কল্পনায় শিহরণ ;
অনাহ্রাতা কুমারীর সাথে নিষিদ্ধ সাহসী
সহবাস, চেয়ে দেখ খুলে গেছে উন্মুখ
বাজার-কাগজের পাতায় পাতায় রঙিন
বিজ্ঞপন যৌন লিপ্সায়,
বিবাহের ছলে, বলে কৌশলে,
সহবাসের কবলে শহর ও গ্রামে দিন প্রতি দিন ধর্ষণ,
বাজারে বাজারে নানা প্রলোভনের
আয়োজ্ন- সাজের নানা উপকরন,
মলে ম্যালে  উচু মানের বাহারি পোষাক
রঙ্গীন স্বল্প পোষাকে এসো না, 
এই পান শালায়  এবছরের শেষ রাতে,
দামাল সময়ের-
হাতছানি-- এসো, চলে এসো এই -  
পানশালায়, আনন্দে মাতি,
পাপে পূর্ন হোক, এই রাত।

ফুল ! তুমিও এক নারী

ফুল ! তুমি ও এক নারী                

   শ্যামল সোম

নারী ফুল হয়ে, ফুঁটছে  হৃদয়  কাননে,
কাননের  নানা  গাছে,
আহাহা ফুলের কী বাহার !
সেই সব গাছের ফুল ছিঁড়ে এনে,
তোর  কামনার  আগুনে সেঁকে,
জোছন ভরা আলো করা  রূপে মাতাল
হওয়া  গন্ধে, আকুল হয়ে; হারামী  পুরুষ !
তুই প্রেমের মায়া জাল
ফেলে, রঙ্গিন  স্বপ্নের জাল বুনে,
ফুলের সারা শরীরে আদরের
বন্যায়, বন্য ভয়ঙ্কর তোর কঠিন
পৌরুষের আঘাতে আঘাতে,
ফুলের মতন নারীর পেলব শরীর
থেকে খুবলে খেলি  একে  একে
চোখ  ঠোঁট,  স্তন, নাভীমূল, মাতৃ যোনী; 
হায় ! পুরুষ যে দ্বারে তোর জন্ম,
ঐ খানেই তোর মরন ! জোয়ান মরোদ
গায়ে গতরে খেটে  মানব জমীন
চাষ  করে, সাজানো তোর  বাগানে
শত ফুল বিকশিত  কর, নইলে তুই
দোজখের  আগুনে, নরকে  ফুটন্ত তেলে পুড়বি,
ভয়  হয় না তোর ?
ওপরওয়ালার  ভয়াবহ  মারে -
এডসে  রোগে বা  পক্ষাঘাতে-
পঙ্গু  হয়ে বিছানায়
শুয়ে ঈ শ্বরকে  হাজার ডাকলেও 
তিনি  মুখ  ফিরিয়ে  থাকবেন,
নারী যিনি, সৃস্টির অধীশ্বরী ! 
ভগবতী যার  স্তন দুগ্ধে  শিশুর মরণ বাঁচন;
তাকে ধর্ষন
ভালোবাসা  ছলনায়, 
জানি, খলের  ছলের  অভাব হয় না কখন,
নারীর  সৌন্দর্য  নিয়ে  এক গঙ্গা  লিখলি পদ্য 
ঐ পদ্য  কবিতার  ঝোলা
ঐ  খালের  জলে ফেলে দিয়ে; 
ঝরা  ফুলে  মালা গেঁথে দেবীর  রাঙা  চরণে
দিয়ে নতজানু  হয়ে 
প্রনাম  করে  ক্ষমা ভিক্ষা  কর !
খামখেয়ালী পুরুষ
তুই  কী  হারালি, 
ফুলের  মতন  নারীর  মন,
বোকা  হাবা, সব খোয়ালী।
এখন  শুধুই  আঁধার  রাতে
আকাশের  ঐ  তারাদের  সাথে,  বিনিদ্রায়
একা  একা  পাগলা  তুই  ফুলের  সুবাসে 
ফুলের  গান  গা। " ফুলে  ফুলে
দেলে দোলে "  ফুল !
তোমায়  আমি  ভীষণ  ভালোবাসি"!

Saturday, 1 July 2017

ভালোবাসায় আছি ভেসে আছি

ভালোবাসায়  আছি ভেসে         (আমার নাতনী কে উৎসর্গিত)

শ্যামল  সোম

নীল হ্রদের গভীর জলে
আবগাহনে
কখন বা ঐ সুনীল
সমুদ্রের ঢেউয়ের
সাথে ভাসি অমলিন 
প্রেমের আলিঙ্গনে।
অতীত যৌবনে আমি
অথই সমুদ্রের তীরে
ভেসে আসা বালুচরে
বেঁধেছিলেম সে ঘর,
নিয়ত হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
তোমার কাব্যিক স্বর।
কখন চোখের কটাক্ষে
ডেকেছো দিয়ে হাতছানি
কাছে এসে হাতে রেখেছি
হাত উন্মূখ মন শ্রাবণী।
ভালোবেসে ভেসে গেছি
দুরে তোমার হতে দুরে,
আজও আমার হৃদয়ের
স্পন্দনে গহীন গহ্বরে।
ভালোবাসার ঢেউ প্রচন্ড
শব্দে আচড়ে পড়ে;
তোমার ভালোবাসায়
ভেসে আছি আজীবন!

মৌমিতা তোমার ভালোবাসায় ভেসে আছি

তারিখ  1 - 7 -- 17

মৌমিতা তোমার ভালোবাসায় ভেসে আছি

শ্যামল সোম

মৌমিতা তুমিই আমার  মনের গহীন অরণ্যে
চিরন্তন ফুটে থাকা আদরের যূঁই ফুলের ঘ্রাণ,
সৌরভের মোহাচ্ছন্ন বিমোহিত বিমুগ্ধ প্রেমে।
বৃষ্টি ভেজা আকাশে গোধূলির রঙে রাঙানো 
আজও স্মৃতি তাড়িত জরাগ্রস্ত বৃদ্ধের জীবনে
শেষ লগ্নে এ আমার অকপট সত্য স্বীকারউক্তি 
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যিই তুমিই আমার প্রথম প্রেম।
পরস্পরের শরীরের ঘ্রাণ পাই বৃষ্টিস্নাত প্রেম শ্রাবণের  
বাতাসে কদমফুল ফুটে উঠল এক কি সেই প্রেমের ফুল,
যদিও আমরা পরস্পরের কাছাকাছি নেই সম্পর্কের ভুল
হওয়া বা ঘটা অসম্ভব, বাতাস কানে কানে গেল সে বলে
কালরাতে অতর্কিতে বিদেশের মাটিতে আততায়ীর হাতে
নৃশংস ভাবে নিহত হয়েছো, শুনে স্তম্ভিত শোকাচ্ছন্ন মুহ্যমান
শোকার্ত অশান্ত হৃদয়ে অশ্রুপাত বুকের ভেতর প্রেমের জলপ্রপাত।

Friday, 30 June 2017

পাগলা মনটারে তুই বাঁধ

সুস্বাগতম সুপ্রভাত কল্যান হোক সবার।

পাগলা মনটারে তুই বাঁধ

শ্যামল সোম

মেঘলা দিনে, রইলি পড়ে,
ঘরের কোনে একলাই ,
এখন  তুই কাঁদ।
বিছিয়ে আছে বিশ্বজোড়া
মরণ জালের  মায়ার ফাঁদ।
কেঁদে কেঁদে নয়ন জলে,
চরণ তাঁর  ধুইয়ে দে-রে,
ছেড়ে কামিনী কাঞ্চন, 
স্মরণ নে রে প্রভুর চরণ।
মনের যত বাসনা ছিল ও -
যে কেবল মায়ার রঙিন রঙ
সঙ্গী  হীন ফানুসের মতন
আসমানে উড়ল হবে?
তোকে যখন যেতেই হবে।
তোর দিন ফুরলো, ও মন,
এবার সাঙ্গ হলো এ ভুবন
জীবনের তোর সকল খেলা।
বৃথা কাজেই সময় গেলো,
ঐ অলসতায়, শুয়ে,বসে
আজীবন কাটলো সারাবেলা।
এখন এই যাওয়ার বেলায়,
করিস কেন ছল, ছল করে তুই একে
একে মনের মানুষ খুজতে গেলি, 
শহর গ্রামে হেথায় হোথায়,
ঘুরে ঘুরে একা একা ফিরলি কত,
বিদেশী মুসাফিরের মত।
প্রভুর কৃপায় পেলি মন্ত্র,
সেই সে বানী, তাও খোয়ালি,
এখন জ্বলে পুড়ে পোড়া গাছের শরীরে,
সকল পাতাই গেছে ঝরে।
ফুল ফোঁটে না, পোড়া গাছের ডালে
দোল খায় না পাখী,
ঐ যে বহিছে নদী, সেই নদীর
তীরেই শ্মশান, জ্বলছে চিতা।
উড়ছে ছাই, ডাকছে নদী,
তুই নদীর ডাকে, শক্ত করে মনকে
বেঁধে, ঐ নদীর জলে ডুবে
চলরে ভেসে নদীকে ভালোবাসে।
পাগলা তোর ঐ লালায়িত লালসা,
কামনায় ভোগের ভাবনায়,
দে দে ওরে আগুন জ্বেলে দে।

অপরিচিতা আজ তুমি

অপরিচিতা আজ তুমি

শ্যামল সোম

কালের বহমান  স্রোতে অতলে
দূরে কীর্তন খোলার নদীর জলে,
আজও চুয়াত্তর বছরের বৃদ্ধের
হৃদয়ের আকাশ তুমিই ধ্রুব তারা।
প্রথম প্রেম তোমার সলজ্জ চোখে
চোখ পড়তেই ভূমিকম্প স্পন্দন
আলোড়িত পরস্পরের দুজনার
মন, গোধূলির রঙের আকাশে নীচে,
তারপর ভালোবাসায় ভেসে যাওয়া।
আজ ঢাকায় চোখ হঠাৎই গ্রন্থ মেলায়
সিল্কের  আসমানী শাড়ি লাল ব্লাউজ
পরনে মাথায় লালগোলাপ ফুলের মুকুট
অপরূপ সাজে জয়া যুবকের বাহু লগ্না।
বন্ধুদের সাথে বাংলা একাডেমীর পথে
যেতে যেতে অচমকা তোমাকে এতদিন
পরে দেখে বিমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
তুমি না দেখার ভানে এক পলকে দেখে
হাসতে হাসতে চলে গেলে দৃষ্টির বাহিরে।

Tuesday, 27 June 2017

পাগলা মনটারে তুই বাঁধ


পাগলা মনটারে তুই বাঁধ

শ্যামল সোম

মেঘলা দিনে, রইলি পড়ে,
ঘরের কোনে একলাই পড়ে, এখন  তুই কাঁদ।
বিছিয়ে আছে বিশ্ব জোড়া জালের  মায়ার ফাঁদ।
কেঁদে কেঁদে নয়ন জলে, চরণ তাঁর  ধুইয়ে দে-রে,
ছেড়ে কামিনী কাঞ্চন,  স্মরণ নে রে প্রভুর চরণ।
মনের যত বাসনা ছিল ও -যে কেবল মায়ার রঙিন
সঙ্গিন ফানুসের মত আসমানে উড়লি হবে?
যখন যেতেই হবে।
তোর দিন ফুরলো, ও মন, এবার সাঙ্গ হলো তোর সকল খেলা
বৃথা কাজে সময় গেলো, ঐ অলসতায়, শুয়ে,বসে কাটলো বেলা।
এখন এই যাওয়ার বেলায়, করিস কেন ছল, ছল করে তুই একে
একে মনের মানুষ খুজতে গেলে,  শহর গ্রামে হেথায় হোথায়,
ঘুরে ঘুরে একা একা ফিরলি কত, বিদেশী মুসাফিরের মত।
প্রভুর কৃপায় পেলি মন্ত্র, সেই সে বানী, তাও খোয়ালি, এখন,
জ্বলে পুড়ে পোড়া গাছের শরীরে, সকল পাতাই গেছে ঝরে।
ফুল ফোঁটে না, পোড়া গাছের ডালে দোল খায় না পাখী,
ঐ যে বহিছে নদী, সেই নদীর তীরেই শ্মশান, জ্বলছে চিতা।
উড়ছে ছাই, ডাকছে নদী, তুই নদীর ডাকে, শক্ত করে মনকে
বেঁধে, ঐ নদীর জলে ডুবে চলরে ভেসে নদীকে ভালোবাসে।
পাগলা তোর ঐ লালায়িত লালসা, ভোগের ভাবনায়, দে দে
ওরে আগুন জ্বেলে দে।