Sunday, 2 December 2018

ভোরের শিশির ভেজা ভালোবাসার রূপকথা

ভোরের শিশির ভেজা ভালোবাসার রূপকথা

শ্যামল সোম

সূর্যোদ্বোয়ের প্রথম আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে রূপালি আকাশ, দোতলা বাড়ি
বাগান সংলগ্ন  পদ্মা নদীর কাছেই এই এলাকা বহিছে বাতাস জমছে মেঘ মেঘের গর্জনে
ঘুম থেকে উঠে পড়েন কবি সাগর সারা বিশ্ব, ভারতে কোলকাতায় ও বাংলাদেশের তাঁর সঙ্গ
বহু নারীর আকাঙ্খায় পাঠিকা থেকে প্রেমে পড়ে কাব্য পাঠে প্রেমিকা হয়ে যায় হৃদয়ে
বহুজনের বাস, তাই পঁয়তাল্লিশ বছরেও আর্থিক সামাজিক প্রতিষ্ঠিত, সৌম্যকান্তি দেবদূত
ঈষত্ শ্যাম বর্ণ ধারালো তলোয়ার মতন চেহারা স্বপ্নময় তন্ময়তা চোখ, সুন্দর মনের মানুষ
অনেকের অনুপ্রেরণা জাগাণ কবি, কবির নারীসঙ্গ সুরাপান, কাব্য মাধুর্যে শৈল্পিক ছন্দময়
চিত্রকল্প আত্মমগ্ন মমনে চিন্তনে, শব্দ চয়নে বাক্য বিন্যাসে কাব্যিক নান্দনিক অসংখ্য কাব্য
গ্রন্থ, উপন্যাস সমগ্র নানাবিধ প্রবন্ধ রচনা করেছেন, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সময়ের অভাব।

গত বছর দিনাজপুরে বিশাল সাহিত্য সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আঞ্চলিক ভাষায়
কিংবদন্তি শক্তিরূপে কবিদের কবিতা আলোচনা করেন।
কবি সাগর  বাংলাদেশের স্নামধন্য বিখ্যাত কবিকে সংবর্ধনা দেন অনুরাগীরা,  কবির
নূতন কাব্য গ্রন্থ " ভালোবাসা দখিন বাতাস " গ্রন্থটি কবি স্বয়ং প্রকাশের শুভ মূহুর্তে তিনি
বিহ্বল হয়ে যান, এ যেন কবিতার সাথে আনন্দে বিবাহ বহির্ভূত  বন্ধনে আবদ্ধ থাকার এই
শিহরণ হতে থাকা, নিজস্ব  তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নানা বাঁধা বন্ধনের সম্মুখীন হতে রাজি নন।
ইংরাজি সাহিত্যের প্রিয় অধ্যাপক  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা কলেজের
কয়েক জন ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে থাকেন  সবাই,

কবি একাই বসে আছেন সভায় বিরতি পর্বে দেখেন এগিয়ে আসছে
এক নদী জনৈকা যুবতী তন্বী তরুণী বিদূৎপর্ণা, বিদুষী নারী না নদী রূপসা না সোমেশ্বরী
উচ্ছল মেঘ বালিকা সুলভ সরলতা মায়াবী চোখ লম্বা খোলা চুল স্বর্ণচাঁপা রঙ গায়ের যূঁই ফুলের ঘ্রাণ
মেরুনরঙের টাঙ্গাইল তসরের শাড়ি হাতে রজনীগন্ধা ফুলের গুচ্ছ ও সদ্য প্রকাশিত কবির কাব্য গ্রন্থ
নমস্কার করে নারী কবিকে শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানিয়ে উপহার রজনীগন্ধা ফুল ও গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন।
পাশে বসিয়ে শুনলেন শ্রাবণী পূর্ণিমা রাতে জোছনায় জন্ম তাই নাম তার শ্রাবণী কবি সাগর শুনতে শুনতে
লিখছেন, " শ্রাবণী পূর্ণিমায় এক নদীর সাথে দেখা বললাম নদী তুমি তো জীবন্ত কবিতা "
" ভালোবাসা সহ তোমার সাগর " লিখে মেয়েটির হাতে তুলে গিয়ে দেখেন শ্রাবণী দু চোখে টলটল করছে জল।
পিঠ চাপড়ে দিয়ে  না টিসু পেপার তার সাগর লেখা রুমাল  এগিয়ে দিলেন
সেই রুমাল দিয়ে  চোখে চাপা দিয়ে, শ্রাবণী কবির রুমাল নিয়ে মাথা নিচু করে চলে গেলেন নারী।

গত একবছর ছায়ার মতন যে আছে আপন প্রাণের মানুষ পেয়েছেন কবি, তাঁরে কবির মন ছুঁয়ে যায় কত গত এক বছরের স্মৃতি রোমন্থনে সমুদ্র ঢেউ আছড়ে পড়ে বুকে গভীরে নদীর ছলাৎ ছলাৎ শব্দ শোনেন গত রাতে জানিয়েছেন,

" আমি তোমার শ্রাবণী আসছি বারবার ফিরে যাওয়ার জন্য নয়, স্থায়ী ভাব বসবাস করবো বিবাহ করার দায়িত্ব তোমার !"

বাড়ির গোল বারান্দায় বসে কফি পান করতে ভাবছিলেন কবি সাগর।

ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে ঝড়ের তাণ্ডবে মানত উচ্ছাসে উড়ছে আঁচল বৃষ্টি স্নাত এক গোছা
রজনীগন্ধা ফুলের মতন স্নিগ্ধ মনে প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে তাকিয়ে রয়েছে প্রেম শ্রাবণী !
সাগর ডাক শুনে যুবকের মতন ছুটে যান, শ্রাবণী  দু হাতে  দুটো ব্যাগ ফেলে ছুটে আসছে
নদীর বন্যা মতন প্রবল উচ্ছাসে কবিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন নারী শ্রাবণী  নামে নদী নেই,
আলিঙ্গনে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ভাবছেন কবি শ্রাবণী নামে নদী কেন  নেই?

Friday, 30 November 2018

ছুটতে ছুটতে আমি ক্লান্ত

ছুটতে ছুটতে  আমি ক্লান্ত প্রাণ এক

শ্যামল সোম

অতি বড় গুছুনি সে না পায় ঘর
অতি বড় সুন্দরী যে না পায় বর।
ঘর দোর সাজিয়ে গুছিয় রাখা,
বাপের সংসারে মা মাসি এত শাখা
প্রশাখা হাত বাড়িয়ে টেনে আদর
আদরে অস্থির চঞ্চল হরিণী ভাদর
কুকুর গুলো  ঐ অল্প বয়েসে চাদর
চাপা দিয়ে দম বন্ধ হয়ে কেঁদে উঠি।
সেই যে শৈশবেই কান্না হলো শুরু,
স্কুলে পার্কে মেলার ভীড়ে দুরু দুরু
বুকে হাহাকার হাহুহুতাশ খাঁ খাঁ শুষ্ক
কৈশোরে লাঞ্ছনা নির্যাতন পশুমনস্ক
মুখে আই লভ ইউ বলে সব লুটেরা।
কলেজে পড়ার সময় ভালো লাগল
তাকে বয়সে বড় সুপুরুষ সুমিষ্ট স্বর
চোখের পাতায় চুমু খেতে খেতে বলে
" তোমার মায়াবী চোখে সমুদ্রের ঝড়
সেদিন গোধূলি লগ্নে প্রথম তোমাকে
দেখেই পড়ে গেছি এএক নদী গভীরে
প্রেমে উদভ্রান্ত বন্য উদ্দাম নৃত্য আনন্দে
সেই ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে ছুটে
ছুটতে ছুটতে এসে  ট্রেনে উঠলাম চলেছি
অজানা অচেনা কত শত মানুষের চলেছি
শহর থেকে শহরে এ বন্দরে বিপন্ন জীবন।

বিনিদ্র রাত জাগে তারাদের সাথে নারীর মননে কথন

বিনিদ্র রাত তারাদের সাথে  নারী মনের কথন

শ্যামল সোম

আমার এ চোখের পানিতে দিয়ছি বাঁধ,
যৌবনের আগেই ঘুচেছে সখ আহ্লাদ।
কাক ডাকা ভোরে ঘুম চোখেই নিয়ে ঝাঁটা
খক খক কেসে শাশুড়ির গালি দেন কাঁটা-
হয়ে থাকি ভয়  ভয়ে স্বামী ঘুম থেকে উঠে,
এসে চুলের মুঠি ধরেন যখন গলার টুটি
টিপে ধরলে চোখে দেখি সরেস হলুদ ফুল,
বাপ কৈশোরে আপদ বিদায়ী এ বিয়ের ভুল।
পনের বছরে বিয়ে পর থেকেই গাভিন হলাম
পাঁচ বাচ্চা দুটো গেল মরে,খাটুনিতে বেসামাল।
পান থেকে চুন ঘসলে বিছানায় শুয়ে ঘুমলে
ডান্ডা উঁচিয় তেড়ে এলো দাঁতাল শুয়োরের হুল,
চাঁদের আলোয় চিত করে ফেলে উৎখাত মূল।
বেদনায় ডাক ছেড়ে কাঁদবো তার ও উপায় নেই
কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ভয়ে সেই,
থেকেই লেখালেখি শুরু তাও সে ছদ্ম নাম আশা,
উঠোনে এসেই দেখি আমার এক টুকরো আকাশ,
জ্যোৎস্নায় আলোয় থৈ থৈ উঠোনে সনসন বাতাস,
নিভৃতে গোপনে লিখি আমার মনের কথন প্রকাশ,
আমার বুকের মাঝে ব্যথা বেদনা তবু ভালোবাসা।

স্বপ্নময় সূর্যোদ্বোয়ের ভোরে

স্বপ্নময়  সূর্যোদ্বয়ের ভোরে

শ্যামল সোম

অলকানন্দা মন্দাকিনীর
সঙ্গম স্থলে কর্ণপ্রয়াগে,
প্রাতে তোমাকে মানস নেত্রে
স্বপ্নে স্বর্ণ স্তনে শব্দের
চুম্বনে চুম্বনে রক্তাক্ত ঠোঁট,
রক্ত ঝরছে কাব্য পাঠে
শিশির ভেজা উষ্ণ শয্যায়।
কবিতার সাথে আশৈশব প্রেম,
" জল পড়ে, পাতা নড়ে " !
ছন্দে অছন্দের বাহুল্য হীন।
আমি বেকুবের মতন কবিতা
তোমাকে গভীর আলিঙ্গনে
জড়িয়ে ধরে আদরে
আদরে, কাব্যিক এ মন
তোলে তুফান কবিতার
উত্তপ্ত দেহে করে লেহণ।
পৌরুষ  উড্ডীন অহংকারে
প্রোথিত বৃক্ষের চারা শুকায়।
অতৃপ্ত কবিতার চাপা কান্না
প্রতিধ্বনি শুনি নপুংসক হৃদয়ে।
শব্দের লহরী স্রোতে বহমান
যৌনবতীদের আমন্ত্রণে বিনম্র
প্রত্যাখান এ ক্রুদ্ধ নারীদের
উন্মুক্ত বসনে নগ্ন যৌন
আক্রমনে সমবেত প্রয়োগে
কবিতার ধর্ষনে বিহ্বল 
নিষ্ফল লিখন প্রয়াস।
অরণ্যে  পদ্ম যোনিতে
বিশৃঙ্খল বাক্যের
বিন্যাসে অক্ষরের বীর্য
পাতে অলকানন্দা স্রোতে  
ভাসে স্ফূর্তির অস্ফুট কাব্যের ভ্রূণ।

আজ চলেছে সতীদাহ

আজ চলেছে সতীদাহ

শ্যামল সোম

বিবাহের আগে পরে দাও দাও যৌতুক পণ,
দেখে শুনে হলে আগে প্রেমের প্রলয় প্লাবন,
প্রেমের সুবাস ঠিক রজনীগন্ধা ফুলের মতন।
বাসি ফুল কে রাখতে চায় রঙিন সখের ঘরে
সাজানো সংসারে নিত্য নতুন বউ, এ যদি মরে।
চালাও প্রহার নির্যাতন লাঞ্ছনা প্রবঞ্চনা প্রতারণা
যতদিন না করে সোনামণি ফুলবানু না আত্মহনন।
শিক্ষিত অশিক্ষিত গ্রাম্য নারী শহরে বিদূষী প্রেয়াসী
সদা জাগ্রত নারী কল্যাণ স্বাধিকার আদায়ে সাহসী
সাহসিকতা নারীর নজির নেই, বঁধু হত্যা নারী প্রলয়,
ঝড়ের কবলে ভালোবাসার ভুলের মাসুল দেয়  নির্দয়।
মর্ম স্পর্শকাতর মন মানসিক ভাবে মৃত্ সে এ  জীবনে
নারীর জীবন যন্ত্রনা  স্বপ্ন প্রেমে হারিয়ে মৃত্যুর আলিঙ্গনে
অপমানে অবহেলায় অপেক্ষায় রয়েছে কাব্য এই প্রাঙ্গণে।
দেশে দেশে  কত শত আইন সাংবিধানিক অধিকার নারী
কত কমিটি  সুরক্ষা কন্যা  সন্তান  আগামী কালের স্নেহময়ী
একবিংশে  জননী সেই জননী, বঁধু হত্যা কি সতীদাহ মৃন্ময়ী ,
মন্দিরে চিন্ময়ী  সতী মাতা পূজিতা আজ নারী শিশু ধর্ষিতা ,
আগুনে পুড়িয়ে মারার নানা কৌশলে কত সব পারদর্শিতা।
সাম্প্রতিক সামাজিক অবক্ষয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ
গড়ে তুলতে হবে, এ আমাদের সামাজিক দায় দায়িত্ব বোধ।

Friday, 23 November 2018

ভালোবাসার চেনা অচেনা মানুষ

ভালোবাসার চেনা অচেনা মানুষ

শ্যামল সোম

দাদুর আশীর্বাদে রুপোর থালা বাটিতে মানিক ভট্টাচার্য মুখে ভাত হয়েছিল, নিষ্ঠাবান পরম বৈষ্ণব গুরু বংশে জন্ম ।

হুগলি আরাম বাগে বিশাল জমিদারি তিন মোহলা বিশাল বাড়ি এই বাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুর বাগান এক ধার বাগানের ভেতরে

রাধা মানবের মন্দির । হাজারো মানুষের ভীড় লেগে যায় শ্রী কৃষ্ণ এর জন্ম অষ্টমী  বিশাল অনুষ্ঠানে বহু শিষ্য  শিষ্যা

সমাগম হয়। রাতে পালা গান নৌকা বিলাস, শ্রী রাধীকার মানভঞ্জন, গালা গাইতে এসেছেন নবদ্বীপ এর বিখ্যাত

স্নামধন্যা বৈষ্ণবী বিষ্ণুপ্রিয়া লাবণ্যময়ী যুবতী অসাধারণ সুমিষ্ট গলায় ফুলের গয়নায় স্বয়ং রাধারানি সেজে

পদাবলী কীতৃন পালা গান শ্রীমতীর মানভঞ্জন গান গাওয়া চলছে।

কিন্তু প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে প্রাণ মন কেঁড়ে নিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ রাধারানি অথচ একমাত্র এ বংশের শেষ একমাত্র

পুত্র সন্তান অসম্ভব ভালো পড়া শোনায়  কোলককতার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি এস ও নিউরো সার্জারি

এম এস পাশ করেই  আর  জি কর হাসপাতালে কাজ করছে।

ফতেমা সঙ্গেই আলাপ হওয়ার পর থেকেই ফতেমা সহমর্মিতা সহানুভূতি শীলা অসাধারণ ভালোবাসায়--

দুজনে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সময় ফাতেমা হক মিতালির   প্রেমে পড়ে যায়।

মানিক ভট্টাচার্য খবর পেয়েছেন মহান প্রভু শ্রীকৃষ্ণ এই জন্মদিনে জন্ম অষ্টমী দিনেই  পার্ক সার্কাস

এক বিশাল বাড়িতে ফতেমা অরফে মিতালি বিয়ে করতে আসছেন মানিক ভট্টাচার্য একমাত্র পুত্র দিলীপ ভট্টাচার্য,

নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারের একজন বংশের  নাতি স্বর্গে বাতি দেবেন কিন্তু নূতন পরিচয় নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবার

থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এখন লতিফ সিদ্দিকী দুলাহ বর  সেজে এসেছে ইমাম সাহেব  বিবাহ কবুল দিয়ে বিবাহ হলো খাতায় কবুলনামা লেখা হলো।

লতিফ এবার ফতেমাকে নিয়ে চলে যাবে তার দুই হাজার স্কোয়ার ফিটের Intiar Desingner দিয়ে সুনদর  সাজানো Flat এ Slat Lake এ।

বছর কড়ি পড়ে মানিক ভট্টাচার্য  যখন জীবনের শেষ অধ্যায় এসে বিধ্বস্ত লিভার ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত মরণ শিয়রে দাঁড়িয়েছে।
হঠাৎ বৃন্দাবন থেকে এসেছেন নিজের একমাত্র পুত্র দিলীপ ভট্টাচার্য ধর্মান্তরিত হয়ে এখন লতিফ সিদ্দিকী ও

বৌমা ফতেমা ও এষা সিদ্দিকী শেষবারের মতন দেখতে মরণকালে মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রক্তের অমোক টানে এসেছেন বৃন্দাবন থেকে ।

জাতের উদ্ধৃত  উর্ধে কি আত্মজ সন্তান ?

( দিলীপ ভট্টাচার্য থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ার নাম ছিলো লতিফ সিদ্দিকী  --- --

বৌমা ফতেমা  নামাযপাটি  বিছিয়ে সন্ধ্যা কালিনন নামায পাঠ করছিলেন । নামায পাঠ শেষ করে, হঠাৎ
মানিক ভট্টাচার্য  ফতেমা তার শ্বশুর মশাইয়ের কাজে মহিলার সাথে কথা বলার আওয়াজ পেয়ে বাহিরের ঘরে এসে এত বছর পর
শ্বশুর  মশাই সামনে দেখে বিহ্বল হয়ে যায়।

কে কে যাই ! ( আজ বিশ বছর পরে হঠাৎ শ্বশুর মশাই দেখে হতবাক ) আববু জান বাবা বাবা বাবা ( কাঁদতে কাঁদতে  চোখের জল ফেলে। )

বার বার দেখা করে ক্ষমা চাইতে যাওয়া সেই বিরল মূহুর্তে কথা মনে পড়ে যায়, উনি ফিরেয়ে দিয়ে ছিলেন ওঁনার পায়ের তলায় লুটিয়ে পড়েও )

মানিক ভট্টাচার্য  ( ধর্ম নিষ্ঠ বিলক্ষণ বৈষ্ণব  ব্রজ ধাম বৃন্দাবন  থেকে বিশ বছর পর আজ দেখা করতে এসেছেন।

বহু বছর আগে  একমাত্র মাতৃহারা পুত্র  সন্তান দিলীপ ভট্টাচার্য যাকে খুব যত্ন করে

অল্প বয়সে বিপত্নীক হওয়ার পরও বিবাহ করেন নাই, মাতৃ স্নেহে  মানুষ করেছেন মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি

পড়িছেন, পরে ঐ কলেজে ছাত্রী মুসলিম কন্যাকে বিয়ে করে দিলীপ ভট্টাচার্য থেকে  লতিফ সিদ্দিকী

এর প্রেমে পড়ে বাবার অমতে বিয়ে দিলীপ ভট্টাচার্য সিনিয়র  নিউরো সার্জন ভীষন ভালো ছাত্র এখন  এই লতিফ সিদ্দিকী হয়ে ফতেমাকে, বিবাহ করার জন্য ছেলের  সাথে সম্পর্ক রাখেন নি )

ফতেমা মিতালি নিয়ে দিলীপ বহুবার গিয়েছিল, তিনি সব সময়ই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

" বাবা বাবা এত দিন পরে এলে, কতবার গেছি আপনার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছো দেখা করো নি,
আমি মুসলিম ধর্মান্তরিত হয়ে আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করার জন্য আপনি ভীষণ রেগে গেছিলেন !

মানিক ভট্টাচার্য -- " আমার এখন আর সময় নেই মা মাগো আমাকে ক্ষমা কর ! ধর্ম নিয়েই আজ আছি পরম বৈষ্ণব আমি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু স্বপ্নে  দেখা দিয়ে বলছেন সকল ধর্ম সমান, যত মত তত পথ।
গীতার কথা সকল ধর্ম এর ইস্ট পূজিত হই আমি মহান স্রষ্টা প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণ  হোক তোদের।

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান মহাপ্রভু বিধর্মী হরিদাস পরম ভক্ত ছিলেন।

আজ আমি লিভার ক্যান্সার  রোগে আক্রান্ত হয়ে আছি মুম্বাই টাটা  মেমোরিয়াল এর ডাঃ এস এম নাজমুল

হক বলে দিয়েছেন আর একমাস আয়ু, মা লিভার ক্যান্সার মারা যাবো। জীবনে চা মদ সিকরেট খেলাম না।

অথচ আমি লিভার ক্যান্সার মারা যাবো।

মিতালি --- না না এভাবে বলো না আমি আপনার জনয দোয়া করবো, আলাদা করে নামায পড়বে খোদা মেহেবান সব ঠিক হয়ে যাবে, বাবা ।

মানিক ভট্টাচার্য--- মিতালি ও এখন তুই তো ফতেমা ! আমি চলে যাবো বাহিরে বিকাশ গাড়িতে অপেক্ষা করছে আমাকে বৃন্দাবনে রাতের ট্রেনে নিয়ে যাবে !

ফতেমা মিতালি ---  ওহ্ বিকাশ বুঝি দেখা করবে না, বিকাশ আমাদের দুজনের প্রিয় বন্ধু ছিলো, কিন্তু আমার
আর আপনার ছেলের বিবাহ মেনে নিতে পারে না।

মানিক ভট্টাচার্য--- না না তা কেন যা না তুই গিয়ে ডেকে নিয়ে আয় বিকাশ নিশ্চয়ই আসবে।

বিকাশ  অত বড় বিশাল কোম্পানি I.B.M.চাকরি করতো, যাদবপুরের  PASS OUT তার পর STATES

MASACHUST  UNIVERSITY PROFESSOR সব ছেড়ে চলে এলো আমাদের

বৃন্দাবনে আশ্রমে  মঠে জয়েন করলো  বিকাশ জোর করে আমার মরা

আগে তোদের সাথে দেখা করাতে নিয়ে এলো।

তা হাঁরে আমার নাতনি  ইশা সিদ্দিকি  নাতনি কোথায় সে মা ?

বাবা আমি যাই বিকাশকে ডেকে আনি নাতনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি গান শোনেন ! মিতালি চলে যায়  বাহিরে।

Back ground গান মহিলা কন্ঠে কৃষ্ণ ভজনের সাথে তালে তালে মানিক ভট্টাচার্য এর নাতনি অপরূপ সাজে

ইশা রাধা সেজে ঘাগড়া পড়ে গানে তালে তালে নাচছে।

নেপথ্যে পারভিন সুলতানা গলায় মীরার ভজন " অব গুনচিত ন  ধরো চায়ে তো পার করো ! "

মানিক ভট্টাচার্য  আপন হৃঢ় চেতন চৈতনবোধে ভালোবাসায়  দু চোখ বহে যায় অশ্রু নদী

Wednesday, 21 November 2018

আকাশ পথে দেখা

আকাশ পথে দেখা

শ্যামল সোম

লন্ডন হিথরো  বিমানবন্দর মিলিকে দেখেছিলাম  বছর দশেক পরে আশ্চর্য , মেদ বিহীন
স্বাস্থ্য কোমর পেট ছিপছিপে,এখন যৌবন সর্বাঙ্গে তন্বী তরুণী উচ্ছল প্লেন ঢুকে Excicutip
Class কাছে এগিয়ে এসে জড়িয়ে  ধরলো মিলি  তন্বী তরুণী উচ্ছাসে ভেসে গেলো,
" সোম তুই বুড়ো হয়ে গেলি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সেই, আমি  কেমন আছি দেখ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে
দশ বছর আগে আমাকে দেখেছিলি "

" মিলি তুই চির যৌবনা উর্বশী রূপসী যখন দেখি প্রেমে পড়ে যাই। "

ইউ  Hipocrate Layer সোম আজও মনে আছে Marriage  Registere  অফিসে যাদবপুরের বন্ধু বান্ধবীদের
পাঁচ ঘন্টা তোর জন্য মালা নিয়ে প্রথম বেনারসি শাড়ি পড়ে অপেক্ষায় রয়েছি সবাই কত জমা করছে, শেষে
মজা দুচোখে নদী বহে যাবে ভাবতে পারিনিরে আজও জানি না কি হয়েছিল সোম ?