Wednesday, 20 December 2017

শীতার্ত রাতে হাহাকার

শীতার্ত রাতে হাহাকার

শ্যামল সোম

একা একাই কাঁদি
বিনিদ্র রাত জাগে
মন ঐ তারাদের
সাথে, তারা মণ্ডলে
রাতের আকাশে,
তুমি নক্ষত্র জ্বলে
তুমি অরুন্ধতী।
তুমি চলে গেছো
অজানা সীমানায়--
ফেরা কি কখন যায়?
নন্দিনী এসো ফিরে
এসো এই নির্জন রাতে।
আকাশে বাতাসে
পৌষে শস্য শ্যামলা
মাটির ঘ্রাণ ভেসে
আসে নবান্ন উৎসবে।
তোমার ভালোবাসার
স্রোতে আজও ভাসে
মমনের ব্যথিত ব্যথা
ব্যাকুল ফিরে পেতে চায়।
অকৃপণ প্রকৃতির সাথে
সহবাসের শীতার্ত রাত
শিহরিত হয়েছিলাম
তোমার আলিঙ্গনে
তাপিত চুম্বনে চুম্বন।
সুখ স্মৃতি মনে পড়ে
যায় আমার হৃদয়ে
শূন্য অপূর্ণ সাধ জাগে
শীতার্ত রাতে উষ্ণতা
খোঁজে তপ্ত শরীর
আজ কাছে তুমি নেই,
বালিস ভিজে যায়
বহে দুচোখে অশ্রু নীর।

তুমি আমার স্বপ্নে র কবিতা স্বপ্না

তুমি আমার স্বপ্নের কবিতা স্বপ্না

শ্যামল সোম

স্বপ্না তোমার তুলনা তুমিই
আমার কাব্যের দেবী,
স্বপ্নের জ্যোৎস্নায় পরী
শব্দ চয়নে ছন্দে ধ্বনি
শুনি ঐ পায়ের নূপুরের
গুঞ্জন অভিসারএ এলে
নৃত্যের তালে তালে তন্বী
তোমার হাত ধরেই চলি
পলাশ বিছানো এ পথে।
কাব্যের কৃষ্ণচূড়ার ডালে
লালে লাল রক্তিম ঐ মুখে
তোমার ঐ আড় চোখের হাসি
তুমিই আমার আদরের সর্বনাশী।

Friday, 1 December 2017

বাংলাদেশের নিমন্ত্রণ -- মোঃ দেলোয়ার হোসেন

কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি শতসহস্র মুক্তি যুদ্ধের ভাষা
সৈনিকদের  ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর
সেনানীদের পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের  আত্মা
শান্তি কামনা করি প্রতি বছর শহীদ মিনারে।

শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করছি আপনাদের আমন্ত্রণে
প্রতি বছরে একুশে কবিতা উৎসবে বিভিন্ন জেলায় ও ঢাকার
কবিতা পাঠ  ও সাহিত্যের আলোচনা সভাতে নিমন্ত্রণ যাই বারে বারেে।

বাংলাদেশের বন্ধু আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।

#নিমন্ত্রণ
মোঃ দেলোয়ার হোসেন।
(পশ্চিম বঙ্গের কবি শ্যামল সোম শ্রদ্ধা ভাজনেষু)
___________________________________________

এই বাংলায় তুমি এসো ফিরে ফিরে।
ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে নেবো,
খুঁজে নিবো অসংখ্য মানুষের ভিরে।

যদি বাড়াও হাত, যদি আগাও কদমে।
আমি তোমারে ভালোবেশে বুকে টেনে নিবো,
তোমার'ই গাণ গাইবো দমে দমে।

এসো বন্ধু এই শ্যামল বাংলায় এসো।
এসো পদ্মা মেঘনা যমুনার বাংলায়,
এসো তুমি মুজিবের বাংলায় এসো।

অনুভুতির উত্তরিয় দিবো রেশমী কাপড় খাঁটি।
বসতে দিবো শ্রীহট্টের নকশি শীতল পাটি,
গরুর খাঁটি দুধ দেবো ভরে বাটি বাটি।

রাজশাহীর আম খাওয়াবো গৌরনদীর দধি।
সিরাজদিখানের পাতখিরার পাটিসাপটা খেও,
আমার গায়ে ঘুরে বেড়িও নিরবধি।

তোমায় আমি কবিতা দেবো স্বর্ণ থালা ভরি।
কবিজনে আসর বসাবো গল্প করবো,
হাসবো হাসাবো, ফুটাবো ছড়ার ফুলঝুরি।

তুমি বন্ধু আসবে ফিরে তোমার বাংলা শিকরে।
আমার সাধের সুন্দর বনে বাঘ দেখাবো,
বানর হরিন দেখাবো,নদীগুলো ভরা কুমিরে।

বান্দরবানের সাজেক ভ্যালী কাপ্তাইর হ্রদ।
আলুটিলার অন্ধকারচ্ছন্ন গুহা দেখাবো,
দেখাবো কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত।

ঢাকার শহর ঘুরাবা তোমায় টম টমে চড়ে।
পোড়াবাড়ির রসালো চমচম খাওয়াবো,
মুক্তাগাছার মন্ডা যতটা পেটে ধরে।

তোমার হাতে হাতটি রেখে মনে দেবো মন।
বুকের অয়োময়ে জড়িয়ে রাখবো তোমায়,
লহো লহো সুজন, লহো মোর নিমন্ত্রণ।

Tuesday, 28 November 2017

শ্যামল সোম এর ও বোন ঝরনার লেখা

কীর্তন খোলার নদীর বহমান উজান
স্রোতে ভাসিয়ে এসেছি প্রেম
উনিশ বাহাত্তর সালে।
তুমিই আমার বাংলাদেশের বোন
ঝর্না তুমি দেখালে ভালোবাসা স্বপন।

শ্যামল সোম

পদ্য কবিতা

20 --- 4 --17

♥♥স্বপ্নের নদী কীর্তন খোলা♥♥
       ♦ডাঃ ফারহানা আক্তার ফ্লোরা ♥

[প্রিয় কবি শ্যামল সোম যিনি বাঁশিওয়ালার নামেও পরিচিত সেই  কোলকাতার ভাইয়া  তার স্মরণে লিখা ]

যে নদী এক দিন তোমায় টেনে এনে ছিলো
বহু দূর থেকে এপার বাংলায়
আজ কেনো ভুলে যাও তুমি সেই,
ফেলে আসা ছোট্ট বেলার শৈশব কাটানো
তোমার প্রিয় ভালোবাসা ভরা এপার বাংলার ছবি।

আমি যে সেই কবে থেকে চেয়ে আছি পথ চেয়ে
আমার সেই ভালবাসার বাঁশিওয়ালা কে,
একটি বার প্রাণ ভরে দেখবো বলে
আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো কবে পাবো?

আমার স্বপ্নের সেই চিরো সবুজ স্বপ্ন বিভোর
ভালবাসার পাগল আদরের কাঙাল
সেতো ঐ পাড়ে থাকে অজানা কোন গাঁয়ে,
শুনেছিলাম বহু দিন আগে,
সে বার যখন শেষ বার কথা হয়েছিলো তার সাথে।

আজও ভুলিনি আমি তাকে ভুলবনা কোন দিন
এই দেহে যতো দিন প্রাণ থাকে,
অপেক্ষমান এই বাংলায় আছি অপেক্ষাতে
দেখি কবে দাওদেখা তোমার সেই
প্রিয় নদী কীর্তন খোলার ধারেই থাকবো দাঁড়িয়ে।

স্বপ্নের বাঁশিওয়ালা তুমি আসবে ফাল্গুনের
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম লাল নিয়ে ভরিয়ে দিবে চারদিক
প্রেমের নানান রঙে রাঙ্গাবে উৎফুল্ল চিত্তে,
তৃষ্ণার্থ চোখে তাকিয়ে দেখবে তোমার সেই কবে
ফেলে যাওয়া এপার বাংলার আদরের ঝর্ণা বোনটিকে।
স্বাগতম সুস্বাগতম সুপ্রভাতে এই বন্ধু  আপনাকে জানাই অফুরন্ত উষ্ণ অভিনন্দন।

উত্তরে আমি অনুপ্রাণিত হয়ে লিখছি আমার হারিয়ে যাওয়া ঝর্না বোনের উদ্দেশ্যে

ভালোবেসে  বাংলাদেশে

শ্যামল সোম

জননী, বোন, ভাইদের বাংলাদেশের ভালো মানুষের সাথে
আমার বাংলাদেশে বারে বারে ফিরে ফিরে আসা শিকড়ের
সন্ধানে বাংলাদেশের ভালোবাসার মানুষের খোঁজে বিভিন্ন
জেলায় জেলায় কতশত নদীর বহমান অনুপ্রেরণার স্রোতে।

এ কথা বলা অশোভন,  অন্যায়, শাস্তি যোগ্য, কিন্তু মাটির মায়া
কীর্তনখোলা, সোমেশ্বরী, শীতলক্ষা, রূপশা, মেঘনা নদীতে স্নান
নদীর বুকে অবগাহনে, রাঙামাটি, কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে
তোমাদের সাথে দল বেঁধে উনিশো বাহাত্তর সালে বনানীর সাথে
যাওয়া, না বিশ্বাস করেন মূহুর্ত জন্য মনে হয় নাই আমি বিদেশী।

আজকাল যখন যখন এপার ওপার বাংলার কবিদের ভাগ করে
দেন ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল  ঐ তেইশে ফেবরুয়ারী অনুষ্ঠানে, আমি
একটু দূরে একা বসলাম, কবিকে ভাগ করা যায় সীমান্তের শক্ত
কাঁটাতারের বেড়ার প্রাচীর তুলে ?
ভাষা,  বাংলা ভাষা সাংস্কৃতিক সঙ্গীত, জয়নাল আবেদিন, জীবনানন্দ দাশ
এপারের না ওপারের মধু পল্লী সবাই হেসে উঠলেন, মধুসূদন আমাদের।
বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে, প্রতিবাদ গর্জে বললেন, " কেন আপনি  বিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলামের  " কাণ্ডারী হুশিয়ার " কবিতা ভালো করে পড়েন নি?"
বোন,ভাই  যদি কিছু মনে না করো একটা কথা বলি দেশটি কিন্তু
ছিলো সে সময়, আজও  বাংলাদেশেকে ভালোবাসি ভীষণ।
আমার সোনা দেশ বলে ভাবি, শিকড়ের টান ছেঁড়া পাতা  নয় যে ঝরে
এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক করবে অনেকেই।
ভালোবাসায় কারুর খবরদারি আমি বরদাস্ত করব না,ভাই ও বোন।
ইদানিং চুপ করে থাকি যখন জিজ্ঞেস করেন কেউ জন্মভূমি ?
শরণার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ পাবে বোন চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগে শব্দ তুমি
বা নাতনি শুনতে পাবে অনুভবে হৃদয়ে গহীন অন্তরে অন্তরে ভিতরে বাহিরে।

Wednesday, 25 October 2017

ঝুলন ! হঠাৎই একদিন হয়তো

ঝুলন ! হঠাৎই একদিন হয়তো

শ্যামল সোম 

হঠাৎই কোন একদিন দেখা হয়ে যাবে, গোধূলির রঙে রাঙানো আকাশের তলে,

আসন্ন শীতকালীন শীতার্ত শীতল সন্ধ্যায়।

ঢাকার কোন এক রাজপথে বা ধানমন্ডির লেকের ধারে নিরবিচ্ছিন্ন নিরালায় নগ্ন 

দুপুরে, আচমকাই পরস্পরের দিকে মগ্ন নিষ্পলক দৃষ্টি, মুগ্ধ চোখে তোমাকে দেখে

মুখে মৃদু হাসি নিয়ে তাকিয়ে থাকবো আমি।

এমনই এক দুলুদ দুপুরে জগন্নাথ হল থেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দশ বছর আগে

নির্জন উদ্যানে, ফাল্গুনে  কৃষ্ণচূড়ার গাছে নিচে, পরস্পরের  হাত ধরে পরস্পরের

উষ্ণ  সান্নিধ্যে আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি কত কথা হয়েছিল বলা দুচোখে ভাষায়

গোপন কথাটি হয়ে ছিল  বলা, কথা আর গানে মরমে সে সুর, আজও বাজে।

সেই সময়  হঠাৎই বৃষ্টি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম দুজনে এক সাথে।

আজ দশ বছর পরে সেই তুমি বিব্রত বোধে নামিয়ে নিয়েছো কৃষ্ণ ও নয়ন অপ্রস্তুত অবাঞ্ছিত সেই মূহুর্ত দুজনার মনে, অশান্ত সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রচন্ড  আর্তনাদ !

অন্তরীক্ষে শব্দহীন সে ক্রন্দন শুনেও শুনতে চায় না তোমার মন, প্রতীক্ষিত প্রেমিক আমি

অপেক্ষায় অনন্তকাল হয়তো বা  আগামী জন্মে নিশ্চিত কি পাবো কিংবা যদি আমাদের মিলন

নাইবা হলো কোনদিন কি বা এসে যায় ঝুলন?

নতমুখে আপন পথে ফিরে ফিরে যেতে যেতে,বারে বারে তোমার পিছু ফিরে চাওয়া দুচোখে 

বন্যা কি থমকে রয়েছে মুচড়ে  উঠল হৃদয়ের তন্ত্রীতে বেজে উঠল ব্যথিত প্রাণিত  প্রাণের প্রেম।

Tuesday, 24 October 2017

শূন্যে ঝুলছে নূপুর পড়া দুটি পা

শূন্যে ঝুলছে নূপুর পরা দুটি পা

শ্যামল সোম

সকাল থেকেই ভীড় জমে মানুষের ঐ আঠারো নম্বর পুরোনো বাড়ির সামনে
হরিপদ বন্ধ  একটি ঘরে খোলা জানালার সামনে হুমড়ি খেতে পড়ছে পুরুষ
প্রৌঢ় পিতৃ সম,  বৃদ্ধ দাদু বয়স্ক  দাদা কাকু ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল মিতার
সাথে মেয়েটি আঠারো বছরের হাসিখুশি, গান গাইতো পাড়ার জলসাতে,
পড়া শোনা বেশ ভালো কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী, ভলিবল খেলতে ভালো।
এহেন আলো করা রূপবতী গুণবতী এই বন্ধ দরজা ভেতরে শিলিং ফ্যানে
শক্ত দড়ির বাঁধনে নগ্ন দেহে শূন্যে ঝুলছে শুধু দুটি পারে রূপোর বাহারী নূপুর।

" এখন পুলিশ আসেনি দরজা ভাঙা হবে না না ঠিক হবে অমূল্য "

যদি বাঁচানো যেত?

লম্বা জিব দেখলে না?

না না এ দৃশ্য দেখা যায় না !

শত শত মানুষ ছুটে আসছে আশপাশের এলাকার!

এরা মানুষ ? জানোয়ার!

একটি উলঙ্গ  আঠারো বছরের কন্যা সম মেয়ে ! ছিঃ ছিঃ

সামাজিক অবক্ষয়ের নগ্ন চিত্রকল্প

মিতার বাপ হরিপদ  আর কি বলবে শোকাচ্ছন্ন মুহ্যমান স্থবির নির্বাক।

শোকার্ত মানুষের পাশে চা জল খাওয়াতে চেষ্টা করছেন দুচার জন,
হরিপদ এইমাত্র  এই আদরের কন্যার এই করুন পরিনতি তে স্তব্ধ
নির্বাক পাষাণ  মূর্তি ও দুচোখে মরুভূমির হাহাকার।

হঠাৎই সত্তর বছরের মিতার দাদাভাইয়ের চিৎকার করে হুংকার, লাঠি হাতে
জানলার কাছে ভিড় সরাতে তেড়ে যাওয়া -- দাঁত বের করে ফিচেল হাসি ছোকরা পলায়ন।

মিতার মা রমা গর্ভবতী জননী জ্ঞান এখন ফেরেনি মহিলারা ব্যস্ত ছিলেন এর মধ্যে জনৈকা,
" না না এভাবে ফেলে রাখা যায় না এমমবোলেনস গাড়ির ড্রাইভার কে ডাকো"
সেই মুহূর্তেই পুলিশের জীপ পেছনেই হররনhorn বাজাতে ছুটে আসছে।
লোক গুলো ইঁদুরের মতন পালাচ্ছে!
পুলিশের তৎপরতায় দরজা ভেঙে লাশ নামিয়ে বাপ হরিপদ মা রমা কে স্টেচার
মা মেয়ে বাপ মায়ের সাথে শেষ যাত্রা হাসপাতালের মর্গে!

তখন কানাকানি রসাল আলাপ ফিসফাস জ্ঞানের ফোওয়ারা কুৎসিত ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন

মিতার বান্ধবীদের ছলছল চোখে বিলাই জানিয়ে তারা মিয়ার দাদুভাই কাছে বসে দুধ খাওয়াতে !
পাগলে মতন দাদু বুক চাবড়ে কাঁদছেন, গলা ছেড়ে গহিছেন, " আহা এমন দিনকি হবে
তারা, যবে তারা তারা বলে নয়নে  ঝরবে ধারা !"

Saturday, 21 October 2017

বৃষ্টিস্নাত প্রেম

বৃষ্টিস্নাত প্রেম

শ্যামল সোম

ঝিরঝির করে ঝরছে বৃষ্টি, ছাতা মাথায় ওড়না আঁচলে ঢেকে মুখ,
ব্যাকুল উদগ্রীব নয়নে বড় বড়  চোখের পল্লব মেলে নীতা
পরনে  নীল আকাশি রঙের বাহারী কারুকার্য করা সালোয়ার কামিজ
মাথাতে গাঢ় নীল রঙের ওড়না  জড়ানো, যূঁইফুলের মতন সারল্য মুখ,
স্নিগ্ধ সৌন্দর্য লাবণ্য  মসৃণ ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের নিটোল গড়ণ দেহে
ঋজু দীপ্ত  প্রাণের মাধুর্য অপরূপা  ঐ আমার আদরের নীতা দাঁড়িয়ে
রয়েছে, আমি নিষ্পলক চোখে দূর থেকে তাকিয়ে দেখছিলাম,
গাড়ির চালকের আসনে বসে অফিস থেকে লাঞ্চ  আওয়ারে।

এই কোলকাতার ইডেন গার্ডেনের গেটে সামনে অধৈর্য হয়ে
মাঝে মাঝেই সে তার  পেলব বাহু তুলে কব্জিতে বাঁধা ঘড়ি দেখছে নীতা
ভয়ে ভয়ে কাঁপছে বুক, সতর্ক চোখ এদিকে ওদিকে দেখে।
নীতাকে প্রতীক্ষিতা অরণ্যের  হরিণী মতন ইতস্তত  হতে দেখে মজা করার জন্যই রিং দিলাম।

তখনই  নীতার হাতে মোবাইল ফোন, রিং টোনে গান,
" যদি মনে পড়ে যায়
ফিরে এসো প্রিয়
শ্রাবণের মেঘলা বিকেলে !"

নীতা মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে, " সোম কৈ তুমি, এই এত ক্ষণ পরে ফোন দিলা,
এমন বৃষ্টির মধ্যেই আমি একা একটি মেয়ে এভাবে অপেক্ষা, "
হতাশায় ভেঙে পড়ে, " কি বলছো  আসতে পারবে না ? "
নীতার দেহের  কাঁপন চোখের  পাতায় জল জমে চোখের কোলে।

নীতা কান্না ভেজা গলায়, " কেন কেন সোম এভাবে বারেবারে ফেরাও? 
" কেন আমাকে কেবলই কাঁদাও, আমাকে কাঁদিয়ে কি  সুখ পাও গো ?
তোমাকে এত ভালো বাসি এই মোর অপরাধ ?"

আমি গোলাপের গুচ্ছ মনোরম মোড়কে মোড়া হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই  হাসতে
হাসতে রক্তিম করবী নীতার পেছন দিকে  এগিয়ে যাই।

নীতা ক্ষোভে রেগে যায়, চোখে মুখে গোধূলির রঙ, রেখে টং, "পাগলামি, হচ্ছে তুমি হাসছো? 

" সত্যি অদ্ভূত  একটা পাগল কে ভালোবেসেছি,
কি বললে কাঁদলে আমাকে সুন্দর দেখায় কাব্য হচ্ছে!" 

" সোম, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জানো
কলেজের ক্লাস  ফাঁকি দিয়ে  তোমার জন্য
আমি ছুটে এসে অপেক্ষা--"
নীতার লোনা জলে বন্যা  বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

এগিয়ে পেছন থেকে আমি চুপি চুপি দাঁড়িয়ে নীতার কাঁধে টোকা দিলেই
নীতা পেছন ফিরে নীরবে দুচোখে জ্বল জ্বল
দৃষ্টি ঝরঝর করে জোরে কেঁদে উঠলো,
নীতার চোখে জল প্রপাত,
আমি মুগ্ধ চোখে দেখছি, সত্যি সত্যিই
পাহাড়ি ঝর্ণা বর্ষন।

ঐ মূহুর্তে ঝমঝমিয়ে নামলো বৃষ্টি,
পরস্পরে কে জড়িয়ে বৃষ্টির জলে ছোট নীল লেডিস
ছাতার তলায় ভিজছি, পরস্পরের হৃদয়ের স্পন্দন
সমুদ্রের ঢেউয়ের আলোড়ন দুজনার মন,
দুজনেই ভালোবাসার শিহরণে শিহরিত  বহমান রক্তের গভীরে।