Thursday, 1 November 2018

ছূঁতে দেখি ভোরের নদী

ছুঁয়ে দেখি ভোরের নদী,

সকল গ্রুপের  কর্ণধার ও সব আমার ভালাবাসা মানুষ বিখ্যাত স্নামধন্য কবি
ভালোবাসা অলংকরণে হৃদয়ে অর্ঘ্যকমল উপহার।

কবি ও কবিতা সুন্দরী স্বপ্ন নন্দিনী স্বপ্নের কাজল নয়না হরিণী অভিসারের এলো
সে আমা শেষের কবিতারর

লাবণ্য তোমার   খোঁজেই

বাঁশিওয়ালা শ্যামল  সোম

লাবণ্যময়ী লাবণ্য এক জন বন্ধু সে আছে এই সে ভালো  মানুষের খোঁজে
দেশ থেকে দেশান্তরে ফিরছি --- লাবণ্যের কাঁধে কষ্ট পেলে মাথা কাঁদা
যায় যে দুখের সুখে পাশে থাকে, পরম মমতায় জননীর মতো আঁচলে
চোখের জল মুছিয়ে দেবে,চরম হতাশায়, লেখা সব চুরি করার জন্য
ভেঙে পড়লে পিঠে হাত রেখে, লাবণ্য সান্নিধ্য থেকে মাথার চুলে
হাত বোলাতে বোলাতে বলল, " সোম আমি তো তোমার পাশে আছি
সব সময়  এত ভেঙে পড়ছো কেন ?
সোম আবার তোমাকে নূতন করে লিখতে হবে একাউন্ট  হ্যাক
করছে তোমার  সব লেখা নষ্ট  করেছে আবার নতুন করে লেখো তোমার সমস্ত যত ,
লেখা সে সব সব লেখা তোমার লেখা মনে আমার হৃদয়ে গহীনে বিমূর্ত প্রস্তরে গাঁথা
মনে আছে  বিয়ের পড়েই সাতনা শ্টেশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে দেখতে যাওয়া
খাজুরাহো প্রাচীন

মৈথুনরত ভাস্কর্য নির্মাণ শৈলী শৈল্পিক নান্দনিক অপরূপ সৃষ্টি হোটেল থেকে
প্রতিদিনই সকাল থেকেই  দেখতে যাওয়া রাতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে ক্লাসিক
নৃত্য পরিবেশন বিখ্যাত নৃত্য  উৎসবে দেশবিদেশ অতিথিদের আগমন দেখে
সোম তুমি দুঃখ করে বললে পশ্চিম বঙ্গ সঙ্গীত নৃত্য পরিবেশন ক্লাসিকাল নেই,
উচ্চাঙ্গ কোন কিছুই নেই।
রবীন্দ্রনাথের জন্যই বাঙালি আমাদের পরিচয় !
লাবণ্য তুমি তীব্র প্রতিবাদ করে তা কেন আমাদের ছৌ নৃত্য ভাদু
ভাটিয়ালি বাউল গান কি উচ্চাঙ্গ  এর নয়?

তুমি ম্লান হাসলে, রাত জেগে ফিরে এসে ষোল কলা কামসূত্র
বলয়ে বাঙ্ময় কাব্য অলংকরণে হীরক দ্যুতি আশ্চর্য সৃষ্টি!
প্রানের  বন্ধুর হাত চেপে ধরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "বলো না গো লাবণ্য পারবো ?"
সোম - ! তোমাকে  পারতেই - হবে নিশ্চয়ই ! আমি আছি তোমার পাশে।
আমার ঘণ আলিঙ্গনে লোমশ বুকে  আদরে অস্থির আদরের লাবণ্য
ফিসফিস করে বলছে, " সোম নিশ্চিত  আমি জানি জানি গো তুমি ঠিক ঠিক
পারবে পারবা আমার হৃদয়ের আহ্বান আশ্বাস দেয় আমাকে এ আমার  স্বপ্ন তুমি সার্থক করো"
বেদনায় না কান্নায় বাড়িয়ে দিয়েছি হাত -- তোমাদের দিকে।"
ফাল্গুনের দিন শেষ হবে স্বপ্নে দেহের  সিঁড়ি বেয়েবন জঙ্গল সর্পিল পথ চলা
তোমাকে না বলা কথা বেলা শেষে দুজনে জঙ্গলের বসে
পরস্পরের শরীরের ঘ্রাণ সে সুতীব্র ঘ্রাণে বকুলফুলের গন্ধে
মাতাল সমীরণে রক্তের শিরায়
রন্ধে রন্ধে উত্তাল উতপ্ত  আনন্দে  উদ্ভাসিত হিমালয়ের শৃঙ্গ এই পূর্ণ
সূর্যোদ্বয়ে মতন ছিল আমাদের প্রেম।

বাসনা অপূর্ণ রবে তবু আগ্রাসী মন

বাসনা অপূর্ণ রবে তবু আগ্রাসী মন

শ্যামল সোম

অঝুজ পোড়া মনরে ফুরিয়ে এলো বলা
সব ছেড়ে শুরু করো শেষ যাত্রায় ঐ চলা,
প্রভু জী কেন  মন তবু চায় দেকতে আবার
ফিরে ভাবি ভোরের আকাশে  নূতন সূর্য উঠবে।
দলে দলে পাখিরা জোড়ায় বাসা ছেড়ে উড়বে,
তোমাদের বাগানের ঐ গাছে গাছে ফুল ফুটবে।
বরিশালে  কীর্তনখোলা নদী বহমান স্রোতে ভেসে
পাল তুলে হাল ধরে নৌকায় মাঝি ভাটিয়ালি সুরে,
গান গাইবে  গাইবে, বাংলাদেশের মেঠো সে সুরে
লালনের " মিলন হবে কতদিনে " গাইতে গাইতে
আমার ফেলে আসা স্বদেশের ভূমিতে আর ফেরা
কে জানে হবে কিনা  মাতৃভূমি আর ফেরা কখন ?
হবে না জন্ম ভিটেয় প্রথিত বট বৃক্ষ হয়ে জন্ম গ্রহণ
কি করতে পারবো, বৃক্ষের ডালে ডালে বিহঙ্গ উড়ে
আসবে দেশ হতে, দেশান্তরে পাখিরা ডালে বাসা
বাঁধবে, হৈমন্তী শুক্লা দ্বাদশী পাখি ডিম ফুঁটে শাবক
ছানা কিচির মিচির করবে কখন, কাঠঠোকরা  পাখি,
কাঠবেড়ালি এ বৃক্ষ  ডালে ডালে তড়তড় করে উঠে যাবে,
বৃক্ষের শীতল ছায়ায় ক্লান্ত পথিক জুড়িয়ে নেবে বিশ্রামে
গোধূলি লগ্নে প্রেমিক প্রেমিকা হাতে হাত রেখে বৃক্ষে কান্ড
হেলান দিয়ে প্রেমালাপ, নারী কন্ঠে " আমার পরাণ যাহা চায় তুমি তাই তুমি তাই গো "
কোঠরে কোঠরে সাপ ও প্যাঁচা বাস, এই বাংলায় শঙ্খ চিল শালিকের বেশে
নাহি  ফিরে আসি খেদ  নেই বৃক্ষ ডাল পাতা ফুল ফুটে উঠবো, 
হৃদয়ে বাংলাদেশ ফিরে ফিরে এসে  যাবো আপন আলয়ে
আলোয় আলোকিত পথে আলোকময়  ভালবাসায়।

কন্যা দান বা অপাত্রে দান

কন্যা দান বা অপাত্রে মাল্য দান       (  মুক্ত গদ্য )

শ্যামল সোম

কন্যা দানের অপেক্ষায় থাকে না নিজেই নিজের ভেতর
রোপিত করে প্রেম কখন ফুল ফোঁটা বা অকালে ঝরে
ভালোবাসার যশস্বী হতে হাত দিয়ে চাঁদ ছূঁতে শতসহস্র
তরুন প্রজন্মের কিশোর কিশোরী যুবতী যুবক তন্বী  বর্ণী
তরুণী ব্যাকুল প্রাণের আকুতি কাঙালিনী শিহরিত হয় !
শেষে ছলনা লাঞ্ছনা প্রবঞ্চনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে
গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে বা গায়ে প্রেমের দাউ
দাউ আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় মনুষ্য জীবন।
প্রেমের ফাঁদ পাতা আছে এই ভুবনে খুব সাবধান খাদে
পড়লে অতলে তলিয়ে যেতে হবে। প্রেমের কবিতা সহজ,
প্রেমের দহন অসহ্য লাগতে পারে কতজন মানুষ হিসেবে
গড়ে মারা যায়, ধুকে ধুকে মরছে তিল তিল করে, ভুল বা
শয়তান বেছেছে সারা জীবন খেসারত দিতে হবে মৃত্যু
আলিঙ্গনের পূর্ব পর্যন্ত হায় হায়  কোথা গেলে সেথায় সে
কোথায়, আপন প্রাণের মানুষ খোঁজ পাওয়া যায় গো?

ভালোবাসার চেনা অচেনা মানুষ গলপ শ্রুতি নাটক

ভালোবাসার চেনা অচেনা মানুষ

শ্যামল সোম

দাদুর আশীর্বাদে রুপোর থালা বাটিতে মানিক ভট্টাচার্য মুখে ভাত হয়েছিল, নিষ্ঠাবান পরম বৈষ্ণব গুরু বংশে জন্ম

হুগলি আরাম বাগে বিশাল জমিদারি তিন মোহলা বিশাল বাড়ি এই বাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুর বাগান এক ধার

রাধা মানবের মন্দির । হাজারো মানুষের বীর লেগে যায় শ্রী কৃষ্ণ এর জন্ম অষ্টমী  বিশাল অনুষ্ঠানে বহু শিষ্য  শিষ্যা

সমাগম হয়। রাতে পালা গান নৌকা বিলাস, শ্রী রাধীকার মানভঞ্জন, গালা গাইতে এসেছেন নবদ্বীপ এর বিখ্যাত

স্নামধন্যা বৈষ্ণবী বিষ্ণুপ্রিয়া লাবণ্যময়ী যুবতী অসাধারণ সুমিষ্ট গলায় ফুলের গয়নায় স্বয়ং রাধারানি সেজে

পদাবলী কীতৃন পালা গান শ্রীমতীর মানভঞ্জন গান গাওয়া চলছে।

কিন্তু প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে প্রাণ মন কেঁড়ে নিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ রাধারানি অথচ একমাত্র এ বংশের শেষ একমাত্র

পুত্র সন্তান অসম্ভব ভালো পড়া শোনায়  কোলককতার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি এস ও নিউরো সার্জারি

এম এস পাশ করেই  আর  জি কর হাসপাতালে কাজ করছে।

ফতেমা সঙ্গেই আলাপ হওয়ার পর থেকেই ফতেমা সহমর্মিতা সহানুভূতি শীলা অসাধারণ ভালোবাসায়--

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সময় ফাতেমা হক মিতালির  প্রেমে পড়ে যায়।

ঠাকুর দাদা মানিক ভট্টাচার্য খবর পেয়েছেন মহান প্রভু শ্রীকৃষ্ণ এই জন্মদিনে জন্ম অষ্টমী দিনেই  পার্ক সার্কাস

এক বিশাল বাড়িতে ফতেমা অরফে মিতালি বিয়ে করতে আসছেন মানিক ভট্টাচার্য একমাত্র পুত্র দিলীপ ভট্টাচার্য

নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারের একজন বংশের  নাতি স্বর্গে বাতি দেবেন কিন্তু নূতন পরিচয় নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবার

থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এখন লতিফ সিদ্দিকী দুলাহ বর  সেজে এসেছে ইমাম সাহেব টিক্কা মামুদ সাহেবের কাছে

বিবাহ কবুল দিয়ে

ফতেমা নিয়ে চলে যাবে তার হাজার স্কোয়ার ফিটের Intiar Desingner দিয়ে সুনদর  সাজানো Flat  Slat Lake এ।

বছর কড়ি পড়ে মানিক ভট্টাচার্য  যখন জীবনের শেষ অধ্যায় বিধ্বস্ত ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত মরণ শিয়রে দাঁড়িয়ে

হঠাৎ বৃন্দাবন থেকে এসেছেন নিজের একমাত্র পুত্র দিলীপ ভট্টাচার্য ধর্মান্তরিত হয়ে এখন লতিফ সিদ্দিকী ও বৌমা ফতেমাও  নাতনি এষা সিদ্দিকীকে শেষবারের মতন দেখতে মরণকালে মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রক্তের অমোক টানে এসেছেন

বৃন্দাবন থেকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানিক ভট্টাচার্য বাপ মা মরা নাতিকে ক্ষমা করতে না শুধুমাত্র মায়া ত্যাগ করতে

না পারার জন্য হঠাৎ এসেছেন।

জাতের উদ্ধৃত  উর্ধে কি আত্মজ সন্তান কে জানে যে যেমন মানেন।

( দিলীপ ভট্টাচার্য থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ার নাম ছিলো লতিফ সিদ্দিকী  --- --

বৌমা ফতেমা  নামাযপাটি  বিছিয় বৈকালিক  কালিন নামায পাঠ শেষ করে উঠছেন।

কে কে যাই ! ( আজ বিশ বছর পরে হঠাৎ শ্বশুর মশাই দেখে হতবাক ) আববু জান বাবা বাবা বাবা ( কাঁদতে কাঁদতে 

বার বার দেখা করে ক্ষমা চাইতে যাওয়া সেই বিরল মূহুর্তে কথা মনে পড়ে যায়, উনি ফিরেয়েদিয়ে ছিলেনপায়ের তলায় লুটিয়ে পড়ে )

মানিক ভট্টাচার্য  ( ধর্ম নিষ্ঠ বিলক্ষণ বৈষ্ণব  ব্রজ ধাম বৃন্দাবন 

থেকে বিশ বছর পর আজ দেখা করতে এসেছেন।

আগে মিতালি একমাত্র মাতৃহারা কন্যা সন্তান যাকে খুব যত্ন করে

অল্প বয়সে বিপত্নীক হওয়ার পরও বিবাহ করেন নাই, মাতৃ স্নেহে  মানুষ করেছেন মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার

পড়িছেন, পরে ঐ কলেজে ছাত্রী মুসলিম কন্যাকে বিয়ে করে দিলীপ ভট্টাচার্য থেকে  লতিফ সিদ্দিকী

এর প্রেমে পড়ে বাবার অমতে বিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিউরো সায়েন্স  বিভাগের সিনিয়র ছাত্র এই

দিলীপ ভট্টাচার্য নূতন নামকরণ লতিফ সিদ্দিকীকে বিবাহ করার জন্য বিশিষ্ট শিল্পপতি শামীম আহমেদ সাহেব হিন্দু ছেলে তাঁর অমতে  বিবাহ করার জন্য মেয়ে সাথে সম্পর্ক রাখেন নি )

ফতেমা মিতালি

বাবা বাবা আপনি এত দিন পরে এলেন, কতবার গেছি আপনার সঙ্গে

কাছে ফিরিয়ে দিয়েছো দেখা করো নি লতিফকে বিয়ে করার জন্য তুমি ভীষণ রেগে গেছিলেন !

মানিক ভট্টাচার্য

আমার এখন আর সময় নেই মা মাগো আমাকে ক্ষমা কর ! ধর্ম নিয়েই আজ আছি পরম বৈষ্ণব আমি

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু স্বপ্নে  দেখা দিয়ে বলছেন গীতার কথা সকল ধর্ম এর ইস্ট পূজিত হই আমি

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান মহাপ্রভু বিধর্মী হরিদাস পরম ভক্ত ছিলেন।

আজ আমি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে আছি মুম্বাই টাটা  মেমোরিয়াল এর ডাঃ এস এম নাজমুল হক

বলে দিয়েছেন আর একমাস আয়ু লিভার ক্যান্সার মারা যাবো। জীবনে চা মদ সিকরেট খেলাম না।

অথচ আমি লিভার ক্যান্সার মারা যাবো।

মিতালি --- না না এভাবে বলবেন  না আমি আপনার আলাদা করে নামায পড়বে খোদা মেহেবান সব ঠিক হয়ে যাবে ।

মানিক ভট্টাচার্য--- মিতালি,  ফতেমা ! আমি চলে যাবো বাহিরে ডাইভার  গাড়িতে অপেক্ষা করছে
আমাকে বৃন্দাবনে যাওয়ার ট্রেনে বসি দেব।

আপনি বসুন আমি আপনার নাতনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি এই বলে  মিতালি চলে যায়

Back ground গান মহিলা কন্ঠে কৃষ্ণ ভজন ইশা রাধা সেজে ঘাগড়া পড়ে গানে তালে তালে নাচছে।

" প্রভু অব গুনচিত ন ধরো চায়ে তো পার করো "

অপার বিস্ময় স্বপ্নময় তন্ময়তা চোখে দেখে এ যেন স্বয়ং  শ্রী রাধা দর্শন হলো মানিক ভট্টাচার্য আপন চৈতন্য মহাপ্রভুর বানী।

সই এই তো মেয়ে মানুষের জীবন

সই এই তো মেয়ে মানুষের জীবন

শ্যামল সোম

সই সেই শৈশবের মেয়ে বেলা থেকেই শুরু হয়ে যায় লড়াই,
কী ভাবে কী উপায়ে এই সদ্য কুঁড়ি ফোঁটা নধর নরম পেলব এই
মেয়ে মানুষের শরীরকে স্বাপদের থাবা থেকে আড়ালে রাখা যায়?
আত্মীয় স্বজন পাড়া প ড়শী গাঁয়ের মাতব্বর, শহরের মাস্তান,
এমন কী জন্মদাতা ও শিকারী শেয়ালের মত লোলুভ দৃ ষ্ঠি নিয়ে,
অসহায়তার দূর্বলতার সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে !
স্তুতি, প্রশংসা, কত কাব্য, আকাশ কুসুম স্বপ্নের জাল বোনা বিবাহের
প্রতিশ্রুতি বিনিময়ে বিনা পারিশ্রমিকে অন্ন্ত সহবাস, বিচারের
আদেশে ধর্ষকের সাথে বিবাহের প্রবিত্র বন্ধন, শ্বশুরের পাশবিকতায়
স্বামী হয়ে যায় পুত্র !
মুখ ফসকে যদি তিনবার উচ্চারিত হয় ভয়ংকর
একটি শপথ বাক্য ! চিরকালের মত শেষ হয়ে যায় স্বর্গিয় প্রেম
বিবাহের মহা প্রবিত্র বন্ধন ।
সই এ কেমন মেয়ে মানুষের জীবন ?
তার নিজের জীবন কী ভাবে
ব্যয়িত হবে তা নিঃধারন করবেন পুরুষ ত্রান্তিক সমাজ এই বিধান
সেই প্রাক ঐতিহাসিক যুগ যুগান্তর ধরে আবহমান কাল ধরে চলে
আসছে।
পুরাণে দ্রোপতীর কোন প্রতিবাদ করার কোন অধিকার ছিলো না
আজ ও নেই তাই পারিবারিক স্ন্মানার্থে নিঃশংস খুন ভ্রূণ হত্যা !
কী অনুশাসন সময় বিশেষে শোষণ, সামাজিক পারিবারিক ফোতয়া।
বিধান সেই সুপ্রাচীনকালেও কুলীন ব্রাক্ষ্মণের একশত বিবাহের ছিল অধিকার।
দুই তিনটে বউ পোষা ক্ষ্যামতা থাকলে সে ঐ কুকুর পোষার সামিল ক্ষমতাবান
পৌরুষের লক্ষণ তিনি সমাজে রাস্ট্রের খুব বাহ্ববা পেয়ে থাকেন।
সই আজ থাক ভাই ! আড়ালে কে জানে শুনছে ক'জন, মাতাল
লম্পট জুয়ারী অন্নদাতা পরম পূজোনিয় স্বামী শুনলে মেরে পিঠের
ছাল ছাড়িয়ে নেবে তাই চুপ করে সন্তান ধারণ রন্ধন সৌন্দর্যময়ীই
নারী সুখী গৃহকোণ শোভা বর্ধন করে,
আয় ভাই চোখের জল ও চোখেই
যাবে শুকিয়ে; নানা ভাবে ঘসে মেজে শরীরটা সাজিয়ে তুলতে হবে
সাজুগুজু না করলে কপালে দুর্ভোগ আছে তোর !
ও বাবা এইতো---
সোজা সরল গরল পান করে আয় এ ভাবেই- কাটিয়ে যাই এ দেশে,
বিদেশে সন্ত্রস্ত হেনস্থার সীমাহীন, মেয়ে মানুষের জীবন।

Thursday, 18 October 2018

ভালোবাসার চেনা অচেনা মানুষ

ভালোবাসার চেনা অচেনা মানুষ

শ্যামল সোম

দাদুর আশীর্বাদে রুপোর থালা বাটিতে মানিক ভট্টাচার্য মুখে ভাত হয়েছিল, নিষ্ঠাবান পরম বৈষ্ণব গুরু বংশে জন্ম

হুগলি আরাম বাগে বিশাল জমিদারি তিন মোহলা বিশাল বাড়ি এই বাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুর বাগান এক ধার

রাধা মানবের মন্দির । হাজারো মানুষের বীর লেগে যায় শ্রী কৃষ্ণ এর জন্ম অষ্টমী  বিশাল অনুষ্ঠানে বহু শিষ্য  শিষ্যা

সমাগম হয়। রাতে পালা গান নৌকা বিলাস, শ্রী রাধীকার মানভঞ্জন, গালা গাইতে এসেছেন নবদ্বীপ এর বিখ্যাত

স্নামধন্যা বৈষ্ণবী বিষ্ণুপ্রিয়া লাবণ্যময়ী যুবতী অসাধারণ সুমিষ্ট গলায় ফুলের গয়নায় স্বয়ং রাধারানি সেজে

পদাবলী কীতৃন পালা গান শ্রীমতীর মানভঞ্জন গান গাওয়া চলছে।

কিন্তু প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে প্রাণ মন কেঁড়ে নিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ রাধারানি অথচ একমাত্র এ বংশের শেষ একমাত্র

পুত্র সন্তান অসম্ভব ভালো পড়া শোনায়  কোলককতার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি এস ও নিউরো সার্জারি

এম এস পাশ করেই  আর  জি কর হাসপাতালে কাজ করছে।

ফতেমা সঙ্গেই আলাপ হওয়ার পর থেকেই ফতেমা সহমর্মিতা সহানুভূতি শীলা অসাধারণ ভালোবাসায়--

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সময় ফাতেমা হক মিতালি  প্রেমে পড়ে যায়।

মানিক ভট্টাচার্য খবর পেয়েছেন মহান প্রভু শ্রীকৃষ্ণ এই জন্মদিনে জন্ম অষ্টমী দিনেই  পার্ক সার্কাস

এক বিশাল বাড়িতে ফতেমা অরফে মিতালি বিয়ে করতে আসছেন মানিক ভট্টাচার্য একমাত্র পুত্র দিলীপ ভট্টাচার্য

নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারের একজন বংশের  নাতি স্বর্গে বাতি দেবেন কিন্তু নূতন পরিচয় নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবার

থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এখন লতিফ সিদ্দিকী দুলাহ বর  সেজে এসেছে ইমাম সাহেব টিক্কা বিবাহ কবুল দিয়ে

ফতেমা নিয়ে চলে যাবে তার হাজার স্কোয়ার ফিটের Intiar Desingner দিয়ে সুনদর  সাজানো Flat  Slat Lake এ।

বছর কড়ি পড়ে মানিক ভট্টাচার্য  যখন জীবনের শেষ অধ্যায় বিধ্বস্ত ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত মরণ শিয়রে দাঁড়িয়ে
হঠাৎ বৃন্দাবন থেকে এসেছেন নিজের একমাত্র পুত্র দিলীপ ভট্টাচার্য ধর্মান্তরিত হয়ে এখন লতিফ সিদ্দিকী ও বৌমা ফতেমা ও এষা সিদ্দিকী শেষবারের মতন দেখতে মরণকালে মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রক্তের অমুক টানে এসেছেন বৃন্দাবন থেকে

জাতের উদ্ধৃত  উর্ধে কি আত্মজ সন্তান

( দিলীপ ভট্টাচার্য থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ার নাম ছিলো লতিফ সিদ্দিকী  --- --

বৌমা ফতেমা  কামারহাটি বিছিয়ে সন্ধ্যা ক্লিন নামায পাঠ করছেন

কে কে যাই ! ( আজ বিশ বছর পরে হঠাৎ শ্বশুর মশাই দেখে হতবাক ) আববু জান বাবা বাবা বাবা ( কাঁদতে কাঁদতে 

বার বার দেখা করে ক্ষমা চাইতে যাওয়া সেই বিরল মূহুর্তে কথা মনে পড়ে যায়, উনি ফিরেয়েদিয়ে ছিলেনপায়ের তলায় লুটিয়ে পড়ে )

মানিক ভট্টাচার্য  ( ধর্ম নিষ্ঠ বিলক্ষণ বৈষ্ণব  ব্রজ ধাম বৃন্দাবন 

থেকে বিশ বছর পর আজ দেখা করতে এসেছেন।

আগে মিতালি একমাত্র মাতৃহারা কন্যা সন্তান যাকে খুব যত্ন করে

অল্প বয়সে বিপত্নীক হওয়ার পরও বিবাহ করেন নাই, মাতৃ স্নেহে  মানুষ করেছেন মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার

পড়িছেন, পরে ঐ কলেজে ছাত্রী মুসলিম কন্যাকে বিয়ে করে দিলীপ ভট্টাচার্য থেকে  লতিফ সিদ্দিকী

এর প্রেমে পড়ে বাবার অমতে বিয়ে দিলীপ ভট্টাচার্য সিনিয়র ছাত্র এখন  এই লতিফ সিদ্দিকী হয়ে ফতেমাকে

বিবাহ করার জন্য ছেলের  সাথে সম্পর্ক রাখেন নি )

ফতেমা মিতালি নিয়ে দিলীপ বহুবার গিয়েছিল

বাবা বাবা এত দিন পরে এলে, কতবার গেছি তোমার

কাছে ফিরিয়ে দিয়েছো দেখা করো নি আমাকে বিয়ে

করার জন্য তুমি ভীষণ রেগে গেছিলে !

মানিক ভট্টাচার্য

আমার এখন আর সময় নেই মা মাগো আমাকে ক্ষমা কর ! ধর্ম নিয়েই আজ আছি পরম বৈষ্ণব আমি

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু স্বপ্নে  দেখা দিয়ে বলছেন গীতার কথা সকল ধর্ম এর ইস্ট পূজিত হই আমি

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান মহাপ্রভু বিধর্মী হরিদাস পরম ভক্ত ছিলেন।

আজ আমি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে আছি মুম্বাই টাটা  মেমোরিয়াল এর ডাঃ এস এম নাজমুল হক

বলে দিয়েছেন আর একমাস আয়ু লিভার ক্যান্সার মারা যাবো। জীবনে চা মদ সিকরেট খেলাম না।

অথচ আমি লিভার ক্যান্সার মারা যাবো।

মিতালি --- না না এভাবে বলো না আমি তোমার আলাদা করে নামায পড়বে খোদা মেহেবান সব ঠিক হয়ে যাবে ।

মানিক ভট্টাচার্য--- মিতালি ও এখন তুই তো ফতেমা ! আমি চলে যাবো বাহিরে বিকাশ গাড়িতে অপেক্ষা করছে
আমাকে বৃন্দাবনে রাতের ট্রেনে নিয়ে যাবে !

ফতেমা মিতালি ---  ওহ্ বিকাশ বুঝি দেখা করবে না

মানিক ভট্টাচার্য--- না না তা কেন যা না তুই গিয়ে ডেকে নিয়ে আয় বিকাশ তো তোকেই ভালোবাসতে আজও

বিয়ে করে নি  অত বড় বিশাল কোম্পানি I.B.M. যাদবপুরের তোর সঙ্গে PASS OUT তার পর STATES

MASACHUST  UNIVERSITY PROFESSOR সব ছেড়ে চলে এলো আমাদের

বৃন্দাবনে রামকৃষ্ণ মঠে জয়েন করলো  বিকাশ জোর করে আমার মরা

আগে তোকে তা হাঁরে আমার নাতনি মেহেনুরসা না ইশা সিদ্দিকি  নাতনি কোথায়

বাবা আমি যাই বিকাশকে ডেকে আনি নাতনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি গান শোন ! মিতালি চলে যায়

Back ground গান মহিলা কন্ঠে কৃষ্ণ ভজন এশা রাধা সেজে ঘাগড়া পড়ে গানে তালে তালে নাচছে।

নেপথ্যে পারভিন সুলতানা মীরার ভজন " অব গুনচিত ন  ধরো চায়ে তো পার করো ! "

মানিক ভট্টাচার্য  আপন হৃঢ় চেন চৈতনবোধে উদ্ভাসিত  হয়ে মমনে চিন্তন মনে উত্তাল
ঢেউ আছড়ে পড়েছে  ----

Wednesday, 17 October 2018

মেয়ে মানুষের লাশ       

শ্যামল  সোম

মরা চাঁদ গেছে বুঝি
ঐ বেনো জলে ভেসে
আধো অন্ধকারে
নয়নজুলির খালে ভাসে।
মেয়ে মাইনষের লাশ
চিত হয়ে শুয়ে আছে।
পরনে ময়ুর কন্ঠি রঙের
সিল্কের শাড়ি রক্ত
রাগ রঙে ব্লাউজ,
চুলের জড়ানো যূঁই ফুলের
মালা সবই বেসামাল
এতই  এলোমেলো চুল।
ভেঙেছে খোঁপা অর্ধ নগ্ন
যৌনবতীর দংশিত
মোথিত শরীর ক্ষুধার্ত
লোলুপ হায়নার দলিত
ধর্ষণে ধর্ষণে বিহ্বল
প্রেমিকা শেষে তোড়ায় বাঁধা
ঘোড়ার ডিম হাতে পেয়ে
নিষ্ফল প্রয়াসে কান্নায়
আর্তনাদে জবাই করা
পশুর মত গোঁ গোঁ গর্জন।
যুবতীর আর্তনাদ ক্রন্দন
শুনেও শোনেনি অনেকে
বাতি নিভিয়ে দিয়ে,বিস্মৃত
শোকে দেখেও দেখেনি
তাকে, বটবৃক্ষের শাখায়
এক জোড়া দোয়েল পাখি
বিব্রত বিরক্ত ক্রোধে ঘন
ঘন ডানা ঝাপটায় নাকি?
সূর্যোদ্বয়ের আলো এসে
পড়ে পাথরের  আঘাতে
থেঁতলানো ভালোবাসার
প্রত্যাশী আকাঙ্খিতা নারী,
সুন্দরীর মুখে সে মুখে
গেয়েছিল জীবন মুখি কত গান
সেই মেয়ে মাইনষের লাশ
দেখতে জমায়েতের প্রশ্নবাণ।