Wednesday, 16 November 2016

জননীদের কাছেই প্রার্থনা

মা  মাগো  কেন পাই না তোমাকে ?

স্বাগতম সুপ্রভাতে আজ
এই দুরাত্মাদের দূর্নীতির পাকে
ভারতবর্ষের অসংখ্য  সীমাহীন
আপামর  জনগণের  আপন
পাপে মৃত্যু অনিবার্য কারণ
অন্যায়  যে করে আর অন্যায়
যে সহে তবুও দগ্ধ শরীর  ঐ
কালো বাজারী ফাঁকি দিয়ে
ইনকামট্যাক্স  পাহাড়  ঐ
কালো টাকাজ্বলে উঠল যখন ঠিক
সেই সময় তোমার আমার কন্যা
যে পালিয়ে গিয়েছিল প্রেমিক
রাজকুমারী সাথে সে কি এখন
গতর খাটে এদেশে না বিদেশে ?
না !
প্রেমের  আগুনে  প্রেমিকা বধু হত্যা , 
অর্ধ নগ্ন শরীর ঝুলিয়েছেন কারা শ্বশুর
লোকজন গা দিয়েছে ঢাকা আত্মগোপন,  
যারা আত্মহনন বলে পুলিশ থানা জানালেন,
হায়রে আমার স্বদেশ কোথাও  কি কোন
ভাবেই নিরাপদ নয় নারী,
তবে বারে  বারে প্রতারিতা
অসহ্য  অত্যাচারে নির্যাতনে,
ধর্ষনের পরে জামিনে ধরষকের
সেই ধর্ষিতাকেই  ফের ধর্ষন !
মাঝে মাঝে দৈনিক দৈনন্দিন জীবনে
এই ধর্ষনে কি পাওয়া যায় সুখ,
সারি সারি সামনে দাঁড়ানোর
অপরাধীদের মুখ।
কেন অপরাধীদের গ্রেফতার নয়
পালানোর অজুহাত দেখা মাত্র
গুলি করে মারো সমূলে শেষ করো
একশো বিশ কোটি জন সংখ্যা
নির্বোধ মানুষ বা পশু অধমকে
খতম করো, খতম করো,
কালো ভেঙে দাও 
বহু বছরের একের পর এক
স্লোগান নি আর, মেশিনগানে
খুলি দাও উড়িয়ে দাও পুড়িয়ে।
ইনসাফ ইনসানের ইনসানিয়াত
চাই কে বলেছিলেন কালোবাজারীদের
রাস্তার ল্যাম্প পোস্টে ঝোলাবো?
সর্বহারার সাথে মিছিলে পতাকা 
ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে সমবেত গণসংগীত
পঁচাত্তর বছরে  বছরে শুনছি।
এবার কোর্টে  হলফনামা দিয়ে
সার্থক সমার্থক সদর্থক হোক
সাফল্যের সাথে নির্মূল করো।
কবিতার সুভাষ  মুখার্জির 
সেই বৈপ্লবিক কবিতা "  দিন
এসে গেছে ভাইরে আগাছা উপড়ে ফেলবার!"
হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান
উদ্বেলিত প্রাণ, " মানুষ মানুষের জন্য
একটু সহানুভূতি পেতে পারে না ?"
উনিসশো চৌষট্টি ইডেনে বিশ্ব যুব উৎসবে
ভুপেন্দ্র হাজারিকা গেয়েছিলেন।
শত কন্ঠ  শিল্পীর গান " ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম
আমরা চলেছি সেই সূর্য এর দেশে !"
আমরা সবাই গিয়েছিলাম উদাত্ত কন্ঠে
1964 সেই যৌবনে, " অনশন বন্দি ওঠোরে  জাগি"
" আহ্বানে চলে মুক্তির  সেনাদল"
পরিজন হলে দেব এক নদী রক্ত
রক্তের  অক্ষরে লেখা হবে ইতিহাস!
" আমরা এনেছি রাঙা প্রভাত "

সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম  ষাট বছর,
হায়, মা মাগো  দিন আসে কৈ ?

মা মাগো তুই মা তোর খড়্গ 
এর আঘাতে তীব্রতর  আঘাতে
শয়তানের ছিন্ন মুন্ডু মালা গলায় পড় জননী।

Monday, 14 November 2016

আমার যাওয়ার সময় হলো, দাও বিদায় শ্যামল সোম

চলে যেতে হবে
কেন যাবো মায়া
আচ্ছন্ন সব ছায়া
ময়ী নারীর প্রেম
ভালোবাসার হেম।
দেহের ঘ্রাণ নদী
স্রোতে ভেসে যদি
চলে যাই নিশব্দে
সকল বাঁধন রবে
জীর্ণ পাতার ঝরে।
কবে চলে যেতে হবে
অজানা সকল সাধন
শেষ হওয়ার আগে।
সম্পর্কের ইতি টেনে
হঠাৎই স্তব্ধ  এ প্রাণে।
ছেদ হবে শ্বাস  প্রশ্বাস
বাসনার শেষ নিশ্বাস।
বাঁচিবার কত শত সাধ
ফেলে রেখে সব আহ্লাদ।
মৃত্যুর দূত দাঁড়িয়ে দ্বারে
নিশ্চয়ই ফিরবো আবার
মানুষের এই ভালোবাসার
জন্য উন্মুক্ত রবে এ হৃদয়।

Thursday, 10 November 2016

স্বদেশে নির্বাসিত আমি

আমার এক মাত্র  অপরাধ অখন্ড ভারতবর্ষের
স্বপ্ন দেখে ছিলাম আমি, কোলকাতার শহীদ
মিনারের তলে, দিল্লীর অমর জ্যোতি সামনে
মুম্বাই গেট অফ ইন্ডিয়ার প্রাঙ্গণে কাশ্মীরের
পহেলগাঁও লিডার নদীর পাশে, উত্তরাখণ্ড এর
কর্ণ প্রয়াগ  অলকানন্দা  ও মন্দাকিনী সঙ্গম
স্বর্ণ মন্দিরে, ফতেপুর সিক্রী,  ইমাবাড়া, পুরীর
সমুদ্রের  সৈকতে,
পাকিস্তানে রাউলপিণ্ডি , পাঞ্জাব, করাই, লাহোরে
শালিখের গার্ডেন  এ
বাংলাদেশের ঢাকার ভাষা শহীদ মিনারে,কবির
নজরুল ইসলাম  এর স্মরণে সৌধ  এর সামনে।
শান্তি নিকেতন, গান্ধীজীর  সমরমোতি আশ্রমে
জনে জনে ডেকে বলে ছিলাম অখন্ড ভারতবর্ষে
তিন রাষ্ট্র  ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব তাঁর
সার্বভৌমিক  অধিকার বলাই রেখেও কেন এক
বিশাল শক্তিশালি আবার অখন্ড সার্বভৌম  রাষ্ট্রের
স্বপ্নদেখার অপরাধে এখন আন্দামানের সেলুলার
জেলে, লোহার শেকল  হাত পা বেঁধে শৃঙ্খলিত আজ
নির্জন সেলে একাকী আলো আঁধারে  সাত বাই পাঁচ
ঘরে ভয়ংকর  এক উন্মাদ কয়েদী মৃত্যুদন্ড কার্যকর
হতে দেরী হচ্ছে তিন দেশের ভালো মানুষের  সর্বোচ্চ
জনতা দ্বারস্থ আদালতে আমার মুক্তির জন্য যুদ্ধ  না
শুরু হয়, সেদিকে সতর্কতার  সাথে আয়োজন চলছে।
মৃত্যুর  আক্রমনের  পূর্বের অখন্ড ভারতবর্ষের স্বপ্ন
দেখুন,নতুবা আরো পাঁচশো বছরের সন্ত্রস্থ  জীবন যাপন করুন।

Wednesday, 9 November 2016


প্রতিমা তব পদ তলে ভাসছি নয়ন জলে। হে দেবী তুমি সরস্বতী কৃপা করো জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালো আমার অন্তরের , গভীরে মর্মস্থলে মগজে, লেখার বাসনা ও আমার দেশের মাটি, সরস্বতী দেবী তোমার পড়ে ঠেকাই মাথা। কবিতার খোঁজে শ্যামল সোম সুস্বাগতম সুপ্রভাতে সূর্যোদ্বয়ের ভোরে তোমাদের জন্য ভীষণ মন কেমন করে। মনের কি দোষ বলো, মনতো শুধুই খোঁজে মনের মানুষদের কাছেই স্বর্ণঝিনুকের মাঝে মুক্তমনা মানুষের সে অজস্র জমা যত মনের কথা কর্ণফুলী নদীর বহমান উজান স্রোতে মনের ব্যথা। তোমরা ছাড়া কেউ আর আছে আমার আপন আত্মীয় স্বজন পরিচিত এড়িয়ে যায়, এ জীবন। কবিতারা আমার জননী ভগ্নী আদরের নাতনী তারা ভরা আকাশ হতে পরীর ডানা মেলে চন্দ্রানী নেমে কাছে এসে কানের কাছে মুখ এনে, "শ্যামল তোর ভালোবাসার তিতিক্ষায় দূর নক্ষত্রের কেবল তোর জন্য অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রচন্ড ভালোবেসে ! " চুম্বনে কবিতাকে, বলি এই পোড়ামন মৃত্যুর কাছে এসে কেন কাঁদে সারাক্ষণ, কবিতা তোর ভালোবাসার সুখে কাঙাল রইছি ব্যর্থ প্রেমের দুখে, তোর স্পর্শে শিহরণে কবিতা তুই আমার একান্ত আপন, এই গ্রুপের মননে ভুলতে চাই তাকে, যে ছিল কত আপন একাকী যাপিত জীবন তোমাদের মাঝে মনের মানসী কবিতাকে খুঁজি। " কবিতা খোঁজে " আসন্ন কোলকাতার বই মেলার প্রকাশের অপেক্ষায়। সব কবিতা লেখাই -আপনারা আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

Tuesday, 8 November 2016

ভালোবেসে নীল কন্ঠ আজ

আমার আদরের নাতনীকে
ভালোবেসে উৎসর্গিত  এ কবিতা।

ভালবেসে নীল কন্ঠ  আজ

বাঁশিওয়ালা

ভালোবাসা
দুরন্ত ঝড়ের মতন
ভালোবাসার নদী
পদ্মার  তুফান
দুই কূল পারিবারিক
এওর জীবন
সামাজিক,
ধার্মিক পারস্পরিক
কলোহ বিদ্বেষ 
অন্তরদ্বন্দ নির্মাণ
এত প্রতিকূলতা
মাঝেও প্রেমের
বন্যার স্রোতে পাইলে
এসে পাগলি
তুই  নেত্রকোন
থেকে ঢাকা হয়ে এই
লন্ডনের হিথরো
বিশাল বিমান বন্দরে
নির্দৃষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট
লাউঞ্জে দাঁড়িয়েছি,
দূর নক্ষত্রের ক্ষীণ
আলো প্রকাশে মন
প্রাণ  উৎফুল্ল তোকে
দেখেই এ কম্পন।
আমার কাছে
বিমানে উড়ে  আসার
ক্লান্ত শরীর মনে
চাপা ক্ষোভ জেট ল্যাগ।
তোকে বিমর্ষ বিষন্ন
ক্রন্দন রক্তচোখে এ
শুষ্ক মলিনতা, নত মুখ,
ট্রলি ঠেলে আসছিস
এগিয়ে উৎসুক চোখে
খুঁজছিল আমাকে
ভয়ার্ত কালো হরিণীর
চোখেচোখ পড়তেই
ভূমিকম্প স্পন্দন
আলোড়িত দুজনার মন।
কাছেই এসেই গভীর 
আলিঙ্গন পরস্পরে
দু জনের চোখ হতেই
অবিশ্রান্ত  জল প্রপাত।
আক্রান্ত  ভালোবাসায়
সিক্ত আমার হৃদয়।
" তুমি সত্যিই  এতো ভালোবাসা ?
" মৃদু হাস্য
মুখে," ওরে  পাগলী 
ভালোবাসা নিত্তি মেপে,
প্রেমের মুহূর্তে মাহাত্ম্য  
অত কী হিসেব কষে হয় ?
জীবনে হঠাৎই  যখন
পাগলের মত 
আসে এক্কেবারে
সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসায়।
সমুদ্রের ঢেউ প্রচন্ড
বেগে তেড়ে এসে আবর্তিত
ঢেউয়ে ঘূর্ণাবর্তে উঠেছিল বিষ,
" আমি জেনে শুনে বিষ
করেছি পাণ প্রাণের
আশা ছেড়ে 
সে ভালোবাসার বিষ করেছি পাণ।"
পাগলী স্বপ্নের রাজকন্যা
নীল পরী চলন্ত গাড়িতে
আগুন ঊষসী উষ্ণ দেহ
স্পর্শ, আলিঙ্গনে কামার্ত
পাগলীর উত্তপ্ত  আগ্রাসী
চুম্বনের সমৃদ্ধ  অতীতের
সে  স্মৃতি পঞ্চাশ বছরের
পরও এ চলচ্চিত্রায়ান।

মায়ার বন্ধনে মনে পড়ে তোমায়

মায়ার বন্ধন এ মনে পড়ে তোমায়

শ্যামল সোম

অভিমানীর অভিমান না
অসামান্য অনুযোগ নয়।
দৈনন্দিন অভ্যাসের যন্ত্রণা
সহ্য করার মানসিকতায়
ক্লান্ত মন, অশ্রু সজল নয়নে
বিষন্নতায় অবসাদে অপরাহ্ন
কাজের ফাঁকে বা বিনিদ্র রাত্রে
একাকি শয্যায় মনে পড়ে তোমায় এ।
মনামী এক বর্ষণ মুখরিত গোধূলির
রঙে নানা রঙে রাঙানো আকাশের
তলায় কর্ণফুলী নদীর বহমান স্রোতে
দুজনে নির্জনে দ্বৈত ক্রন্দন, প্রেমের
গান, " আমারও পরাণ যাহা চায় ---"।
সীমাবদ্ধতার সীমান্ত পেরিয়ে কোনদিনই
আর পৌঁছনোর স্বপ্ন পূরণ হবে না।
তুমি রয়ে যাবে " দূর দ্বীপ বাসিনী "
তৃষ্ণার্ত মনে কেন বারবার মনে পড়ে
তোমাকেই চাই, রক্তিম সূর্যোদ্বয়ের
ভোরে আজ মানস নেত্রে দেখি শ্বেত
শুভ্র  বসনে দাঁড়িয়ে  আছো উড়ছে চুল
বাতাসে এলোমেলো আঁচল, চোখে জল।
মনে পড়ে তোমায় এ, বিদায় হে আমার
প্রেম -- হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ এ কি আত্মহনন ?