Sunday, 22 January 2017

সই তুই ঈশ্বরকে ডাক

গদ্য  কবিতা
তারিখ--: 22--1--2017

★সই  তুই  ঈশ্বরকে  ডাক ★ পঞ্চাশ বছর আগের লেখা এখনও

ফুলের বাসর ছেড়ে কাল রাতে
তোর দোসর গেছে চলে--
সই ভালোবাসার যাতনা
একা সহিবি কেমন করে ?
এখন সবাই হাতে হাত মিলিয়ে
কেমন হাতে হাতে দিচ্ছে তালি।
পোড়ারমুখী প্রেমে পড়ে তুই
সৈয়দ বংশের নাম ডোবালি ?
হতভাগী ! গোপনে ভালোবেসে
ডুবে ডুবে এত গিললী পানি ?
ঐ দেখ, আড়ালে
একা ঘরে অন্ধকারে
তোর কাঁদেন বসে নানী-।
যাও ! এবার তুমি -
গলায় কলষ বেঁধে
ঐ কাজরী দিঘির পাড়ে যাও।
এই দুপুরে গাছের ডালে
পাতার ফাঁকে
কে ডাকে ? বউ কথা কও !
হারিয়ে গেলো
তোর সেই আপনজন,
তাকে হলো আর পাওয়া--!
নদীর পাড়ে গাছ গাছালি,
দোতলায় নানার বাড়ির
এই গাঁয়ের সব ঘর সন দিয়ে ছাওয়া।
এক পলকেই হবে ছাই !
রাতে ঐ কুপীর আগুনটা
একবার যদি কাছে পাই।
এখনও তুই মনের ভেতর
খুঁজিস কাকে ?
নাই ! নাই ! কেও কোথাও নাই।
নয়ন মেলে দেখ,
কালো এক যমের মতো
ঝুলছে ঐ লম্বা ঘরের কড়িকাঠ-- !
আঁধার রাতে
শেয়ালের ডাক শোনা যায়--
বাড়ে বুকের কাঁপন- দুরে শ্মশাণ ঘাট।
পরনের রঙিন শাড়ী হাতে নিয়ে,
আনমনে সই এখনও
তুই স্বপ্ন দেখিস বসে ?
সাজানো পালকির সাথে
তোর দোসর
আবার বুঝি দাঁড়িয়েছে দুয়ারে এসে ?
রাত পোহালো এলো দিনের আলো-
এখন ফজরের ঐ আযান ভেসে আসে।

শুভেচ্ছা বার্তা

রবীন্দ্রনাথের গান এল মোর প্রাণে
" যদি প্রেম দিলে না প্রাণে
তবে ভোরের আকাশ ভরে
দিলে কেন এমন গানে গানে।
প্রভু আমার তাইতো হেথায়
এলে নেমে।
আমার বিশ্বাস  এক মাত্র  প্রাণের প্রিয়
আমার পথের পথিক নির্দেশক প্রভুর
কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রেম নিবেদন।
রবীন্দ্রনাথের গান, " আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে করবো নিবেদন
আমার ব্যথার পুজা  হয় নি সমাপন !"
এর জন্য  চাই সাধন।
অপূর্ব লিখেছেন, ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা বার্তা

শ্যামল  সোম

যাঁরা ভীষণ ভাল 
লেখেন অথচ
লেখার স্বীকৃতি
না পাওয়ার
বেদনায় বেদানার্ত
হৃদয়ে সাড়া দেয় না
পোষ্ট করার  ইচ্ছে।

অনুরোধ করবো
দোহাই  লিখো
যদি বন্ধু ভাবো।
" সময় থাকতে
সাধন হল না"
সময় হচ্ছে
সেই অচীন পাখি,
" খাঁচার ভিতর অচিন
ক্যামনে  আসে যায়।"
আহাম্মক অনধিকার
চর্চার ক্ষমা করবেন ।
কেন লিখলাম
আমার মতই
এই খেতে শুতেই
দিন চলে যায় দিনের পরে
দিন দিন বেড়েই যায় প্রভুর
কাছে অপরিশোদ্ধ  ঋণ।
দিন বহে যায় সময়ের
বহমান স্রোতে
এখন শুনি নিজের
কান্না নিজের বুকে কান পেতে।

রম্য রচনা। সত্য কথার সাত খুন মাফ

সত্য  কথার সাত খুন মাফ            ( রম্য রচনা - দোহাই কেউ রাগ করবেন আগেই মাফ চাইছি )

শ্যামল   সোম

অখন্ড ভারতবর্ষের  সম্পর্ক সম্রাট  আলেকজানদার বলেছিলেন -" সত্যই  সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ ?
" সাত কোটি সন্তান রে জননী মানুষ করো নি, " ( দেশ ও গর্ভবতী  জননীদের কথাই বলছিলেন
কিনা জানা নেই, আজও যখন দেখি ভারতবর্ষে ও বিভিন্ন দেশে কিছু জননী নারী পাচার চক্রের সঙ্গে
আড়কাটি কাজ করে বা ধর্ষিতার কিশোরী বিপক্ষে নিজের পুত্রকে শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে মিথ্যাচার
করেন তখন মহাভারতের  ঐ গান্ধারী কথা মনে পড়ে যখন দূরশাসন দ্রোপতির চুলের মুঠি ধরে প্রকাশ্য
রাজনৈতিক সভায় দ্রোপতি পঞ্চ স্বামী  সহ অন্যান্য পুরুষ  উদাসীন, নির্লিপ্ত কেহ হয়তো উৎসুক নগ্ন দেহ
দর্শনে উদগ্রীব।
আজও  যখন ভারতবর্ষে বিভিন্ন প্রদেশে দৈনন্দিন প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতার শিকার
হচ্ছেন আমাদের  এই একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে তখন এ বৃদ্ধের চোখে আসে জল প্রচন্ড ক্ষোভ মাফ করবেন
ভাবাবেগে পাগলের প্রলাপ।
শৈশবে শিশুটি গর্ভ ধারণ, প্রতি পালন, স্তন দান,  অক্ষর পরিচয়, নৈতিক শিক্ষা, গান শোনে শিশু সে কাকে প্রথম
ভালোবাসে কার স্নেহে  আদরে প্রতিপালিত হন, ভালো মানুষ করে গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেন কে
তিনি আমাদের সকলের গর্ভবতী জননী প্রণাম  জানাই।
তাঁদের  অপরিসীম ত্যাগের প্রতীক স্বরূপ উন্মোচিত আলোকিত মানুষ মানুষের জন্য যারা ভাবেন তিনি আমাদের
মমতাময়ী তিনি জননী ফেরাও আমাকে এক সুন্দর ও শান্তির রাজ্যে।
মা মাগো জননীদের কাছেই আমার  একান্ত ব্যক্তিগত প্রার্থনা মঙল কল্যাণ করো মা মাগো তোমাদের চরণে
যদি পাই ঠাঁই স্বর্গ  এ বসবাসে শান্তির  আবাস।

হঠাৎই  নেই পড়ল কোন অধিকারে হস্তক্ষেপ করছি সমাজের সামাজিক প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করছি কেন,
পাগলের প্রলাপ সংলাপ  ভেবে মার্জনা করবেন।

বাংলা সাহিত্য চর্চা সাধনা ঐ কেরানীর কাজ চল্লিশ বছর ধরে করে এসেছি, লেখার সুযোগ বা উৎসাহ কৈশোরে
যৌবনের প্রারম্ভে চেষ্টা করতাম।
আজও  এই বৃদ্ধ জরাগ্রস্ত জরাজীর্ণ অসুস্থ  দেহে  চেষ্টা করছি মাগো, আমার নব্বই বছরে জীবিত জননীর
আশীর্বাদে।
সোজা  কথা  সরল ভাবেই লিখি থাকে না যথার্থ শব্দ চয়ন, শৈল্পিক লিখন শৈলী শৈল্পিক নান্দনিক কাব্যিক অপূর্ব
চিত্রকল্প বিমোহিত মনমুগ্ধকর কাব্যের স্ফুলিঙ্গ কাব্যে ছন্দের বিমূর্ত প্রতীক স্বরূপ উন্মোচিত আলোকিত বিন্যাস
মাধুর্য, কিছুই পাবেন না  নিষ্ফল এই আমার লেখাতে-- এ যেন পাগলের প্রলাপ মনের গোপন কথা পড়ে ক্লান্ত
বিরক্ত  হলে ক্ষমা করবেন আমাকে।

আমার লেখার অক্ষমতা  আমাকে খুব কষ্ট দেয় কাঁটা ফোটে গায়ে, আহাম্মক  অনধিকার চর্চা সাহিত্য কাব্যে
বিশুদ্ধ পানির আপনাদের সাহিত্য প্রতিভার বহমান প্রবাহ এ কাব্য সঙ্গমে দূরে দাঁড়িয়ে অনুভব করি কী সব
আশ্চর্য কী অসাধারণ সব রঙ বেরঙের লেখা প্রতিটি কবিতা আপনাদের লেখা সাহিত্যের  উদ্যানে ফুটে উঠছে
ফুল আপনাদের কাব্যের  সৌরভের সারা বিশ্বের বাংলা ভাষি  মানুষ মুগ্ধ  হচ্ছেন  আপনাদের লেখাতে।

এটি আমার নিজস্ব  অভিজ্ঞতা আমার উপলব্ধি মাফ করবেন জ্ঞানী মানুষ  হিসেবে।

জননীদের ভগ্নীদের কন্যার লেখা  আমার মন ছুঁইয়ে ছিল মাত্র মাগো তোমাদের লেখা ও আমার  সামান্য
লেখা কৃপা করে মন্তব্য করার জন্য কৃতজ্ঞ রইলাম জননী অনুপ্রাণিত  করো আপন সন্তানের মতন।
দোহাই  আপনাদের  যাঁরা  অসন্তুষ্ট হলেন ক্ষমা করবেন প্লিজ।

আমার সহজ সরল মায়ের  লেখা বোনের লেখা  উল্লেখ পাবেন পরবর্তি লেখাতে।

আমার জননীদের  বোনদের সাহিত্যে জ্ঞানের বর্তিকা বহন কারী
এই দাদাভাইয়ের স্নেহাশিস সাথে নত মুখে কুর্নিশ জানাই ।
বয়সে ছোট ছোট হলেও সাহিত্য চর্চা সাধনে লিখনে
আমার চেয়ে অনেক উর্ধে, অবশ্যই জননী সব কাজেই
পরম যতনে ধৈর্যে একনিষ্ঠ সাধিকা, কাব্যে  ভজনে সাধনায়
আমার ব্যক্তিগত এ মতামত  তাঁরা সাহিত্য জগতে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস  সেলিনা হোসেনের মতন সাহিত্যিক  এগিয়ে আসছেন।

নাটক জননী কি যৌন দাসী?

জননী কি আজ যৌন দাসী  ?    ( এ নাটকটি মঞ্চস্থ করার চেষ্টাও করছি, একটি নারী ও একটা পুরুষ) গোধূলির লগ্নে নদীর                  

সৃজনে অভিনয়ে

শ্যামল সোম ও সুচেতনা মুখার্জি

পুরুষ --: প্রশ্নটা অনেকেই মনে আঘাত পাবেন, জানি ক্ষমা করবেন।

এই সে নারী যুগ যুগ যুগান্তর ধরে ধর্ষিতা হয়ে আসছেন
প্রস্তর যুগ থেকেই  যখন যে কোন পুরুষের ছিল অধিকার
হয়তো আপন পুত্র সন্তান যে মাতৃদুগ্ধ পানে, প্রতিপালিত
মাতৃ স্নেহে, সেও যোয়ান বয়ষে মাতৃ যোনী কলঙ্কিত করে।

নারী---: না না না ও ওহ আহ আহ  ( ক্রন্দন - বুকফাটা আর্তনাদ)

পুরুষ--: শম্ভু মিত্রের রাজা অয়াদিপাউস, অভিশপ্ত  জীবন অদৃষ্ট পরিণামে নিজের অজান্তে আপন জননীকে
                 শয্যা সঙ্গিনী আত্মগ্লানি বোধে চুলের কাঁটা দিয়ে শিহরিত  আর্তনাদে উবড়ে ফেলেন দুই চোখ।

নারী---:  না না না, না কাছে এসো না, স্পর্শ করবে না খবরদার ! আহ আহ ছেড়ে দাও - ছেড়ে দাও ( আর্তনাদ কান্না)

নারী--:  আহ আহ  আআআমার দেহ শরীর আমার নয় শৈশবের বিভৎস স্মৃতি- - আহ আহ কষ্ট  হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছিল
              প্রেম ভালোবাসা এই এ  শরীরটা নরম মাংসে হিংস্র পশুর দংশন।
               এই এই দেখুন  এখন দাগ রয়েছে।

পুরুষ- -: বহুদিন আগে না এখন - খোলা আকাশে তলায় শৃঙ্খলিত  উলঙ্গ  নারী শরীর ছূঁয়ে ধনী ক্রেতা বাদি কেনার        র     অছিলায়।
এখন জোর যার মুল্লুক  তার --নারী নদী মতন ভালোবাসার দরকার নেই, দৈহিক সুখের সন্ধানে অতর্কিতে
বাঘের মতন ঝাঁপিয়ে রাস্তায় মানুষের সামনেই  নির্যাতন অত্যাচার ধর্ষন জন্য ধর্ষন মাথায় পাথর মেরে বিভৎস করো যেন চিনতে না পারে কেউ।

ঋত্বিক ঘটকের  সুবর্ণরেখা চলচ্চিত্র  দেখবেন  আপনার ছোট বোনের কাছে না জেনে দাদাভাইয়ের আগমণ।

নারী--: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য পুরাণে  আছে -- যুধিষ্ঠি পাশা খেলাতে দ্রোপতি  সন্মতি ছাড়াই বাজি রেখে হেরে গেলেন।
            প্রকাশ্য  রাজনৈতিক  সভায় দ্রোপতি চুলের মুঠি  ধরে টেনে হিঁচড়ে বস্ত্র হরণ করছেন, নগ্ন করছেন।
             বীর পুরুষের সমানে কেউ কোন প্রতিবাদ করছেন না, সবাই  নিশ্চুপ ছিলেন।
              দ্রোপতিকে পঞ্চ বীর্য ধারী স্বামীরা ভোগ করছেন।
               আজও একবিংশ শতাব্দীতে আমার এই শরীর দেহ ক্ষত বিক্ষত লাশ  হয়ে নীরবে সহ্য করতে হয়।

পুরুষ --: শোন আমিনা  না আশা যা হোক- - তোমার রূপে মুগ্ধ  হয়ে তোমার শ্বশুর  রাতেই তাঁর অদম্য আগ্রহে
               তোমার স্বামীর অবর্তমানে তোমাকে ভালোবেসেই  ধর্ষন করেছেন।
                গ্রামের  এই সালিশী সভায় উপস্থিত সবার সন্মতি  নিয়ে ফতোয়া দেয়া হলো -- আজ থেকে ঐ শশুড়ের
                 সাথেই স্বামী  স্ত্রী সম্পর্ক- -- আর যার সঙ্গে  তোমার প্রথমে  বিবাহ হয়েছিল সে এখন থেকেই তোমার পুত্রের
           মতনই থাকবে, না না না মেয়েছেলে কোন কথা  থাকতে পারে না।

রোদন ভরা বসন্ত

রোদন ভরা বসন্ত     ( গল্প হলেও সত্য )

শ্যামল  সোম

আমার এক দুখি  হতভাগী কন্যা
রূপের বন্যায়  আমোদে আহ্লাদে
শৈশব কৈশোরে কোলকাতার
বালিগঞ্জ  এলাকায় পশ এরিয়া
আমার বন্ধু সমীর মুখার্জি যাদবপুর
ইনজিনিয়ারিং বিশ্ব বিদ্যালয়ের নামী
প্রফেসর হাসিখুশি মানুষ জ্ঞানিগুনি
ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন  আদরের সুমি সুস্মিতা
একমাত্র কন্যা তার রাত দিন বায়না
বাসনার শেষ নেই, সুমির মা তিনি একটি
ঐ লেডি ব্রেবন কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের
অধ্যাপিকা অবন্তিকা তিনিও আমার বান্ধবী।
যেমন অপরূপ সৌন্দর্য  প্রতি বছর চৌদ্দ মেয়ের
অহংকারিনী ক্লাসে কখন সেকেন্ড  হয়নি।
নাচ শিখতে থানকুনি কুট্টি  কাছে, ভারত নাট্যম
রবীন্দ্রনাথ সরোবরে লেক ক্লাবে সাঁতার শিখতে
গাড়িতে, তৈরী  হয়েই ছুটতো অবশ্যই গাড়িতে
কোলকাতার  নামী স্কুলে LA  MARRTIN SCHOOL.
একদিন সুমিকে প্রশ্ন করলাম, " হাঁ রে সুমি এত সব
সামলানো এতো সহজ নয়, "
ঝাঁপিয়ে আমার গলা জরিয়ে, " I HAVE TRIED TO TOUCH THE SKY
TO BE LOVED YOU DEAR UNCLE.
সবাইর ওর বাপি, মা, মায়া মামী উচছসিত  অট্টহাসি মাঝেই
উচ্ছাসে আমার গালে চুমু খাওয়ার পরে লজ্জায়  লাল
রাঙা শিমুল ফুটে উঠলো, আকাশে গোধূলির রঙের বাহার।

ঝরা পাতা গো আমি  তোমারি দলে
অনেক হাসি  অনেক  অশ্রু জলে।

ক্রমশ  চলবে।

বটবৃক্ষের বিচ্ছেদের গল্প

বটবৃক্ষের বিচ্ছেদের গল্প   ( অল্প অল্প  গল্প  লেখার প্রয়াস কল্পনায় লেখা )

শ্যামল  সোম

আমি এক সুপ্রাচীন বৃদ্ধ  বটবৃক্ষ  হে সনামধন্য বিখ্যাত বাংলা ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদ  পরিবারের সদস্যদের
আধুনিক এ প্রজন্মের পরিজন পরিচিতদের  আত্মীয় স্বজনদের বাংলা ভাষার ঐতিহ্য  এর ধারক বাহক বিশ্ব
সাহিত্যের  বাংলা ভাষা আশা ভরসা ঐ বিশ্ব দরবারে অনলস লেখার পরিশ্রমে এই ফেসবুকের মাধ্যমেই
আপনাদের  অসামান্য লিখন শৈলীর জন্য মুগ্ধ হয়ে থাকি, প্রতিদিন  প্রতিনিয়ত শ্রদ্ধার সম্মানের সাথে মন্তব্য
করে থাকি, সংকুচিত হই, আপনাদের সাবলীল শব্দের  অলংকরণে চিত্রকল্প ছন্দের বিমূর্ত প্রতীক স্বরূপ উন্মোচিত
আলোকিত  বাংলা সাহিত্যের  প্রাঙ্গণে শতসহস্র গোলাপ ফুলের সৌরভে সুবাসিত বিভিন্ন গ্রুপের জননী ভগ্নী কন্যা নাতনীদের এবং ভাইয়েদের  লেখা পড়ে বিমোহিত মুগ্ধ হয়ে থাকি।
আপনাদের  উষ্ণ অভিনন্দন ও শতসহস্র গোলাপ ফুলেল শুভেচ্ছা জানাই।

জননী গো আমার  শৈশবে যখন তুমি  এক পরপুরুষ পরকীয় প্রেমে পড়ে, রাতের রাত  মৈথুনে মশগুল মাঝে মাঝে শুনতাম  শীৎকার ধ্বনি উচ্চারিত নানা অভিব্যক্তি  পরম আহ্লাদে শিহরিত শরীরে  শারিরীক সুখ গলে গলে চুইয়ে
পড়তো উত্তপ্ত দেহ বেয়ে, বহমান নদীর কুলকুল স্রোতে তোমরা ভেসে যেতে দুজনে।
আমি  পাশের ঐ ছিটে বেড়ার ঘরে বিস্ময়ে হতবাক  নৈঃশব্দে স্তব্ধ আঁধারে সম্পূর্ণ একা একাই  কাঁদতাম।

সে পুরুষের  আকর্ষণে, পরে বিবাহের  প্রতিশ্রুতি পালনে, যেদিন আমার বৃদ্ধা  দিদিমা কাছে একা রেখে
চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছ বিদেশে হাবিব নূতন স্বামী  সাথে, তোমার পরণে মেরুন রঙের বেনারসী
কপালে টিকলি, কানে ঝুমকো, নাকে নোলক,  মাথায়  সিঁথিতে নূতন লাল সিঁদুর, সত্যিই খুব সুন্দর লাগছিল।
আমাকে ডাকলে কাছে আসতে, পাঁচ বছরের  আমি অভিমানে বিষন্ন মনে দৌড়ে  ছুটছি ছুটছিলাম এই প্রাচীন
বটবৃক্ষের কাছেই, বিষাক্ত হুলের কামড় এ জ্বলছিল ভীষন জ্বলছিল।

আপনারা জ্ঞানীগুনী কবি  সাহিত্যিক আমার মত শিশুর মনের কষ্ট  বুঝবেন, যার নিজের বাপ পালিয়েছেন
আমার তিন বছর বয়সে, জননী চলে যাচ্ছেন  অন্য কোন দেশে অন্য কোন পুরুষের সাথে।
বিবাহ বিচ্ছিন্ন  মাতা পিতামাতার  নিঃসঙ্গ শিশুর মানসিক যন্ত্রনা কষ্ট  আপনারা তো বুঝবেন।

ব্রেক আপ গল্প

ব্রেক আপ গল্প 

শ্যামল সোম

কোলকাতার  এয়ারপোর্টকে নেতাজীর নামে কেউ ডাকে?
এয়ারপোর্ট  এল লাউঞ্জ বসে দুজনে রজত আর সুস্মিতা পরস্পরের দিকে তাকিয়েই রয়েছে, পাঁচ বছরের সম্পর্ক
আজ ভেঙে চুরমার, তিন বছরেও  উপরে কোর্টসিপ প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার পর এক শ্রাবণের বৃষ্টির ঝরা
পূর্ণিমার রাত বিনিদ্র ফুলশয্যা, ফুলে ফুলে সাজানো বাসর শয্যা রাতে আপ্যায়ন  এই বিশাল পাঁচতলা এপারটমেনট
সুস্মিতার পছন্দে সাজানো pink colour বেডরুমের জানলা দরজার পর্দা আসবাব সৌখিন  তেরাকোঠার কারুকার্য
প্রাচুর্য সম্পদের বাহুল্য  বিলাসিতার ঢালাও মনোরম পরিবেশে সুস্মিতাকে রানি রঙের বেনারসী সোনা আর যূঁই ফুলের
গহনা পরিহিতা কনেবউ সাজে সুমির ঈষৎ লাজে রাঙা হাস্য উচ্ছল জ্বল জ্বল দৃষ্টিপাতে রজতে বুকে ভূমিকম্প কম্পন
অনুভূত হল, বিমোহিত নিষ্পলক তাকিয়েছিলো এ কে তার তিন বছরের প্রেমিকা সুমি, নারীর নানা রূপে মুগ্ধ করে
পুরুষদের  এ এক আশ্চর্য ক্ষমতা।
সে রাতে বন্য দাঁতাল শুয়োরের মতন সুমির দেহের অভ্যন্তরীণ কোষে তন্ন তন্ন করে রজত ঘর্মাক্ত শরীরে সরীসৃপের মত
খুঁজছিল ভালোবাসা প্রেম নারীর মন।

হতভাগ্য পুরুষ কোন সন্ধান পায় তন্ন তন্ন খুঁজেও নারীর মন?

সুস্মিতার নিজে software Engineer আই বি এম কোম্পানির  উচ্চ পদস্থ অফিসার সারাদিনের পর ও সংসারে একনিষ্ঠ
কর্মী, রজতের সাংবাদিক জীবন একটি সংবাদ চ্যানেলে দায়িত্বশীল সি এ ও গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে সুমি চিকেন গরম
করতে গিয়ে শুনলো রাতে মদ্যপ গলা, " leave it  darling I had took my dinner with someone, come to me
Let enjoy night is to young too--" সারারাত চলতো দেহের মধ্যেই মন খোঁজার পালা, ঝালাপালা sex maniac
সেটা বুঝেছিলো সুস্মিতা মরিশাস হনি মুনে গিয়ে।

অসহায়ায় পরিস্থিতির শিকার হয়েছে সুস্মিতা, যে ফিজিক্স অনার্স সেকেন্ড  হয়েছিল যাদবপুর University তে,
Chips নিয়ে গবেষণার কাজ চলছে, হঠাৎই ধূমকেতু  এলো রজত চক্রবর্তী সুদর্শন যুবক প্রাণ  উৎফুল্ল উচ্ছল
স্বাস্থ্যবান সুঠাম চেহারা দেখেই সুস্মিতার গান শুনে পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলো।
কোর্টের নির্দেশে এখন বিবাহ বিচ্ছিন্ন যেন কত অচেনা নারী পুরুষ ভাবছে সুস্মিতা, সুমি ফিরে যাচ্ছে নিউইয়র্ক  ওর মা বাপির কাছে, ইচ্ছে করেই সব ব্যবস্থা নিজেই করেছে এক University scholarship পেয়েছে, নারী হয়ে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চায়, announced  হলো সুস্মিতার লাগেজ  আগেই রজতের সাংবাদিক পরিচিতিতে উঠে গেছে।
দুজনে উঠে দাঁড়াল পরস্পরের দিকে চেয়ে রয়েছে, হঠাৎই  একটা খাম বেশ করে রজত দেয়।
সুস্মিতা জানে, এগিয়ে দুহাতে রজতে গভীর  আলিঙ্গনে শেষ বিদায়ের চুম্বনের পর সুস্মিতা  কাঁদতে কাঁদতে দ্রুত 
চলে যায়, চোখের আড়ালে রজত হৃদয়ে শূন্যতা  অনুভব করে।
গভীর দীর্ঘশ্বাস বের হবার পর  এয়ারপোর্ট রোড ধরে গাড়ি চালাচ্ছে রজত, সিগারেট মুখে সামান্য মদ্য সেবনে আত্মগ্লানির ঘোরে আছে সে।

হঠাৎই বৃষ্টি পড়ছে আজই বাইশে শ্রাবণ  এক পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় শুভদৃষ্টি  হয়েছিল।

গাড়ির প্রায়  সামনে এসে পড়ে ছিলেন একজন  অপূর্ব সুন্দরী যৌনবতী শিকারের সন্ধানে।

গাড়িতে তুলে নেয়, লাস্যময়ীর ছলাকলা উত্তপ্ত চুম্বন শরীরে শরীরের বিভিন্ন  অঙ্গে  অঙ্গে  লাবণ্য  আর লালসায়
লাম্পট্য রজত কে সব হারানো ব্যাথা বেদনা কী পারবে ঐ দেহ পসারিনী স্বৈরিণী নারী ?

সেটা জানতে হলে সিনেমা হল  গিয়ে দেখতে হবেই ভবিষ্যতের পরিণতির জন্য । ধন্যবাদ জানাই