Sunday, 30 April 2017

কবিতা গুলি

পাগলি কবিতা

শ্যামল সোম

কবিতা ওদেরকে
কোথ  হতে জোটালি?
ভ্রমরের মতন গুঞ্জন
নয়নে নয়ন বিগলিত
মন প্রাণ দেহ সমর্পণ।
সুখ  গলেগলে ঝরছে
কবিতা তোর শব্দ পড়ছে,
শ্রাবণের বৃষ্টি তুই কবিতা।
উৎফুল্ল উচ্ছল জ্বল জ্বল
বাহাত্তর সালের কবিতা
তোর সাথেই বৃষ্টিস্নাত তুই
গঙ্গার ঘাটে কাব্যময় সই।
জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ আজ তাই
ফুরিয়ে গলে প্রেম পিরীতি
ধূসর আকাশে বিলীন ফ্যাকাশে।
প্রেমিকদের ভীড়ে আড়ালে
নির্জনে একা আমি দাঁড়িয়ে।
তুই ফিরেও তাকালি না
আজ এতই অচেনা।
কবিতা যৌবনে ছলনা,
গদগদ কন্ঠে, দুহাতে  জড়িয়ে,
" শ্যাম তোমাকে ভালোবাসি
ভীষণ ভালবাসি গো, তুমিই
আমার  আকাশ নীলাকাশ
তিন সত্যি ঠিক দেখো আজীবন
এই কবিতাই থাকবে সঙ্গে গো।
আজ আর প্রেম নেই তাই না?
বাতিল, আমি কি এতই নিষ্প্রাণ।

বিভাগ- -: গদ্য  কবিতা
তারিখ ---: 30 -- 4-- 17

★সই  তুই  ঈশ্বরকে  ডাক ★ পঞ্চাশ বছর আগের লেখা এখনও ভীষণ ভাল লাগে, ভুলতে পারিনি তাঁকে।

ফুলের বাসর ছেড়ে কাল রাতে
তোর দোসর গেছে চলে--
সই ভালোবাসার যাতনা
একা সহিবি কেমন করে ?
এখন সবাই হাতে হাত মিলিয়ে
কেমন হাতে হাতে দিচ্ছে তালি।
পোড়ারমুখী প্রেমে পড়ে তুই
সৈয়দ বংশের নাম ডোবালি ?
হতভাগী ! গোপনে ভালোবেসে
ডুবে ডুবে এত গিললী পানি ?
ঐ দেখ, আড়ালে
একা ঘরে অন্ধকারে
তোর কাঁদেন বসে নানী-।
যাও ! এবার তুমি -
গলায় কলষ বেঁধে
ঐ কাজরী দিঘির পাড়ে যাও।
এই দুপুরে গাছের ডালে
পাতার ফাঁকে
কে ডাকে ? বউ কথা কও !
হারিয়ে গেলো
তোর সেই আপনজন,
তাকে হলো আর পাওয়া--!
নদীর পাড়ে গাছ গাছালি,
দোতলায় নানার বাড়ির
এই গাঁয়ের সব ঘর সন দিয়ে ছাওয়া।
এক পলকেই হবে ছাই !
রাতে ঐ কুপীর আগুনটা
একবার যদি কাছে পাই।
এখনও তুই মনের ভেতর
খুঁজিস কাকে ?
নাই ! নাই ! কেও কোথাও নাই।
নয়ন মেলে দেখ,
কালো এক যমের মতো
ঝুলছে ঐ লম্বা ঘরের কড়িকাঠ-- !
আঁধার রাতে
শেয়ালের ডাক শোনা যায়--
বাড়ে বুকের কাঁপন- দুরে শ্মশাণ ঘাট।
পরনের রঙিন শাড়ী হাতে নিয়ে,
আনমনে সই এখনও
তুই স্বপ্ন দেখিস বসে ?
সাজানো পালকির সাথে
তোর দোসর
আবার বুঝি দাঁড়িয়েছে দুয়ারে এসে ?
রাত পোহালো এলো দিনের আলো-
এখন ফজরের ঐ আযান ভেসে আসে।

আমার ঝুমুর

শ্যামল সোম

নারীর  আছে ষষ্ঠ  ইন্দ্রিয়
বোধ হতে ঠিক টের পায়
নারীর আপন সে মহিমায়
গোপনে কে ভালোবাসায়
সিক্ত মন পুলকে আপ্লুত
বর্ষায় বৃষ্টির ধারায় হারায়।
ঝুমুর তোমার পায়ে নূপুরের
ধ্বনি শ্যামে অপেক্ষায় আছে।
ভালোবেসে ভরিয়ে দিতে অসময়ে
তোমার প্রতিভা সম্পন্ন বিশাল হৃদয়।
উচ্চ কন্ঠে বলতে দ্বিধা নেই তোমাকে
ভালোবাসি গুনমুগ্ধ বিমোহিত বিমুগ্ধ।

শ্যামল সোম

বিভাগ -: পদ্য
তারিখ-: 18-4-17

মেঘ বালিকা বৃষ্টি হবি

শ্যামল  সোম

এই পাগলী  মেয়ে
তুই বৃষ্টি হবি?
বৃষ্টির শ্রাবণের
ধারা হয়ে অঝরে
পড়বি ঝরে আমার 
বুকের পড়ে।
বৃষ্টি তোর ধারায়
ভিজছি দে নগ্ন শরীর 
দে তোর দেহের
পরস্পরের
উত্তপ্ত চুম্বন;
অঝরে শরীর বেয়ে
কুল কুল করে বহে
যাচ্ছে সুখ, স্বাদ গলে
গলে  পড়ছে আশ,
বন্য  হৃদয়ের বাসনা।
গহীন গোপন যত
জমানো অবিশ্রান্ত
বেদনা নীল পদ্ম
ফুটছে ঐ দীঘিজলে।
বৃষ্টি তোকে জড়িয়ে
দু হাতে শক্ত ধরে
জোরে জাপটে বুকে
ভিজছি দুজনে
সর্বাঙ্গে আলোড়ণ।
তোর অভিমান,
অনুযোগ, অনুরাগ
তৃষ্ণার্ত তোর ঠোঁটে চুম্বনে,
লেহন করছি অশ্রু।
আমার ঘন আলিঙ্গনে
বৃষ্টি তোর ফোঁটা ফোঁটা
জলের স্পর্শে তারা ফুটছে
রাতে আকাশে।
জ্যোৎস্না আলোয়
আমি ফিরে পাচ্ছি
বেঁচে থাকার আনন্দ।

বিভাগ  গদ্য  কবিতা
তারিখ- -:  29 --- 4  -  17

প্রেম আরক্তিম রক্ত করবী

শ্যামল  সোম

উদ্ভাসনে  উদীপ্ত আমার উত্তপ্ত  যৌবনে
গ্রামে গ্রামে শহরে কোলকাতার  একাত্তরে
অশান্ত  উত্তাল ঢেউ ঢেউ পড়ছে  আছড়ে।
বোমা বিস্ফোরণ হত গুলিবিদ্ধ শত যৌবন
বারুদের গন্ধ বাতাসে বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাস
সচল রাখা দায়, এ দায় কার, ঐ যে নির্জন
বনে খালে গঙ্গায় ভাসে শতসহস্র গোলাপ।
তখন আমি সন্ত্রস্ত উদ্বিগ্ন নিশ্চুপ বিপন্ন বিষন্ন
জীবনে, হে প্রেম নীলাঞ্জনা তোমার আবির্ভাব
ক্লান্ত প্রাণ প্রশমিত, সঙ্গীত শ্রমণে, প্রেম সংলাপ
ওগো নেপথ্যচারিনী  দংশনে তুমি ঈশ্বরী না পরী
অপরূপা তুমি এই ডালে ডালে রঞ্জিত রক্তকরবী।
সানাইয়ে সুর জ্যোৎস্নায় অরণ্যে ও রোদন ধ্বনি
কেন,ভরা এ বসন্তে ফাগুন হাওয়ায় ক্রন্দন শুনি।
রয়েছো আমার শরীরে আজও ঐ আপন মায়ায়
হঠাৎই একগুচ্ছ রক্তকরবী ফুল ঝরে ভালোবাসায়।
নীলাঞ্জনা, রক্ত করবীর স্পর্শে শিহরণ বহমান নদী
বহে যায় দেহের শিরায়  উপশিরায় প্রেমের গুঞ্জনি।

ফাতোয়া হয়ে গেছে জারি

শ্যামল সোম

ভালোবাসা প্রেম স্নেহ মমতা
ভয়ঙ্কর সামাজিক অমার্জনীয় 
অপরাধে শাস্তি এখন মৃত্যুদন্ড 
সুনিশ্চিত করতে ফতোয়া হয়েছে 
কাল রাতে জারি, শুনি নি তোমরা?
খুন জখম শিশু পাচার, নারীদের
নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতা
ধর্ষন, গণ ধর্ষন রাজি না হলেই
মুখে ছুড়ে মারো এসিড  বোতল।
যার যখন বাসনা হবে প্রাণ চাইবে
খোলা রাজপথ থেকেই চ্যানদোলা
শিশুকন্যা কিশোরী যুবতী, রূপবতী
ষাট বছরের বৃদ্ধা, রেহাই নেই, নেই।
শাস্তি নেই, সাতখুন মাফ,থাকে যদি
টাকাকড়ি, ফেল করি মাখো তেল
জামিন, কোর্ট  আদালত মামলা
দায়ের করার করে বিশ বছর চলার
অহেতু সময় নষ্ট  আপোষ করে চলো।
এসব ফান মজা শুধুই মজা খোল্লা
খুললাম প্রেম  একেবারে সিনেমা মত
আসিকি জীবন বৃষ্টির প্রেম ঝরছে
মজা,মজা লুঠে নে রে বাজারে লুট নে।
তবে হাঁ  ঐ ভালোবাসা প্রেম করলেই
হাড়ি কাটে, গিলোটিনে এক কোপেই
ঘচাং,  প্রানে ভয় থাকলে মানবিকতা
ভুলে সবাই পৈশাচিক আনন্দ সানাও।

কেমন লেখাটি হচ্ছে  সুপ্রভাত বন্ধু আমার?গদ্য  কবিতা

তারিখ- -: 28 -- 4 -- 17

ভালোবাসার মানুষকেই খুঁজি

শ্যামল সোম

মনের মানুষ মনেই আছে সে
শ্রাবণ মাসের মেলায়  আসে।
কীর্তনখোলার নদীর পারে ধারে
গেয়ে গান নেচে নেচে ঘুরে ফিরে।
দোতারাতে সে বেঁধেছে যে সু - রে
সে সুরে সুরে মন যে আমার বহুদূরে
ঢাকাতে তোমার প্রেমে হারিয়ে গেছি।

তুমি জীবন্ত কবিতা -তোমার জন্যই আমার এ  লেখা।

প্রিয় কবিতা জন্য প্রতিক্ষা

শ্যামল  সোম

আমি অপেক্ষায় থাকি
আমার  মনের যত জমা কথা
হৃদয়ের গোপন ব্যথা
কাকে বলি ?
কে শোনে?
আপন সুখ দুখের সাথে
মিলে মিশে আপনি আছি।
তবু মাঝে মাঝে মনে হয়
এক জন অনন্ত বন্ধু
মনের মতো
পাশে থাকলে বেশ হতো
মনের কথা মনে
চেপে না রেখে
বন্ধুকে খুলে বললে
মনের ওপর চাপ কমে যেত।
বলবার জন্যে তন্ন তন্ন করে
খুঁজে ফিরি শেষে কাউকে না
পেয়ে একা একা তন্দ্রাহারা।
তন্ময় হয়ে নিজের লেখা
নিজেই পড়ি,
শব্দগুলো উলটে পালটে
মনের ইচ্ছে সাজাই।
আমার কবিতা তুমি মাঝ রাতে
চুপিচুপি এসে, আমার শিয়রে
অভিসারে সেজে খোপায়
যূঁই ফুলের মালা জড়িয়ে
পায়ে নূপুরের সুর তুলে,
তোমার  ঐ সুর্মা আঁকা চোখ
ছল ছল দৃষ্টিতে, তাকিয়ে থাকা
একাকীত্ব দূর করতে
পাশে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মতো
পাশে এসে বসা
নরম হাতের ছোঁয়া
কবিতা তোমার কাঁদে কাঁদা
কখন তোমার  হেসে ওঠায়
আমার মুখে হাসি
কবিতা তুমি তো জানো
কতটা তোমাকে ভালোবাসি
শব্দের  অলংকরণ চিত্রকল্প 
ছন্দে ছন্দে  আনন্দে ভাসি।

একাত্তরের ঘাতক  ইতিহাস
সবই যেন  এ আজ পরিহাস,
কেউ কি  বোজে যাতনার হাহুতাশ
সত্তর সালের, জ্বলছে দুই বাংলা।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে
বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের রক্তাক্ত
ইতিহাস ওদেশ মুক্তি যুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস
পশ্চিম বাংলার মাটিতে ঝরছে রক্ত
নকশাল বাড়ির আন্দোলন।
বুজবেন ইতিহাসের  পূনাবৃত্তি ঘটবে যখন
জ্বলবে আগুন নেভানোর নেই কেউ তখন।

ফিরে দেখা ইতিহাস

শ্যামল সোম

একাত্তরের বিশ্বাসঘাতকের ইতিহাস
হাস্য মুখে সবইর এ বিদ্রুপি পরিহাস,
কেউ কি  বোজে যাতনার হাহুতাশ;
রঙিন পেয়ালায় চুমুক শুধুই উল্লাস।
ওৎকালিন বিপন্ন সময়ের আমি সাক্ষী
উনিশো সত্তর সালের, জ্বলছে দুই বাংলা।
তখন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা গণআন্দোলন
আপন বাঙালির সাংস্কৃতিক সভ্যতা নন্দন
নান্দনিক বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের রক্তাক্ত
ইতিহাস, শত্রুর আঘাতে লক্ষাধিক শহীদের
মৃত্যু বরণ রাঙা  হল বুড়ি গঙ্গা নদীর পানি
না জল নিষ্ফল প্রয়াস লক্ষাধিক নারীর গ্লানি 
আত্মহনন ব্যর্থ হল কি মহামানব মানবীর ধ্বনি।

পশ্চিমবঙ্গ ও এদেশ বিপ্লবের ডাক স্বপ্নে জনযুদ্ধ
মুক্তি সংগ্রামের রক্তাক্ত ইতিহাস ও বিপ্লবীর সংখ্যা
নগন্য, পথ ছিল ভুল কি বেঠিক মূল্যায়ন হবে কালে।
পশ্চিম বাংলার মাটিতে ঝরছে রক্ত, লাশ খানে ওখানে
লাশ, গণ  কবর, চিতা জ্বলছে আগুন মধুমাসে ফাল্গুনে
সাফল্যে লাভ ক্ষতি ইতিহাসে নকশাল বাড়ির আন্দোলন।
কে আর মনে রাখে বুজবে  কি? 
ইতিহাসের  পূনাবৃত্তি ঘটবে যখন
জ্বলবে আগুন নেভানোর,
দেখা যাবে নেই কেউ তখন।

Friday, 28 April 2017

কালবৈশাখী ঝড়

বিভাগ  গদ্য কবিতা
তারিখ- -: 25 - 4 - 17

কালবৈশাখী ঝড়

শ্যামল  সোম

উনিশো সত্তর সালে ভয়ঙ্কর
সে এক মহাকালবৈশাখী ঝড়ে
দানব মেঘ দৈত্যদের মহা তান্ডবে
লন্ড ভন্ড করে ভেঙেছে শতশত ঘর।
কোটি চাল চুলো হীন শরণার্থীদের
সাথে শিবিরে পরবাসে বাস, যন্ত্রনায়;
এ প্রজন্মের কেউ কখন শোকাচ্ছন্ন
মুহ্যমান হয় নাকো আজ, সেই ভয়াবহ
কালবৈশাখী ঝরে লক্ষ লক্ষ  পড়ে
ছিল লাশ, লাঞ্ছিতা নারী জননীর সে
হাহাকার ক্রন্দন ধ্বনি শুনি এ বুকে।
মহানন্দে রয়েছে সবাই, একা আমিই
একমাত্র বকে যাই পাগলের প্রলাপ।
ঈশান কোনে ঐ কি অশনি সংকেত
আবার কি ফিরবে কালবৈশাখী ঝড় ?
হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে এ সাঁকো ?
দোহাই তোমাদের কাছে প্রার্থনা করি।
বিস্মৃত  ইতিহাস পড়ে দেখো, সাঁকো
মজবুত করে রেখো, ঐ মহা প্রলয়ের
কালবৈশাখীর ঝরে পরস্পরে হাতে
হাত ধরে বাংলাভাষার অক্ষর মর্যাদা
অক্ষুণ্ণ তোমারা নিশ্চয়ই ভাই বোন রেখো।

ফতোয়া হয়ে গেছে জারি

ফতোয়া হয়ে গেছে জারি

শ্যামল সোম

ভালোবাসা প্রেম স্নেহ মমতা
ভয়ঙ্কর সামাজিক অমার্জনীয় 
অপরাধে শাস্তি এখন মৃত্যুদন্ড 
সুনিশ্চিত করতে ফতোয়া হয়েছে 
কাল রাতে জারি, শুনি নি তোমরা?
খুন জখম শিশু পাচার, নারীদের
নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতা
ধর্ষন, গণ ধর্ষন রাজি না হলেই
মুখে ছুড়ে মারো এসিড  বোতল।
যার যখন বাসনা হবে প্রাণ চাইবে
খোলা রাজপথ থেকেই চ্যানদোলা
শিশুকন্যা কিশোরী যুবতী, রূপবতী
ষাট বছরের বৃদ্ধা, রেহাই নেই, নেই।
শাস্তি নেই, সাতখুন মাফ,থাকে যদি
টাকাকড়ি, ফেল করি মাখো তেল
জামিন, কোর্ট  আদালত মামলা
দায়ের করার করে বিশ বছর চলার
অহেতু সময় নষ্ট  আপোষ করে চলো।
এসব ফান মজা শুধুই মজা খোল্লা
খুললাম প্রেম  একেবারে সিনেমা মত
আসিকি জীবন বৃষ্টির প্রেম ঝর ঝরছে
মজা,মজা লুঠে নে রে বাজারে লুট নে।
তবে হাঁ  ঐ ভালোবাসা প্রেম করলেই
হাড়ি কাটে, গিলোটিনে এক কোপেই
ঘচাং,  প্রানে ভয় থাকলে মানবিকতা
ভুলে  মাতাল পৈশাচিক আনন্দ মাতাও।

প্রেম আরক্তিম রক্ত করবী

বিভাগ  গদ্য  কবিতা
তারিখ- -:  29 --- 4  -  17

প্রেম আরক্তিম রক্ত করবী

শ্যামল  সোম

উদ্ভাসনে  উদীপ্ত আমার উত্তপ্ত  যৌবনে
গ্রামে গ্রামে শহরে কোলকাতার  একাত্তরে
অশান্ত  উত্তাল ঢেউ ঢেউ পড়ছে  আছড়ে,
বোমা বিস্ফোরণ হত গুলিবিদ্ধ শত যৌবন
বারুদের গন্ধ বাতাসে বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাস
সচল রাখা দায়, এ দায় কার, ঐ যে নির্জন
বনে খালে গঙ্গায় ভেসে শতসহস্র গোলাপ।
তখন আমি সন্ত্রস্ত উদ্বিগ্ন নিশ্চুপ বিপন্ন বিষন্ন
জীবনে, হে প্রেম নীলাঞ্জনা তোমার আবির্ভাব
ক্লান্ত প্রাণ প্রশমিত, সঙ্গীত শ্রমণে, প্রেম সংলাপ
ওগো নেপথ্যচারিনী  দংশনে তুমি ঈশ্বরী না পরী
অপরূপা তুমি এই ডালে ডালে রঞ্জিত রক্তকরবী।
সানাইয়ে সুর জ্যোৎস্নায় অরণ্যে ও রোদন ধ্বনি
কেন,ভরা এ বসন্তে ফাগুন হাওয়ায় ক্রন্দন শুনি।
রয়েছো আমার শরীরে আজও ঐ আপন মায়ায়
হঠাৎই একগুচ্ছ রক্তকরবী ফুল ঝরে ভালোবাসায়।
নীলাঞ্জনা, রক্ত করবীর স্পর্শে শিহরণ বহমান নদী
বহে যায় দেহের শিরায়  উপশিরায় প্রেমের গুঞ্জনি।

Thursday, 20 April 2017

শেষের কবিতা নিই পত্র সাহিত্য

পত্র সাহিত্য
তারিখ ---: সাতই পৌষ মাস 1972 পুন লিখন তারিখ--- 20 -- 4 -- 17

লাবণ্য  আকতারকে খোলা চিঠি

শ্যামল  সোম

লাবণ্য  উনিশো বাহাত্তর সালে কোন বৃষ্টি ঝরা শীতে  দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের  অত্যাধুনিক  আজও
রোমান্টিক  উপন্যাস  ঐতিহাসিক শাশ্বত সুন্দর সত্য  বিখ্যাত  উপন্যাস " শেষে কবিতা " পড়ছিলাম দুজনে এক সাথে
কখন তুমি পড়ছো ক্লান্ত হলে বিশ্রাম চা কফি কখন পেস্তা  বাদামের সরবত  কাবাব টিকিয়া মুখ চলছে।

তুমি প্রেমাচ্ছন্ন চোখে পড়তে  শুরু করতেই  ঝাঁপিয়ে নামলো বৃষ্টি ।
ঢাকার বিখ্যাত কাঁথা সেলাই করা বালাপোষ খানা গানে ভালো করে জরিপে নিয়েই  লাবণ্য তোমার দিকে তাকিয়ে শুনছি বৃষ্টি মতন সুমধুর স্বরে সুরে শেষের কবিতা পড়ছো।

( "  সেদিন পিকনিকে গঙ্গার ধারে যখন ও পারের ঘন কালো পুঞ্জীভূত স-ব্ধতার উপরে চাঁদ উঠল, ওর পাশে ছিল লিলি গাঙ্গুলি। তাকে ও মৃদুস-রে বললে, “গঙ্গার ও পারে ঐ নতুন চাঁদ, আর এ পারে তুমি আর আমি, এমন সমাবেশটি অনন-কালের মধ্যে কোনাদিনই আর হবে না”।

প্রথমটা লিলি গাঙ্গুলির মন এক মুহূর্তে ছল্‌ছলিয়ে উঠেছিল; কিন্তু সে জানত, এ কথাটায় যতখানি সত্য সে কেবল ঐ বলার কায়দাটুকুর মধ্যেই। তার বেশি দাবি করতে গেলে বুদবুদের উপরকার বর্নচ্ছটাকে দাবি করা হয়। তাই নিজেকে ক্ষণকালের ঘোর-লাগা থেকে ঠেলা দিয়ে লিলি হেসে উঠল, বললে, “অমিট, তুমি যা বললে সেটা এত বেশি সত্য যে, না বললেও চলত। এই মাত্র যে ব্যাঙটা টপ করে জলে লাফিয়ে পড়ল এটাও তো অনন-কালের মধ্যে আর কোনাদিন ঘটবে না”।

অমিত হেসে উঠে বললে, “তফাত আছে, একেবারে অসীম তফাত। আজকের সন্ধ্যাবেলায় ঐ ব্যাঙের লাফানোটা একটা খাপছাড়া ছেঁড়া জিনিস। কিন্তু তোমাতে আমাতে চাঁদেতে, গঙ্গার ধারায়, আকাশের তারায়, একটা সম্পূর্ণ ঐকতানিক সৃষ্টি–বেটোফেনের চন্দ্রালোক-গীতিকা। আমার মনে হয় যেন বিশ্বকর্মার কারখানায় একটা পাগলা স্বর্গীয় স্যাকরা আছে; সে যেমনি একটি নিখুঁত সুগোল সোনার চক্রে নীলার সঙ্গে হীরে এবং হীরের সঙ্গে পান্না লাগিয়ে এক প্রহরের আঙটি সম্পূর্ণ করলে আমনি দিলে সেটা সমুদ্রের জলে ফেলে, আর তাকে খুঁজে পাবে না কেউ”।

“ভালোই হল, তোমার ভাবনা রইল না, অমিট, বিশ্বকর্মার স্যাকরার বিল তোমাকে শুধতে হবে না”। “কিন্তু লিল, কোটি কোটি যুগের পর যদি দৈবাৎ তোমাতে আমাতে মঙ্গলগ্রহের লাল অরন্যের ছায়ায় তার কোনো-একটা হাজার-ক্রোশী খালের ধারে মুখোমুখি দেকা হয়, আর যদি শকুন-লার সেই জেলেটা বোয়াল মাছের পেট চিরে আজকের এই অপরূপ সোনার মূহূর্তটিকে আমাদের সামনে এনে ধরে, চমকে উঠে মুখ-চাওয়া-চাউয়ি করব, তার পরে কী হবে ভেবে দেখো”।

লিলি অমিতকে পাখার বাড়ি তাড়না করে বললে, “তার পরে সোনার মুহূর্তটি অন্যমনে খসে পড়বে সমুদ্রের জলে। আর তাকে পাওয়া যাবে না। পাগলা স্যাকরার গড়া এমন তোমার কত মূহুূর্ত খসে পড়ে গেছে, ভুলে গেছ বলে তার হিসেব নেই”।

এই বলে লিলি তাড়াতাড়ি উঠে তার সখীদের সঙ্গে গিয়ে যোগ দিলে। অনেক ঘটনার মধ্যে এই একটা ঘটনার নমুনা দেওয়া গেল।

অমিতর বোন সিসি-লিসিরা ওকে বলে, “আমি তুমি বিয়ে কর না কেন?” অমিত বলে, “বিয়ে ব্যাপারটায় সকলের চেয়ে জরুরি হচ্ছে পাত্রী, তার নীচেই পাত্র”। সিসি বলে, “অবাক করলে, মেয়ে এত আছে”।

অমিত বলে, “মেয়ে বিয়ে করত সেই পুরাকালে লক্ষণ মিলিয়ে। আমি চাই পাত্রী আপন পরিচয়েই যার পরিচয়, জগতে যে অদ্বিতীয়।”

সি সি বলে, “তোমার ঘরে এলেই তুমি হবে প্রথম, সে হবে দ্বিতীয়, তোমার পরিচয়েই হবে তার পরিচয়”। অমিত বলে, “আমি মনে মনে যে মেয়ের ব্যর্থ প্রত্যাশায় ঘটকালি করি সে গরঠিকানা মেয়ে। প্রায়ই সে ঘর পর্যন- এসে পৌঁছয় না। সে আকাশ থেকে পড়ন- তারা, হৃদয়ের বায়ুমন্ডল ছুঁতে-না-ছুঁতেই জ্বলে ওঠে, বাতাসে যায় মিলিয়ে, বাস’ঘরের মাটি পর্যন- আসা ঘটেই ওঠে না।”

সিসি বলে, “অর্থাৎ সে তোমার বোনেদের মতো একটুও না”।

অমিত বলে, “অর্থাৎ, সে ঘরে এসে কেবল ঘরের লোকেরই সংখ্যা বৃদ্ধি করে না।”

লিসি বলে, “আচ্ছা ভাই সিসি, বিমি বোস তো অমির জন্যে পথ চেয়ে তাকিয়ে আছে, ইশারা করলেই ছুটে এসে পড়ে, তাকে ওর পছন্দ নয় কেন? বলে, তার কালচার নেই। কেন ভাই, সে তো এম,এ-তে বটানিতে ফারস্ট্‌। বিদ্যেকেই তো বলে কালচার।”

অমিত বলে, “কমল-হীরের পাথরটাকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে তাকেই বলে কালচার। পাথরের ভার আছে, আলোর আছে দীপ্তি।” ")

লাবণ্য  দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে -- "  শ্যামল কি  আশ্চর্য ব্যাপার কত প্রাসঙ্গিক সমাজের বুদ্ধিমান মানুষ মানুষের জন্য  অবশ্য পাঠ্য কিন্তু অদ্ভুত  শেষের কবিতা না পড়ে
আবোল তাবোল শতসহস্র কোটি কোটি কবি লিখছে আবার ছাপাচ্ছে  যা অপচয়, ---- "

আমি হাসতে হাসতে বলি ---" তবু বাংলা ভাষার চর্চা করেন এরা সবাইকে আমি কুর্নিশ জানাই -- "
" সালাম বল " হোহো করে ঝর্নার মতন হেসে লাবণ্য  আকতার।

আমি গলায় মাধুর্যের মধু ঢেলে লাবণ্য কে শেষের কবিতা পাঠ  করছি ---

( "" সভাপতি উঠে বললে, ‘কবিমাত্রের উচিত পঁচিশ থেকে ত্রিশ পর্যন-। এ কথা বলব না যে পরবর্তীদের কাছ থেকে আরো ভালো কিছু চাই, বলব অন্য কিছু চাই। ফজলি আম ফুরালে বলব না, আনো ফজরিতর আম; বলব, নতুন বাজার থেকে বড়ো দেখে আতা নিয়ে এসো তো হে। ডাব-নারকেলের মেয়াদ অল্প, সে রসের মেয়াদ; ঝুনো নারকেলের মেয়াদ বেশি; সে শাঁসের মেয়াদ। কবিরা হল ক্ষণজীবী, ফিলজফরের বয়সের গাছপাথর নেই।… রবি ঠাকুরের বিরুদ্ধে সব চেয়ে বড়ো নালিশ এই যে,বুড়ো ওয়ার্ডস্বার্থের নকল করে ভদ্রলোক অতি অন্যায়রকম বেঁচে আছে। যম বাতি নিবিয়ে দেবার জন্যে থেকে থেকে ফরাশ পাঠায়, তবু লোকটা দাাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চৌকির হাতা আঁকড়িয়ে থাকে। ও যদি মানে মানে নিজেই সরে না পড়ে, আমাদের কর্তব্য ওর সভা ছেড়ে দল বেঁধে উঠে আসা। পরবর্তী যিনি আসবেন তিনিও তাল ঠুকেই গর্জাতে গর্জাতে আসবেন যে, তাঁর রাজত্বের অবসান নেই, অমরা বর্তী বাঁধা থাকবে মর্তে তাঁরই দরজায়। কিছুকাল ভক্তরা দেবে মাল্যচন্দন, খাওয়াবে পেট ভরিয়ে, সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করবে, তার পরে আসবে তাঁকে বলি দেবার পুন্যদিন-ভক্তিবন্ধন থেকে ভক্তদের পরিত্রাণের শুভলগ্ন। আফ্রিকার চতুষ্পদ দেবতার পুজোর প্রনালী এই রকমই। দ্বিপদী ত্রিপদী চতুষ্পদী চতুর্দশপদী দেবতাদের পুজোও এই নিয়মে। পূজা জিনিসটাকে একঘেয়ে করে তোলার মতো অপবিত্র অধার্মিকতা আর- কিছু হতে পারে না। … ভালো-লাগার এভোল্যুশন আছে। পাঁচ বছর পূর্বেকার ভালো-লাগা পাঁচ বছর পরেও যদি এই জায়গায় খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে তা হলে বুঝতে হবে, বেচারা জানতে পারে নি যে সে মরে গেছে। একটু ঠেলা মারলেই তার নিজের কাছে প্রমাণ হবে যে, সেন্টিমেন্টাল আত্মীয়েরা তার অনে-্যষ্টি- সৎকার করতে বিলম্ব করেছিল, বোধ করি উপযুক্ত উত্তরাধিকারীকে চিরকাল ফাঁকি দেবার মতলবে। রবি ঠাকুরের দলের এই অবৈধ ষড়যন্ত্র আমি পাবলিকের কাছে প্রকাশ করব বলে প্রতিজ্ঞা করেছি।’ )

শেষের কবিতার উপন্যাসের  অমিতে লেখা বলাবাহুল্য  এ কবিতাও রবীন্দ্রনাথের  এই রবীন্দ্রনাথ জন্য  লাবণ্য  ও আমার বন্ধুত্বের কাছাকাছি এসেছিলাম।

আনিলাম
অপরিচিতের নাম
ধরনীতে,
পরিচিত জনতার সরনীতে।
আমি আগনত্তক,
আমি জনগণেশের প্রচন্ড কৌতুক।
খোলো দ্বার,
বার্তা আনিয়াছি বিধাতার।
মহাকালেম্বর
পাঠায়েছে দুর্লক্ষ্য অক্ষর,
বল্‌ দুৎসাহসী কে কে
মৃত্যু পণ রেখে
দিবি তার দুরূহ উত্তর।
শুনিবে না।
মুঢ়তার সেনা
করে পথরোধ।
ব্যর্ত ক্রোধ
হুংকারিয়া পড়ে বুকে-
তরঙ্গের নিষ্ফলতা
নিত্য যথা
মরে মাথা ঠুকে
শৈলতট-পরে
আত্মঘাতী দম্ভভরে।
পুষ্পমাল্য নাহি মোর, রিক্ত বক্ষতল,
নাহি বর্ম অঙ্গদ কুন্ডল।
শূন্য এ ললাটপটে লিখা
গুঢ় জয়টিকা।
ছিন্নকস’া দরিদ্রের বেশ।  ???
করিব নিঃশেষ
তোমার ভান্ডার।
খোলা খোলা দ্বার।
অকস্মাৎ
বাড়ায়েছি হাত,
যা দিবার দাও অচিরাৎ!
বক্ষ তব কেঁপে ওঠে, কম্পিত অর্গল,
পৃথ্বী টলমল।
ভয়ে আর্ত উঠিছে চীৎকারি
দিগন- বিদারি-
‘ফিরে যা এখনি,
রে দুর্দান- দুরন- ভিখারি,
তোর কন্ঠধ্বনি
ঘুরি ঘুরি
নিশীথনিদ্রার বক্ষে হানে তীব্র ছুরি।’
অস্ত্র আনো।
ঝঞ্চ্র নিয়া আমার পঞ্জরে হানো।
মৃত্যুরে মারুক মৃত্যু, অক্ষয় এ প্রাণ
করি যাব দান।
শৃঙ্খল জড়াও তবে,
বাঁধো মোরে, খন্ড খন্ড হবে
মুহূর্তে চকিতে-
মুক্তি তব আমারি মুক্তিতে।
শাস্ত্র আনো।
হানো মোরে, হানো।
পন্ডিতে পন্ডিতে
ঊর্ধ্ব স্বরে চাহিবে খন্ডিতে
দিব্য বানী।
জানি জানি,
তর্কবাণ
হয়ে যাবে খান-খান।
মুক্ত হবে জীর্ণ বাক্যে আচ্ছন্ন দু চোখ,
হেরিবে আলোক।
অগ্নি জ্বালো।

Wednesday, 19 April 2017

শ্যামল সোম এর ও ঝর্নার লেখা শ্যামল সোম আমার দাদাভাইয়া

কীর্তন খোলার নদীর বহমান উজান
স্রোতে ভাসিয়ে এসেছি প্রেম
উনিশ বাহাত্তর সালে।
তুমিই আমার বাংলাদেশের বোন
ঝর্না তুমি দেখালে ভালোবাসা স্বপন।

শ্যামল সোম

পদ্য কবিতা

20 --- 4 --17

♥♥স্বপ্নের নদী কীর্তন খোলা♥♥
       ♦ডাঃ ফারহানা আক্তার ফ্লোরা ♥

[প্রিয় কবি শ্যামল সোম যিনি বাঁশিওয়ালার নামেও পরিচিত সেই  কোলকাতার ভাইয়া  তার স্মরণে লিখা ]

যে নদী এক দিন তোমায় টেনে এনে ছিলো
বহু দূর থেকে এপার বাংলায়
আজ কেনো ভুলে যাও তুমি সেই,
ফেলে আসা ছোট্ট বেলার শৈশব কাটানো
তোমার প্রিয় ভালোবাসা ভরা এপার বাংলার ছবি।

আমি যে সেই কবে থেকে চেয়ে আছি পথ চেয়ে
আমার সেই ভালবাসার বাঁশিওয়ালা কে,
একটি বার প্রাণ ভরে দেখবো বলে
আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো কবে পাবো?

আমার স্বপ্নের সেই চিরো সবুজ স্বপ্ন বিভোর
ভালবাসার পাগল আদরের কাঙাল
সেতো ঐ পাড়ে থাকে অজানা কোন গাঁয়ে,
শুনেছিলাম বহু দিন আগে,
সে বার যখন শেষ বার কথা হয়েছিলো তার সাথে।

আজও ভুলিনি আমি তাকে ভুলবনা কোন দিন
এই দেহে যতো দিন প্রাণ থাকে,
অপেক্ষমান এই বাংলায় আছি অপেক্ষাতে
দেখি কবে দাওদেখা তোমার সেই
প্রিয় নদী কীর্তন খোলার ধারেই থাকবো দাঁড়িয়ে।

স্বপ্নের বাঁশিওয়ালা তুমি আসবে ফাল্গুনের
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম লাল নিয়ে ভরিয়ে দিবে চারদিক
প্রেমের নানান রঙে রাঙ্গাবে উৎফুল্ল চিত্তে,
তৃষ্ণার্থ চোখে তাকিয়ে দেখবে তোমার সেই কবে
ফেলে যাওয়া এপার বাংলার আদরের ঝর্ণা বোনটিকে।
স্বাগতম সুস্বাগতম সুপ্রভাতে এই বন্ধু  আপনাকে জানাই অফুরন্ত উষ্ণ অভিনন্দন।

উত্তরে আমি অনুপ্রাণিত হয়ে লিখছি আমার হারিয়ে যাওয়া ঝর্না বোনের উদ্দেশ্যে

ভালোবেসে  বাংলাদেশে

শ্যামল সোম

জননী, বোন, ভাইদের বাংলাদেশের ভালো মানুষের সাথে
আমার বাংলাদেশে বারে বারে ফিরে ফিরে আসা শিকড়ের
সন্ধানে বাংলাদেশের ভালোবাসার মানুষের খোঁজে বিভিন্ন
জেলায় জেলায় কতশত নদীর বহমান অনুপ্রেরণার স্রোতে।

এ কথা বলা অশোভন,  অন্যায়, শাস্তি যোগ্য, কিন্তু মাটির মায়া
কীর্তনখোলা, সোমেশ্বরী, শীতলক্ষা, রূপশা, মেঘনা নদীতে স্নান
নদীর বুকে অবগাহনে, রাঙামাটি, কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে
তোমাদের সাথে দল বেঁধে উনিশো বাহাত্তর সালে বনানীর সাথে
যাওয়া, না বিশ্বাস করেন মূহুর্ত জন্য মনে হয় নাই আমি বিদেশী।

আজকাল যখন যখন এপার ওপার বাংলার কবিদের ভাগ করে
দেন ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল  ঐ তেইশে ফেবরুয়ারী অনুষ্ঠানে, আমি
একটু দূরে একা বসলাম, কবিকে ভাগ করা যায় সীমান্তের শক্ত
কাঁটাতারের বেড়ার প্রাচীর তুলে ?
ভাষা,  বাংলা ভাষা সাংস্কৃতিক সঙ্গীত, জয়নাল আবেদিন, জীবনানন্দ দাশ
এপারের না ওপারের মধু পল্লী সবাই হেসে উঠলেন, মধুসূদন আমাদের।
বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে, প্রতিবাদ গর্জে বললেন, " কেন আপনি  বিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলামের  " কাণ্ডারী হুশিয়ার " কবিতা ভালো করে পড়েন নি?"
বোন,ভাই  যদি কিছু মনে না করো একটা কথা বলি দেশটি কিন্তু
ছিলো সে সময়, আজও  বাংলাদেশেকে ভালোবাসি ভীষণ।
আমার সোনা দেশ বলে ভাবি, শিকড়ের টান ছেঁড়া পাতা  নয় যে ঝরে
এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক করবে অনেকেই।
ভালোবাসায় কারুর খবরদারি আমি বরদাস্ত করব না,ভাই ও বোন।
ইদানিং চুপ করে থাকি যখন জিজ্ঞেস করেন কেউ জন্মভূমি ?
শরণার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ পাবে বোন চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগে শব্দ তুমি
বা নাতনি শুনতে পাবে অনুভবে হৃদয়ে গহীন অন্তরে অন্তরে ভিতরে বাহিরে।