Wednesday, 27 September 2017

ফেরারী প্রেম

ফেরারী  প্রেম

শ্যামল সোম

শ্রাবণী পূর্ণিমার চাঁদের জ্যোৎস্না ছিলে তুমি
সদ্য যৌবনে প্রারম্ভিক প্রেম ভালবাসার গল্প
মনে হলেও সত্যি একদিন পরস্পরের কাছে
কত কাছাকাছিই না ছিলাম, ঘনিষ্ঠ  সান্নিধ্য।
শ্রাবণে বর্ষায় সোনা ঝরা আসন্ন সন্ধ্যায় ধরে
হাত দুজনে কোলকাতার বহমান গঙ্গার ধারে
ঝমঝম বৃষ্টির জলে দুজনে ভিজেছিলাম সিক্ত
শিহরিত শরীরে শিহরণ বহমান রক্তের গভীরে।
পরস্পরের কাছ থেকে এই  দূরে দূরে থেকেও 
শ্রাবণী আমাদের কেন মনে মনে  এত অশ্রুপাত
সুখের স্মৃতি কেন আছড়ে পড়ে হৃদয়ের সমুদ্রে।
এত ভালোলাগাো ফোনে তুমি নিউজার্সি থেকে
গেয়ে শোনালে ,রবি ঠাকুরের গান, " দূরে কোথায় দূরে দূরে ! "
পুরাতন প্রেম হায় যদি মনে যায় মন নীরবে কাঁদে,
আমাদের হৃদয়, স্পর্শকাতর ভালোবাসা ফেরে
বারেবারে অনুভবে অনুরোরণ এই  আলোড়িত
দুজনার মন, শীতার্ত রাতে প্রথম প্রেমের উষ্ণ
আলিঙ্গন প্রথম চুম্বন ফাল্গুনের কৃষ্ণচূড়ার গাছে
গাছে লালে লাল হয়ে বসন্তের উত্তাল  এ বাতাসে।

Monday, 25 September 2017

সোহিনী সোহাগী আমার

সোহিনী সোহাগী আমার

শ্যামল  সোম

তুমি সেই চলে যাওয়ার পর
বাসা খাঁ খাঁ করছে এই  ঘর।
মনে পড়ে, সংসার স্মৃতির ঝড়
দৈনন্দিন ব্যথিত হৃদয়ে গোপন
বেদন তোমাকে মদ্যপ দৈত্যের
মতন শরীরে তন্ন তন্ন খুঁজছি
আমার হারানো প্রেম, কবিতা
লিখতে না পরার যন্ত্রনা সে ব্যথা
অক্ষমতা মদ্যপানে তৃষ্ণার্ত কবি
আর্তনাদ ক্রন্দন হাহাকার হুশ
হারিয় ঘুমিয়ে পড়তাম বহুদিন।
ছ’মাস নির্যাতন অত্যাচার সহ্য
না পেরে চলে গেলে সোহিনী তুমিই
তুমিই  ছিলে অনুপ্রেরণার যৌবন
প্রথম প্রেম সলজ্জ চোখে চোখ
পড়তেই দুজনের হৃদয়ের স্পন্দন।
আমরা ভালোবাসার ভেলায় ভাসা
সেদিন পরস্পরকে ভালোলেগেছিল
দুজনের হৃদয়ে জ্বলে উঠে রংমশালে
রঙিন  আলো আলোকিত জ্যোৎস্না।
সত্যই কেউই কাউকে ছেড়ে থাকতে
নিদারুন কষ্ট হচ্ছিল খুব জড়িয়ে কান্না
তোমার সে কান্নায় ছলাৎ ছলাৎ বহমান
নদীর ভাঙনে প্রচন্ড  হৃদয়ে ভূমিকম্প।
আমাদের যৌথ আবেদনে, সেই ফাল্গুনে
গোধূলি লগ্নে শুভক্ষণে মালা বদল দুজনে।
দস্তখত করে  দুজনে দুজনের দিকে মুগ্ধ
চোখে চোখ অপলক  দৃষ্টি স্বপ্নের  জলছবি।
গতমাসে বিবাহ বিচ্ছেদ শেষ  যবনিকা পতন।
মুহুর্তেই কোর্টের বিচারেঅপরিচিত ছন্দপতন
পরস্পরে দিকে নজর আলাদা বেক্কলে আমি
ফ্যালফ্যাল চোখ দেখছি রাগে কষ্টে থমথম
রক্তিম তোমার লাবণ্য মসৃণ মুখ শেষ হয়ে
গেল  এ দাম্পত্য নতুন করে সাজিয়ে নিও
নতুন কোন সাজে দিওরাঙিয়ে নতুন সে ঘর,
ঘরের ভেতর নতুন শুভ্র সুখ শয্যায় নূতন বর।
হঠাৎই তিন বছরের যৌথ ভালোবেসে বিবাহিত
দ্বৈত জীবন, কাশ্মীরে মধু চন্দ্রিমা আদরের
সোহিনী  আজও মনে পড়ে বর্ষায় শৈত্য  উষ্ণতা
কেন খোঁজে মন এত করি বারণ তবু মানে মন।

Friday, 22 September 2017

আত্মাভিমানীর ক্ষোভ

তারিখ 22-- 9--17

পুরুষ আমি আত্মাভিমানে ক্ষোভ  ( জনৈকা কবি কবিতা পাঠ  অনুপ্রাণিত)

শ্যামল  সোম

হাজার হাজার ধরে হাঁটছি কাব্যময়
সত্যই তোমার মত প্রেমময় নয় হৃদয়।
আমার অন্তত একটি কবিতা বিনিময়ে
দুঃসময় কাব্য কৈশোর যৌবনের দৈন্য!
অধরা আজো জরাজীর্ণ বৃদ্ধ বয়ষে নগ্ন
সত্য সত্যিই হলো অপর্ণা তোমার ঐ সুখে
আহ্লাদে এ রোমশ বুকে লুকিয়ে রাখা মুখে
ফিসফিস শুনি কানেকানে শব্দটি,ভালবাসি,
আলো মূহুর্তে ছড়িয়েপড়লো ভ্রমরচোখে ভাসি।
মায়াময় জ্যোৎস্নায় তোমার দেহ রোমাঞ্চিত
স্পর্শে, তুমিই সেই আমার আদরের কবিতা
ক্লান্তিকর আত্মবিলাপ রাতে  বৃথাই ব্যস্ততা।
ছড়ানো পরিত্যক্ত অসমাপ্ত ছেঁড়া যত লেখা
মদ্যপ মাতাল নেশাগ্রস্ত হই হলোনা তো শেখা।
অথচ তুমি অধ্যাপনা, আমাকে সামলে কখন
লেখো অপর্ণা জাদুকরী এমন কবিতা ভানুমতী
আমি ঈর্ষান্বিত এ মন প্রেমে দহণে ঋদ্ধ ঋতুমতী।
যুগেযুগে কন্যা তুমি লাঞ্ছিত বঞ্চিত কাব্য রচনায়
আশ্চর্য গুহা মানবী তুমিই  এঁকেছিলে গুহা চিত্র
প্রেমময়ী আত্মাভিমানে পৌরুষেরঅহংকার ক্ষুব্ধ
প্রেমে পরাজিত ব্যর্থ প্রেমিক নতজানু হই সম্মুখে।

দেশে দেশে শরণার্থী নানা সীমান্তে

দেশে দেশে শরণার্থী নানা সীমান্তে

শ্যামল  সোম

প্রকৃতি জন্য সংখ্যা ভারসাম্য
বজায় রাখতেই ভূমিকম্প ও
সুনামি গৃহযুদ্ধের আয়োজন,
আনুপাতিক জনসংখ্যা হার
প্রতিনিয়তই ক্রমশ এত  বাড়ছে।
খাদ্য শিক্ষা বাসস্থান মেধা কর্ম
এ জনযুদ্ধ করে বেঁচে থাকা।
নেই প্রকৃতি কাছে রেহাই নেই
স্রষ্টা বিধাতার বিচার প্রাকৃতিক
আক্রোশ প্রতিশোধ  এচোখে
বদলে ওচোখ রক্তাক্ত ইতিহাস
পুন উত্থানের হত্যা অন্তর্ঘাত
দেশমাতৃকার প্রিয় পুত্র ভয়াবহ
নিঃশংস হত্যা দেশেদেশ ঘটে
এ অভিশাপে ধ্বংস অনিবার্য
পাপে অভিশপ্ত কোটি কোটি
শত মূর্খ হত দরিদ্র শরণার্থী
নানান দেশে দেশে প্রাণ ভয়ে
সন্ত্রাসে পালিয়ে এসে অন্য সে
দেশে সীমান্তে ভিখারি মতন
শিবির ত্রাণের আশায় হাহাকার
পরজীবি দয়ায় দেশ ভাগাভাগি
পর ভুক্তভোগী মরা মাত্রই জানি
জানেন ক্ষীণ আলোয় থাকায়
হতভাগ্য শরণার্থী লুণ্ঠিত রয়--
মর্যাদা কারণ পাপে অতীতের
সন্ধানে আত্মসম্মান বিসর্জন
সর্বস্ব হারিয়ে পিতৃভূমি থেকে
বিতাড়িত হবার পর থেকেই
শুধুমাত্র বেঁচেছিলাম সংগ্রামে ।

আমার কবি কবি ভাব উদ্ভ্রান্ত প্রলাপ প্রবন্ধ

আমার কবি করি ভাব উদ্ভ্রান্ত প্রলাপ প্রবন্ধ

শ্যামল  সোম 

" আমি সেইদিন হবো শান্ত যবে উৎপীড়িতে
ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না!"
সৈনিক মহান বিদ্রোহী কবি লিখেছেন, আমি এক
বেকুব বস্তাপচা কটু গন্ধযুক্ত  আজেবাজে অশুদ্ধ
কবিতা না কোপ্তা লিখে লাইক পেয়ে দাঁত কেলিয়ে
বেমালুম ভুলে গেছি, যেমন ভুলে গেছি রবি ঠাকুর
" কবি যদি থাকে প্রাণ  তাই লহ সাথে --- "
"একই  বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান" হে কবি
ছেচল্লিশের দাঙ্গা রক্তাক্ত প্রান্তর দেখেই বাকরুদ্ধ?
আমি ইতিহাস বিস্মৃত কাব্য চর্চার নিঃসৃত  নিষ্ফল
প্রয়াস নেকামি ভালোবাসা না পেলেও প্রেমের
কবিতা লিখে দাঁতাল কবি নিজেই একা একা হাসি
ইতিহাসে অস্ত্রের ব্যবহার প্রস্তর যুগ থেকেই ছিল।
চিরকাল নারীরা শক্তিমান পুরুষের কবলে আদিম
যুগে পণ্য চ্যানেলে নীল ছবিতে  একবিংশ শতাব্দীর 
আজও বিজ্ঞাপনের মডেল ও মাদক চোরাচালান
নিরাপদ বোধে মারণাস্ত্র প্রয়োজন  বাজার দখল।
মুনাফা চাই চাই সহস্র কোটি মরলে পৃথিবী যাদের
তালুতে কি এসে যায় তাঁদের ? পদলেহন করি থাকি
বিদেশে সুখে ঐশ্বর্য প্রাচুর্যে আরামদায়ক জীবন
যাপিত জীবন থেকে বঞ্চিত, তাই শুধু  আমি হাহুতাশ
করি কাব্য চর্চা, না না সামরিক প্রশিক্ষণ নেই কিউবা
রোডেশিয়া লেবানন সিরিয়া ইরাক আফ্রিকার আমি কটা
দেশে নাম জানি মাতৃভূমি পলায়ন কত কোটি স্মরণাগত।
এই মাত্র নাম শুনলাম চেগুয়েভারা মতন,মাও সে তুঙ লাল
ফৌজের নেতৃত্বে বন্দুক  ও কলম চালাতেন জানাছিলো
না আজ 1948 সাল পর উন্নত শীল দেশের মধ্যে 
সম্পর্কিত নিবন্ধ শিরোনামে আজ সে দেশ না বাক
স্বাধীনতা ধর্ম পালনের সিদ্ধান্ত এ শেষ বলে দেশ
সে দেশ অলিম্পিকে সোনার মেডেল পায়,  যা চোখেও
দেখেনি অনেকে অস্ত্র ব্যবসা ইসরাইল রাষ্ট্রের নাগরিক
সামরিক শিক্ষা বাধ্যতা মূলক, মনে দারিদ্র ঘুষখোর লম্পট
Corupted ধনী কর্পোরেট জগতের ব্যক্তিত্ব অধিকারী
পরোক্ষ ভাবে রাষ্ট্র সমাজের পরিচালন করে, আমি
কবি কবি ভাব নিয়ে আঁতেলের মতন শব্দবাজি করি ।

Thursday, 21 September 2017

নগ্ন জীবনের আত্মহনন

উনিশো পঞ্চাশ সালে  পূর্ব পাকিস্তান থেকে দলে দলে শরণার্থীদের আসলেই শুরু হয়েছিল
সেই ছেচল্লিশের ষোলই  আগস্ট DIRECT ACTION  দিন থেকেই কানু  এ সব শুনেছিলাম
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য মশাই কাছ থেকে কানুকে বিনিদ্র
পয়সাতে  পড়াতেন, তখন কানের বছর ছয়েক বয়স মাত্র, আশ্চর্য মানুষের জীবন দারিদ্র্যতা
আর এই মানিকতলা খালে পারে বিশাল বস্তির  নগ্ন সত্য  এই কঠিন  বাস্তবতা  পাঁচ বছরের
কানু বেশ চালাক চতুর ছিলো।
জন্ম থেকেই  দেখে আসছে  বাপ মদন দাসের চোলাই দেশী মদ খেয়ে এসে খিস্তি অশ্লীল
গালি গালাজ, মায়ের চুলের মুচি ধরে প্রচন্ড মারধর লাথি মারার ফলে একবার তার মা
পোয়াতী অবস্থায় রক্ত ধারায় কষ্ট পেতে ছটফট করছে, কানুন তখন পাঁচ বছরের দৌড়ে
মানিক তলার খাল পারে জঙ্গলে গাছে তাই বসে কাঁদে, সত্তর বছর আগের কোলকাতা
মানিক তলার খালের পারাপারের কাটের পোল  মেরামতের অভাবে দুলতো।
কিনতু একটা ব্যাপারে খটকা লাগতো, গভীর রাত্রে মাতাল বাপের সাথে মা সন্ধ্যা বেলাতে
মাতাল বরের হাতে প্রচন্ড মারধরের পরে কান্নাকাটি  শেষে বাপকে খেতে দিত, কানু অস্পষ্ট
স্বরে শুনতো গোঙানি, শীতকালে কাঁথার ভেতর কাঁপতো নানা রকম শব্দে  প্রায় প্রতিরাতে ।
বস্তির  একটা লম্বা  ঘরের সাত ভাই বোন বিধবা নানী দিদিমা অল্প  দূরে বাপ মায়ের বিছানা।
মাঝে মধ্যেই বোনেদের ডাকে ঘুম চোখে পাহারা দিতো কলঘরের টিনের দরজা বাহিরে।
কখন বিরাট বড় ধারি ইঁদুরের  উৎপাতে ভাই বোনের কুপোকাত ।
বেজী গুলো বর্ষার কালে সাপ ধরলে সোঁ সোঁ শব্দ হতো, ঝরের দাপটে ভাঙা কাঠের জানালা
টিনের চাল ফাঁক ফোকর থেকে সুদীর্ঘ বছর ধরেই রাত বিরাতে বালতি গামলা পাততে হতো।

Sunday, 17 September 2017

জীবন যখন যেমন

জীবন যখন যেমন

শ্যামল  সোম

জীবন যখন যেমন, আত্মজীবনী মূলক লেখা, আমি শুনেছি পড়েছি যা নিজের চোখে দেখেছি,  আমায়,  দুঃখ, হতাশা,  ক্রোধ,  বিস্মিত, কখন আনন্দিতা, করেছে, সাথে আমাকে পরিচালনা করছেন তিনি,  রক্ষা করছেন, তাঁর কৃপা,  তাঁর সাথে প্রেমের সম্পর্ক আমার,  জীবন যখন যেমন -সহজেই নিয়েছি মানিয়া।

শৈশবের স্মৃতি

শৈশবের স্মৃতি রোমন্থনে প্রথমে মনে আসে, ভ্রমন।হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছলাম ঘোড়ার গাড়িতে দাদুর বাড়ির কাজের লোক বিশুদা বাক্স ঝোলা ঝুলি নামাচ্ছে, দিদার, হাত আঁকড়ে ধরে, অবাক বিস্ময়ে চোখে স্টেশনে ব্যস্ততা লোকজনের ছোটাছুটি, কুলিদের হাঁকাহাঁকি, ঘন ঘন গা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠছে উত্তেজনায় এই বুঝি রেলগাড়ি দেয় ছেছেড়ে, প্রচন্ড শব্দে বারবার বাজছে হুইসেল। দাদু কুলির মাথায় বেডিং, বাক্স, চাপিয়ে, ধূতির-ধূতির-কোঁচা ধরে ছড়ি হাতে হেলতে দুলতে আসছেন, পেছনে বিশুদার, মাথায় বোঁচকা, হাতে ঝোলা।
    নামাবলী  ঝুলি, দিদা গলায় ঝুলিয়ে হাত আমার টানতে টানতে
নির্দিষ্ট রেলগাড়ি র কামরার কাছে আনলেন।
তখন  আমি বছর পাঁচেক 1950 সাল দূরগা পূজার ছুটি স্কুলে, দাদানের বড় আদরের নাতি, আমার পরনে শেরওয়ানি, পা নাকড়া।
সব জিনিস পত্তর গুছিয়ে রেখেছে বিশুদা, কামরার জানলার ধারে বসে দেখছি কত লোকে কত জায়গায় যাওয়ার জন্য অনেকই, নানা ধান্ধায়, ভ্রমনে বেড়িয়েছে। প্রতি বছরই দাদু তীর্থ ভ্রমনে বেড়োন।
আমরা চলেছি, কাশী, মহা মহেশ্বর দ্বাদশ জ্যোতি লিঙ্গ শিব
যিনি শব হয়ে শুয়ে আছেন প্রকৃতি মহামায়ার পদ তলে।
তীর্থে চলেছি মহা বিশ্বেশ্বর শিব দর্শনে।
অনেকই চলেছেন নানা তীর্থে, সাধু সঙ্গে, সৎ ভক্ত   ভক্তের সাথে মহা মিলন, মৃত্যু, রোগের প্রকোপে ওষ্ঠাগত প্রানে,  মনের শান্তির খোঁজে
- ঈশ্বরের সন্ধানে,  দেব দর্শনে আশায় --
"  আসার আশা কেবল আসা - আসা মাত্রই সার হল,"
রবীন্দ্র নাথ লিখছেন- রাতের গাড়ি-  "এ প্রান রাতের রেলগাড়ি দিল পাড়ি-- কামরায় গাড়ি ভরা ঘুম,  রজনী নিঝুম।---- অতি দূর তীর্থের যাত্রী, ভাষা হীন রাত্রি-- দূরের কোথা যে শেষ ভাবিয়া না পাই উদ্দেশ।। "
রেলগাড়ি দেয় ছাড়ি, চলে গাছ সারি সারি, মাঠ খেত ছাড়িয়ে, নদী নালা পেরিয়ে, মেঘেদের
সাথে সাথে, ধান কাটে হাতে হাতে। চলে রেল, কু ঝিক ঝিক, ওড়ে ধোঁয়া আকাশে তিক তিক। কয়লা পোড়া গন্ধ ভাসে বাতাসে,। আলো জ্বলে পুকুরের জলে ঝিকমিক; চাঁদ উঠে তারা ফোটে আকাশে। চরৈ বতে চরৈ বতে, চলরে মন চলাই জীবন, যেতে হবে যেতে হবে অনেক দূরে, সেই সে মনের মানুষ আছেন সেথায় অচিন পুরে।
অচিন পুর কোথায় জানি না, কিন্তু কাশী আমার কাছে, হৃদয় পুর।
সেই 1950 সালে কাশীর কেদার ঘাটে কাছে দাদুর বন্ধু তাঁর, শিবধাম বাড়ি থেকে গঙ্গার পার দিয়ে দাদুর হাত ধরে হেঁটে হেঁটে একে বিভিন্ন বিকালে গিয়ে বসতাম। দশাশ্বমেধ ঘাটে কাছে ব্রজেশ্বর শিব দর্শন করে এসে বসে শুনছি হাত জোড় করে, দিদা রুদাক্ষের মালা, জপমালা রেশমের থলিতে হাত নেড়ে জপ করছেন, কথক ঠাকুর বলছেন- "হে রাম তোমায় আমি নৌকা করে পার করে দেব না আগে তোমার চরণ যুগল  পূজো বন্দনা করার জন্য আমাকে কৃপা প্রভু!" আমি অবাক হয়ে ভাবছি,  এখন ভাবি, যিনি পরম ব্রহ্ম, তাকে নদী পার করাচ্ছে কূহক মাঝি। আবার জয় রাম বলে হনুমান এক লাফ দিয়ে লঙ্কায় পৌঁছে গেল, এদিকে শ্রী রামচন্দ্রকে লঙ্কায় যেতে সেতু বাঁধতে হল। এই হচ্ছে অবতারের লীলা। রাবণ বধের পর তার মা নীকষা পালাচ্ছে, ডেকে জিজ্ঞেস করতে, তিনি করজোড়ে- হে রাম তোমার অমর লীলা বাসনা আছে প্রভু।অহল্যা বলছেন, হে রাম তুমি এই বর দাও যেন শুয়োরের গর্ভে জন্মে ও তোমায় না ভুলি।আমি আজ এই জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে, প্রার্থনা করি,  হে প্রাণের ঠাকুর রামকৃষ্ণ, আমার আম্মা যে তোমায় চায়, জন্ম জন্ম যেন পাই তোমাকে। এইটুকুই প্রার্থনা প্রভু, যেন কৃপা কৃপা পাই তোমার।
দুই কাশী মাটিতে বাস করে ছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ, দু-দুবার এসেছিনে। শ্রীমা ঠাকুর নশ্বর দেহ ত্যাগের পর শোকাহতা। বলরাম বসু
মায়ের অনুমতি নিয়ে মায়ের কাশী যাত্রার ব্যাবস্থা করেন। কয়েকবার মায়ের কাশীকাশতে লক্ষী নিবাসে
কালে কালে কত শত সাধক, সাধু এই কাশীর গঙ্গা তীরে বসে সাধনা করে আসছেন। আচার্য শঙ্কর, আদিনাথ, পরম বৈষ্ণব মাধবাননদ -রামানন্দ,  রামানন্দ-রামানুজ বহু সাধকের পুঞ্জিপুঞ্জীভূত সাধনার ফল, সহজেই মনে ধ্যান মগ্ন হয়। দাদাভাই গভীর ধ্যানে, চোখে মুখে জ্যোতি।এই ধ্যান করার পদ্ধতি আমি প্রথম শৈশবে শিখলাম দাদাভাই এর কাছে- নিদিষ্ট আসনে মন স্থির মনে ইষ্ট স্মরণ, শ্বাস প্রশ্বাস এর মন সংযোগ, হৃদয়ে ইষ্ট মূর্তি পদ্মাসনে প্রস্ফুটিত পদ্মের উপর উপবিষ্ট।দেহের বিভিন্ন চক্রে মন নিবেশ।
যোগনন্দ, শিবানন্দ, বহু আশ্রমে, বিপাসনা কেন্দ্রে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক বা গুরুর কাছে, প্রাণায়াম শিক্ষা না করলে নয়।

পরম পবিত্র স্থান এই কাশীধাম, স্বয়ং শিব অধিষ্ঠান করছেন।
দাদুভাই--" কাশীবাসের পরে মৃত্যু আমার বন্ধু কাশীনাথের। ঠাকুর বলছেন সে উদ্ধার হয়ে যাবে।" "কী অপরিসীম বিশ্বাস তোমার দাদুভাই" আদর করে বললেন, "ভাই রে ঐ বিশ্বাস সার, বিশ্বাস নিয়ে আছি। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু,  তর্কে বহুদূর।বিশ্বাস করলে, তিনিই সাক্ষাৎ নারায়ণ,  নইলে--, একটা রহস্যময় হাসি হেসে বললেন, কী পাথরের নুড়ি?"
বহু ধর্মাবতারের লীলার ক্ষেত্রে এই ভারতবর্ষে। ভীষণ পবিত্র ভূমি, তাই  কুরুক্ষেত্র, প্রয়াগ, প্রভাস, দ্বারকা, অমরনাথ, কেদারনাথ, প্রতিটি তীর্থে  
রজ- পবিত্র মাটি তীর্থ যাত্রী-যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ফিরতে। ধন্য এ ধুলায় জন্ম।প্রভু ভালোবেসে ধুলায় আছি পড়ে। তোমায় ভালোবেসে ধর্মের
ইতিহাসে, মানব সভ্যতার ইতিহাসের শিখলাম, হে রুদাক্ষ শিব, নারায়ণ, কালী, রাম আবার কৃষ্ণ- রামকৃষ্ণ।
এক তারাতে বেঁধে নিলেম দোতারার--সুর একই দেহে রাম আর কৃষ্ণ সুমধুর।

Saturday, 16 September 2017

তোমার জন্যই আমি

তোমার জন্যই আমি

শ্যামল  সোম

সমুদ্রের ঢেউয়ের আলোড়ন মাঝে
তুমি একা একাই যাও কার খোঁজে?
যে প্রেমিক ফিরে গেছে ভুলে গেছে
মনে রেখে তার স্মৃতি ব্যথিত রয়েছে।
জ্যোৎস্না  রাতে ঐ মেঘনা নদীর সঙ্গম
মোহনায় আমার গোপন আরাধ্য প্রেম
পরস্পরের কাছ থেকে দূরে থেকেও
ভালোবেসে ধন্য আমাদের এ  জীবন।
মোহনা আমার গোপন আরাধ্য প্রেম
পরস্পরের কাছ থেকে দূরে থেকেও
ভালোবেসে ধন্য আমাদের জীবন।
অকপটে স্বীকার করতেই আমার
ভীষণ ভাল লাগে তোমাকে ভালোবাসি
বহুবছর  আগে থেকেই কেন তোমার
অসামান্য লেখা পড়ে ইদানিং বিশেষ কোন
কারণে সময়  অভাবে লিখতে পারছো না।
ভবিষ্যতে আবার সেই একই রকম
অসাধারণ লেখা পড়বো কাব্য।
মোহনা আমার গোপন আরাধ্য প্রেম
পরস্পরের কাছ থেকে দূরে থেকেও
ভালোবেসে ধন্য আমাদের জীবন।

কবিতার খোঁজে শঙ্খচিল

কবিতার খোঁজে শঙ্খচিল

শব্দের মিছিলে শ্যামল সোম

বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ এ
রাঙা আকাশে ওড়ে গাঙচিল
কালো মেয়ের আলো করা
রূপে মুগ্ধতা মোর নয়নে ঝরে।
অসামান্য লিখনে কেড়েছেন মন,
মন হারিয়ে কি করে বাঁচি আজীবন।

সে রূপ কথার
চুপ কথা
হৃদয়ের গোপন ব্যথা।
দু’জনের দুনয়নে
জল বেদনায় আঁখি
ছলছল,প্রেম ভেসে
গেছে  বানে
এখন ফের স্বর্গে উদ্যানে।

এ সাহিত্য ছবি মতন

শ্যামল  সোম

ঠিক যেন ফোটা জলপদ্ম
আমার পছন্দের মনের
মতন  এই গ্রুপের
সবাই এত অসামান্য
অপূর্ব  লেখেন সবাই
সে সব লেখা পড়ার
পরে শুধু  এই ভাবি
এ তো ভালোবাসার
বীজমন্ত্র মেঘনা নদীর
বহমান উজান স্রোতে
ভালোবেসে ভেসে যাই --!
বাংলাদেশের কবি ভাষায়
" আবার আসিব ও ফিরে
এই বাংলায় " ,
বাংলা ভাষার মাতৃভাষার
স্বীকৃতির সংগ্রামে " প্রয়োজনে
দেবো এক নদী রক্ত", মুখের
ভাষা বুকে রুধি ঝরে, উত্তাল
জনতার ঢেউ আছড়ে পড়ে
মুক্তির ঐ জনযুদ্ধের ময়দান
লক্ষ্য লক্ষ্য শহীদ আত্মদান।
ভাষা শহীদ মিনারের মিছিলে
আবার আসিব ফিরে জন্মভূমি
শিকড়ের টান, একুশের গানে
দেখা হলে কিছু কথা হবে,
পারস্পরিক কুশল বার্তা কবিতা
লেখার অনুপ্রেরণা  গ্রন্থ পরিচয়ে
অসংখ ধন্যবাদ আপনাদের সাথে
বিগত বছরের স্মৃতি তাড়িত আমি।
মাফ চাই, রক্তিম  অভিনন্দন কল্যাণ
হোক আপনাদের, বাংলাদেশের
ভালো মানুষ ও কৃপাময়ী  মানসীদের
কাছে আজীবন,  জন্মভূমি বীর সন্তান
তোমাদের ভালোবাসায় ঋণী রইলাম।

ভালোবেসে
ভালোবাসায় আছি

শ্যামল  সোম

মনামী  তোমার
খুব কাছাকাছি
তোমার দেহের
গন্ধে মাতাল হয়ে
ফিরে যাচ্ছি পাগলী
তখনই তুই ঝাঁপিয়ে
পড়লি হিংস্র বাঘিনী।
কালের স্রোতে সে
তোরভালোবাসা হারিয়ে
যায় জন্য ভালোবাসায়।
নেপথ্যে সানাই সুর
ভেসে আসে বিবাহের
আসরে সেই বেদনার
সুরের মূর্ছনায়
হৃদয়ের মাঝারে
অহরহ আজও
বাজে, সানাই এ
বেহাগের বেসুর।
তোর বধুবরণের
পরণে লাল বেনারসী
সিঁথিরসিঁদুর অবরুদ্ধ
কন্ঠে রাঙাঠোঁট নড়ে।
দূরথেকে দেখেছিলাম
তোকে কনে দেখা আহা
গোধূলির রঙ মেলায়
আকাশে ওড়ে চিল 
বড় সুখানুভূতির মিল।
বউ আশা, দ্রুত এসে
কোমরেবাঁধা গামছা
খোলা চুল, দুমদাম
ফেরে চায়ের কাপ,
টকাস করে রেখে
ঘাটে বসে কাঁদছে,
রবি প্রসাদ আমি
বিমূঢ়, উদাসীন 
প্রথম প্রেম কখন
ফেরে না আবার।
বিবাহের বন্ধন শৃঙ্খল
আজ এই বিবাহ বিভ্রাট।
জীবনের ঝড় ঝাপটায়
ভাঙা ডালপালা
মেলে উড়ে গেছে
তাদের দাম্পত্য  
আগুনের পাখী।
বাঘিনী মতো
ছিঁড়ে ছিঁড়ে
খেয়ে ফেল
আমাকে শুধু
হৃদয় টা
বাদে দিয়ে  এ
হৃদয়ে প্রেম ঝিনুক
জমা আছে
আছে মনের অতল
সমুদ্রের জলে।

নবাগতের প্রেম
তাৎক্ষণিক সুখ
শাশ্বত প্রেমের
মৃত্যু ধর্ষিতার মুখ।
শত শত নারীদের
উপর বলাৎকার।
বধু নির্যাতন স্বামী
না আসামী পক্ষে
উকিলের কুৎসিত
ইঙ্গিত  আচরণে
মানসিক চাপে
লুটোপুটি ধাপে
স্বামীর চরণে
প্রহারে প্রহারে
শ্বাস রুদ্ধ, দীল
ঘরে দুয়ারে খিল
সিলিং ঝোলে
বধুর নগ্ন
শরীরের দিকে
আড়চোখ চেয়ে
লালসায় লকলক
করে  লক্ষ চিল।

ভালোবেসে ভালোবাসায় আছি

মনামী  তোমার
খুব কাছাকাছি
তোমার দেহের
গন্ধে মাতা
হয়ে ফিরে
যাচ্ছি পাগলী
তুই ঝাঁপিয়ে
পড়ে হিংস্র বাঘিনী
ভালোবাসা হারিয়ে
যাওয়া ভালোবাসায়
আছে নেপথ্যে
সানাই সুর
ভেসে আসে
সেই সুরে মূর্ছনা
হৃদয়ের মাঝারে
অহরহ বাজে,
সে বড় সুখানুভূতি।
আশা দ্রুত এসে
কোমরে বাঁধা
গামছা খুলে চুল মুছে,
দুমদাম ফেরে
চায়ের কাপ নিয়ে,
টকাস করে
রেখে কাঁদছে,
রবি  বোজে
আজ এই বিবাহিত
জীবনের ঝড়ঝাপটায়
ভাঙা ডালপালা মেলে
উড়ে গেছে তাদের প্রেম 
সে আগুনের পাখী।
বাঘিনী মতো হিংস্র
ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলে
আমাকে শুধু হৃদয়টা
কি ভেবে বাদে দিয়ে 
এ হৃদয়ে প্রেম
ঝিনুক জমা আছে
মনের অতল
সমুদ্রের জলে।

 

শুভাকাঙ্ক্ষী জামাইয়ের
সাথে ফিরে যাচ্ছে
শুভ আকাঙ্ক্ষিত 
দাদুর ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে

বাঁশিওয়ালা

আমার আদরের
এক অপরূপা নাতনী
ঐ যে কথাই আছে
বুড়ো জরাগ্রস্ত এই
জরাজীর্ণ বৃদ্ধের
হৃদয় সমুদ্রে ভালো
বাসার প্রচন্ড
ঢেউয়ের শব্দে
কানে ঝালা পালা।
কেন জানেন,
শেয়ালের ভাবে
আঙুর ফল টক,
নাতনী মজার
ব্যাপার হল এই
সব কবিতাই
মনের কথা নয়।

ফেস বুকে
তোর ছবি দেখে
প্রেমে পড়েছি
জরাগ্রস্ত এ বৃদ্ধ।

শ্যামল  সোম

নাম দিলো ডল
ডলি আমার ডল
তুই বিশ্বাস কর,
সত্যি কথা বলছি,
তুই আমার মন
কেড়ে নিয়েছিস,
তোর ছবি দেখে,
আমি বিমোহিত
বিমূঢ়, অপলক
দৃষ্টি আকর্ষন।
বিস্ময়ে অভিভূত
বাক রুদ্ধ, আহা
তোর বড় বড় দুচোখ
স্বপ্নে তোর হাতছানি,
উজ্জ্বল তীক্ষ্ণ
পাগলী তোর দৃষ্টি।
আমায় নিয়ত তীব্র
আকর্ষণ করে,
বাসনা না কী মরে?
মরার পর ভুত হয়ে
চোখ ঘুরিয়ে
দেখছি তুই রূপের
পশরার ডালি
সাজিয়ে অপেক্ষার
প্রহর স্বামীর জন্য বসে।
এদিকে উঁকি দিচ্ছে
অসংখ্য  ভক্ত স্তাবক
ভীড়ে আমার হারিয়ে যাওয়া,
না পালিয়ে যাওয়।
তোর ছবিতে দেখি,
অসামান্য বিভিন্ন
ধরনের পোষাকে
নানা রঙ্গে একই অঙ্গে
এত পাগল করা রূপ
বারবি ডল,
কিছু ডলার যদি পাই
বাংলা দেশে এ
চুয়াত্তর বছরে ও গিয়ে ঐ
তোকে সাহিত্যে পদক
জয়ী করার লাইনে দাঁড়াই।

একাকি প্রেমের লেখা ব্লগ

এ কাব্য প্রেম করে
বিবাহের যৌতুক  অশ্রাব্য,
গালি গালাছ চুলোচুলি
সোনার সংসার
বাহারী পর্দার আড়ালে
পরস্পরে মারামারি
ঘন ঘন সিগারেট টান,
আগুন যে যার মান  মত
খুঁজে ফেরে পরকীয়া
প্রেমের স্বাদ রত, রতি
অহোরাত্র এ জন্যই
প্রযোজ্য লিভ টুগেদার।

বৃদ্ধের বৃষ্টি ভেজা মন

শ্যামল সোম

এই সেদিন বৃষ্টি ভেজা
গোধূলির রঙের মেলায়
দেখেই মন হারিয়ে গেলো
লালসবুজের পতাকায়
ভীষণ ভালোবেসেই জানু
খোওয়াফ দেখি তোমায়।

জনৈকা কবির কাব্য পাঠে
আমার প্রতিক্রিয়া, অসংলগ্ন
বোধ হলে মাফ করবেন।

দগ্ধ দেহে কবি

শ্যামল  সোম

" শৃঙ্খলিত নারী, কবির প্রতিবাদ
ধর্ষিতার প্রাপ্য, সকন্ঠে আর্তনাদ।"

উত্তপ্ত যৌবনে দূর থেকেই
দেখেছিলাম তোমাকেই।
ববকাট চুল এক ঝটকায়
আর চোখে তাকিয়েছিলে
হৃদ স্পন্দন আলোড়িত হলে
ভালোলেগেছিল তোমার কাব্যের
ঘ্রাণে শ্বেত  গোলাপ তোমাকেও।
তুমি সকৌতুকে মৃদু হাসি মুখে
ধরে হাত  রুদ্রের, কোলকাতার
কবিদের সাথে প্রখ্যাত লেখক
পাবলো নেরুদার জন্মদিনে এক
স্প্যানিশ কবির আগমনে উদ্বেলিত
সাহিত্য প্রেমিক প্রেমিকার প্রচন্ড ভীড়ে
কোলকাতার বই মেলার উদ্বোধনের
সত্তরের দশকের সেই দিন গোধূলির
আকাশে রঙে রাঙানো কবিতায়
হারিয়েছিল মন, সে স্মৃতি আলাপন।

যুদ্ধে কে কার পাশে ?

বকলামে - ব্লক খাওয়ার ভয়ে

ভয়ে  সন্ত্রস্থ সকল সময়
কান পাতলেই শুনি অসময়ে
গোলাগুলি আওয়াজ,
বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ছে 
স্কুল গুলো স্ফুলিঙ্গ এর যেহাদ।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ দেশান্তরে
নরনারীর না ওরা শরণার্থী ঢল
চলমান মিছিলে মিছিলে ক্ষুধার্তু
খাদ্য  আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্তে
সৈনিক উচিয়ে আছে ঐ বন্দুক।
ধর্মের দোহাই পারস্পরিক সম্পর্ক
বিদ্রোহী কবির কাব্য বিস্মৃত ঠিক
এই কারণেই রবীন্দ্রনাথের নোবেল
চুরির করে হয়তো কিনেছে বন্দুক।
রবীন্দ্রনাথের  সভ্যতার সংকট পড়ে
দেখার সময় নেই যে যার অস্ত্রের
বাড়ায় সম্ভার রাজায় রাজায় যুদ্ধে
আম জনতার বেঘরে প্রাণ যায়।

সুস্বাগতম সুপ্রভাতে  এই আজ সূর্যোদ্বয়ের নূতন ভোরে
স্রষ্টার গুনগান আযান ও শঙ্খনাদের ধ্বনি ভেসে আসে।

আজ ভাই ফোটার শুভ মূহুর্তে, উষ্ণ 
অভিনন্দন শুভেচ্ছা  ও ভালোবাসার
জানাই, আমার সকল প্রিয় বোনদের
আদরের নাতনীদের জন্য  আমি
পরম পিতা ঈশ্বরের কাছে নিরন্তর
আন্তরিক ভাবে প্রার্থনা করছি যেন
সর্বদাই তাঁদের সকলের বিপদ থেকে
রক্ষা, কল্যান ও মঙল করেন, স্নেহাশিস রইল।

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-
করুনার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

জীবনানন্দ দাশ