Friday, 3 March 2017

একাকীত্ব মাঝেই একা

একাকীত্ব মাঝেই  একা

শ্যামল সোম

আমার সুদীর্ঘ বছরের বন্ধুবী  শ্রাবণী
বিবাহিত স্ত্রী অর্ধাঙ্গিনী আত্ম সঙ্গিনী।
প্রচন্ড ঝড় জলের রাতে অবিশ্রান্ত ঐ
বর্ষণ মুখরিত রিমঝিম বর্ষায় সদ্য সে
বিবাহিত জীবনে প্রারম্ভে সঘন বর্ষায়
" আজি ঝর ঝর মুখর বাদর  দিনে "
" আমার যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে"
" বাদলধারা  হল সারা বাজে বিলাই সুর"
" আমার দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদল সাঁঝে"
পালঙ্কে শুভ্র শয্যায় শুয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছে
দীর্ঘ শ্বাস প্রশ্বাস ঘণ ঘণ মৃত্যুর করাঘাতে দূরে
সশব্দে প্রচন্ড আওয়াজে ভয়ার্ত ভীত সন্ত্রস্ত
উদ্বিগ্ন হওয়ায় শ্রাবণী আঁকড়ে ধরে শীর্ণ হাতে,
পরম যত্নে গত তিন দিনই ভোর থেকেই রাতে
পরম মমতায় মোহাচ্ছন্ন বিমোহিত মন প্রথম প্রেম
সলজ্জ চোখে চোখ শুভ দৃষ্টি আকর্ষণের রূপে মুগ্ধ
হই, ঐ দীঘল কালো চোখের আলো পড়তেই ভূমিকম্প
স্পন্দন আলোড়িত মন আজও  এই জরাজীর্ণ শ্রাবণীর
দেহটি আলিঙ্গনে থর থর করে কাঁপে প্রাণ, তির তির করে
কাঁপছে চোখের পাতা, শুষ্ক ঠোঁটে অপুষ্ট শব্দ " এত ভালোবাসা
সহ্য  হলো না সোম, ধন্য  আমি গত তিরিশটা তোমার প্রেমে- ---"
থেমে থেমে কথাও শেষে যায় থেমে আমাদের দুজনার চোখে
প্লাবন, ভরা মেঘনার জলে ভেসে যায় মন, শ্রাবণী মৃতদেহ
জানি না জড়িয়ে ছিলাম, মায়ের পায়ের কাছে উপুড়  ফুরিয়ে
কাঁদছে কিশোরী  উর্মি কনিষ্ঠ কন্যা, আমার ব্যক্তিগত শোক
সড়িয়ে রেখে,  " ঊর্মি তুই মা কাছে আয় মা !"
বোনের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রচন্ড  ঢেউয়ের মতন- ---
বৃক্ষের মত  দুহাতে জড়িয়ে শক্ত করে ধরি, ঝড় তান্ডব
ভয়ঙ্কর  ভয়ঙ্কর এক রাতেই তাঁর  ( শ্রাবণী আত্মা) যাত্রা
শুভ মুহূর্তে  ( শ্রাবণী পরম ভক্তিমতন - আধ্যাত্মিক উন্নতির
জন্য যথাসাধ্য সাধন ভজন পুজো পাঠ রাতে দিনে গৃহিণী
দায়িত্ব পালনে এর পর ছিল পথশিশুদের কল্যাণ সমিতির
সম্পাদিকা, দশ হাতে কাজের ক্ষমতা ঈশ্বরের বিশ্বাসী
ছিলেন তাই বুঝি মানুষের সেবা আর ঘরের ভিতর ও বাহিরে
অন্তরে অন্তরে মানুষের প্রতি প্রেম তাঁর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক
জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো মানবতা, কত ক্ষুদ্র  আমি
স্ত্রীর মৃত্যু  আর আমার একান্ত আপন দুই পুত্র ও এক ঐ ঊর্মি
শোকাচ্ছন্ন আমার  চেয়ে শতসহস্র গুন বেশী আজ ওরা মাতৃহারা।
মনে দূর হতে ভেসে রবীন্দ্রনাথের গান "আমার প্রাণের মাঝে সুধা
আছে চাও কি " " আছে দুঃখ  আছে মৃত্যু বিরহ দহন লাগে
তবুও  শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে  ---!"

একা একাই হেঁটে ফিরে যাই

একা একাই হেঁটে ফিরে যাই

শ্যামল   সোম 

বৃষ্টি গত চার বছর শান্তি নিকেতনে সঙ্গীত ভবনে
মোহরদির কণিকা ব্যানার্জি কাছে রবীন্দ্র সঙ্গীত
চর্চা, আমার পিসাত বোনে নন্দিনী বান্ধবী আলাপ
পরিচয় প্রেম, প্রেমে কি কখন কোন কিছু বাধা মানে?
প্রেমের সম্পর্ক গভীরে তোমাকেই সাথে করে নিয়ে যেতে
এসেছি বাহাত্তরে সনে এই ঢাকা শহরের ধানমন্ডির তখন
কি ঐ লেকের ধারে নিরবিচ্ছিন্ন আঁধারে প্রতীক্ষায়।
বৃষ্টি আমার বৃষ্টি-  সে রকমই  ছিল গভীর রাতে তুমি
সংসারের তুমি তোমার সকল বন্ধন ছিন্ন করে আমার
সাথেই কোলকাতায় যাবে তোমার পাসপোর্ট
আমাদের প্লেনের টিকেট সব ব্যবস্থা নেওয়ায়
জানো বৃষ্টি কদিন ধকল গেছে খুব, ক্লান্ত শরীর।
আমি তাকিয়ে আছি লেকের জলে টলটল করছে
পূর্ণিমার চাঁদ জ্যোৎস্নায় আলোকিত  আশপাশ।
মাথা ঝিম ঝিম - মাঝে মাঝেই ভ্রম হয়, ঐ বুঝি
আমার আদরের বৃষ্টি এলো, তোমার ভালোবাসার
চার বছর টানা, বছরে দু চার বার খবরের কাগজে
অফিসের নানান  কাজের অজুহাতে ঢাকাতে এসে
পাগলের মত তোমাকে নিয়ে বুড়ি গঙ্গায়, আড়িয়াল খাঁ
পাল তোলা নৌকায় দুজনে ভেসে যেতে যেতেই শুনি--
তোমার কন্ঠে, " সাঁঝের বেলায় পাখি সব ফেরে আপন কুলায়
সাথি হারা মন পাখি উড়ে উড়ে আকাশের গায়ে।"
পড়ন্ত বিকেলের  আলোয় তোমার সজল চোখে পানে
চাওয়া, আমি নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রয়েছি--
" কি দেখছো সোম ?
" ফাল্গুনে মধুমাসে বৃষ্টি তোমার ও দু চোখে আমার সর্বনাশ "
" বেশ আমি যদি সর্বনাশী- বিদায় - নৌকো থেকে ঝাঁপ দিলো বৃষ্টি
চমকে উঠেই ঝাঁপ দিলাম নদীর বহমান স্রোতে বৃষ্টিকে
টানতে টানতে - ছুড়ে দেওয়া লাইভ বোর্ড  আঁকড়ে ধরে অচৈতন্য
বৃষ্টির দেহটি উপুর শুইয়ে নানা ভাবে মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস
সচল হতে আমাকে জড়িয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো বৃষ্টি।
হঠাৎই খেয়াল হলো -  বৃষ্টির ছোট ভাই ফারুক সামনে দাঁড়ানো !
সিগারেট  জ্বালিয়ে লাইটারের আলোয় পড়লাম,বৃষ্টির শেষ চিঠি
" আমাকে ক্ষমা করো সোম"
" শ্যামল দা আপনি এক সপ্তাহ  দেরী করে এসেছেন, "
স্তিমিত মন দেখে চিঠির তারিখ পয়লা ফাল্গুন উনশো বাহাত্তর
" আজ ?" ফারুক উত্তর দেয়, " দশই ফাল্গুন," "পয়লা ফাল্গুনে
আপনার আসার কথা ছিলো, " দিদির আত্মহত্যার জন্য দায়ী,
আপনি চলে  যান! অঘটন ঘটে যাবে পুলিশ খুঁজছে, পালিয়ে যান ! দ্রুত
আপনি কাপুরুষ!  খুন করতে ইচ্ছে হচ্ছে ! আপনাকে চলে যান --
আপনাকে দিদি ভীষণ ভীষণ ভালোবাসতো শ্যামল দা----!"
ফারুক অঝরে কাঁদছে --- আমি মূক ও বধির বিমূঢ় হতবাক জ্বালা করছে চোখ।

লায়লা আমার বোন মেঘনা


লায়লার কাছে শুনে লেখা
ইনিয় বিনিয়ে লেখার জন্য
লেখা শুধুই লেখা নয়।

লায়লা  আমার বোন মেঘনা

শ্যামল  সোম

আমার প্রিয় মেঘনা নদীর বহমান উজান স্রোতে
ভাটিয়ালি গান গেয়ে নৌকা বাইয়াহাল ধইরা গায়, 
" আমায় ভাসাইলি রে, আমায়  ডুবাইলি রে, আকুল 
দোরিয়ায় কুল পাই নে, কন্যা তোর মন পাই নে- --"
দাদুর ভীষণ আদরের নাতনি লায়লা শৈশবে তার ছোট
হাতে ধরে রয়েছে গ্রামের মানুষের শ্রদ্ধা ভাজন বিত্তবান
ব্যক্তিত্ব বাহিরে কঠোর লায়লা তাঁরই নামকরণে আমোদে
আহ্লাদে নূপুর পড়া পায়ে টলমল টালমাটাল দৌড়ে এসে
ঝাঁপিয়ে পড়তো লাল পরী লায়লা,দাদুভাই ঝট করেওরে
কোলে তুলে আদরে আদরে অস্থির, টোল পড়া গালে
চুমা- - খিলখিল করে হাসতো, ঘোমটার আড়াল থেকে আম্মু
দাদির কাছে অনুযোগ করতেন, " আম্মু জান ডর লাগে
মেইয়ে মাইনষের জেবন পদ্মা পাতায় শিশির কখন কি
হবে এত আমোদ আহ্লাদ শেষে সাদি  হলি শ্বশুর বাড়ি
গিয়া লায়লা এত প্রশ্রয় আহ্লাদিত জেবন কেউ পায় না।
সেই প্রলয়ের রাতে আষাঢ়ে ঘণ বর্ষায় দাদু দিদার মাঝে
বুকের কাছে পালঙ্কে শুইয়ে স্বপন দেখে মেয়ে দশ বছরের
লায়লা মজনুর অমর প্রেম কাহিনী সখী নিভৃতে শুনিয়েছে।
মজনুর যেন এসে ডাকছে,প্রবল ঝরে পাকা গাঁথুনি টিনের
হুড়মুড় কইরে ভাঙছে গাছের ডাল, মজবুত করে উঁচু উপারে
বিশাল বাড়ি মাত্র তিনটি প্রাণী সম্পদ শালী বিত্তবান মেঘনা
নদী  আজ প্রবল রোশে ভয়ঙ্করী সাংঘাতিক প্রতিহিংসা
চরিতার্থ করার জন্য নারী যে কি প্রচন্ড বাঘিনী হিংস্র হয়।
মেঘনা নদীর কুল ভাঙছে গ্রাস করছে দুকুল এর জমীন
দাদির বুকে থরথর কাঁপছে লায়লা, মেঝেতে  নামায পাটি
বিছায়ে  মুনাজাত  আয়ত সূরা -- আযান মহান আল্লাহ পাক
উনার স্মরণাগত হয়ে দাদি তসবির মালা জব করছেন।
বহু দূর থেকে ফজরের  আযান ভেসে আসছে, সূর্যোদ্বয়ের
রাঙা আকাশে তাকিয়ে আছে লায়লা  নারীর মতন শান্ত
স্নিগ্ধ মাধুর্যে অপরূপ সৌন্দর্য প্রকৃতি এই প্রকৃতির তান্ডব
ভয়ঙ্কর প্রলয়ের রূপ ধ্বংসাবশেষ দেখে দাদাভাইয়ের সাথে,
কাঁদতে কাঁদতে পিছন ফিরে ছুটছে যেন অশুভ শক্তি তেড়ে আসছে।

Thursday, 9 February 2017

প্রেমের কবিতারা

আমার ভীষণ প্রিয় কবির শৈল্পিক
নান্দনিক কাব্যিক অপূর্ব বিন্যাস
মুগ্ধতার রেশ ধরেই  পলাশের রঙে
লেখা আগন্তুক  ফাল্গুনে।

ফিরছে ফাল্গুন

বাঁশিওয়ালা শ্যামল সোম

ফিরবে কি ফাল্গুনের কৃষ্ণচূড়ার
ডালে লালে লাল পলাশ
বৃদ্ধের এই জীবনের অন্তিম ক্ষণে,
শুনি নিজেরই দীর্ঘশ্বাস ।
তোমাদের মন্তব্য পড়ে আমার
নিজের নয়ন জলে ভেসে যাই
শেকড়ের সন্ধানে দেশে দেশে
দেশান্তরে, বাজিয়ে বাঁশি সেই,
ফেলা আসা সুরে এখন এই
অসময়ে বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ
রাঙা আকাশের তলে আমার সঙ্গে 
কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে রক্ত  পলাশ
আমি রঞ্জন ফিরছি তোমার কাছে
তনু তুমি নন্দিনী, রক্তিম প্রেমের শ্বাস।

সত্যই  বিশ্বস্ত হও

শ্যামল  সোম

আমার প্রেমে কোন খাদ ছিলো
কিনা খুঁজে দেখো
আমার চিতার আগুনে 
আগুন নিভে গেলে
এ দেহে পোড়া ছাইয়ে।
তুমি কি ভাবে কত ভাবে এসে
যাচ্ছো আমার কবিতায়।
পাগলি তুই আমার রক্তের
শিরায় শিরায় বন্যপ্রেম,
সুতীক্ষ্ণ শানিত অস্ত্র বল্লমের
বিদ্ধ করো, গোলাপে কাঁটার
আঘাতে ক্ষতবিক্ষত দেহ মন
দংশনে চিঁড়ে দেইখেন হৃদয়।
তুমি মাফ করো পারছি না ভুলতে,
তুমি প্রেমাচ্ছন্ন তোমারই উষ্ণ স্পর্শে
প্রথম প্রেম মতই, তোমাকে ভোলা
এ তো নিজেকে ভুলে যাওয়া কি
পারি, নিজের দু চোখ উপড়ে ফেলি
পাগলি তোকে যতই ভুলতে যাই
ছায়া কুহকিনী মায়াবিনী দোহাই
এ ভাবে শঙ্খিনী সাপিনী পেঁচিয়ে
অজগর সাপ হয়ে গিলে ফেলায়,
আমি হারিয়ে আমার নিজস্ব সত্বা
চৈতন্য, ভালোমন্দ বোধহীন মূক
ও বধির নিষ্ঠুর, নির্লিপ্ত উদাসীন
বাউল, গৃহহীন শরণার্থী পলাতক
স্মৃতি তাড়িত প্রেমিকের খোঁজে
পাথর হাতে ছুটে আসছে ওরা
মন ভাল মনে ঈশ্বরের নাম স্তব
করি,কোন অধিকারে তোর কাছে
ফেরবার, ফিরতেই জবাই করতে
সততা সমূলে নির্মূল করেছে যারা
তারাই  আজ বলিয়াণ দৈত্য।

আজও কেন কাঁদে এ পরাণ

শ্যামল  সোম

শত সহস্র ভাষা সৈনিক স্মরণে বন্ধু
ক্ষমা করো মোরে  যদিও আমি বিদেশী তবু
শোকাচ্ছন্ন  মর্মাহত  একুশে কোন উল্লাস নয় -
আজ শপথ গ্রহণের দিন, ভুল লিখলে মাফ চাইছি।
1952 থেকে 1971 " আমাদের  সংগ্রাম চলছে
প্রয়োজন  হলে দেবো এক নদী রক্ত " কবির সে
আহ্বানে তিরিশ লক্ষ মানুষের আত্মবলিদান,
এক লক্ষ স্নেহময়ী জননীর  আত্মবিলাপ  আজও
শুনতে পাই, কান্না আমার হৃদয়ের ব্যথা নয়ন অশ্রু
জলে ভাসে, জ্বলে  আগুন লাগল প্রাণে দোলা।
আমি দেখিয়াছি বাংলা মায়ের লাবণ্যময় সে মুখ
মুগ্ধতার জানাবার ভাষাহীন শব্দের ব্যবহারে স্তম্ভিত।
আমি ধন্য ধন্য ধন্য ধন্য ধন্য ধন্য ধন্য ধন্য ধন্য আমি
মা মাগো জননী এ শরণার্থী বৃদ্ধের  প্রণাম নিও তুমি।

শ্রাবণী তোমার জন্য প্রতীক্ষিত আমি

এই কি তবে ভালোবাসা     (  তুমিই আমার অনুপ্রেরণা কৃতজ্ঞ থাকি )

শ্যামল সোম

ভালোবাসার রঙ বৃষ্টি ভেজা গোধূলির
রঙ এর আকাশের তলে নির্জন  সৈকতে
পাশপাশি বসে, ফাগুনের প্রেমের বাতাসে
তোমার দুরন্ত রেশম চুল  কপালে চোখে
আড় চোখে তোমাকে দেখি, তুমি হাঁটুর
উপরে  থুতনি রেখে, দুরে সমুদ্রের ঢেউয়ের
ছুটে আসার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে।
হৃদয়ে টানে ঢেউয়েরা এসে ছূঁয়ে যায় নূপুর
তোমার পায়ে, গুঞ্জন জুড়ে থাকে প্রতিক্ষণ।
হঠাৎই ঢেউ  থেকে, চোখে রাখো মায়া চোখ,
হাস্য উচ্ছল জ্বল জ্বল দৃষ্টিপাতে ভুলি শোক।
আমার সব দিন- ভালোবাসার দিন
গহীন মনের গোপনে থাকে;
বনানী বীথিকা অরণ্যে নিভৃতে 
মনের মণি কোঠায় থাকে আমার প্রেম
প্রকাশ্যে নিছক হুজুগে মাতোয়ারা
সোচ্চার  হই  নাই  কখনও বৃদ্ধ বৃক্ষ।
স্ফূর্তিতে উল্লাস রঙিন জলে টালমাটাল
পায়ে হাঁটি নি-- হাজার বছর ধরে হেঁটেছি
আমার তোমার সবার প্রিয় জীবনানন্দ
দাশের সাথে।
না সাঁতারে নয়, নৌকাতে কীর্তন খোলা নদী
বহমান উজান স্রোতে  ভাসি বরিশালে
ভালোবেসে, এ বাংলা  আমার জীবনানন্দ
শ্রাবণী তোমার এই মুহূর্তে এই লেখা খুবই  প্রাসঙ্গিক
উষ্ণ অভিনন্দন শুভ কামনা রইল তোমার জন্য ।

আজও শরণার্থী আমি

  আজও  শরণার্থী আমি                                                    পারাপার   চলচ্চিত্র নাম ভূমিকায়  ও সৃজনে 

শ্যামল  সোম

মা মাগো  আমার বাংলা মায়ের কোল
ছাড়া হয়ে  শরণার্থীদের সাথে আশ্রয়ের
খোঁজে দেশভাগের দুঃখে নিরাশ্রয়  আমি
দ্বারে  দ্বারে ভিক্ষুকের মত দু মুঠো ভাত চাই
মাথা গোঁজার ছাউনি দেবে - কেউ কেউ কি নেই ?
মানবিকতা শুধুই কি একটি শব্দ অভিধানে শব্দ।
পরিবেশ দূষণে পাখিরা শরণার্থীদের সাথে দেশে
দেশান্তরে ফেরার, এ ফেরারী মন কেন কেন
ফেরে বারে বারে ভালোবাসে স্বপ্নের বাংলাদেশে ?
পলাতক শরণার্থী লক্ষ লক্ষ মানুষের হাহাকার
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত জুড়ে শুনি আর্তনাদ ক্রন্দন।
মা  মাগো জননী মৃত্যুর আগে আর একবার দর্শন
দাও দাওয়াত  নাই বা  পেলাম  অনাহূতের আগমন।
মা আমি উনিশ 19 -2- 2017 তারিখে যাবো ঢাকায়
জানি বরণ ডালা মালা শঙ্খ ধ্বনি বাজবে  না মঙল
প্রদীপ জ্বালাতে কেউ কেউ আসবে না, তবু যাবো
শেকড়ের টান অনুভবে অনুরোরণ আলোড়িত মন।
প্রাপ্তি সাহিত্য- ---- বৃক্ষের মতো ডাল পালা মেলে বিস্তীর্ণ,
গত বছর যে গল্প সংকলনে আমার লেখা ♡♡ পারাপার ♡♡
ঐ গল্পের চলচ্চিত্রায়ান সংযোজনের কাজ
চলছে সম্ভবত  নিয়ে যেতে পারবো ঐ জন্য
দেরী  হচ্ছে। তোমার ও তোমাদের  সাফল্য  আমাকে মুগ্ধ  করে,
যে সন্মান পেয়েছি  কৃতজ্ঞ, জনে জনে সবাইর কাছে জননী।