Friday, 9 February 2018

আমি তাল পাতার সেপাই

আমি তাল পাতার সেপাই

শ্যামল সোম

পঞ্চান্নে কৈশোরে যখনই রেখেছি পা
তখনই হৃদয়ে ফেঁদেছি সা ---
সা রে গা মা পা ধা নি সা।
নানা সুরে গাওয়া হলো কত গান,
এখন প্রাণ কেন করে আনচান।
যৌবনে শত কবির কাব্য পাঠে
মনের আনাচে কানাচে শব্দ ঘুরে
ঘুরে এসেছিল ছন্দে ধ্বনিত  নূপুর।
বৃথা প্রয়াসে বন্দিনী প্রেমিকা কবিতা
তরে তরে ভালবাসায় ফল্গু কপোতক্ষা
নদী হয়ে শত ধারায় বহে গেছে সমুদ্র।
লোনা ঘোলা জলে ঝাপসা দৃষ্টি আজ
জরাগ্রস্ত  বৃদ্ধ বয়সে চরম ব্যর্থতা বাজে
হাহাকার স্পষ্টই প্রতীয়মান সেজে তাই
এ সে এক তাল পাতার পরাজিত সেপাই
কাব্য লিখনের স্বপ্ন থেকে দুর্দান্ত কোপাই
মজা নদী লেখার বাসনায় কলমের কালি
সারা মুখে মেঘে  আজ সঙ সেজে আছি।
নিশিথে  মেঘে ঢাকা তারা মতন প্রস্ফুটিত
রবীন্দ্রনাথ কাব্য  বকুল গাছে গাছে ঝরে
মন ছুঁয়ে থাকে, " জল পড়ে পাতা নড়ে!"

আহতের আর্তনাদ

আহতের আর্তনাদ

শ্যামল সোম

প্রতিদিন প্রতি নিয়ত চলছে
শিশু নিগ্রহ সকল শুভ বুদ্ধি
সম্পন্ মানুষের পায় না যুক্তি।
কবে হবে অবসান এ জঘন্য
অপরাধ, মানসিক অবসাদে
মানসিক আঘাতে আঘাতে
এ বৃদ্ধের হৃদয়ের আর্তনাদ।
কাব্যিক বিন্যাসে ছন্দময়
চিত্রকল্পে শব্দ চয়নে বাক্যে
কাব্য লিখনে নাহি অভিপ্রায়।
একান্ত আত্ম শান্তি পেতে চায়
এ মন করি আহ্বান মা মাগো
তোমাদের কল্যাণ হোক বন্ধু
ভগ্নী কন্যা জননীদের এক মাত্র
নারী শক্তি রূপিনী লেখিকাদের
কলমে তীক্ষ্ম শব্দে বিদ্ধ করো
শব্দ ঘাতে প্রতিঘাতে জ্বলন্ত আগুন
পুড়ে ছাই হোক অন্যায় সহিংসতা!
সমাজের অবক্ষয় বিকৃত মনস্ক
পুরুষেরা ভালোবাসার ছলে অন্যায়
আবদারে শেষে হেনস্থা প্রতারণা
নির্যাতন অত্যাচারী পশু মানুষের
বিরুদ্ধে  নারীর সচেতনতা বৃদ্ধি জন্য
গড়ে তুলুন সময় উপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত
পথে পরিচালিত করুন সকল মানুষকে
আমাদের যাত্রা হোক সত্যে মূল্যায়নই নূতন জীবন ।

Tuesday, 6 February 2018

সখী সংবাদ

সখী সংবাদ

শ্যামল সোম

আয় সখী আয় আমরা দুজনে এই নিরালায় বসে
আয় সখী আজ এই নির্জনে ঘাটে জল আনতে এসে
এই খানে দুজনে একটু বসি, ও সই তোর মনের দুখের
কথা বল?

কি আর বলবো সই, সোয়ামীর মন পেতে কাল রাতে,
সেজে রঙিন শাড়ী পরে, চোখে সুর্মা, দুহাতে রঙিন
বাহারী চুড়ি, কত অধীর আগ্রহে স্বামীর জন্য বিনিদ্রায়
রাত যাচ্ছে, জোছনভরা আকাশে সাথে জাগছিল তারারা।

ও বুঝেছি ! বৃথা রাত গেল, ফিরলো না সে, ফজরের আযান
ভেসে এলো, আকাশ ভোর হয়ে আসছে, বসলি প্রার্থনায়!

সখী এবার তোর কথা বল?

বলতে সরম লাগে,

ঢঙ, আমার কাছে লজ্জা লাগে?

মনের ব্যথা সখী তোরে ছাড়া করে কই?
সোয়ামী রাতে কাজের শেষে ফিরলো ঘরে
পানি আনলাম, গামছা দিলাম, গোসল করে
এলো সে, কত সময় নিয়ে সেজে গুজে এত
আশা নিয়ে ওর পানে চাইলাম, যদি একটু
জড়িয়ে আদর করে, হায় পোড়া এ কপাল
ফিরেও একবার ক্ষণিকের জন্য চোখ মেলে
দেখলো না, খেতে চাইলো রাতের খাবার
খেয়ে সাতটি তাড়াতাড়ি বিছানায় শুয়ে
নাক ডাকছে, মন পুড়ছে, দাউ দাউ করে
জ্বলছে আগুন, ফাগুন মাসে, শীতল হলাম
কই? বুকের মাঝে শুধু কষ্ট মুখ বুজে সহি।

রমণীর হৃদয়ে নিয়ত রক্তক্ষরণ

রমণীর হৃদয়ে নিয়ত রক্তক্ষরণ

শ্যামল সোম

মধুমিতা সদ্য ফুলের মতন প্রস্ফুটিত
গোলাপী যৌবনের প্রারম্ভে সুখ স্রোতে
অসম বয়সী ভাসে দুটি শিহড়িত মন।
ছুঁয়ে থাকে দেহের যৌন আকাঙ্ক্ষায়
উন্মুখ হয়ে সম্ভোগ সমুদ্রের ঢেউয়ে
তরঙ্গে যুগলের সন্তরণে ঘন শিহড়ণ।
সতেরো বছরের তন্বী তরুণী সে তখন
রঙিন প্রজাপতি একাদশে ছাত্রী যখন
সাতাশ বছরের যুবকের সাথে বন্ধুত্ব।
ফেসবুকে পরিচয় জানাজানি ভয়ে
দুজনেই বেঠিক আই ডি তে গোপন
ছবি কখন ভি ডি ও চ্যাটে নগ্ন যৌবন
দেখেই প্রলুব্ধ দুজন রূপবতী রাজকন্যা
ওদিকে সোলেমান রাজপুত্র হিরো বুন্য।
কত আদান প্রদান গোপন প্রেমে পড়ে
মুগ্ধ যুবতী  শোনে শত প্রেমের কবিতা
এ কাব্য উপহারে ভরে ওঠে গ্রহীতা মন।
এ শব্দ চয়নে বাক্য বিন্যাসে ছন্দময়
তার স্বপ্ন চিত্রকল্পে মৌতাতে এ কাব্যময়
বাঁশির সুরে সুরে নেচে ওঠে মধুমিতা,
রাত জেগে কত কথপোকথনে স্বপন !
এসুখে স্বপন দুচোখে প্রেমের সাম্পাণ
ভেসে চলে ভালোবাসার ব্যাকুল স্রোত।
সাম্প্রতিক কালে এ আধুনিক প্রযুক্তির
ছোঁয়ায় ঘরে ঘরে সংসারে উন্মুক্ত করে
কেউ কেউ ভীষন পরকীয়া প্রেমের টান
আহ্বানে জ্ঞানহারা আসক্তি এ আস্বাদন।
মাতৃহারা কন্যা সৎমায়ে তাড়নায় তাড়িত
মামার বাড়িতে অবহেলা অনাদরে পালিত।
ভাতের জন্য ভালোবাসার হাত ধরে বিবাহ
গোপনে পলায়নের পরে দুটি সন্তানের জননী
প্রেমিক স্বামী কদাকার রূপ ধারণ নির্যাতন
শোষন কঠোর প্রহার মদ্যপ অবস্থায় নিত্য ধর্ষণ 
আহ্লাদের হাতভাগী ভালোবাসার কাঙালিনী
আজ স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ দুটি শিশু সন্তান
নিয়ে কোথায় যাবে হাজার হাজার প্রতারিত
জাত পাত ধর্ম নির্বিশেষে সকলে মনে প্রশ্ন
এ স্বপ্ন ভাঙার খেলা আরো কত কাল চলবে ?

নারীর হৃদয়

নারীর হৃদয়

শ্যামল সোম

ঘণ  নীল আকাশে শুভ্র মেঘ কল্প মন
উড়ে এসে শঙ্খ চিল বেশে মমন চিন্তন,
দূরে নীল সমুদ্র নারীর হৃদয়ে অবগাহন,
জলে ডুব দিয়ে শঙ্খ চিল মন ছোঁয় স্বপন।
এ স্বপ্নিল মন ডানা মেলে উড়ে উড়ে যায়
সত্য পৌঁছাতে চাই পবিত্র মনে ভালবাসায়
পায় খুঁজে সে নারী মন, পড়ন্ত শেষ বেলায়         
মুছে দেয় গোধূলি লগ্নে তাঁর সে অশ্রু মোছন
উষ্ণ  হৃদয়ের গহীন অরণ্যে ছন্দময় অকৃপন
ওগো প্রেম শুধুই ছলনা নয়, শরীরের কাছে ----
আসা ছলে বলে কৌশলে বল প্রয়োগে সাথে
প্রলোভনে মিষ্টি কাব্য সে লিখনে আদরে 
আদরে কি আদায় করা যাবে আদ্রীত  মন ?
নারীর মন পাওয়া সমুদ্রের অতলে তলিয়ে
নিজেকে নিঃশেষে, সার্থহীন নিরন্তর  বিলিয়ে,
পদে পদে সংশয়ে সন্দহে ভালবাসায় ভরিয়ে
নারী বিছিয়ে দেয় আপন সে হৃদয়ের আঁচল
হৃদয়ের প্রচন্ড ঢেউয়ে ঢেউ আছড়ে পড়া ক্ষণ
এই প্রতিক্ষণ উপলব্ধি করে শতকরা কতজন
নারীর হৃদয়ে প্রেম জাগে যৌবনে কাব্য পাঠে
নূপুরছন্দা আনন্দে সে শব্দের অক্ষরে অক্ষরে
হৃদয়ের উষ্ণতায় কম্পন শরীরে উঠে স্পন্দন,
অবক্ষয়ের চোরা স্রোতে চাঞ্চল্যকর তথ্য অর্পন,
বিকৃত মনস্ক মানুষ সে শত্রুর আয়োজনে ধর্ষণ।
নারীর ব্যথায় সমব্যথী হওয়া সে তো পুণ্য অর্জন
নারীর আহ্বানে হৃদয়ে সিংহাসনে তাঁর আরোহণ।

একটু হৃদয়ের উষ্ণতার জন্য

একটু হৃদয়ের উষ্ণতার জন্য

শ্যামল সোম

হিমেল হাওয়ায় ঐ পাতা
ঝরে যায় গাছে গাছে
ঝরা পাতার এ স্মৃতির
পালক উড়ে আসে কাছে।
তুষার পাতে শীতার্ত রাতে
উষ্ণতা খোঁজে ভাঁজে
ভাঁজে শরীরের পরস্পরের
বহমান রক্ত প্রবাহে
সরীসৃপ জোড়া শরীর
শরীরে অভ্যাসে শরীর
জাগে আঁধারাচ্ছন্
সর্পিল সুড়ঙ্গ পথে ঝর্নায়
ঝিরঝির ঝরে,পিচ্ছিল
সিক্ত গুলমোহর সুরম্য
লতা পাতা ঢাকা গুল্মের
আড়ালে রক্ত পদ্ম রম্য।
যুগ্ম সাপের মিথুনে
অতৃপ্তির প্রাণহীন নিস্ফল এ
প্রয়াস কাব্য প্রেমে নেই,
শুধুই শারীরিক অভ্যাস।
কেন কাঁদে প্রাণ প্রাণময়
প্রেমিকার ভালবাসায় ভরে
আছে আজও হৃদয়ের
গহীন গোপন আস্তানায় ঝরে
হীম প্রহেলিকা করে উন্মোচন
রাতের কুয়াশায় ঢাকা
কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে
তার হাহুতাশ,ও আমার
চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে
এলো তোমাকেই হারানোর
হাহাকারে দুই প্রান্তে দুটি
হৃদয়ের আলিঙ্গনে কাব্যে
অক্ষরে অক্ষরে লেখা রবে
প্রিয় প্রেমের যৌথ সৌধে
পরস্পরের প্রতি অটুট
বিশ্বাসে আত্মমগ্ন প্রেম নির্যাস
পাণে পরিপূর্ণ দুজনের
হৃদয় এই দূরান্তে ভালবাসায়,
পরস্পরের হৃদয়ে কাছাকাছি
এসে আনন্দে কাঁদছি
তোমার মন ছুঁয়ে যাওয়া
এ ফল্গু ধারায় ভালবাসায়।

মেয়ে মানুষের লাশ

মেয়ে মানুষের লাশ       

শ্যামল  সোম

মরা চাঁদ গেছে বুঝি
ঐ বেনো জলে ভেসে
আধো অন্ধকারে
নয়নজুলির খালে ভাসে।
মেয়ে মাইনষের লাশ
চিত হয়ে শুয়ে আছে
পরনে ময়ুর কন্ঠি
রঙের সিল্কের শাড়ি
রক্ত রাগ রঙে ব্লাউজ,
চুলের জড়ানো যূঁই ফুলের
মালা সবই বেসামাল
এতই  এলোমেলো চুল।
ভেঙেছে খোঁপা অর্ধ
নগ্ন যৌনবতীর দংশিত
মোথিত শরীর ক্ষুধার্ত
লোলুপ হায়নার দলিত
ধর্ষণে ধর্ষণে বিহ্বল
প্রেমিকা শেষে তোড়ায়
বাঁধা ঘোড়ার ডিম হাতে
পেয়ে নিষ্ফল প্রয়াসে কান্নায়
আর্তনাদে জবাই করা
পশুর মত গোঁ গোঁ গর্জন ।
যুবতীর আর্তনাদ ক্রন্দন
শুনেও শোনেনি অনেকে
বাতি নিভিয়ে দিয়ে,বিস্মৃত
শোকে দেখেও দেখেনি
তাকে, বটবৃক্ষের শাখায়
এক জোড়া দোয়েল পাখি
বিব্রত বিরক্ত ক্রোধে
ঘন ঘন ডানা ঝাপটায় নাকি?
সূর্যোদ্বয়ের আলো এসে
পড়ে পাথরের  আঘাতে
থেঁতলানো ভালোবাসার
প্রত্যাশী আকাঙ্খিতা নারী,
সুন্দরীর মুখে সে মুখে
গেয়েছিল জীবন মুখি কত গান
সেই মেয়ে মাইনষের লাশ
দেখতে জমায়েতের প্রশ্নবাণ।