Monday, 12 November 2018

নারীর অভিশপ্ত জীবন দহন

নারীর অভিশপ্ত জীবন দহন

শ্যামল সোম

নারীদের একা একা সন্তান প্রতিপালন সেবা যত্ন
ও স্বজন সংসার নানা কাজে কর্মে সন্তুষ্ট করতে,
দিনরাত চলে পরিশ্রম, মনের দোসর নেই সমব্যথী
কেউ নেই, বুকের মধ্যে যত চেপে রাখা শত গোপন,
কথা শত দূঃখ যন্ত্রনা মন ভোলাবার  সান্তনা দেবার
কেউ নেই,সবাই হাস্যাস্পদ ঠাট্টা করে বন্ধু নয় এরা,
" কেন এত কস্ট হচ্ছে গো বুকে মাঝে ব্যথা বেদনা,
হলে গো জুড়াবে কোথায় বলো, সহমর্মিতা সহানুভূতি,
প্রকাশে অনীহা এড়িয়ে যায় সকলে, ভালোবাসা বিহীন
ছলে বলে দেহে দখল চায়, বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে সে এসে
সমবেদনা ভানে মোহময় মায়াময় কাব্যময়তায় ঐ জালে
মশাল জ্বলন দহনে এদের চরিত্রে সন্দেহ কৌশলে ফাঁদে
নানা লালসা অভীপ্সা নানা প্রলোভন উন্মাদ প্রলয় বলে,
পাপের প্লাবন বাঁধ ভাঙা বন্যা স্রোতে  দখল নেবো সব।
তখন বস্তি বা সুরম্য অট্টালিকা সাজানো  ঘরে খাল পারে
নষ্ট মেয়েদের যৌন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দুমুঠো ভাতের
জন্য আঁধারে জীবন, এই সামাজিক অবক্ষয়ে নৈরাশ্যের
অন্ধকারে এ প্রাণ নিমজ্জিত বহু নারীর আকাঙ্খা প্রেমের
স্বপ্ন পুরণ হয় না,অভিশপ্ত জীবনের অন্তরালে নারীর হৃদয়,
প্রয়াসী মন অবসরে বিনিদ্ররাতে নীরবে নিভৃতে অশ্রুমোচন।
লক্ষ লক্ষ  প্রবাসী বিদেশে কর্ম রত বহু স্বামী স্ত্রী উপোসী ক্ষণ
দেহ ও মন ছুঁয়ে যায় কাব্য প্রেমে পড়ে স্বপ্নের রঙিম  অক্ষরে,
অক্ষরে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কাব্যময়  বাঙ্ময় অলংকরণ।

বন্ধু মোরা থাকবো একসাথে

বন্ধুমোরা থাকবো একসাথে

শ্যামল সোম

খুব সত্যি কথা বলতে কি
আমি সহমত পোষণ করি,
অথচ লেখাও পড়ে না অথচ
তারা আশ্চর্য উদাসীন নির্লিপ্ত
নির্বিকার চিত্তে প্রতিদিন নিয়ত
লেখা পাঠাচ্ছে কেন জানি না ?
কেউ কেউ সত্যি কবি অসাধারণ
সব উপস্থাপনে মুগ্ধ করে অপূর্ব।
এই নতুনত্ব আঙ্গিকে অসাধারণ
নূতন লিখন শৈলীতে কাব্যময়
বাঙ্ময় কাব্যিক তারুণ্যে স্বপ্নের
শৈল্পিক ছন্দময়তায় মুগ্ধ হয়ে থাকি।
নিরন্তর শুভ কামনা আমার কিছু
কবি কথাশিলপী  সেই সব কবিদের
কুর্নিশ জানাই,সসম্মানে তোমাদের,
প্রতীক্ষায় লেখো অনবদ্য লিখনে দৃঢ়
প্রত্যয় বিশ্বাসে স্বপ্নময়  কাব্য মাধুর্যে,
শৈল্পিক ছন্দময় চিত্রকল্প কাব্য লিখনের
সত্যি  মুগ্ধ হতে অপেক্ষায় রয়েছি আমি।

Saturday, 10 November 2018

তোমার চোখে আমার সর্বনাশ

তোমার চোখে আমার সর্বনাশ ( গল্প  হলেও সত্য )

শ্যামল সোম  বাঁশিওয়ালা

নির্জন পথে অপরাহ্নে একা একাই
বাঁশিতে রবীন্দ্রনাথের গানের সুর
" আমার হৃয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে ছিলে দেখতে আমি পাই নি"
আনমনে বাঁশি বাজানোর আনন্দে, গাইছি বাঁশির সুরে সুরে," আমারও পরাণ যাহা চাই, 
তুমি তাই তুমি তাই গো।"

সূর্যাস্তে গোধূলির রঙ রাঙিয়ে দিচ্ছে আকাশকে, বিশাল আকাশে নানা রঙের আলপোনার কারুকার্য।

হঠাৎই ডাক শুনলাম সুমিষ্ট স্বর " বাঁশিওয়ালা ওগো ও  বাঁশিওয়ালা"

ঘুরে তাকিয়ে দেখি বাড়ির বিশাল ফুলের বাগান  এক অপ্সরী স্বর্গের দেবী সদ্য যৌবনা এক সুন্দরী নারী
হাতছানি ডাকছে কেন?
আমি হতভম্ব কিছুটা বিব্রত বোধ করছি, ইতিউতি তাকিয়ে দেখছি অন্য কাউকে ডাকছে কিনা, ইশারা করে বলি আমাকে?
সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে আসে মেয়ে চোখে মুখে সারল্য স্নিগ্ধ মাধুর্যের হাসি, " তোমাকেই তো ডেকেছিলাম গো,
রোজ এ সময় এ ধরেই ডাক দিয়ে সে যায় - আজ সকাল থেকেই মন ভালো নেই !"

বিস্মিত নয়নে বিমোহিত মুগ্ধ হয়ে দেখছি, ঈশ্বরের কি অপরূপ সৃষ্টি, বিস্ময় অপলক চোখে চোখ পড়তেই
ভূমিকম্প স্পন্দন আলোড়িত দুজনার মন, গোধূলির রাঙা আলো এসে কুন্তল এলানো মুখে,সলজ্জ দৃষ্টি,
সেদিন ছিল চৈত্র মাস তোমার চোখে দেখে ছিলেম আমার সর্বনাশ!

এসো আমার সাথে - আমার হাত ধরে নিয়ে চলে সখী নিভৃত আপন আলয়ে।
বাগানে মাঝ খানে মোরাম বিছানা পথ গোল বারান্দায় বসে দুজন বৃদ্ধ বৃদ্ধা হাতে জনের মালা
মৃদু হেসে বলেন, দাদাভাই  কিছু মনে করবেন না, হঠাৎই ঘুরে বলেন চাঁদনি যাও ওনার জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা
করো,"
দাদুভাই বেশী দেরী করো না এ বৃদ্ধ বৃক্ষের সারাদিন খাওয়া জোটেনি দেখছো না চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে "
ঝর্ণার মতন কলকল করে হেসে চলে যায় চাঁদনি।
বসুন হাত ধরে বসান এ বৃদ্ধ, নিচু  গলায় বলেন, " চাঁদনির বাবা মায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ আজ পনের বছর
দুজনে পুন বিবাহ করেছেন, চাঁদনির বাবা নিউ ইয়র্ক টাইমস কাজ করেন টাকা পাঠান মেয়েকে কাছে ডাকেন
কত উজ্জ্বল ভবিষ্যত আমেরিকা গেলে --!
চাঁদনি পাঁচ বছরের তখন ডিভোর্স ঘটে, আমাদের কাছে মানুষ ফোনে ছেলে সমীর চাঁদনির বাপকে
বললাম, ওর দায়দায়িত্ব  আমরা নিয়েছি  তুই হতভাগ্য ডলারের জন্য ডারলিং ডটারকে হারালি।
বৌমা এই কাছে পিঠে থাকেন তার নূতন স্বামী  নিয়ে, ন মাসে ছ মাসে প্রচুর দামী জিনিস পোষাক নিয়ে আসেন।"

" বাপ মায়ের স্নেহ ভালোবাসা মমতা স্পর্শ সুখ কি ঐ দামী মোবাইল ফোন দামী পোষাকে পূরণ হয়।
একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতার  অভিশপ্ত জীবন স্বামী  স্ত্রী মধ্যে ঐ ইগো ইজম। এর জন্য  চাঁদনি একটু  অভিমান
জেদি এখন অদৃষ্ট কি লেখা আছে  কে জানে !"
এতক্ষণ পর্যন্ত চুপচাপ শুনছিলেন বৃদ্ধা, ধমকে উঠলেন এখন প্রফেসর গিরি ছাড়তে পারলে না।

চাঁদনি এসে বলে," এখন চলছে লেকচার, এসো আমার সাথে রিফ্রেশ হতে হবে তো !" হাত ধরে নিয়ে চলে।
ভাবি, তোমারে সঁপেছি প্রাণ প্রাণের  আশা ছেড়ে, এ হৃদয়ে  প্রেম- - ?

আনমনা মন তোমার চীর তারুণ্য মন ছুঁয়ে যায়।

দেশ ভাগে হারিয়ে যাওয়া খুকুমা

দেশভাগে হারিয়ে যাওয়া খুকুমা

শ্যামল  সোম

আমার সাধের বাড়ী নাই,
কীর্তন খোলা নদীর ধারে
ছিল আমার পৈত্রিক বাড়ীর
ভিতর পানে পুকুর পুকুরের
জলে হাঁস,লাল শালুক ফুল,
পদ্ম পাতায় শিশির বিনিদ্র রাতে
টুপটাপ বাড়ীর সামনে বাগান
নারকেল গাছের ঘেরা, ফুলের
পরে প্রজাপতি সব রঙ বেরঙের
রাঙা গোলাপ ফুলে ভ্রমরের
চুম্বনে মধুপান মৌমাছির গুঞ্জন।
ময়না দোয়েল পাখীর সে গান
টিয়া, শত চড়ুই পাখীর ঐ কলতান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলনে
বহুযুগ পরেও আলোড়িত আমার
এই  হৃদয়ে আনন্দে অশ্রু ঝরে।
হঠাৎই সত্তর বছর আগের এক
দামকা ঝরে এলো মেলো প্রাণ,
যম দূত কালো মেঘের হানাদার
লন্ড ভন্ড, লুঠ হয়ে গেল কন্যা,
ভগ্নী জননী ভয়াবহ  আর্তনাদ।
কীর্তন খোলা নদীর বন্যায় গেল
ধ্বসে সাজানো সংসার ছারখার।
এ নদীর আগ্রাসন সর্বস্ব লুঠ পাঠ
বাংলা নদীর  ভাঙনের সে কলঙ্কিত
ইতিহাসের সাক্ষী ঐ যে বটবৃক্ষের-,
নীচে স্থান পাই যদি মরনের সাথেই
বসবাসের বাসনায় ও মেয়ে তুই বল,
বৃষ্টিস্নাত গোধূলির রঙে রাঙানো ঐ
আকাশের তলায় কি আমার ঠাঁই হবে
না ? মরণের আগে শরণার্থী শিবিরে,
পরবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ বাসনা নেই,
আমার বাড়ী নেই, বাংলাদেশ ঠাঁই পাই কৈ?

যুদ্ধ শেষে শোক

যুদ্ধ শেষে শোক

শ্যামল সোম

মুক্তি যুদ্ধের শেষে  আজ
সহযোদ্ধারা কেউ কেউ নিহত
মুক্তি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল 
কেউ কেউ ভয়ংকর  আহত,
বাঙালির এ মানবতাবাদী
ছাত্রদলের আন্দোলনে
উত্তাল দেশ থেকে দেশান্তরে,
চলে শহর থেকে বন্দরে,
জেলায় জেলায় গ্রামে গ্রামে
নদীর ঘাটে  নৌকা নিয়ে,
মুক্তির সেনাদল, কত শত
সহস্র  নারী লড়াইয়ে ময়দানে,
বাঙালির স্বপ্নে বাংলাদেশ
লড়াই করে ছিনিয়ে নিতে হবে।
" আমাদের সংগ্রাম চলছে, 
জনতার সংগ্রাম চলছে, কাব্যে
সমবের গানে, " আমার ভাইয়ের
রক্তে রাঙানো একুশে
ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি ?"
" আমার সোনার নোলক হারিয়ে শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি
খুঁজি সারা বাংলাদেশে ----
মায়ের সোনার নোলক না নিয়ে
ঘরে ফিরবো না ! "
বহমান জনতার স্রোতে ভেসে
আসছে জন সমুদ্রে গর্জন,
জনতার সংগ্রাম চলছে,
প্রয়োজনে হলে  দেবো
এক নদী রক্ত " পৃথিবীর বিভিন্ন
যুদ্ধের ইতিহাসে বিরল
এ যুদ্ধে তিরিশ লক্ষ মানুষ নিহত,
তিন লক্ষ নারী কিশোরী যুবতী
বৃদ্ধা মুক বধির নির্যাতিতা।
কেউ কেউ আজও কত
স্মৃতি চিহ্ন রয়েছে
সে দিনের অগ্নি
কোনের  মানুষ জীবন 
জনতার  সেই মূহুর্তে সাক্ষী বেঁচে
কেউ কেউ, বাংলাদেশের
সীমান্তে এপারের শত দীর্ঘশ্বাসে
অনেকেই বলেছিলো
আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখার বিলাস।
মুক্তি যুদ্ধের যোদ্ধাদের অস্ত্র
রসদ বহে নিয়ে যাচ্ছে কিশোর
তরুণ, সেদিনে প্রজন্মের
জীবনের ঝুঁকি নিরাপত্তায় হীনতা
ঘরের শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা
বাহিরের সুশিক্ষিত সৈন্যবাহিনী
বিরুদ্ধে এস, এল, আর,
আধুনিক আগ্নেয় অস্ত্র সাথে দৈনন্দিন 
মোকাবিলা করতে সক্ষম
হয়েছে একমাত্র বাংলাদেশি প্রেম।
অসতর্কতার ঝাঁপিয়ে পড়তে
পারে ডাক্তারি ছাত্র সংগঠন গড়ে
মেডিকেল টিম নানা রকমের
সাহায্য করতে সুচিকিৎসা করতো।
দেশ,মাতৃ ভাষার সংগ্রাম শুরু হয়
উনিশশো বাহান্ন,থেকে চলতো,
উনিশশো একাত্তর সালে আঠারো
ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে আজও ?

ভ্রূণ ও প্রেমের অঙ্কুর

ভ্রূণ এ প্রেমের অঙ্কুর

শ্যামল সোম

রীতা- হ্যালো সুজিত
সুজিত - how are you baby my pretty darling.
রীতা -- I have some talks it's  urgent!
সুজিত -- what's happened with you baby ?
রীতা---- really I'm scared,
সুজিত -- unblieble ?  you are so dared you are !
রীতা--- I conceived!
সুজিত --- you have conceived as you legend talented.
রীতা -- please be serious,  I'm pregnant !
সুজিত -- congratulations best of luck dear baby.

রীতা-- এখন রসিকতার সময় নয় সুজিত দায়িত্ব নিতে হবে ?
সুজিত --- দায়িত্ব তোমার নেওয়া উচিত ছিলো ? এত পড়াশোনা, কত বড়ো চাকরি !
               But you are nagnining  like a poor village girl, women are convinced so you have taken not                        care to avoid unwanted pregnancy ?

রীতা --- হ্যালো হ্যালো আজ এত দিনের ভালোবাসার অঙ্কুর আমাদের সুজিত দায়িত্ব নাও গো চলো আমরা  বিয়ে করি

সুজিত  --- হ্যালো কি বললে  বিয়ে  ইয়ে ? তোমাকে  হা হা you are joking? Dot'  kidding  with me.

রীতা --- হ্যালো কি বলছো একটি নারী কখন এ অবস্থায়  তার মানসিক অবস্থা  বোঝো !

সুজিত --- Listen in future don't  disturbed me, কার কি মাল আমাকে দায়িত্ব নিতেই হবে ?black mailing ? তোমার তো অনেকের সঙ্গেই শোওয়াবসা ছিলো !
রীতা --- ছিঃ ছিঃ ছিঃ  এই ধরণের কথা All right তুমিও আমাকে  বিরক্ত করবে না I breakup with you.
সুজিত -- thanks a lot টাকার দরকার হলে বলো। বাই
রীতা  ----- মোবাইল ফোন  বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে।

আজ তিনদিন রীতা  স্নান খাওয়া অফিস যাওয়া বন্ধ করে ঘরে ভাবছে !
তিন বছরের সুজিতের সঙ্গে  ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুজনে পরসপরের কত কাছে এসে ছিল আজ সব শেষ।
ছোট বেলাতে বাবার মৃত্যু  একা মা বালুর হাটে কত কস্ট করে রিতাকে তিনি মানুষ করেছেন
এখন চাকরি করে একা কোলকাতায়  Flat নিয়ে কাজের মাসি আজ তিনদিন ফিরে গেছে ।

হঠাৎই  সোমেন এসে হাজির অনেক বার কলিং বেল বেজে  উঠলো  দরজা খুলতেই ধমক
" তোর কি ব্যাপার বুঝতেই পারছি না মোবাই বন্ধ  রীতা রীতা কি হয়েছো তোর। এমন চেহারা অসুস্থ  ফোন করিস না কেন রে "
" সোমেন তুই এখন যা "

" না যাবো না ! "
" সুজিত ফোন করেছিল?"
দোহাই ঐ নাম করিস নি সোমেন

"কেন কি হয়েছে রীতু  দশ বছরের আমাদের বন্ধুত্ব ।
রীতা সোমেনের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকে ! সোমেন রিতাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে শোনে সব কথা শেষে
বললো " আমি রীতু তোকে ভালো বাসি !আমি তো আছি বন্ধু তোর তোর সব দায়িত্ব আমার।

রীতার বুকে গভীরে নদীর ছলাৎ ছলাৎ শব্দ ওঠে।দেশভাগে হারিয়ে যাওয়া খুকুমা

শ্যামল  সোম

আমার সাধের বাড়ী নাই,
কীর্তন খোলা নদীর ধারে
ছিল আমার পৈত্রিক বাড়ীর
ভিতর পানে পুকুর পুকুরের
জলে হাঁস,লাল শালুক ফুল,
পদ্ম পাতায় শিশির বিনিদ্র রাতে
টুপটাপ বাড়ীর সামনে বাগান
নারকেল গাছের ঘেরা, ফুলের
পরে প্রজাপতি সব রঙ বেরঙের
রাঙা গোলাপ ফুলে ভ্রমরের
চুম্বনে মধুপান মৌমাছির গুঞ্জন।
ময়না দোয়েল পাখীর সে গান
টিয়া, শত চড়ুই পাখীর ঐ কলতান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলনে
বহুযুগ পরেও আলোড়িত আমার
এই  হৃদয়ে আনন্দে অশ্রু ঝরে।
হঠাৎই সত্তর বছর আগের এক
দামকা ঝরে এলো মেলো প্রাণ,
যম দূত কালো মেঘের হানাদার
লন্ড ভন্ড, লুঠ হয়ে গেল কন্যা,
ভগ্নী জননী ভয়াবহ  আর্তনাদ।
কীর্তন খোলা নদীর বন্যায় গেল
ধ্বসে সাজানো সংসার ছারখার।
এ নদীর আগ্রাসন সর্বস্ব লুঠ পাঠ
বাংলা নদীর  ভাঙনের সে কলঙ্কিত
ইতিহাসের সাক্ষী ঐ যে বটবৃক্ষের-,
নীচে স্থান পাই যদি মরনের সাথেই
বসবাসের বাসনায় ও মেয়ে তুই বল,
বৃষ্টিস্নাত গোধূলির রঙে রাঙানো ঐ
আকাশের তলায় কি আমার ঠাঁই হবে
না ? মরণের আগে শরণার্থী শিবিরে,
পরবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ বাসনা নেই,
আমার বাড়ী নেই, বাংলাদেশ ঠাঁই পাই কৈ?

Sunday, 4 November 2018

ভালোবাসা আজ আছে

ভোর রাত্রিরে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আশিকের জানলা দিয়ে ভোরের সূর্যোদ্বোয়ের আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত
হয়ে উঠছে মেঘলা আকাশ।

অজানা এক আনন্দে প্রাণ মন ভরে উঠছে আশিকের গলায় গুন গুন গান, " এই দিনে ঘরে থাকে না মন !"
" কাল রাতের বেলায় গান এলো মোর প্রাণে " আজি ঝর ঝর বাদল দিনে " আনন্দে গান গাইতে গাইতে
আকাশ কালো করে মেঘাচ্ছন্ন আকাশে বাতাসে ঘূর্ণী ঝড় ঝাঁপিয়ে পড়ল। বন্ধ করলো জানলার
কাচের  সার্সির বাহিরে তুমুল বেগে নামলো বৃষ্টি ।

বৃষ্টি স্নাত বাহির বাগানে করবী ফুলের গাছটি থরথর করে কাঁপছে।

চট্টগ্রামে কক্সবাজারে কাছেই আশিকের পৈতৃক সূত্রে নিজেদের বিশাল বাগান ঘেরা দোতলা বাড়ি
এক মাত্র বংশধর আশিক বিশাল সম্পত্তির মালিক, বাংলাদেশের নাম একটি সংবাদ পত্রের আঞ্চলিক
চট্টগ্রামের শাখা সম্পাদক অন লাইনে বিভিন্ পত্র পত্রিকায় সম্পাদক ও কবি, কাব্য সাহিত্য চর্চা ও
সাংবাদিকতা করে, আর্থিক অবস্থা ভীষন ভালো আনন্দেই আছে।

বিয়ে করেনি, ছাড়া হাত পা চল্লিশ বছরে যথেষ্ট মজবুত শরীর।

পূর্ব দিনাজপুরে এক সাহিত্য সভায় গত দু বছর আগে নিজের অনেকগুলো জনপ্রিয় কবিতা পাঠের
পরে মঞ্চ থেকে নিচে এসে বসার মঞ্চে উপস্থিত সভাপতি বিখ্যাত স্নামধন্য কবি আশিকের কাব্য মাধুর্যে শৈল্পিক ছন্দময় চিত্রকল্প বিন্যাসে ছন্দময়তায় মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করছেন।

সামুয়িক বিরতিতে একটি অত্যন্ত সুন্দরী যুবতী তন্বী তরুণী উচ্ছল বড় বড় চোখে মায়াবী দৃষ্টি
স্নিগ্ধতা জূঁই ফুলের ঘ্রাণ ভেসে এলো আকাশ রঙের সালোয়ার কামিজ মাথায় নীল ওড়নায় ঢাকা।

পঁচিশ ছাব্বিশ বছরের স্বর্ণালি এসে সালাম করে জানালো আশিক রহমানের মানে তাঁর লেখে কাব্য গ্রন্থ     আজকেই যেটি প্রকাশের শুভ মূহুর্তে কবি আশিক নিজে উপস্থিত ছিলেন, " ভালোবাসার আকাশ "
গ্রন্থটি  স্বর্ণালি হক কিনে এনে এনেছে সাক্ষর শুধু নয় কিছু লিখে দিতে হবেই!

" তোমার কি ? পাশে বসো "

তার ভীষন প্রিয় কবির পাশে ইতস্তত করে শেষে সাবধানে বসেছিল হৃদয়ে স্পন্দন কম্পন বেড়েছিল।

" জী আমার নাম স্বর্ণালি হক ডাক নাম মুক্তা, বাংলাদেশের সরকারের অধীনে কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এখন কাজ করি,  এম বি এ এবং সোশাল সায়েন্স মাস্টার করেছি স্যার ।"

আশিক কথা শুনতে শুনতে লিখে দিল,

" ভালবাসার আকাশে  স্বর্ণালি সন্ধ্যায় মুক্ত মতন ঝরে পড়ছে বৃষ্টি " সাক্ষর করে মুক্তার হাতে তুলে দিতেই
চমকে উঠে দাঁড়ায়  দুজনেই চোখে চোখ রেখে দেখে -- সেই  সর্বনাশ ভালোবাসা প্রেম  মুহূর্তটি স্মরণ করছিল বাড়ির বারান্দা বেতের চেয়ারে বসে দু বছরের কত স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে অঝোরে ঝরে যাচ্ছে বৃষ্টি।

তোমার সাথে ঐ দিন দিনাজপুরে মঞ্চে উঠে দাঁড়িয়ে তোমার কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম,
যে দিন কৈশোর উত্তীর্ণ যৌবনে আমি তোমার কবিতা পড়তাম তখন তুমি ছিলে আমার থেকে অনেক দূরে।

পরে ঐ দিন তুমি মঞ্চ থেকে  এলেই ছুটে গেলাম কবি তোমার লেখা,
" ভালবাসা আকাশ " " তোমার প্রতীক্ষায় অরণ্যে " ঝর্ণা নদী হয়ে বহে যায়"

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য  তোমাকে ভীষন ভালোবেসে ফেলেছি গো চি দিনের জন্য তোমার কাছে থাকবো বলেই আসছি আমি  তোমার দেওয়া নাম করবী ! দুদিন আগে WhatsApp  পাঠানো এই কথা গুলো ভাবছিল জীবন
অন্য দিকে বসিবে এবার।

হঠাৎ অতর্কিতে  দেখতে পায় নীল ছাতা নীল বসনা মুক্তা স্বর্ণালি বাগানের গেটের বাইরে
দাঁড়িয়ে অঝরে বৃষ্টি পড়ছে  ভিজতে ভিজতে ছুটে যায় আশিক  হাতের এয়ার ট্রলি ব্যাগ সব নামিয়ে
মুক্তা ছুটে এসে গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে বুকে রেখে মাথা কাঁদছে থরথর করে কাঁপছে শ্বাস প্রশ্বাসের দ্রুত গতিতে চলছে ।

প্রেম ভালোবাসায় সিক্ত করছে, অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি,
দুজনেই চারহাতে শক্ত করে জড়িয়ে রয়েছে পরস্পরে,
বৃষ্টি ভেজা বাতাসে কয়েকটা করবী ফুল ঝরে পড়লো।