Monday, 21 August 2017

ভালোবাসায় ভেসে আছি

ভালোবাসায়  আছি ভেসে       

শ্যামল  সোম

নীল হ্রদের গভীর জলে
আবগাহনে
কখন বা ঐ সুনীল
সমুদ্রের ঢেউয়ের
সাথে ভাসি অমলিন 
প্রেমের আলিঙ্গনে।
অতীত যৌবনে আমি
অথই সমুদ্রের তীরে
ভেসে আসা বালুচরে
বেঁধেছিলেম সে ঘর,
নিয়ত হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
তোমার কাব্যিক স্বর।
কখন চোখের কটাক্ষে
ডেকেছো দিয়ে হাতছানি
কাছে এসে হাতে রেখেছি
হাত উন্মূখ মন শ্রাবণী।
ভালোবেসে ভেসে গেছি
দুরে তোমার হতে দুরে,
আজও আমার হৃদয়ের
স্পন্দনে গহীন গহ্বরে।
ভালোবাসার ঢেউ প্রচন্ড
শব্দে আচড়ে পড়ে;
তোমার ভালোবাসায় ভেসে
মেঘনা নদীর মোহনায় আসা।

বন্যা প্লাবিত জীবন

বন্যা প্লাবিত জীবন

শ্যামল  সোম

দূর্দান্ত প্রচন্ড ঝড়ের রাতে গাছ পালা টালমাটাল
হাঁকছে সামাল সামাল!  উড়ছে ঘরের টিনের চাল,
শোন বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে দমকা নদীর স্রোতে।
হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে গাছ, রাক্ষসী বন্যা তেড়ে
উবড়ে নিলো নেকড়ের মতন তাড়া করছে তাদের ঐ,
বানভাসি যারা আজ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব রিক্ত সর্বহারা।
জলে ভেসে যাচ্ছে সংসার ফসল মৃত গৃহপালিত পশু
দিকে দিকে বন্যা বিধ্বস্ত শরণার্থী শিবিরে অসুস্থ বহু শিশু।
ত্রাণের সরবরাহের বরাত পাওয়ার জন্য লালায়িত ওরা।
মানুষের জীবন বিপন্ন সন্ত্রস্ত উদ্বিগ্ন নিশ্চুপ সবাই নিরুত্তর,
তখন কিছু কালো মনের মানুষ নারীদের সম্ভ্রম  প্রতিনিয়ত
এভাবে  অভাবে অভুক্ত বুভুক্ষুর হাহাকার ক্রন্দন নির্যাতন-
চলে,পৈশাচিক আনন্দ পাবে বন্যা কবলিত এলাকার বলে
আজ বহু প্রদেশ ঘোষিত, তবু নিশ্চিন্ত থাকে কি ভাবে লোকে?
বন্যানিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোন কাজ  আজও কেন সফল হল না ?

পাগলি আমার আদরের প্রেমিকা

পাগলি আমার আদরের প্রেমিকা

শ্যামল  সোম

ওরে পাগলী সত্যিই  তোকে ভালোবেসে
আমি বিশাল সর্বনাশের ফাঁদে দিয়েছি পা,
আমার বৈরাগী মন বলে এই হাভাতের বুড়ো
পালা বাপু তোর যেখানে ইচ্ছে সেখানেই যা।
আমি ঐ কপাটের বাহিরে যেই বাড়িয়েছি পা
মিতা পেছনে থেকে ছুটে এসে পিঠে দু চার ঘা।
পিঠে মাথা রেখে পাগলীর নোনা জল থামে না,
পাগলীর চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে পাঞ্জাবী
আমি ধমক দিয়ে বলি মিতা তুই এবার থামবি?
মিতা দু হাতে আষ্টে পিষ্ঠে জড়িয়ে কাঁদে শুধুই
বুকে মুখ ঘষছে,"যেতে দেবো না, কখনোই না।"
" দুয়ারে দাঁড়ায়ে বলে, না না না " বাজে সে সুর,
"ও মিতা ছাড় ছেড়ে দে যেতে হবেরে অনেক দূর !
ঐ চেয়ে দেখ দোরে,  অপেক্ষা করছে সেই যমদুত
বল, আমি এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে যাই কি করে?
তুই যদি এ ভাবে আমাকে জড়িয়ে এই ধরে রাখিস
বাহাত্তরের বুড়োর সামর্থ নেই শেয়াল শকুনের হাত
থেকে বাঁচাই আমার আদরের পাগলি চল পালাই।

এ গোপন কথোপকথন

বোন বলি শোন, গোপন এ কথোপকথন

শ্যামল  সোম

আমার এত ভুলে ভরা জীবন
যাপন এ এক অসহ্য যন্ত্রণা,
এ যুগে আপনজন আর কে
মা ছাড়া আছেন যে করুনা
করেন, যার জন্য কাঁদে
আমার মন প্রাণে বিষাদ বিপন্ন।
যদিও ভুল বানান ঠিক করা
যায় বোন কবিতার খাতায়,
হঠাই ভুল সিদ্ধান্ত জীবনে নিলে
ধ্বংস অনিবার্য সে পাতায়।
ভয়াবহ অতীতকে শুধুই ক্লান্ত
জীবনে টেনে হিঁচড়ে বহে চলা,
বছর বছর অনন্ত অবিরাম,
বেকুবের মত কর্তব্য করে যাও, 
প্রতি দানে শুধু  ভিখিরির মতন
একাকিত্বে নিঃস্ব করে দাও।
বোন সম্ভব হল না আত্মহননের
পথে বারবার হোঁচট খেলাম,
দিনে ডাকে কাক, রাতে মন বলে
তুই কাঁদ কেঁদে চোখের জল
ফেল, হতভাগা ঐ বন্যার  জলে
ডুবে মর, মরণেকে জড়িয়ে --
ধরে মন তুই গলায় দড়ি বেঁধে
পাখার আংটাতে শূন্য এ ঝুলে
পড়,বোন বিশ্বাস করো,
এখন আমার এখন আত্মহত্যা করতেও
ভীষন ভয় করে বোন,
এভাবেই কেটে যাবে শেষের কটা দিন;
বোন আমার জন্য  ঈশ্বরের কাছেই 
একটু সময় হলে প্রার্থনা করো।

তুমিই আমার জন্ম জন্মান্তরের বোন

শুভ সন্ধ্যার তুমিই সেই আকাশের অরুন্ধতী উজ্জ্বল নক্ষত্র
বোন তোমার ঐ লিখনে কাব্যে তোমার জন্যই প্রযোজ্য ক্ষেত্র,
সবুজ অরণ্য তোমার শব্দ চয়ন ছন্দ, চিন্তন সাহিত্য  শোভা
আমাকে বিমুগ্ধ করলো, বন্ধু  বোন আমি ধন্য অভিনন্দন জানাই।

জন্ম জন্মান্তরের বোন

শ্যামল  সোম

না না, না, নেই কোন রক্তের নিবিড় বন্ধন
ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে সে বোন
কাঁটাতারের বেড়া পেড়িয়ে বহু নদী সমুদ্র
সৈকত বেলাভূমিতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া
মানসিক দংশনে ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের বন্দর।
বন্দরেরকাল হোলো শেষ, উপড়ে ফেলি নোঙর
চলো যাই আমরা দুজন ভাই বোন মিলে ভাসাই
শৈশবের কাগজের নৌকা নয়,  পালতোলা নৌকা।
তোর ঐ নাবলা সবকথা ঐ দুফোটা চোখের জলে
ভাসিয়ে দিলেম ভালোবাসারনৌকা, পাল দিয়েছি
তুলে, হাল ধরেছি শক্ত হাতে, বোন বৈঠা বাইছিস তুই
সকল বাঁধন, ছিন্ন জীর্ণ পাতা,মোদের ঝরে গেছে যত
আত্মগ্লানি অভিমান কষ্ট গিলে ফেলেছিলাম দুজনে।
গোপনে সে রাতে ওই যেদিন প্রেম  ভালোবাসাকে
দিয়েছিলাম ছুটি, ঐ পালে বাতাসের বেগে আবেগে,
ঘনঘন বৈঠার ঠেলা তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে নৌকো।
অন্য কোথাও মন,গুন গুন করে গান গাইছে বোন তোর 
সাথে গলা মিলিয়ে, " আমার মুক্তি আলোয়  আলোয়
ঐ আকাশে "মেঘ, মেঘের সাথে শঙ্খচিল মন ভাসছে।
আমার বুকের ভেতর সুখের ঘরের শতকপাট খুলছে
আমার বোন দুচোখে জল, ছলছল, তাকিয়ে হাসছে।

Wednesday, 16 August 2017

ভালোবাসা শুধুই তোমার জন্য

ভালোবাসার জন্য কেন মন কেমন করে?
শুধুই তোমার জন্য আমার বেঁচে থাকা
শুধুই তোমার জন্য  সব গুছিয়ে রাখা।
শুধুই তোমার জন্য সমুদ্রের ঢেউয়ে বুকে
চড়ে আমার বহু দূরদূরান্ত ভেসে যাওয়া,
দেশান্তরে প্রতীক্ষিত মন ফিরে পাওয়া;
প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে তোমাকে চাওয়া।
শুধুমাত্র ভালোবাসা জন্যে পথে পথে
একাএকা উদাসী বাউলের গান গেয়ে,
ভালোবাসার জন্য শুধুমাত্র ভালোবাসা
দেওয়া নেওয়া দান প্রতিদানে সর্তে আসা,
নিমগ্ন আত্মহননের নয় ভালোবেসেই ধন্য
ভালোবাসা শুধুমাত্র তোমার জন্য  আবার
এই বাংলাদেশে বারবার ফিরে ফিরে আসা।

Monday, 14 August 2017

স্বাধীনতা তুমি আজ কার ?

শত শত কোটি দরিদ্র মানুষের সান্নিধ্যে দারিদ্রতা
কুশিক্ষা অশিক্ষা, কুসংস্কার, আজও ডাইনি সন্দেহে
পুড়িয়ে মারছে, বিবাহের পণের বলি শত সহস্র বধু হত্যা
নারী নির্যাতন অত্যাচার অসহ্য হিংস্রতার শিকার হয়,
প্রতিনিয়ত শিশু নারী কিশোরী বৃদ্ধা  প্রতি সম্মান দূরে
থাক, আত্মহনন ধর্ষনে, গণধর্ষণ বিচারে আত্ম বিসর্জন।
হে প্রিয় স্বাধীনতা তুমি কি ধর্ষকদের,মজুতদারের শোষন
কারীর, দুর্বৃত্ত, শত শত লম্পট এ লুঠ করল সত্তর বছর
বছর ধরে, স্বাধিকারের নেই অধিকার নারীর এদেশে ?
ধর্ম নিরপেক্ষ, পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বাক স্বাধীনতা আছে।
নেই শুধু নারীদের নিরাপত্তা অভুক্তের বুভুক্ষুর দুমুঠো অন্নের
অধিকার নেই,  নেই বাসস্থান নদীতে প্রতি বছর বন্যা হচ্ছে।
সত্তর বছরেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ হলো না হলো না গঙ্গা দূষণ।
পরিবেশ দূষণের জন্য  আমার দেশ কি সর্বনাশের পথে?
এই স্বাধীনতা স্বপ্ন  দেখেছিলেন ক্ষুদিরাম, ভক্ত সিংহ সহস্র
শহীদের রক্তের অপরিশোদ্ধ  ঐ ঋণ রক্তের বিনিময় মূল্য
দিতে হবে নিশ্চয়ই কোন একদিন জনতার গণ আন্দোলনে।
হাজার বছরের দাসসুলভ মনবৃত্তি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে নিশ্চয়ই
সেদিন সাম্প্রদায়িকতা নীল বিষ নীলকর সাহেব হত্যা করে
আবার মানবতার মুক্তি  যুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস লেখা হব।