Saturday, 16 September 2017

ধন্য এশা বলাকা

সুপ্রভাতে, ধন্য এশা বলাকা

শ্যামল সোম

অসাধারণ  সময় উপযোগী পোষ্ট,
ধন্য তুমি বলাকা এশা বাংলাদেশের এক বোন
( রবীন্দ্রনাথ এর, বলাকা  কাব্যে গন্ধে ভালোবাসার বই )
উনি  আমার কবি  জীবনানন্দ দাশের কবিতা পোস্ট করার
পরিপেক্ষিতে - এ বৃদ্ধ বয়সে

" ( আজ ) অদ্ভুত এক  আঁধার নেমেছে পৃথিবীতে !"
second world war এর  সময় কবির মন হয়েছিল বিক্ষুব্ধ,
এতই হতাশা আচ্ছন্ন, যে পৃথিবীর মানুষের দারিদ্র্য, হিংসা
হিংস্রতা,  দেশ দখলের এ শক্তি পরীক্ষা, শরণার্থী  শিবিরে
শেকড় উপড়ে  চলে আসার যাতনা
( আজ লক্ষ লক্ষ  মানুষ আপন দেশ থেকে শরণার্থী নানা দেশে।
আত্মীয় হারানোর  মর্মান্তিক বেদনা, সহজে তো ভোলা যায় না?
জীবনানন্দ দাশের  কাব্যের সংকলন চিরকালীন, শাশ্বত
Classical  Literally  works, But unfortunately his works
Properly aprised, appriciated কারণ  ঐ বোধ হীনতা
আমাদের রক্তের  গভীরে  কোন বোধ কাজ করে না।
খড়ের Men of straw  said by ex prime minister  of U.K.
Charchill
ভাগ হয়ে গেছে  দেশ ধর্মের দোহাই  দিয়ে
অতীতের পাপ  তাড়া  করে  ফেরে গুপ্ত  ঘাতকের
মুখোশে মুখ ঢেকে, মুখোশের  আড়ালে  মুখ
অসতর্ক মুহূর্তে শাণিত শলাকা হাতে মুখোমুখি সংঘর্ষে
পরদেশে  পরবাসী  থাকায় যাতনায় সে রুদ্ধ ক্রোধ এ।
অবান্তর  প্রশ্ন করে  মন, উত্তরের  অপেক্ষায় আছি।"

আমার ভীষন ভীষণ এক মাত্র  কবি যাকে এত
ভালোবাসি ছুটে ছুটে যাই  বরিশালে, নদীর ধারে,
শিশির ভেজা ঘাসে পা সাবধানে ফেলি,
পাছে ঘাসের  বেদনা জাগে, না বোন  কবির
পরকৃতি আছে নৈসর্গিক
পরাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, কিন্তু  আজ মৃত্যু,
রক্ত ঋণ, ধবংস কীট নড়েচড়ে,
মানুষের  মন থেকে মুছে  যাচছে,
কবির  আশংকা হারিয়ে যায় বোধ
বোধ হীন  মানুষের  সাথে  মানুষের
নেই কোন ভালোবাসার সম্পর্ক ,
আলো আছে, ভালো নেই মানুষ,  
" আলোয় ভরে রয়েছে অন্ধকার থেকে গাঢ় অন্ধকার "।

বোনের  ঈশ্বরের  কাছে  প্রার্থনা করি
তোমার মঙ্গলের  জন্য।

কবির মৃত্যু

কবির মৃত্যু ( কবি সুনীল গাঙ্গুলী স্মরণে )

শ্যামল সোম

রবীন্দ্র সদনের প্রাঙ্গণে আলপোনার
অলংকরণে, মেহগনি ঘাটে শুভ্র শয্যা,
ফুলে ফুলে সজ্জিত মঞ্চে শায়িত কবি।
অনুরাগী, কবির বৃদ্ধা, যুবতী, কিশোরী
নবীন যুবক তরুন আমার বাউণ্ডুলে মন
বাউলের ভীড়ে হারিয়ে শতসহস্র  বন্ধুদের
শুভাঙ্কাক্ষী, অগুন্তি ভক্ত তাঁরা শোকাচ্ছন্ন।
নত শির, নয়নে নীর, কবির একান্ত আপন-
প্রেমিক ও প্রেমিকাদের হাতে হাতে রয়েছে-
রক্ত গোলাপ, শ্বেত-শুভ্র গন্ধরাজ, বেল, যূঁই
চন্দন সুভিত কনক চাঁপা, জনৈকা ঐ রূপসী 
যুবতী নিজের হাতে গেঁথে এনেছেন যূঁই ফুলের
মালা, প্রেমে - মমতায়, ভালোবাসার স্রোতে এসে
আদরে ছলে  আতর এনেছেন খুব গোপনে।
অন্য আর একজনা ক্ষুন্ন মনে তরুনকে- বার
বার ইশারায় তরুনীর অনুযোগ শুকিয়ে আসছে
তার শোকাতুর মনে, সজল চোখে অশ্রু  গাঁথা
বেলফুলের মালা বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়
প্রানের টানে, রাতে সিক্ত নয়নে ভিজেছে বালিশ।
ভোর রাত থেকেই সব কাজ ফেলে অমোক
কবির প্রতি গহীন গোপন প্রেমে ছুটে এসেছে।
এ-এক মহাণ মানব প্রাচীর -মিছিলে মিছিলে
এসে মেলে, খোলা প্রাঙ্গণে।
জর্জ বিশ্বাসের গান ভাসে- -" আছে দুঃখ,
আছে মৃত্যু, বিরহ দহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।।"
" এখন আমার সময় হল, যাবার দুয়ার খোলো খোলো।
হল দেখা, হল মেলা, আলোছায়ায় হল খেলা-
স্বপন যে সে ভোলো ভোলো।।"
একটি তন্নী কিশোরী ডুঁকরে কেঁদে উঠে
চেতনা হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল,
কিন্তু আশ্চর্য তার-হাতে শক্ত করে
ধরা রক্ত-করবীর একটি গুচ্ছ।

জননী তোমার চরণে

জননী তোমার চরণে প্রণাম

শ্যামল সোম

ফিরে যেতে চাই মাতৃ তান্ত্রিক সমাজে হেতু
পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ জঙ্গলে রাজত্বে বাসে
প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণে ক্ষণে হত্যা হত্যা হত্যা
হত্যা চারিদিকে রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন এর
নাটকের রঘুপতির সংলাপ হত্যা বাতাসে
হত্যা আকাশে," এই মুহূর্তে এই জন প্রসূতি
মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করার পরে তিনবার
হাসপাতাল বদলে সময় মৃত্যু, কন্যা ভ্রুণ বৈধব্য
পরীক্ষার পর গর্ভস্থ কন্যা সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা
মৃত্যু জননীর, এ ভাবেই চলবে চলছে যুগ যুগান্তর
ধরে, আদিম যুগেও নারী আর গৃহপালিত সব পশুর
কদর কদর্য আজও শুধুমাত্র লেখার জন্য আঙুল
ভেঙেছিল আমার ভীষণ পছন্দের কবির আমি স্তম্ভিত।
হঠাৎই সত্তর বছরের জরাগ্রস্ত জরাজীর্ণ অসুস্থ বৃদ্ধের
মনে হলো আমরাও কি পারি না সজাগ থাকতে পাড়া
পড়শীদের কোন দায় দায়িত্ব নেই চিহ্নিত ধর্ষকদের
নারী নির্যাতনের সমর্থকদের সমবেত ভাবে গণপিটুনি
হত্যা করার জন্য আর কতকাল অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে ?
হে নারী যে সমাজ পদদলিত পণ্য পণ্যা বেসাতি করছে
পূর্ণিমার চাঁদ তুমি আমি ফুল পাখি ভালোবাসার কথা লেখে
অথচ ঘরের নারীদের উপর বলাৎকার নির্যাতন অত্যাচার
অসহ্য হিংস্রতার বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ করার এসেছে সময়।

একদিন সব যুদ্ধের হোক অবসান

এক দিন সব যুদ্ধের হোক অবসান -

শ্যামল সোম

ড্রোনের হামলায় পাহাড়ের
উপত্যকায় বিস্ফোরণ,
দূর পাল্লা ক্ষেপণ অস্ত্রের
নিয়মিত আক্রমণে আক্রান্ত।
আকাশ চুম্বি বিশাল অট্টালিকা
অহংকারের মিনার,
বজ্র আঁটুনি ফসকা গেঁড়ো,
নিশ্ছিদ্র সতর্ক সৈনিকের
পাহারা পেরিয়ে আকাশ পথে
আত্মঘাতী আক্রমণ শহীদের।
মানবতা সপক্ষে বর্বরচিত
শিশুদের খেলার মাঠে, গ্রামে
শহরে, বন্দরে, নিরীহ মানুষের
উপর সাঁড়াশি আক্রমণ
অর্থের প্রাচুর্যে এ তাদের
উল্লাসে উন্মাদের যুদ্ধ বিলাস।
শিশু কিশোর কিশোরী ছাত্র
ছাত্রী বিদ্যালয়ে অধ্যায়নে
যখন ছিল ব্যস্ত , খেলছিল
স্কুলের প্রাঙ্গনে, ঠিক সেই মুহূর্তে
আত্মঘাতী আক্রমণ,
মৃত শবের স্তূপ, ছিন্ন ভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গ।
নিরবিচ্ছিন্ন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে
প্রান্তরে ঘটে যায় বিস্ফোরণ।
বিস্ফোরণের প্রচন্ড ঐ শব্দে
ঘুম ভেঙে কেঁদে ওঠে মেয়ে।
আশ্চর্যজনক ভাবে সারা
পৃথিবীর সমস্ত মানুষ রয়েছেন নিরবে,
নির্বিকার ভয়ে, সন্ত্রস্ত, ভীষণ ভাবে
আতংকিত ঐ সন্ত্রাসী হামলায়--!
এত রক্তপাত এত হত্যা,
তবু কেন মানুষ আজও বোধহীন
চরম হতাশা, বিষন্নতা,
বিষাদ, মানসিক অবসাদ।
স্বপ্ন দেখি একদিন রণাঙ্গন
থেকে ফিরে সাহসী সৈনিক শূন্যে
গুলি ছুড়ে বলবে মৃত্যু মৃত্যু খেলার
ঐ উপলব্ধি, জীবনের অভিজ্ঞতার
বার্তা দিতে গিয়ে এসো আজ
সবাই হাতে হাত করি অঙ্গীকার !
যুদ্ধ থামাই; হিংসা থেকেই
জন্ম দেয় প্রতিহিংসা,প্রতিনিয়ত
প্রত্যাঘাত, ও ঘাত -প্রতিঘাতে
জন্ম নেয় রক্তবীজের বংশ,
প্রতিহিংসা, লক্ষ লক্ষ জন্ম
নেয় সন্ত্রাসের আগামী প্রজন্ম।
শপথবাক্য করো উচ্চারণ,
" এখন সব যুদ্ধের হোক অবসান
শান্তি বর্ষিত ফুলে ফলে,
শিশুদের কল্লোলে ভরে যাক পৃথিবী।

Thursday, 7 September 2017

সন্ত্রস্ত শরণার্থী

সন্ত্রস্ত  শরণার্থী

শ্যামল  সোম

প্রাচীন সেই প্রস্তর যুগ যুগান্তর থেকেই চলেছে বারবার
দূর্বলের প্রতি  এই সবলের আবহমানকালের অত্যাচার।
বিভিন্ন গোষ্ঠী যাযাবরের জীবন গৃহপালিত পশু পক্ষী
সাথে সাথে চলেছে তৃনভূমির দেশ থেকে দেশান্তর রক্ষী।
পুরুষের হাতে রয়েছে পাথরের অস্ত্র তাম্র যুগ লৌহ যুগে
একদল মানুষের ভয়ে আর একদল মানুষ পালাচ্ছে সুখে,
থাকতে চায় প্রয়োজনে হত্যা গোষ্ঠীর গৃহপালিত পশু নারী
দখল করো সে তৃনভূমি, আজও  একবিংশ শতাব্দীর ছবি
একই রয়েছে, এসেছে অত্যাধুনিক অস্ত্র দূর  পাল্লার সবই
আধুনিক যন্ত্রদানবের আস্ফালন ক্ষেপণ অস্ত্র বিস্ফোরণ।
খাদ্য সংকটে বিপর্যস্ত বিধস্ত ভয়ঙ্কর দারিদ্র্যতায় আবাসন
জনসংখ্যার ঘনত্বের চলছে বিতারণ, যুগ যুগ যুগান্তরের  ও
তাড়িত মানুষ মানুষের অগ্নি সংযোগে, জ্বলে উঠছে বাসস্থান,
সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঢুকছে লাখ লাখ--
মানুষ না ওরা শরণার্থী বা মানবপাচারকারী শারিরীক পণ্য,
যৌনবতী নারী ও মাদকদ্রব্য সরবরাহের যোগান দেবার গণ্য
মান্য ব্যক্তিত্ব  পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ধর্মের দোহাই পারস্পরিক
সম্পর্ক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার  অভিনব অভিনয়ে শান্তি সম্মেলন সার্বিক
উন্নয়নের লক্ষ লক্ষ প্রতিশ্রুতি, শত আলোচনার  আড়ালে নির্লজ্জ
মিথ্যাচার ষড়যন্ত্র সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি যুদ্ধের মহড়া চলছে।
গোপনে গড়ে উঠছে দিকে দিকে দেশে দেশে রণাঙ্গনে বিস্ফোরণ
ঘটানোর বিশ্বব্যাপী বিশাল আয়োজন, দু দশ লক্ষ শরণার্থী জীবন?

Friday, 1 September 2017

গোলাপ সুন্দরীদের প্রতি বার্তা

গোলাপ সুন্দরীদের প্রতি বার্তা 

শ্যামল  সোম

ক্ষমা করবেন সত্যই খুব কষ্টকর জ্ঞাপন
টি ভি তে যত খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন
বন্ধুত্বের আড়ালে নির্লজ্জ মিথ্যাচার অশ্রু
মোচন ভালোবাসা নেই শুধুই কথোপকথন,
আজ মানস মানসীদের মাঝে এত ব্যবধান।
ঝাঁকে ঝাঁকে দোয়েল মিনা পাখীর  ঐ
শোনা যায় কলতান,ইশারায়  বাজপাখী
দুচারটি তিতির শালিক ছোঁ মেরে নিয়ে উড়ে
গেল - নিয়ত প্রেমে ভালোবেসে শতসহস্র
গোলাপ ফুলের মত হতভাগিনী কিশোরী তন্বী
তরুনী আজও ফাঁদে পড়ে কেঁদে কেঁদে হারায়।
কেন তারাদৈনন্দিন অবাস্তব প্রেমে মশগুল হায়
প্রতিশ্রুতি পরে স্বপ্নভঙ্গ সে অপ্সরী স্বর্গের নূর।
হাজারে হাজারে তবু কেন যেন ভালোবাসায়
সিক্ত হতে চায় মরা স্রোতে  কি সুখের অবগাহন?
বিষাদে গল্পে ছল ছল চোখের জল মুছে শক্ত ঘাটি
ওই তোকেই করতে হবে কঠিন পায়ের তলার মাটি।
বোন তোদের জন্য কাঁদে মন কাঁটাতারের বেড়া
ওপারে এপারের আমার পথের সাথীদের সাথে।
আমার স্মৃতি তাড়িত বিষন্ন মন বোনের মত লেখা
পড়ে ক্ষণ ক্ষণে ক্ষণিকের তরে অতীতকে শোন
তোকে রেখেছি হৃদয়ের গহীনে, হৃদয় খুঁড়ে তুই
বেদানার্ত প্রতিফলন ধরা পড়ে গেছি বোনের
কাছে হাঁ একেই বলে চিহ্নিত ভাই বোনের সম্ভ্রম
অমলিন পবিত্র এ সমৃদ্ধ পরস্পরের পরিপূরণ।
অসাধারণ অমরত্ব পাবে বোনের শৈল্পিক লিখন।

কোন একদিন তোমার বিষন্ন মূহুর্ত

কোন একদিন তোমার বিষন্ন মূহুর্তে

শ্যামল সোম

সামনে ঐ বিশাল সমুদ্র হঠাৎই কি  তোমার মনে
সত্যিই মনে পড়ে যাবে যে লিখেছিলো নিশ্চিত
ভালোবেসে, ফেলে আসা যৌবনের প্রারম্ভে,
" আমার সোহিনী, এক সমুদ্র ভালোবাসায়
ভরিয়ে দিলেম তোমার হৃদয়," যেদিন কাছে
আমি থাকবো না কল্পনায় ভাবি তুমি রয়েছো
সুখে সাগরে দোসরের সাথে কক্সবাজার এসে।
হোটেল থেকে তুমি টিপ টিপ বৃষ্টি মধ্যেই দুপুরে
বেড়িয়ে খালি পায়ে বালুকা বেলায় একা একাই 
হাঁটছো পায়ে মৃদু নূপুরের সুর,তোমার মধুর কন্ঠে
আপন মনে অনুরোরণে শুনি যেন কানে ধ্বনিত
গাইছো তুমি রবীন্দ্রনাথের আমাদের গান,শাশ্বত
" সখী নিভৃত যতনে মোর নামটি লিখো !"
বৃষ্টিস্নাত গোধূলি রঙের  আকাশে আঁকা হচ্ছে
রঙবেরঙের আলপোনা,স্বপ্নের জাল ফাঁকা এই
নিরালা নির্জন সমুদ্র সৈকতে একা একা ঝিনুক
কুড়িয়ে রেখো ভালোবার বিরল মুহূর্তের প্রেমময়
স্মৃতি সযত্নে স্মৃতিটুকু থাক তোমার হৃদয়ের গহীন
সে ব্যক্তিগত একান্ত নিজস্ব গোপন ভালোবাসা হয়ে ।