Tuesday, 28 November 2017

শ্যামল সোম এর ও বোন ঝরনার লেখা

কীর্তন খোলার নদীর বহমান উজান
স্রোতে ভাসিয়ে এসেছি প্রেম
উনিশ বাহাত্তর সালে।
তুমিই আমার বাংলাদেশের বোন
ঝর্না তুমি দেখালে ভালোবাসা স্বপন।

শ্যামল সোম

পদ্য কবিতা

20 --- 4 --17

♥♥স্বপ্নের নদী কীর্তন খোলা♥♥
       ♦ডাঃ ফারহানা আক্তার ফ্লোরা ♥

[প্রিয় কবি শ্যামল সোম যিনি বাঁশিওয়ালার নামেও পরিচিত সেই  কোলকাতার ভাইয়া  তার স্মরণে লিখা ]

যে নদী এক দিন তোমায় টেনে এনে ছিলো
বহু দূর থেকে এপার বাংলায়
আজ কেনো ভুলে যাও তুমি সেই,
ফেলে আসা ছোট্ট বেলার শৈশব কাটানো
তোমার প্রিয় ভালোবাসা ভরা এপার বাংলার ছবি।

আমি যে সেই কবে থেকে চেয়ে আছি পথ চেয়ে
আমার সেই ভালবাসার বাঁশিওয়ালা কে,
একটি বার প্রাণ ভরে দেখবো বলে
আচ্ছা তুমি কি বলতে পারো কবে পাবো?

আমার স্বপ্নের সেই চিরো সবুজ স্বপ্ন বিভোর
ভালবাসার পাগল আদরের কাঙাল
সেতো ঐ পাড়ে থাকে অজানা কোন গাঁয়ে,
শুনেছিলাম বহু দিন আগে,
সে বার যখন শেষ বার কথা হয়েছিলো তার সাথে।

আজও ভুলিনি আমি তাকে ভুলবনা কোন দিন
এই দেহে যতো দিন প্রাণ থাকে,
অপেক্ষমান এই বাংলায় আছি অপেক্ষাতে
দেখি কবে দাওদেখা তোমার সেই
প্রিয় নদী কীর্তন খোলার ধারেই থাকবো দাঁড়িয়ে।

স্বপ্নের বাঁশিওয়ালা তুমি আসবে ফাল্গুনের
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম লাল নিয়ে ভরিয়ে দিবে চারদিক
প্রেমের নানান রঙে রাঙ্গাবে উৎফুল্ল চিত্তে,
তৃষ্ণার্থ চোখে তাকিয়ে দেখবে তোমার সেই কবে
ফেলে যাওয়া এপার বাংলার আদরের ঝর্ণা বোনটিকে।
স্বাগতম সুস্বাগতম সুপ্রভাতে এই বন্ধু  আপনাকে জানাই অফুরন্ত উষ্ণ অভিনন্দন।

উত্তরে আমি অনুপ্রাণিত হয়ে লিখছি আমার হারিয়ে যাওয়া ঝর্না বোনের উদ্দেশ্যে

ভালোবেসে  বাংলাদেশে

শ্যামল সোম

জননী, বোন, ভাইদের বাংলাদেশের ভালো মানুষের সাথে
আমার বাংলাদেশে বারে বারে ফিরে ফিরে আসা শিকড়ের
সন্ধানে বাংলাদেশের ভালোবাসার মানুষের খোঁজে বিভিন্ন
জেলায় জেলায় কতশত নদীর বহমান অনুপ্রেরণার স্রোতে।

এ কথা বলা অশোভন,  অন্যায়, শাস্তি যোগ্য, কিন্তু মাটির মায়া
কীর্তনখোলা, সোমেশ্বরী, শীতলক্ষা, রূপশা, মেঘনা নদীতে স্নান
নদীর বুকে অবগাহনে, রাঙামাটি, কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে
তোমাদের সাথে দল বেঁধে উনিশো বাহাত্তর সালে বনানীর সাথে
যাওয়া, না বিশ্বাস করেন মূহুর্ত জন্য মনে হয় নাই আমি বিদেশী।

আজকাল যখন যখন এপার ওপার বাংলার কবিদের ভাগ করে
দেন ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল  ঐ তেইশে ফেবরুয়ারী অনুষ্ঠানে, আমি
একটু দূরে একা বসলাম, কবিকে ভাগ করা যায় সীমান্তের শক্ত
কাঁটাতারের বেড়ার প্রাচীর তুলে ?
ভাষা,  বাংলা ভাষা সাংস্কৃতিক সঙ্গীত, জয়নাল আবেদিন, জীবনানন্দ দাশ
এপারের না ওপারের মধু পল্লী সবাই হেসে উঠলেন, মধুসূদন আমাদের।
বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে, প্রতিবাদ গর্জে বললেন, " কেন আপনি  বিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলামের  " কাণ্ডারী হুশিয়ার " কবিতা ভালো করে পড়েন নি?"
বোন,ভাই  যদি কিছু মনে না করো একটা কথা বলি দেশটি কিন্তু
ছিলো সে সময়, আজও  বাংলাদেশেকে ভালোবাসি ভীষণ।
আমার সোনা দেশ বলে ভাবি, শিকড়ের টান ছেঁড়া পাতা  নয় যে ঝরে
এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক করবে অনেকেই।
ভালোবাসায় কারুর খবরদারি আমি বরদাস্ত করব না,ভাই ও বোন।
ইদানিং চুপ করে থাকি যখন জিজ্ঞেস করেন কেউ জন্মভূমি ?
শরণার্থীর ক্ষোভ প্রকাশ পাবে বোন চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগে শব্দ তুমি
বা নাতনি শুনতে পাবে অনুভবে হৃদয়ে গহীন অন্তরে অন্তরে ভিতরে বাহিরে।

Wednesday, 25 October 2017

ঝুলন ! হঠাৎই একদিন হয়তো

ঝুলন ! হঠাৎই একদিন হয়তো

শ্যামল সোম 

হঠাৎই কোন একদিন দেখা হয়ে যাবে, গোধূলির রঙে রাঙানো আকাশের তলে,

আসন্ন শীতকালীন শীতার্ত শীতল সন্ধ্যায়।

ঢাকার কোন এক রাজপথে বা ধানমন্ডির লেকের ধারে নিরবিচ্ছিন্ন নিরালায় নগ্ন 

দুপুরে, আচমকাই পরস্পরের দিকে মগ্ন নিষ্পলক দৃষ্টি, মুগ্ধ চোখে তোমাকে দেখে

মুখে মৃদু হাসি নিয়ে তাকিয়ে থাকবো আমি।

এমনই এক দুলুদ দুপুরে জগন্নাথ হল থেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দশ বছর আগে

নির্জন উদ্যানে, ফাল্গুনে  কৃষ্ণচূড়ার গাছে নিচে, পরস্পরের  হাত ধরে পরস্পরের

উষ্ণ  সান্নিধ্যে আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি কত কথা হয়েছিল বলা দুচোখে ভাষায়

গোপন কথাটি হয়ে ছিল  বলা, কথা আর গানে মরমে সে সুর, আজও বাজে।

সেই সময়  হঠাৎই বৃষ্টি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম দুজনে এক সাথে।

আজ দশ বছর পরে সেই তুমি বিব্রত বোধে নামিয়ে নিয়েছো কৃষ্ণ ও নয়ন অপ্রস্তুত অবাঞ্ছিত সেই মূহুর্ত দুজনার মনে, অশান্ত সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রচন্ড  আর্তনাদ !

অন্তরীক্ষে শব্দহীন সে ক্রন্দন শুনেও শুনতে চায় না তোমার মন, প্রতীক্ষিত প্রেমিক আমি

অপেক্ষায় অনন্তকাল হয়তো বা  আগামী জন্মে নিশ্চিত কি পাবো কিংবা যদি আমাদের মিলন

নাইবা হলো কোনদিন কি বা এসে যায় ঝুলন?

নতমুখে আপন পথে ফিরে ফিরে যেতে যেতে,বারে বারে তোমার পিছু ফিরে চাওয়া দুচোখে 

বন্যা কি থমকে রয়েছে মুচড়ে  উঠল হৃদয়ের তন্ত্রীতে বেজে উঠল ব্যথিত প্রাণিত  প্রাণের প্রেম।

Tuesday, 24 October 2017

শূন্যে ঝুলছে নূপুর পড়া দুটি পা

শূন্যে ঝুলছে নূপুর পরা দুটি পা

শ্যামল সোম

সকাল থেকেই ভীড় জমে মানুষের ঐ আঠারো নম্বর পুরোনো বাড়ির সামনে
হরিপদ বন্ধ  একটি ঘরে খোলা জানালার সামনে হুমড়ি খেতে পড়ছে পুরুষ
প্রৌঢ় পিতৃ সম,  বৃদ্ধ দাদু বয়স্ক  দাদা কাকু ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল মিতার
সাথে মেয়েটি আঠারো বছরের হাসিখুশি, গান গাইতো পাড়ার জলসাতে,
পড়া শোনা বেশ ভালো কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী, ভলিবল খেলতে ভালো।
এহেন আলো করা রূপবতী গুণবতী এই বন্ধ দরজা ভেতরে শিলিং ফ্যানে
শক্ত দড়ির বাঁধনে নগ্ন দেহে শূন্যে ঝুলছে শুধু দুটি পারে রূপোর বাহারী নূপুর।

" এখন পুলিশ আসেনি দরজা ভাঙা হবে না না ঠিক হবে অমূল্য "

যদি বাঁচানো যেত?

লম্বা জিব দেখলে না?

না না এ দৃশ্য দেখা যায় না !

শত শত মানুষ ছুটে আসছে আশপাশের এলাকার!

এরা মানুষ ? জানোয়ার!

একটি উলঙ্গ  আঠারো বছরের কন্যা সম মেয়ে ! ছিঃ ছিঃ

সামাজিক অবক্ষয়ের নগ্ন চিত্রকল্প

মিতার বাপ হরিপদ  আর কি বলবে শোকাচ্ছন্ন মুহ্যমান স্থবির নির্বাক।

শোকার্ত মানুষের পাশে চা জল খাওয়াতে চেষ্টা করছেন দুচার জন,
হরিপদ এইমাত্র  এই আদরের কন্যার এই করুন পরিনতি তে স্তব্ধ
নির্বাক পাষাণ  মূর্তি ও দুচোখে মরুভূমির হাহাকার।

হঠাৎই সত্তর বছরের মিতার দাদাভাইয়ের চিৎকার করে হুংকার, লাঠি হাতে
জানলার কাছে ভিড় সরাতে তেড়ে যাওয়া -- দাঁত বের করে ফিচেল হাসি ছোকরা পলায়ন।

মিতার মা রমা গর্ভবতী জননী জ্ঞান এখন ফেরেনি মহিলারা ব্যস্ত ছিলেন এর মধ্যে জনৈকা,
" না না এভাবে ফেলে রাখা যায় না এমমবোলেনস গাড়ির ড্রাইভার কে ডাকো"
সেই মুহূর্তেই পুলিশের জীপ পেছনেই হররনhorn বাজাতে ছুটে আসছে।
লোক গুলো ইঁদুরের মতন পালাচ্ছে!
পুলিশের তৎপরতায় দরজা ভেঙে লাশ নামিয়ে বাপ হরিপদ মা রমা কে স্টেচার
মা মেয়ে বাপ মায়ের সাথে শেষ যাত্রা হাসপাতালের মর্গে!

তখন কানাকানি রসাল আলাপ ফিসফাস জ্ঞানের ফোওয়ারা কুৎসিত ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন

মিতার বান্ধবীদের ছলছল চোখে বিলাই জানিয়ে তারা মিয়ার দাদুভাই কাছে বসে দুধ খাওয়াতে !
পাগলে মতন দাদু বুক চাবড়ে কাঁদছেন, গলা ছেড়ে গহিছেন, " আহা এমন দিনকি হবে
তারা, যবে তারা তারা বলে নয়নে  ঝরবে ধারা !"

Saturday, 21 October 2017

বৃষ্টিস্নাত প্রেম

বৃষ্টিস্নাত প্রেম

শ্যামল সোম

ঝিরঝির করে ঝরছে বৃষ্টি, ছাতা মাথায় ওড়না আঁচলে ঢেকে মুখ,
ব্যাকুল উদগ্রীব নয়নে বড় বড়  চোখের পল্লব মেলে নীতা
পরনে  নীল আকাশি রঙের বাহারী কারুকার্য করা সালোয়ার কামিজ
মাথাতে গাঢ় নীল রঙের ওড়না  জড়ানো, যূঁইফুলের মতন সারল্য মুখ,
স্নিগ্ধ সৌন্দর্য লাবণ্য  মসৃণ ত্বক উজ্জ্বল বর্ণের নিটোল গড়ণ দেহে
ঋজু দীপ্ত  প্রাণের মাধুর্য অপরূপা  ঐ আমার আদরের নীতা দাঁড়িয়ে
রয়েছে, আমি নিষ্পলক চোখে দূর থেকে তাকিয়ে দেখছিলাম,
গাড়ির চালকের আসনে বসে অফিস থেকে লাঞ্চ  আওয়ারে।

এই কোলকাতার ইডেন গার্ডেনের গেটে সামনে অধৈর্য হয়ে
মাঝে মাঝেই সে তার  পেলব বাহু তুলে কব্জিতে বাঁধা ঘড়ি দেখছে নীতা
ভয়ে ভয়ে কাঁপছে বুক, সতর্ক চোখ এদিকে ওদিকে দেখে।
নীতাকে প্রতীক্ষিতা অরণ্যের  হরিণী মতন ইতস্তত  হতে দেখে মজা করার জন্যই রিং দিলাম।

তখনই  নীতার হাতে মোবাইল ফোন, রিং টোনে গান,
" যদি মনে পড়ে যায়
ফিরে এসো প্রিয়
শ্রাবণের মেঘলা বিকেলে !"

নীতা মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে, " সোম কৈ তুমি, এই এত ক্ষণ পরে ফোন দিলা,
এমন বৃষ্টির মধ্যেই আমি একা একটি মেয়ে এভাবে অপেক্ষা, "
হতাশায় ভেঙে পড়ে, " কি বলছো  আসতে পারবে না ? "
নীতার দেহের  কাঁপন চোখের  পাতায় জল জমে চোখের কোলে।

নীতা কান্না ভেজা গলায়, " কেন কেন সোম এভাবে বারেবারে ফেরাও? 
" কেন আমাকে কেবলই কাঁদাও, আমাকে কাঁদিয়ে কি  সুখ পাও গো ?
তোমাকে এত ভালো বাসি এই মোর অপরাধ ?"

আমি গোলাপের গুচ্ছ মনোরম মোড়কে মোড়া হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই  হাসতে
হাসতে রক্তিম করবী নীতার পেছন দিকে  এগিয়ে যাই।

নীতা ক্ষোভে রেগে যায়, চোখে মুখে গোধূলির রঙ, রেখে টং, "পাগলামি, হচ্ছে তুমি হাসছো? 

" সত্যি অদ্ভূত  একটা পাগল কে ভালোবেসেছি,
কি বললে কাঁদলে আমাকে সুন্দর দেখায় কাব্য হচ্ছে!" 

" সোম, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জানো
কলেজের ক্লাস  ফাঁকি দিয়ে  তোমার জন্য
আমি ছুটে এসে অপেক্ষা--"
নীতার লোনা জলে বন্যা  বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

এগিয়ে পেছন থেকে আমি চুপি চুপি দাঁড়িয়ে নীতার কাঁধে টোকা দিলেই
নীতা পেছন ফিরে নীরবে দুচোখে জ্বল জ্বল
দৃষ্টি ঝরঝর করে জোরে কেঁদে উঠলো,
নীতার চোখে জল প্রপাত,
আমি মুগ্ধ চোখে দেখছি, সত্যি সত্যিই
পাহাড়ি ঝর্ণা বর্ষন।

ঐ মূহুর্তে ঝমঝমিয়ে নামলো বৃষ্টি,
পরস্পরে কে জড়িয়ে বৃষ্টির জলে ছোট নীল লেডিস
ছাতার তলায় ভিজছি, পরস্পরের হৃদয়ের স্পন্দন
সমুদ্রের ঢেউয়ের আলোড়ন দুজনার মন,
দুজনেই ভালোবাসার শিহরণে শিহরিত  বহমান রক্তের গভীরে।

অনিন্দিতা

অনিন্দিতা

শ্যামল  সোম

ভোর বেলায় হিমেল হাওয়ায় বহুবছর পর নিউজার্সি থেকে চারদিন আগে কোলকাতার ফিরেছি,
কোলকাতার এই চলমান যান উবের ট্যাক্সি ফোন করলেই হাজির সত্যি সত্যিই অনেক বদলে গেছে কোলকাতা।
রমেন আমার শৈশবের বন্ধু  দেখা করতে ভোর বেলায় আসা।

গাড়ি থেকে ভাড়া মিটিয়ে ওদের বিশাল বাগানের মধ্যে দিয়ে মোরামের পাথর কুটির উপর হেঁটে যাচ্ছি বারান্দায়
দাঁড়িয়ে ইতস্তত করছি যে বাড়িতে এক সময় হুটহাট ঢুকে যেতাম সাত বছর পরে শুনশান লাগছে।

হঠাৎই পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো মেয়ে, " কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলে দীপ? "

জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে ঘুরে দাড়িয়ে দেখি খুব চেনা মুখ অচেনা চোখের ভাষা
আমি বিস্মিত বিস্ময়  হতবাক এ কে ?
খিল খিল করে হাসছে, " দীপ কি দেখছো আমাকে, আমাকে দেখার এখন বাকি ?

বুজতে পারলাম অনু অনিন্দিতা আমাকে চিনতে পারছে না, শুধু তাই নয় মস্তিষ্কে গোলমাল ঘটেছে।

দৌড়ে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো, " দীপ এতদিন পরে এলে একটু আদর করো, তোমার আদরে আদরে অস্থির হতাম
জ্বলে উঠতাম রঙমশালের মতন দেখ দেখ তাকিয়ে দেখো এখন কেমন নিঃস্ব রিক্ত পোড়া কাঠ।"

আমি অসহায়ত্ব শঙ্কিত উদ্বিগ্ন প্রাণ কম্পিত মনে শুনছি অর্গল পাগলিনী প্রলাপ

একা একাই বকে যাচ্ছে অনু,  " আমি কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তোমার ফ্লাটে চলে যেতাম, আমার চোখে দিকে তাকিয়ে বলতে অনু তোমার মধ্যেই  আমার পৃথিবী ! "
আমি আহ্লাদে টলমল টালমাটাল প্রেম ভালোবাসায় দীপ তোমাকে  ভালোবেসেই ধন্য হতাম, তোমার আদরে নিষ্পেষণে প্রেমে ধর্ষনের সুখ নানা আমার ভীষন আমার ভীষণ অসুখ হয়েছিল  এই দেখো আমার একঢাল চুলে দীপ
তুমি আমার লম্বা খোলা চুল দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে বলতে, " পাগলি তোকে ভালোবেসে খুন করছি।"

ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। রমেন নিঃশব্দে অনুসরণ সব কথা রেকর্ড করছিল
ইশারা করে চুপ থাকতে বলে অনুর পেছন থেকে, রমেন এগিয়ে এসে  অনু পাঁজাকোলা করে ভেতরের ঘরে নিয়ে যায়।

রমেনের বৌদি এক গ্লাস জল  এগিয়ে দেয়। আমি তৃষ্ণার্ত চাকত পাখীর মতন এক নিঃশ্বাসে পান করি, গ্লাসটা  এগিয়ে বলি, প্লীজ বৌদি
আবার জল খেয়ে ধাতস্থ করি নিজেকে।

বৌদি ম্লান হেসে বললেন, " সোমেন দুপুরে খেতে যাবে, বসো কফি পাঠাচ্ছি! "

একা একা রুমালে ঘাম মুছে, বসে ভাবছি আমার কোন বোন ছিলো না, অনু তিন বছর বয়স থেকেই ভাইফোঁটা
দিয়ে আসছিল, " আমি চাকরী সূত্রে বিদেশে চলে আগে পর্যন্ত পরাই বার বছর ধরে ভাই ফোঁটার দিয়ে আসছিল,
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস মনুষ্যত্ব হীন মানুষকে ভালোবেসে আজ অনু ধ্বংসের স্তুপ,

সুদীপ্ত চিনতে পারলাম সাক্ষাৎ শয়তান  স্কুলে থাকতেই স্বভাব চরিত্র কলংক ইতিহাস।
রমেনের বন্ধুত্বের সুযোগে শয়তানটা অনু এত ব্যস্ত সর্বনাশ করলো ঘৃণ্য ক্রোধ রাগে ফূসছি।

রমেন এসে আমার হাত ধরেই বাথরুমে তোয়ালে দেখায়, " সোমেন রিফ্রেশ হবে নে !
" না আমি সমান করবো " ঘড়ি  পার্স সব রমেনের হাতে দিলাম।
বাথরুমের দরজা বন্ধ করে শার্ট পেন্ট সব খুলে শাওয়ার  খুলে দিলাম  ঠান্ডা শীতল জলে স্নান করছি
ভাবছি নারী এইমাত্র পারে ভালোবেসে নিজেকে এ ভাবে নিঃস্ব সর্বস্ব শ্রান্ত নিঃশেষ করে বিলিয়ে দিতে।
কে যেন গাহিছে রবীন্দ্রনাথের গান, " আমি আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়!"

Tuesday, 17 October 2017

সমুদ্র কন্যা

সমুদ্র কন্যা

শ্যামল  সোম

সমুদ্র সৈকতে নাতনি জয়ীতার সাথে অন্ধকার থাকতেই হোটেল থেকে পৌঁছেছি,
বালুকা বেলায় নাতনি পাশে বসে দেখছি রূপালি ঢেউ হামাগুড়ি দিয়ে দুরন্ত শিশু।
পূর্বের  আঁধারাচ্ছন্ন  আকাশে সূর্য প্রসবের প্রাক মূহুর্তে রূপ সোনা রঙে ছড়িয়ে
জননী প্রসব  করছেন টিমের লাল কুসুমিত  সূর্যোদ্বয়ের নূতন প্রভাত,
ভোরের  আলোয় উজ্জ্বল  উদ্ভাসিত নাতনির চোখে মুখে আনন্দের বিচ্ছুরণে
আবেগে, হঠাৎই আমাকে আঁকড়ে ধরে, হুহু করে ডুগড়ে কেঁদে উঠে, " দাদাভাই
আমি বাঁচতে চাই ! " পিঠে হাত বুলিয়ে দুচোখে জল, ছলছল চোখে আমরা পরস্পরের
অপলক চোখে তাকিয়েই আছি।
" কি হলো দাদুভাই কথা বলছো না কেন ?"

" আমি মন মন ঈশ্বরের কাছে এই মূহুর্তে তোর জন্য  প্রার্থনা করছিলাম মা।"

" এক মাত্র তুমি তুমি  আমাকে আজ বাঁচিয়ে রেখেছে দাদাভাই "

" ঈশ্বর এই পৃথিবীর সৃষ্টি কর্তা তিনিই  তোমাকে আশীর্বাদ করছেন, আমি শুধুমাত্র
আমার নাতনির কল্যানের জন্য প্রার্থনা করছি ! "

"তোমার ঈশ্বর ভীষণ নিষ্ঠুর দাদুভাই  আমার আদরের ভালোবাসার মানুষ রনজয়কে
কেঁদে নিয়েছেন !"

আমি নিশ্চুপ নাতনির মাথায় হাত রেখে স্মরণ করি মহান পিতা পরম ব্রক্ষ্ম কে ।

রণজয় আর জয়ীতার  বাল্যপ্রেম ভাই বোনের মতন খুনসুটি ঝগড়া যৌবনে মান অভিমান।
হঠাৎই রণজয় দিল্লীর আই আই টি পড়তে যাওয়া দীর্ঘদিনের বিরহের গান শুনতাম জয়ীতার গলায়।
নিজেকে কঠিন শাসনে বেঁধে দুর্দান্ত রেজাল্ট করলো ইকনমিক্স  মার্কেটিং  উপর ডক্টর জয়তী ঘোষ
বিকাশ কোম্পানির এক বিশিষ্ট পদে আসিন।

দু’বছর জাপানে কাজ করে কোলকাতাতে ফিরলো রণজয়, বিবাহের আয়োজন 
চলছে হচ্ছে খুব শীঘ্রই  বিবাহের দিন।
নাতনি আমার রঙিন প্রজাপতি, স্বপ্নে বিভোর মোহাচ্ছন্ন বিমোহিত, মাঝে মাঝেই আমার আদরের
নাতনি জড়িয়ে ধরে, " সত্যিই দাদুভাই জীবনটা খুব সুন্দর ! "

হতভাগীর এই এত আনন্দের ফোয়ারা ফুরিয়ে গেল-  এক দমকা হাওয়ায় নীচে
গেল, সব দীপাবলির আলো।

রণজয় হেলমেট না পড়ে বাইক এক্সিডেন্ট মাথাতে চোট পেয়ে, হসপিটালে মরণ বাঁচন লড়াইয়ের
জন্য জয়তী দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে অসহ্য মানসিক যন্ত্রনা।
শেষে রণজয় মৃত্যু জেনে জ্ঞান হারালো জয়ীতা
টানা পনের দিন নার্সিংহোম চিকিৎসার পরে আমার ছেলে বৌমা নাতনিকে বাঁচাতে  পারলো।

কিন্তু যখন শুনলো জয়ীতা তাঁদের একমাত্র কন্যা সন্তানের গর্ভে ধারণ করেছে ভ্রূণ পরীক্ষার পর গর্ভস্থ
ভ্রুণ নষ্ট করতে ছেলে বৌমা নিকট  আত্মীয় স্বজন।

জয়ীতা রুখে দাঁড়ানোর পেছনে আমার প্রোথিত প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অসংখ্য বার
তীব্র ভৎসনা করলো সবাই।

না না আমি কখন জয়ীতার উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম, শুধু বলে ছিলাম, " মা এ বড় কঠিন লড়াই!
সরকারী আইন অবিহিতা কুমারী মায়ের জন্য স্বীকৃতি  স্বরূপ সমাজ সংস্কার
ভবিষ্যতের ভাবনার ভেবে সিদ্ধান্ত নাও মা "
ইদানিং খুব মন খারাপ ছিল জয়ীতার তাই আমাদের বেড়াতে আসা।
এই নির্জন সমুদ্রে  প্রচন্ড  ঢেউয়ের আলোড়ন মাঝে জয়ীতা কাব্যে নায়িকার
মতন ঢেউ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছে তার দুচোখে সুখ স্বপন ?

আমি মুগ্ধ হয়ে সমুদ্র কন্যাকে দেখছি।

Monday, 16 October 2017

যৌন নির্যাতনে আত্মহনন

প্রেমের এ হেন নির্যাতনে  আত্মহনন

শ্যামল  সোম

মানুষ মানসিক কতটা যাতনায়, নিদারুণ  অবসাদে আত্মহননের
পথ বেছে নেয়, বিশেষত মিনুর মতন সদ্য কৈশোর উন্নতি তন্বী
লাবণ্যময়ী ঝর্নার মত উচ্ছল, দীঘল মায়াবী চোখে ভাসে  নীলপদ্ম ।
মিনু আমার বন্ধুর রমেনের নাতনি রমেনের  ছেলে মেরিন  ইঞ্জিনিয়ার
সারা বছরে সাত মাস জলে ভাসে।
রমেন বৌমা অতসী নাতনি মিনু ভালো নাম মীনাক্ষী নাতি বাবলু
ক্লাস ফাইবে পড়ে।
বৌমা একটি কোম্পানী জোনাল হেড খুবই ব্যস্ত জীবন সংসারের
হাল ধরে রেখেছে রমেন ব্যাঙ্ক  এ অফিসার ছিলো এখন আমার মতই
অবসর প্রাপ্ত।
আমার এই নিঃসঙ্গ বিষন্ন জীবনে রমেন  ও নাতনি মিনু যেন ঠিক এক
পশলা বৃষ্টি, মিষ্টি স্বভাবের প্রাণবন্ত সারল্য স্নিগ্ধ মাধুর্য অপরূপ কাব্যিক
ছন্দময় প্রেমময় সৌন্দর্যে ব্যবহারে, অসম্ভব সুন্দর নৃত্য পরিবেশনে
সাবলীল ব্যক্তির সম্পূর্ণা তরুনীর একঢাল মেঘ বরণ চুল, পাড়াতে
সবাই ভীষন প্রিয় পাত্রী।

প্রখর  দগ্ধ আমার  জীবনের ভালোবাসার প্রলেপ  আমার আদরের নাতনি,
আমার লেখার প্রথম পাঠিকা, নানা ভাবে অনলাইনে  লেখা ল্যাপটপের
খুঁটিনাটি সব ব্যাপারে সাহায্য করতো।

কলেজে আমার পরামর্শে ইংলিশ অনার্স সাথে মাস কমিউনিকেশন পড়ছিল।
দুর্দান্ত সব রেজাল্ট স্কুল থেকেই মেধাবী ছাত্রী।

হঠাৎই মিনুর হাবভাব পালটে গেল, শুনলাম রমেনের কাছে এক ব্যবসায়ী
বাপের বকাটের ছেলের মোহে পড়ছে।

ইদানিং  আমাকেও এড়িয়ে যায়  বুজি এই হলো আমাদের দেশের পরবর্তি নূতন প্রজন্ম
প্রাচীন প্রথার প্রচলন দৈনন্দিন জীবন যাপন  এ রুদ্ধশ্বাস থাকতে চায়  না।

মুক্ত বিহঙ্গ শঙ্খচিল মতন প্রেমিকের হৃদয়ে আকাশে উড়ছে, চাঁদ জ্যোৎস্না
আলোকিত জীবনে হঠাৎই  ফানুসের মতন খোলা রাতের আকাশে  উড়তে
করতে ঝপ করে নিভে গেল।
যাব যাবো ই বানিজ্য তে যাবো রবীন্দ্রনাথের গান কেন এলো, শোকে দুঃখে রবীন্দ্রনাথের গানে
নীল সুর বেদনা মধুর নয়?
রমেনের বাড়ির সামনে লোকে লোকারণ্য, পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল ।
জানা গেল  কানাঘুষো শোনা গেল  গত পরশু  প্রেমিকের বন্ধুদের গণধর্ষণের শিকার হয়ছিলো।
আত্মগ্লানি ভারাকান্ত নদীর মতন খাল হয়ে বাঁচতে  চাইলো কেন প্রতিকার মোমবাতির
মিছিলে নীল রঙের কষ্টের জীবন থেকে কেন পলায়ন ? ভুলের প্রায়শ্চিত  কি আত্মহনন
যখন গর্ভে লালিত পালিত  ভ্রূণ?