Friday, 8 June 2018

মধুরিমা তুই আমার প্রথম প্রেম

মধুরিমা তুই আমার প্রথম প্রেম

শ্যামল সোম

মধুরিমা তোর ভালোবাসায় ভরে আছে মন
তোকে ভালোবাসি তাই ধন্য আজ এ জীবন,
কাছাকাছি এসে ফিরিয়ে দিয়েছে সে শ্রাবণ;
দুজনে দুদিকে ভেসে গেছি এ বন্যায় প্লাবন।
গোপন ভালোবাসা স্বপ্নে মমনে অনুরোরন
তোকে ভোলা যায় না তাই এখন ভালোবাসি
ভালোবাসা রয়ে যায় মনে আজ তুই প্রবাসী।

পুনশ্চঃ কবি মন্তব্যে আমি মুগ্ধ হলাম কবিকে কুর্নিশ জানাই

ভালোলাগায় হয় ভালোবাসা
চির দিনের আপন হয়ে থাকা,
একলা জীবন হয় মরুভূমি সম
নিজের মনে স্বপ্ন গুলো আঁকা।

মোহমুগ্ধ মন মহো আচ্ছন্ন বৃষ্টি

মোহমুগ্ধ মন মোহচ্ছন্ন বৃষ্টি

শ্যামল সোম

মনোবিজ্ঞানী ডাক্তার সুশান্ত রায়ের নার্সিং হোমে
আজ তিনদিন হয়ে গেলো ভর্তি করা হয়েছে অভিজিতের
বাবুর ছোট মেয়ে লালীকে, এখন মাঝে মধ্যে খুঁজেছে
কাউকে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে, হঠাৎ চিৎকার করে উঠছে, I will you,  you can't
LOVE him, he is mine, he is my dream YES I LOVE him really,
ঝরঝর করে কাঁদতে থাকে এ কান্না বিলাপে
অস্থির হয়ে অদ্ভুত আচরণে, নার্স সহ অনেকে লালীকে চেপে
ধরে সে বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে, ইনজেকসনপুস করলে ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে।

চারদিন আগে হঠাৎ অতর্কিতে বন্ধ ঘরে রাত্রে শুয়ে ছিল
দুই বোন একই বিছানায় শুয়ে শুয়ে দুজনে মিলে
নানা কথার মাঝে রঞ্জনদার প্রসঙ্গ আসে সাতবছর
ধরে গৃহশিক্ষকতা করছে রঞ্জন দেবনাথ এখন Engineering
পাশ করে চাকরি করছে, তবু এই দুই বোনকে রঞ্জন
পড়াতে আসে যদিও অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে লালী
শৈশব থেকে কিশোরের শেষ প্রান্তে এসে এ ভাবে যে
কোন সময় ধীরে ধীরে রঞ্জনকে নিয়ে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে।

এটা ভালোবাসা প্রেম  নয় মোহ Infectuation লালী
আবেগ তাড়িত হয়ে যায় কখন ছোট বোনের মতো
কোন উপহার স্নেহ মমতায় ভালোবাসা,

হঠাৎ বৃষ্টি ভেজা বিকেলে এসে রঞ্জন লালীর হাতে তোয়ালে  দিয়ে রঞ্জনের সার্ট গেঞ্জি খুলে
মাথা মুখিয়ে দিতে দিতে ভালোলাগা ভালোবাসার
ছোঁয়ায় হৃদয়ে  প্রেম অনুভব করে লালী আচমকা
দুহাতে জড়িয়ে ধরে রঞ্জনের বুকে চুমু খেতে থাকে
শক্ত করে জড়িয়ে গভীর আলিঙ্গনে আদরে আদরে অস্থির করে তোলে,
প্রথমে হতবাক হয়ে যায় রঞ্জন শেষে জোর করে
ছাড়াতে চায় নিজেকে, না পেরে শেষে ঠাস করে চড় থাপ্পড় মারে।

লালী সদ্য যৌবনের উন্মাদনায় হিংস্র বাঘিনীর মতো তাকিয়ে থাকে।

পরে হঠাৎই হো হো করে হেসে উঠে বলে,
It's only FUN fun fun আপন মনে বিড়বিড় করতে
করতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দু চোখ ভরে দেখে অঝোরে
ঝরছে বৃষ্টি দুহাতে চোখে লোনা জল ধুয়ে মুছে ফেলতে চায়।

লালীর এই আচরণে এদিন রাতে দুই বোনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক
হয়ে চছিল চলছিল হঠাৎ অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে বড় বোন তুলির উপরে
আঁচড়ে কামড়ে তুলির পেটের উপর চেপে বসে অশ্লীল ভাষায় গাল দিতে হিংস্র
হয়ে তুলির গলা টিপে ধরে,  I know you বিচ লুকিয়ে চলছে তোদের লভ
But I LOVE him really I LOVE him No No i can't spear you you have to be killed.

তুলির আর্তনাদে শুনে ছুটে আসে অভিজিত ও লাবনি লালী তুলির মা।

সেই ঘটনার পরে আজ তিন ধরে এই ডাক্তার Physicriatist সুশান্ত রায়ের নার্সিং হোমে চিকিৎসা চলছে

Physical activity বিষয়ক সমস্যা সমাধান করতে হবে কিন্তু  কি হবে শেষ পর্যন্তকে জানে ?

Sunday, 27 May 2018

লতায় পাতায় চারুলতা

লতায়  পাতায় চারুলতা

শ্যামল সোম

তুমিই আমার গোপন প্রেম
তোমাকে  ভালোবাসিলেম
এ প্রেমে মমনে গাঁথা হলেম।
তোমার চিন্তনে, প্রতিক্ষণ
প্রতীক্ষায় রইলাম কথাশিল্পী
না না নেই কোন প্রত্যাশা এ
পূরণ অভিলাষ, ভালোবাসা
একান্ত আত্মা আত্মীয় স্বজন।
সে তুমি তোমাকে শুধু দূর থেকে
মুগ্ধ বিস্ময়ে হয়ে তাকিয়ে দেখি
ছবি সে তুমি না কায়াহীন ছায়া?
না  কাছে যাওয়ার নেই সম্ভবনা
সত্যি সত্যি সত্যি না নেই  কখনই।
লেখায় প্রেমে পড়া ঝর্না তখনই
শব্দ পুষ্প চয়ন অদ্ভুত  বৃষ্টি ঝরা।
বিনিদ্র রাতে নীরবে নিভৃতে কাঁদে
প্রাণ ব্যথা বেদনা নৈরাশ্যের মাঝে
আনন্দে আপ্লুত  তোমাকে লেখা
পঠনে আলো জ্বলে  বিবর্ণ হৃদয়ে 
গোধূলি  আকাশে  কাব্যে  লীন,
কাব্যময়তা ছন্দময় প্রেম অমলিন
ভালোবাসায়  চিত্রকল্পে ভরিয়ে দেয় 
মগ্নতায় ভালোবাসার ছোঁয়ায় স্বপন।

কবি নও তুমি অবলা নারী

কবি নও তুমি অবলা নারী

শ্যামল সোম

তোমার কাব্যময়তায় মগ্ন
মন ছুঁয়ে যায় অনবদ্য
লিখনে কাব্যে শব্দের
অক্ষরে অক্ষরে জ্বালায়
সুপ্ত ভাবনাকে প্রকাশের
আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে
নির্মূল করো উদ্ধত পৌরুষ।
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ
গড়ে উঠুক কাব্য লিখনে।
পুরুষ তান্ত্রিক সমাজের
অবক্ষয়ের পথে ধাবিত,
আজ কলম হোক তোমার
হাতিয়ার  শব্দের অক্ষরে,
প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে
বিবর্তন একে রক্ষা করো।
বিদ্ধ করো অন্যায় সহিংসতা,
গর্জে উঠুক কাব্য তীক্ষ্ম বাণ।
হে কবি ও সাহিত্যের অঙ্গনে
কাণ্ডারী সাহিত্য জগতে প্রাণে
উজ্বল নক্ষত্র জ্বলবে মমনে,
পাঠকের হৃদয়ে ঋদ্ধ হওয়া
প্রতিটি কবিতায় মুগ্ধতায় মন,
নিরন্তর শুভ কামনা রইলো।

বেশি দূরে যেও নাকো তুমি

বেশি দূর যেও নাকো তুমি

শ্যামল সোম

সাম্রাজ্যবাদীদের শক্তি প্রদর্শন
দেশে দেশে উপনিবেশ স্থাপন
বিলুপ্ত সভ্যতা সংকটে ভুগছে
মানুষের বৃথা আস্ফালন গেছে,
মানবিকতা সমর শয্যায় নীরব।
কতদূর যেতে পারে সে মানুষ
আকাশে ভেসে যায় ঐ ফানুষ,
কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে পারো
পৃথিবীর বাহিরে ফিরে না এলে
মহাশূন্যে কখন হয় কি বিলীন
মলিন হয়ে মুখ নিয়ে ফেরে সে
পালিয়ে ছিল কান্ডজ্ঞান প্রেমে।
ভালোবাসার ধোঁকা শুঁয়োপোকা
কালো টেরেনটুলা মাকড়সা এ
কি অতৃপ্ত আত্মা ফিরছে ঘরে
সংসারে অভাব অনটনে পড়ে
ফাঁদে ফেলে মায়াজালে বিভোর
দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়া তোর
এই বাসনা পূরণ করতে বেশীদূর
আর যেও না, হয়তো ফিরতে হবে
মান সম্মান ইজ্জত সব হারিয়ে কবে
শুনেছে পুরুষের কে দিয়েছে দোষ
কখন প্রেয়াসী কি পেয়েছে প্রতীম
প্রেম খুঁজতে বেশিদূরে যেও না, সে
আপন অন্তরে অন্তরে হৃদয় জুড়ে

Sunday, 6 May 2018

প্রতিধ্বনিত আর্তনাদ শুনি

প্রতিধ্বনিত আর্তনাদ শুনি প্রতি রাতে

স্বপ্নে নয় প্রতি গভীর রাতে প্রতিধ্বনিত
আর্তনাদ শুনি প্রতি রাতে কৈশোর  উত্তীর্ণা
তন্বী তরুণী উজ্বল পূর্ণিমায় অর্ধ নগ্ন শরীরে
" বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও !"
চিৎকার করে আর্তনাদ করে সেই রাতে নীরবে
দেখেছি দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে অসহায়
এ ভয়ার্ত বৃদ্ধের হৃদয় থরথর করে কাঁপছে ভয়ে,
বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
প্রাণ  না নারীর  আত্মসম্মান বাঁচাতে ছুটছে নারী
পেছনে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ক্ষমতাসম্পন্ন ধর্ষক
বিকৃত মনস্ক অমানুষেরেরা গণধর্ষনে লালসার
নারী শিকার উৎসব শহরে এই খোলা রাজপথে,
নিয়ন্ত্রণ বাতির উজ্বল আলোয় আলোয় ফুটপাতে
আলোকিত শান বাঁধানো চাতালে ধরে ফেলে টেনে
আনে, শহরের নির্মীয়মান বিশাল আকাশ চুম্বি ফ্লাটে।
এ কিশোরী যুবতী নির্যাতন ধর্ষণ প্রাক্কালে আর্তনাদ
শোনা যায়, " বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও "
কখন গ্রামে নদীর পারে বাঁশ বাগানে ভগ্ন মন্দিরে
ধান খেতে কালভার্টে, অফিসে স্কুলে কলেজে
দেশে দেশে নানা কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘরে ঘরে
বার বার শুনি ধর্ষিতা আর্তনাদ হাহাকার স্পষ্টই
প্রতীয়মান  প্রতি রাতে চলছে যেন উৎসব গণধর্ষণ।
গণধর্ষণে ধর্ষিতা  আর্তনাদ সাথে বাদ্য যন্ত্র হারমনি,
এ নব্য সঙগীতে তালে তালে দুলে দুলে প্রকাশ্যে এই
যুগলে আলিঙ্গনে আদরে আদরে প্রেমের চুম্বন চুম্বনে
দুইদৃশ্যে অভিনয়  নয় সত্য ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত।
নীরবে ব্যথা বেদনা নৈরাশ্য বিষাদমাখা হতাশায় ডুবে
নিমজ্জিত হয়ে আছি মাত্র জননী মৃত্যুর অপেক্ষায়।

Saturday, 5 May 2018

ভ্রষ্টা মেয়ের নষ্ট জীবন

ভ্রষ্টা মেয়ের নষ্ট জীবন

শ্যামল সোম

শৈশবে বাপ মায়ের আদরের সে আমি
গ্রামের বাড়ির বাগানে প্রজাপতি উড়ে,
আমিও ফুল পাড়তে গিয়ে দেখি জুড়ে
আছে গাছে মৌচাক, মৌমাছির দংশনে
জ্বলে ছিল হাত, পরম মমতায়  জননী
মলম লাগিয়ে দেয়, বাপ এসে আদরে
আদরে জুড়িয়ে যায় প্রাণ আনন্দে ভরে
যায় আমার শৈশবে আহ্লাদে বৃষ্টি ঝরে
একা একা ভিজেছি গাছের ছায়ায়।
হায়, বিধাতা ছিনিয়ে নেয় বাপ মাকে
সে এক দুর্ঘটনায় নিহত হয়, কান্না থামে
মামা মামার সংসারে এসে, লেখাপড়ায়।
সাথে মনের মাধুরী মিশিয়ে কৈশোরে
আসে স্বপ্নেের রাজপুত্র হিরো সে প্রেমিক
আদরে সোহাগে সুতীব্র ভালোবাসায় সিক্ত
আমি ধরে হাত তার ভেসে যাই ভালবাসায়।
স্বপ্নিল কাব্যময়তায়, প্রতিক্ষণ  স্বপ্নে বিভোর,
একদিন সকালে  আঁচড়ানো ক্ষতবিক্ষত দেহ
ঠাঁই পায় নিষিদ্ধ পল্লী বেশ্যালয়ে রাজপুত্র সে
মোটা টাকার বিনিময়ে ছেড়ে চলে গেছে আমায়।
স্বপ্নিল কাব্যময় নয় কঠিন বাস্তব মুখোমুখি
এ পঙ্কিল সংকট কঠিন বাস্তব জীবনে নিত্য
নূতন খদ্দের আসে মুখে রঙ মেঘে ঢং ঢং করে
হেসেহেসে বাসর শয্যা বিশিষ্ট ব্যক্তির মনোরঞ্জন
আত্মার আর্তনাদ শুনি ভ্রষ্টা নষ্ট আমার হৃদয়ে,
আজ ও মাঝেমধ্যে ভুলে যায় কাজে উদাসী মন
ফিরে যেতে চায়  এ শহর ছেড়ে  গ্রামে শান্ত গাছ
গাছালি নিবিড় ঐ নদী পাড়ের ঘণ ছায়াবীথিকায়।