Wednesday, 5 June 2019

সম্পর্কের টানা পড়েন

সম্পর্কের টানাপোড়েন

শ্যামল সোম

বিকাশের কথা

ঋতুকে প্রথম দেখেই মায়াবী সজল
চোখের দিকে তাকিয়ে ভালোলেগে ছিলো।
সদ্য প্রয়াত " স্বামীর ব্যাঙ্কের চাকরি
আমার ভীষণ জড়ুড়ি বিকাশ বাবু" বলে, ঋতু
আমার হাত টা দুটো হাতে ধরে ঝরঝর
করে কেঁদে ফেলল, আমি সহকর্মী অতনুর
মৃত্যু বাইক একসিডেন্ট পর পাশেই ছিলাম
সব সময়ই, আট বছরের বিবাহিত
জীবনের পর এক সুন্দরী যুবতী জীবন
একাকীত্ব মাঝে ঋতু মনের  পরিবর্তন হতে
থাকে, আমার প্রতি নির্ভরতা বিশ্বাস আমার
দীর্ঘ দিনের  সহমর্মিতা সহানুভূতি বোধ
পরস্পরের প্রতি অনুকম্পা থেকে ভালোবাসা খুব
কাছাকাছি চলে আসা সম্ভব হয়েছে,
আমার বার বছরের বিবাহিত জীবনের অসফলতা
লীনা তার কোম্পানী লিমিটেড এর
বড় পোস্ট চাকরি ক্যারিয়ার গড়তে সন্তান জন্ম দিলো
না পার্টি ক্লাব ফাস্ট লাইফ লিড করে,
বহু পুরুষের সঙ্গে লীনা শারীরিক সম্পর্ক কিন্তু
চিরস্থায়ী নয়, আমিও ঋতুর সঙ্গে মানসিক
শারীরিক সম্পর্কে বন্ধনে আবদ্ধ হতে প্রতিজ্ঞা
নিয়ে লেখা পড়ে করে লীনা সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ
করে ঋতুকে সম্মতি নিয়েই বিবাহ করে
সারা দুজনে একসাথে থাকবো।

ঋতুর কথা

আঠারো বছরের কলেজে থাকতেই অতনুর সাথে
প্রেম, একইপাড়াতে বসবাস, ছোটবেলা থেকেই
ভালোলাগা,তুলে রাখা।
পাড়াতে নৃত্য শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করি,
অতনু খুব উৎসাহ দিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমন কি
শান্তিনিকেতন পরিবেশন করতে গিয়ে খুব
কাছে আসা পরে ভালোবাসার বিবাহ,
বাড়ির অমতে জাতপাতের, ঘোর বিরোধ
আপত্তি, বাপের বাড়ি মা দাদা ছাড়া কেউ নেই।
তাই অতনু বাইক একসিধডেনটে মারা যাওয়ার পর
অকুলান সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছিলাম ঠিক তখন

বিকাশ দু হাত বাড়িয়ে দেয় আমাকে মুগ্ধ করে
বিকাশের প্রতিটি ব্যবহার সহমর্মিতা সহানুভূতি শীল
মনের অভিব্যক্তি প্রকাশে আপ্লুত হয়ে গেলাম
বিলক্ষণ জানি নারীর হৃদয়ে ব্যথা বেদনা নৈরাশ্য
বিষাদমাখা হতাশায় নিমজ্জিত হয় যখন তখন
ভালো লাগে ভীষণ যদি বিকাশের মতন সুন্দর
মনের মানুষের সংস্পর্শে এসে অনুপ্রাণিত হয়ে
নূতন করে জীবন শুরু করার বাসনা জাগে বিকাশের
গভীর আলিঙ্গনে আদরে আদরে ভেসে
যাই দুজনে মিলে আজ আমার হৃদয় জুড়ে রয়েছো বিকাশ,
প্রতিক্ষণ প্রতীক্ষায় রইলাম কবে আমি
বিকাশকে চিরদিনের কাছে পাবো বিকাশের বিবাহ বিচ্ছেদের
মামলা চলছে, আমি মাতৃত্ব সাধ পেতে চাই।

Tuesday, 28 May 2019

স্বপ্ন নিহত

স্বপ্ন  নিহত

শ্যামল সোম

1964 সালে ভাগ হয়ে গেলো পার্টি  বাম ও দক্ষিণ  অপর এক দল চরম পন্থী গ্রাম দিয়ে
শহর ঘিরে শ্রেণী শত্রু নিধন, কৃষক শ্রমিক সর্বহারা
বিপ্লব সংগ্রামী খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের বিশাল  মিছিল ও সমাবেশ  1966 সালে
1st May, আন্তর্জাতিক শ্রমিক  May  দিবসে  কোলকাতায় ধর্মতলায়   মনুমেন্ট পাদদেশে
ভারতবর্ষে নূতন এক পার্টি প্রতিষ্ঠিত হলো।
অনিক প্রসিদ্ধ  প্রেসিডেন্ট সি কলেজের মেধাবী ফিজিস্ক এর ছাত্র নবসংগঠন  সম্পাদক
নিজেদের দলের মিছিলের উপরে উগ্র আক্রমণ আহতের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো।
সামন্য  আহতদের কোলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে  ডাক্তারি পড়ছে ছাত্র ছাত্রীরা
সেবা শুশ্রূষা করছেন।
বার বার শ্লোগান  উঠছে , দুনিয়ার মজদুর কৃষকেরা এক হও নকশাল বাড়ি জিন্দাবাদ।
বিভিন্ন  নেতা  কানু সান্যাল সন্তোষ রানা, দক্ষিণ ভারতে র
জ্বালাময়ী বক্তৃতা করেন সবাই আগামী দিনে বিপ্লবের স্বপ্ন  দেখতে থাকেন।
ক্রেন্দয় কমিটি থেথে  চারু মজুমদার বেড়িয়ে গিয়ে  শ্রমিক আন্দোলন শুরু করেন।
অনিক ভট্টাচার্য  জলপাইগুড়ির  ছেলে কিশোর বয়সে ঐ আনদোলনে রয়্যালিটি  ক্লাস
করে মার্কস বাদে, মাও বাদ মাওসেতুঙ লেখা রেডবুক অমোক বিশ্বাসে  অটল রয়েছে
এক ধনী পরিবারের মেধাবী সন্তান বাবা জোতদার
সার ব্যবসায়ে  হোল সেলার বৈভব অবশ্যই সম্পদশালী অনীক প্রেসিডেন্সী কলেজে
নিজের খরচ পাতি ঢিউশান করে চালায়, তাছাড়া দুর্দান্ত রেজাল্ট এর জন্য স্টাইফেন
পায়,

মেডিক্যাল কলেজ ডাক্তারি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী অনুসূয়া বাসু  এক ঘরোয়া মিটিংয়ে
অনীকের  ইতিহাস ভৌগলিক মার্কস বাদে গভীর জ্ঞান এবং যুক্তি উপস্থাপন করে বক্তব্য
শুনে অনুসূয়া  মুগ্ধ হয়ে আলাপ পরিচয়  ধীরে ধীরে ভালোলাগা ভালোবাসা গড়ে উঠে।
অনীক এম এস সি পরীক্ষার শেষে বিদেশে যাওয়ার নাম করে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছে।

অনুসূয়া ডাক্তারি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নিজের পরিবার থেকে আলাদা হয়ে
এক মাত্র তাদের ভালোবাসার সন্তান সূর্যা কন্যা শিশু  নিয়ে  প্রহর  দিন যাপন করছে
একদিকে অনীকের ফেরার প্রতীক্ষায়  অন্য দিকে ডাক্তারি  প্র্যাকটিশ  শিশুকন্যার
প্রতিপালন  পার্টি জন্য গরীবদের বিভিন্ন বস্তিতে  গিয়ে সদলবলে  সবাইর দেহ পরীক্ষা করা।

সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী তাঁদের নিয়ে  
মিছিলে মিছিলে পুলিশের বাধা রাস্তা অবরোধ করে রাখে স্বপ্ন  দেখে সে।

সতী না অসতী

সতী না অসতী

শ্যামল সোম

দোলা চমক উঠলো পুকুর ঘাটে স্নান সেরে উঠে দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ নগ্ন
পরনে শুধু ছাপা শাড়ি, সতের বছর বয়সে পুরুরের স্পর্শ দেহ আবেগে
থরথর কাঁপছে, মনুদা পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে মনুদার শরীরের ঘ্রাণ
দোলা সারা অঙ্গে অঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে দিল, মনু দোলাকে ঘুরিয়ে নিয়ে ঘণ
আলিঙ্গনে চুম্বনে চুম্বনে বারবার শিহরিত বিহ্বল দোলা জড়িয়ে ধরে বুকে।
ঝোপের আড়ালে দুজনে  লুকিয়ে অনেকটা সময় পেড়িয়ে গেলো, দোলা
শড়ি পরে সারা শরীরে মাদকতাময় আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে ঘরে ফিরছে, মা
বাপ নেই মাসীর সংসারে দাসীর মতন গায়ে গতরে খেটে দুবেলা খেতে পায়।
ইদানিং মেসো নজর ভালো নয়, মাঝে মধ্যে গায়ে হাত বুলোয়, সাঁটিয়ে যায়,
একদিন ভোর রাতে মনুদার সাথে পালালো রানাঘাটের অজ পাড়াগাঁ থেকে
কোলকাতা শহরে মনুদা বন্ধু বান্ধব সবাই মিলে কালীঘাটের মন্দিরে সিঁথিতে
সিঁদুর পরিয়ে দিলো মনুদা সস্তা সিল্কের শাড়ি ঝুটো মুক্তর হার পরে দোলা
রাঙা মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো মনুদা যেন রাজ্য জয় করেছে, হৈ চৈ
হোটেলে মাংসো ভাত খেয়ে সবাই এলো বস্তির ঐ ছোট্ট ঘরে চৌকির উপরে
নতুন বিছানায় গোলাপে পাপড়ি ছড়ানো ছিটানো, দেখে দোলার ভালো লাগলো।
বাসর রাতে টিনের জানালা দিয়ে  জ্যোৎস্নায় আলোয় অভাগী দোলা মনুর আদরে
আদরে গলে যেতে যেতে জিজ্ঞেস করে, মনুকে
" মনুদা কোলকাতায় গেরেজে কাজ করেও
আমার মতন হতভাগ্য মেয়েকে বিয়ে করলে কেন গো,  তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?

দোলা তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি ।

দু বছর না যেতেই ভালোবাসার সংসারে দুর্ভাগ্য সর্বনাশা  কাল গ্রাস করলো,
ভীষণ এক accident  মনু মনা মন্ডল কোলকাতা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ব্যাকুল হয়ে দোলা অপেক্ষায় রয়েছে ও টি
সামনে অপারেশন থিয়েটারে কাঁটা ছেঁড়া চলছে
এক অজানা আশঙ্কায় দোলা ভাবছে কি আছে কপালে না না ভাবতে পারছে না,
তাই এখন শুধু মা কালির নাম করে ডাকছে ব্যাকুল হয়ে ।

বাংলাদেশে একটু ঠাঁই চাই।

বাংলাদেশে একটু ঠাঁই চাই

শ্যামল সোম

সেই সব শৈশবের স্মৃতিময় দুঃস্বেপ্নর
রাত জ্বলেছে ঘর আগুন আগুন জ্বলে
আগুন গ্রামের ঘরে ঘরে পিদীম নিভে
গেছে, শোনা গেছে মিছিলে লড়কে লেঙ্গে
পাকিস্তান জাগো ইনসান ইনসাফ চাই শান্তি
চাই, চাই  রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি বলো  নাড়ায় 
নাড়ায়ে তকদির ------ অকবর নড়ে উঠলো
পায়ে তলার মাটি বিধ্বস্ত চোখে সর্ষে ফুল,
প্রাণের ভয়ে কচু বনে লুকিয়ে হরিনাম জপ
দেখত পেলেই কাফেরকে দাও  এক কোপ।
সাতশো বছরের শিয়া শূণ্যি বিরোধ চললেও
থাকলেও নিজস্ব পবিত্র স্থান দেশ  চাই চাই।
চলো, দখল করো জমি জরু গরু পানি ঘাস
দুধ দেয় কুরবানী করা যায় প্রকাশ্যে মাঠে
ঈদগাড়ের মাঠে শত লোক দেখতে জমে যায়।
ফতোয়া জারি করলেন তিনিই মহান সেই নেতা
উনশো ছেচল্লিশ সালেষ কর Direc Action
দেশে ভাগের আগেই ক্ষমতা মসনদে লড়াই
ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা গোপনে চলে,
দাঙ্গা শুরু হয়ে গেলো কোলকাতায় হাওড়ায়।
কিন্তু  আশ্চর্য পাঞ্জাব বাংলা ছাড়া অন্যান্য
কোন প্রদেশে এই দাঙ্গার আগুন জ্বলে নাই।
আমাদের পরিবার গভীর রাতের অন্ধকারে
ঐ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে গ্রামে ভালো পড়শি
বড় নৌকা পাল তুলে হাল ধরে বৈঠা বেয়ে
হরি হরি নাম স্মরণ করে যাত্রা শুরু হলো,
সূর্যোদ্বয় প্রাক্কালে রাঙা হয়ে উঠছে আকাশ।
কালের ইতিহাসের পাতায় জ্বলন্ত প্রমাণ আছে
গঙ্গা পদ্মা নদীতে বহু জল বহে গেছে ভাষা
বাংলা ভাষা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় শুরু থেকেই
মনোমালিন্য শুরু হয়ে ছিলো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
শিল্প নেই, শাসন শোষন, প্রতিবাদ প্রতিরোধে গড়ে
তোলেন তিনি আজ বাংলাদেশের জাতীয় পিতা।
সংগ্রাম  একনদী রক্ত রঞ্জিত হয়েছে বুড়ি গঙ্গায়,
তিরিশ লক্ষ শহীদ হয়েছিলেন তিন লক্ষ মা ,
বোন কন্যা ধর্ষণ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন
সেই শিয়া সম্প্রদায়ের শাসন কি পৈশাচিক প্রভু
সুলভ তৎকালিন  পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে
আলোচনার জন্য ডেকে পাঠিয়ে জেলে আটক 
ধরে কয়েদ চরম দুর্ভোগে মধ্যে সাহসী মুক্তি যোদ্ধা
নৌকো চড়ে যুদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন স্বার্বভৌম
বাংলাদেশে দেশ গঠনে বিশ্ব স্বাস্থ্য শিল্প উন্নয়ন পথে,
নাগরিকের দেশ ভক্তি দেশপ্রেম এই মনোবৃত্তি 
বাংলাদেশে পৃথিবীর মানচিত্রে  আজ শীর্ষে রয়েছে।
এ আমার একান্ত এক মাত্র প্রার্থনা ঠাঁই দাও ঠাঁই চাই।

Monday, 27 May 2019

চিরন্তন অভাগার গল্প

চিরন্তন অভাগার গল্প

পারু কৈশোরের খেলার সাথী তুই
লুকোচুরি খেলার সময় মেঘলা দিনে
কালো হয়ে আকাশের নিচে ঐ গাছে
বাজ পড়লো ঝলসে গেলো সেই বৃক্ষ।
হঠাৎ বাজ পড়ার আওয়াজ তুই ভয়ে
আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব  কাঁপছিলি।
চোখে জল মুছিয়ে বলি, আমি দেবদাস
তোকে আমৃত্যু কখন কাঁদতে দেব না।
আশঙ্কা ছিল মিলন হলো না রে পারু !
তোর বিয়ে হয়ে গেলো পাল্কী চড়ে তুই
শ্বশুর বাড়ি গেলি সানাই সুরে এ বেহাগ।
প্রেমে ব্যর্থতা যৌবনে মদ্য পানে তৃষ্ণা তৃপ্ত
না হয়ে বাঈজী কোঠিতে নাচ গানে শান্ত নই,
কোলকাতার বারদুয়ারীতে এখন মদ্যপ পাগল।

আমার প্রশ্ন

আমার প্রশ্ন

শ্যামল সোম

দুর্ভাগ্য আমাদের এমন
দেশে ভারতে জন্ম এখন
রাতে শুনি মেয়ের কান্না
বুকফাটা আর্তনাদ হায়না
ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায় নারীদেহ
নারী মাত্র কি ভোগ্য পণ্য,
জননী যে তিনি স্মরণীয়,
ভুলে যায় ওঁর ক্রন্দন ধ্বনি
ভালোবাসে ঐ কি পৌরুষ ?
এ নারী নাকি নরকের দ্বার
ধর্মের বিধান না পুরুষের
আধিপত্যে তন্ত্র যন্ত্র অহং !
অহমিকা অহংকার দাম্ভিক
বৈষম্য মূলক এই আচরণ,
কেন অনন্ত কাল আবরণে।
কুসংস্কারের ধর্মেরনামে যত্ন
হীন মনোবৃত্তি শিকার হচ্ছে,
একবিংশতি যুগেও চলছে
অবক্ষয় ব্যভিচার নির্যাতন
নারী কতকাল লাঞ্ছিতা হবে?

প্রিয় কবি আকাশ পত্র সাহিত্য

প্রিয় কবি আকাশ

সংকলন  শ্যামল সোম

আজ প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে তুমি ফিরবে
ফিরবে কথা দিয়ে তুমি কোলকাতায় চলে গেলে
মাঝে দু এক বছর নিয়মিত ফোন করতে এখন
তোমার মোবাইলে ফোন শোনা যায় রং নম্বর!
চিঠি লিখবো ঠিকানো বার বার চেয়ে ও দিলে না।
কত বৈচিত্র্যময় তোমার জীবন কাব্য জগতে তুমি
উজ্বল জ্যোতিস্ক কালপুরুষ তোমার বৃত্তে নক্ষত্ররা
সুন্দরী তরুণী তোমার শ্যাম বর্ণ গ্রিক দেবতার সুঠাম
স্বাস্থ্যবান দীর্ঘকায় দেহ দৈহিক মৃদুভাষি নম্র বিনয়ী
অন্তরে অন্তরে রক্তের গভীরে প্রথিত রয়েছে  ঔদ্ধত্য
অহংকারী   ৌরুষ  দীপ্যমান প্রেমিক সুলভ আচরণ
তোমার হৃদয়ের কাছাকাছি এসে  প্রেমে পড়েছিলাম,
তোমার ভালোবাসা না থাক প্রশ্রয় হয়তো মজা করেই
প্রেমের স্বভাব সুলভ আচরণ না অভিনয় বলবো না,
তোমার দুচোখে স্বপ্ন ভাসতে দেখেছিলাম, তোমার
ঘন আলিঙ্গনে তোমার লোমশ বুকে কান পেতে সমুদ্রের
ঢেউয়ের গর্জন হাহাকার চিৎকার প্রচন্ড ঠান্ডায় শীতের
রাতে বাহিরে তোষার পাত লন্ডনে ডিসেম্বরে কম্বলে ঢাকা
আমার নগ্ন শরীর কাঁপতে  কাঁপতে তোমাকে ভালোবেসে
না যৌন আকর্ষণে যুগলে চুম্বনে সন্তরণে শরীরের মোহে
পড়ে  ভেসে গেলাম,স্বপ্নে  ভাসছি লন্ডন বি বি সি বার্তা
বিভাগে কর্ম রতা লমবা ছুটি নিয়ে পালালাম তোমার সাথে।
তখন বাহ্য ঞ্জান শূণ্য পরিপূর্ণ তোমার প্রেমে দিশাহারা ব্যাকুল,
দুজনে শুয়ে শুয়ে তাকিয়ে পরস্পরের চোখে তন্দ্রা জড়ানো
গাড়ি থেকে মোটেলে কাঠের ঘরে হট আবহাওয়া  শীতাতপনিয়ন্ত্রিত
হোটেলে নিশি যাপন সুখের স্বপন বেলা বাড়তে বরফ সড়িয়ে
গাড়ি চালিয়ে অজানা গন্তব্য স্কটল্যান্ড ওয়েলস কত ইংল্যান্ড
গ্রামে গ্রামে শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছি রাত জেগে তুমি লিখছো
TRUST OF MY LOVE এ উপন্যাসের মূল চরিত্রে নায়িকা
ROSHI আমি সাহিত্যিক জ্ঞানী সাংবাদিক লেখকের জীবনে
আমি এসেছিলাম তোমার ভালোবাসার দান তোমার ঔরুষজাত
তিন বছর আমার ভীষণ প্রিয় কন্যা সন্তান নিলি SINGLE MOTHER
পরিচয় বড় হয়ে উঠবে না না এ দেশে পিতৃ পরিচয় জরুরী নয়।
তাছাড়া আমি চাই না গো দক্ষিণ্য চাই যেখান দাম্পত্য জীবন নেই।
তোমার প্রকাশকের ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য চিঠি লিখছি।
আজ নিজের পরিশ্রমে অধ্যাবসায়ে  আমি এখন বি বি সি বার্তা
বিভাগে সহকারী সম্পাদক পদ পেতে সক্ষম হয়েছি এক বন্ধু তিনি
এনভায়রনমেন্ট সাইনস বিজ্ঞানী উনি আমার মেয়েকে দত্তককন্যা
কোর্ট চেষ্টা করছিলেন আমি বারণ করলাম she is my child.
আমার মতন সৌভাগ্য  জননী কজন আছেন ভারতবর্ষে?

তোমার অতীতের নীলাঞ্জনা

পূনঃশ্চ ---- শোকাচ্ছন্ন এক শোকার্ত বার্তা পাঠিয়েছেন প্রকাশক-- আকাশ সেনগুপ্ত তিন বছর আগে
কার accident মারা গেছেন  কোলকাতায় এয়ারপোর্টে কাছে। উনার লন্ডন হিথরো
এয়ারপোর্টে ফ্লাইট ছিল সেই রাত্রি ।

নীলাঞ্জনা হাতে চিঠি নিয়ে হাপুস নয়নে কাঁদছে, নিলি ছোট্ট হাতে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলছে
আধ আধ স্বরে--- Don't cry mamy I love you mum