Sunday, 11 June 2017

ভালোবেসে বাংলাদেশে এসে

ভালোবেসে বাংলাদেশে এসে

শ্যামল সোম

" কোন সমস্যা নাই " এই বাংলা দেশে দশ বছর পরে ফিরছি ফেলে আসা জন্মভূমি মাটির শেকড়ের টানে। প্রস্তুতি নেওয়া সময় বাংলাদেশে হিতৈষী
বন্ধু বান্ধব, রক্তের সম্পর্ক নেই, কিন্তু আত্মীয় স্বজন এঁরা, আমার আত্মা খুব কাছে এঁদের আবাস।

নিজের জননী জন্মভূমি ছেড়ে, অপমানিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হয়ে, উদ্বাস্তু, ভিখিরি মতো শরণার্থী এই শহরে ফুটপাথে, স্টেশনের, জবর দখল কলোনীতে, মানা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘৃণা, করুণা, আত্মসম্মান খাইয়ে বাঙালি জাতি এক বিশাল সংখ্যক মানুষ ভিখারী আর বেশ্যা, দালাল, শেয়ারের মতো ধূর্ত হয়ে আজ নানা ফন্দি ফিকির করে বাড়ি গাড়ি চলছে, কিন্তু হায় তারা আজ ভারতবর্ষে বাঙালি হারিয়ে ফেলেছে নিজস্ব বাঙালি বললে ভারতে সবাই কাঙালিনী ভাবে তাই হিন্দি বা ইংরাজি তে কথা বলে, গরীব মূর্খেরা বাংলা মিডিয়ামে পড়ায়।
প্রচন্ড লড়াই, মাটি দখলের লড়াই, এপারে বাঙালি অবাঙালী দের চাপে ছিলো, কারণ বাংলার মাটি নরম, মেয়েদের দেখতে ভালো, মজুরী, নানা ধান্দা করে পেট চালিয়ে দেখাতে টাকা পাঠানো যায়।বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা লোকের সাথে অস্তিত্ব বজায়েবজায় এ লড়াই, এর উপর 1947 দেশ ভাগ, পূর্ব বাংলা আর পশ্চিম বাংলা ধর্ম আলাদা, হিন্দু যদিও সনাতন ধর্ম বলে অনেকে জানে না, আবার হাজারটা গোষ্ঠীর জালে জড়িয়ে আছে, পরস্পরের প্রতি জিঘাংসা।
পশ্চিম পাঞ্জাব এর মতো ধর্ম শিখ ধর্মে বিশ্বাসী তাই ভারতবর্ষ আর
পাকিস্তান থেকে নাগরিক বিনিময় বহু রক্ত পাতার পর হয়েছিল, পাঞ্জাব আজ উন্নয়নে শীর্ষে।
বহু রক্তের মিশ্রণে বাঙালি জারজ আত্মঘাতী, বিশ্বাসঘাতক
জাত, তাই বিদেশে পালাচ্ছে।
বহু কষ্টসাধ্য কৃচছসাধন করে লড়াই করে আত্মীয় স্বজনদের সার্থ রক্ষার্থে জীবনটা পরিশ্রমের শেষে জুটেছে প্রত্যেকের দুর্বিষহ দুরব্যবহার, অবহেলা, অনাদর।

ঠাকুরদারে 52 সালে জিগায়, কান আপনে মোসলেম হয়ে পূর্ব বঙ্গে দেশের মাটিতে ঐ ময়মনসিংহ এ রয়ে জান নাই?

কস কী ছযামরা তুই, ধরম দি ক্যামনে?

আপনে যে কন সব ধর্ম সমান, সর্ব ধর্ম সমন্বয়? সেগুলা কি শুধু কথার কথা?

দাদু নিরবে চোখের জল মোছেন, রামকৃষ্ণ মঠে বহু যুগ আগের এক আশ্রিত।

আশ্চর্য এই বাংলা দেশে আমার বাহাত্তর বছর জীবনে কবিতা পাঠ, নাটক উপস্থাপন, জন্মভূমি দর্শনে বিশ্বাসী বা এসেছি কখন কোন দিন কি হিন্দু, কি মুসলমান এর আতিথেয়তা, আপন করে নেওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা,
সহৃদয় ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি প্রতিবার।

সমস্যার সংকুল সংকটে বিপর্যস্ত, বিধস্ত আজ বাংলাদেশ, কিন্তু সমস্ত পরিস্থিতির মোকাবিলা করে, " কোন সমস্যা নাই " এই অমোঘ মন্ত্র মনে রেখে, মহান আল্লাহ্‌ উপর ভরসা করে, আগুনের মধ্যে দিয়ে, ককটেল, পেট্রল বোমা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, রাহাজানি, লাগাতার বন্ধ, লঞ্চ ডুবি, আততায়ী পেছন থেকে আক্রমন, ফতোয়া, নিষেধাজ্ঞা, সব কিছু উপেক্ষা করে 20th রাত থেকেই বিশাল মিছিল আর জনতার মিছিল, ছাত্রদের মিছিল, নারীদের উন্নয়নের সমিতির মিছিল, কৃষক, কর্মচারী, সেনা বাহিনীর মিছিল, বিভিন্ন শ্রেণীর, গোষ্ঠী, সভা সমিতির মিছিলে মিছিলে ছয়লাপ, দৃঢ় পদক্ষেপে, সুসংযত, পরস্পরের হাত ধরে, পতাকা, ফেস্টুন দলে দলে এগিয়ে আসছে মিছিলের ছায়াছবি হোটেলে টিভির বিভিন্ন চ্যানেলে রাত জেগে দেখছি, আর ভাবছি এই আমার ফেলে যাওয়া জন্মভূমি মানুষ একটি ধর্ম মহান। শান্তির স্বরূপ ইসলাম।
মহান আল্লাহ্‌ উপরে কী অসাধারণ বিশ্বাস, শত বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশের জনতা সদর্পে, সগর্বে বিশ্বের দরবারে উপস্থিত হয়ে ঘোষনা করছে, " আমরা ভাইয়া একই নৌকায় সহযাত্রী, আমরা করবা জয় নিশ্চয়"
হিতাকাঙ্ক্ষি আমার প্রিয় ভাই ও মায়েরা তোমাদের জন্য চিন্তিত।
প্রভুর কাছে ! আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে তোমাদের জন্য
প্রার্থনা করি --
শস্য শ্যামলা নদী মাতৃক দেশ,বাংলাদেশ
বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগী,শহীদের রক্তে
রাঙানো, বাংলাদেশ মা মাগো তুমি ভালো থাকো।
ভালোবেসে বাংলাদেশে এসে, বলি, তুমি ভালো থেকো বাংলাদেশ।

No comments:

Post a Comment